Herba Infinity
Herbal health products are organic supplements taken in addition to your diet for improving digestion, immunity, cardiovascular health etc.
These products are preventive in nature.
03/08/2021
#বেস্ট ফর কাপল 💚💚
ফ্যাট রিমুভ করতে অবশ্যই এই বিষয় গুলো জানা দরকার।
https://www.herbainfinity.com/elementor-landing-page-370/
11/06/2021
অর্শ রোগের কারণ ও প্রতিকার
‘পাইলস’ নিয়ে সতর্ক না হলে পরিস্থিতি সঙ্গীন হতে পারে। লিখেছেন সার্জন অনির্বাণ জানা। অর্শ রোগে মলদ্বার থেকে মলত্যাগের সময় রক্ত পড়ে। কখনও তার পরিমাণ কম, কখনও বেশি। কখনও তা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, আবার কখনও বিনা যন্ত্রণায় অঝোরে রক্তপাত হয়ে যায়। অনেকের মলদ্বার ফুলে ওঠে আবার কারও-কারও মলদ্বার থেকে মাংসপিণ্ড ঝুলে পড়ে যা কখনও আপনা আপনি ভেতরে ঢুকে যায় অথবা চাপ দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে হয়।
সত্যি বলতে কী, আমাদের দেহের সব থেকে অবহেলিত অংশ বোধহয় পায়ুপথ। ফিসার, পাইলস এ সব শব্দগুলো সাধারণ মানুষের কাছে খুব চেনা শব্দ। ফিসার পায়ুপথ ছিঁড়ে যাওয়ার জন্য হয়, ফিসটুলা এক ধরনের নালি ঘা আর পাইলস হল পায়খানার রাস্তার শিরার রোগ। এই শিরাগুলোকে বলা হয় অ্যানাল ক্যুশন অর্থাৎ, পায়খানার রাস্তার তাকিয়া। যখন শিরাগুলোয় চাপ পড়ে তখন সেগুলো ছিঁড়ে যায় আর শুরু হয় রক্তপাত। রক্তপাতের পরিমাণ প্রথম দিকে সাধারণত অল্প থাকে। কিন্তু এমনও নজির রয়েছে যে, রোগ বাড়তে বাড়তে ক্রমাগত রক্তপাতের জন্য রোগীকে রক্ত দিতে হয়েছে।
পায়ুপথ বা অ্যানাল ক্যানেলের কাছে সিস্টেমিক আর পোর্টাল সিস্টেম জোড়া লাগানো আছে। দু’টি সিস্টেমে শিরা-ধমনীর যোগাযোগও ওই জায়গায় হয়। স্বভাবতই শরীরের কোনও একটা সিস্টেমে চাপ পড়লে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিরাগুলো।
এই রোগের প্রধান কারণ ধরা হয় কোষ্ঠকাঠিন্যকে। শক্ত পায়খানা পায়ুপথের শিরাগুলোয় রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। শিরার উপর চাপ পড়ে এবং ছিঁড়ে যায়। এ ছাড়া সংক্রমণ এবং আলাদা করে শিরার রোগে পাইলস হতে পারে। কিছু কিছু মানুষের পায়খানার রাস্তার পেশির ক্ষমতা কম থাকে। ‘অ্যানাল হাইপোটোনিয়া’ও পাইলস হওয়ার একটা কারণ। বয়স্ক মানুষের পেশির শক্তি অনেক সময় কমে যাওয়ার কারণে পাইলস হতে পারে। মোটা হয়ে যাওয়াও পাইলস হওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে। গর্ভাবস্থায় বা পেটের ভেতর কোনও টিউমার থাকলেও পাইলস দেখা দিতে পারে।
পাইলসে সাধারণত ব্যথাহীন রক্তপাত হয়। পায়খানা হওয়ার আগে বা পরে এবং কিছু ক্ষেত্রে পায়খানার সঙ্গে রক্ত পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে নরম মাংসপিণ্ডের মতো পাইলস বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। বেরিয়ে আসা পাইলস আটকে গেলে অথবা রক্তের দলা শিরার ভেতর জমাট বাঁধলে ব্যথা হতে পারে। ডাক্তারি ভাষায় এই অবস্থাকে ‘প্রোলাপ্সড পাইলস’ ও ‘থ্রম্বোসড্ হিমারয়েড’ বলে। পাইলসের দলা যদি পায়খানার রাস্তার ভেতরে থাকে তা হলে তাকে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি হিমারয়েড’ বলে। যদি বাইরে বেরিয়ে আসা এবং নিজে থেকে ভেতরে ঢুকে যাওয়া চলতে থাকে তা হলে সেটি ‘সেকেন্ড ডিগ্রি’, বাইরে বেরিয়ে আসার পর সেটা যদি আঙুল দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিতে হয় তা হলে ‘থার্ড ডিগ্রি’ আর বাইরে বেরিয়ে আসার পর সেটা যদি বাইরেই রয়ে যায় তা হলে তাকে ‘ফোর্থ ডিগ্রি’ পাইলস বলে।
চিকিৎসা পদ্ধতি পাইলসের ডিগ্রির উপর নির্ভর করে। থার্ড আর ফোর্থ ডিগ্রির জন্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়। মাইক্রোসার্জারিও করা যায়। আরও নিত্যনতুন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হচ্ছে পাইলস-এর অস্ত্রোপচারের। এই রোগকে ঠেকিয়ে রাখার জন্য অবশ্যই আনাজ বেশি করে খেতে হবে। পানিও প্রচুর পরিমাণে খাওয়া দরকার। পায়খানা কালো বা লালচে হলে, পায়খানার সঙ্গে খুব বেশি রক্ত পড়লে, পায়খানার সময় বা পরে পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করলে, মলদ্বারে ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বেশিদিন ভুগলে ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়াই ভাল।
সূত্র: আনন্দবাজার
www.herbainfinity.com
09/06/2021
#রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ৬টি অব্যর্থ কৌশল!
যখনই বুঝবেন খুব বেশি রেগে যাচ্ছেন, সাথে সাথেই লম্বা দম নেয়া শুরু করুন। মারাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার আগে লম্বা নিঃশ্বাস নিন। এটা আপনাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করবে,প্রতিক্রিয়াটা আর আগের মতন তীব্র হবে না। রাগের সময় কোন কাজ করতে যাবেন না। এমনকি কথা বলাও না। চুপচাপ একলা থেকে রাগ কমানোর পর্যন্ত বসে থাকুন। কিংবা খানিকক্ষণ একলা হাঁটাহাঁটি করুন, এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খান। দেখবেন বেশ দ্রুত রাগ কমে স্বাভাবিক চিন্তা ফিরে আসছে।
বাড়িতে ও অফিসে কাজ কিংবা মানসিক চাপ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সেই সাথে ধৈর্য না বেড়ে প্রতিনিয়ত যেন কমে যাচ্ছে আরও। সেই সাথে কমে যাচ্ছে রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ। দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিষয় আছে যার কারনে যে কারো রাগ উঠতেই পারে। কিন্তু সমস্যা হলো রাগের মাত্রা নিয়ে। ধরুন, আপনার বসের কারনে আপনার রাগ উঠে গেল কিংবা বসের ওপরে খেপে গেলেন। আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কিছু বলে বসলেন অথবা কিছু করে ফেললেন। তখন ঘটনাটি কেমন দাঁড়াবে? রাগ হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু রাগের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ভালো নয়। সুতরাং মাত্রাতিরিক্ত রাগের আগেই তাকে নিয়ন্ত্রণ করুন। কেবল স্বাস্থ্যের জন্য নয়, নিজের ইমেজকে পরিচ্ছন্ন রাখতেও রাগ নিয়ন্ত্রণ জরুরী। জেনে নিন রাগ নিয়ন্ত্রণে আনার সহজ ৬টি উপায়।
লম্বা দম নিন
যখনই বুঝবেন খুব বেশি রেগে যাচ্ছেন, সাথে সাথেই লম্বা দম নেয়া শুরু করুন। মারাত্মকভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার আগে লম্বা নিঃশ্বাস নিন। এটা আপনাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করবে,প্রতিক্রিয়াটা আর আগের মতন তীব্র হবে না। লম্বা দম নেয়ার সাথে সাথে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকুন। জানি কথাগুলো অনেক শিশুসুলভ শোনাচ্ছে। কিন্তু আসলেই এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর। রাগের শুরুতে অবলম্বন করলে রাগটা কখনোই মাত্রা ছাড়াতে পারবে না।
কথা বলার আগে চিন্তা করুন
রাগের সময় কথা বললে সেটা অবশ্যই সামনের মানুষটিকে দুঃখ জড়িয়ে কথা বলা হবে। মানুষটির দোষ না থাকলেও অনেক সময় অপ্রীতিকর কথা বলা হয়ে যায়। এটা আমাদের মানসিক ব্যাপার, তাই রাগ উঠলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন। যদি কথা বলতেই হয় তবে ভেবে চিন্তে বলুন। কারন অনেক সময় রাগের মাথায় যে সব কথা বলা হয়, সেটার জন্য নতুন ও বড় আকারের ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। অথবা আপনি নিজেই রাগ কমে গেলে নিজের কথার জন্য পস্তাতে পারেন। সেজন্য রাগকে এমন পর্যায়ে নেবেন না যাতে আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পায়। তার আগেই নিজেকে শান্ত করে ফেলুন।
বিরতি নিন
রাগের সময় কোন কাজ করতে যাবেন না। এমনকি কথা বলাও না। চুপচাপ একলা থেকে রাগ কমানোর পর্যন্ত বসে থাকুন। অফিসে বা বাসায় যে কারো ওপর রাগ উঠলে তা প্রকাশ করে নিজেকে সবার সামনে নিচু করবেন না। যার ওপর রাগ উঠেছে চুপচাপ সাধারন ভদ্রতা দেখিয়ে তার সামনে থেকে চলে আসুন। খানিকক্ষণ একলা হাঁটাহাঁটি করুন, এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি খান। কিংবা এমন কারো সাথে কথা বলুন জিনি আপনার রাগ কমানোর ক্ষমতা রাখে। তারপর আবার কাজে ফিরে আসুন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান
যদি রাতে ঘুম ভালো না হয় তবে সকাল থেকেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। অযথাই ছোটখাটো ঘটনায় রাগ উঠে। সুতরাং রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে রাতে ভালো করে ঘুমাতে হবে। যাতে দিন ভালো যায়। ডাক্তাররাও যারা নিজেদের রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারেন না তাদেরকে এই পরামর্শই দিয়ে থাকেন। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ২৪ ঘন্টায় সর্বনিম্ন ৬ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। ৭ কিংবা ৮ ঘন্টা হলে বেশি ভালো হয়।
মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে নিন
যখন বুঝবেন রাগ উঠছে তখনই চেষ্টা করবেন যে কারনে রাগ উঠছে সেই কারন থেকে মনযোগ সরিয়ে নেয়ার। কোন ঘটনা নিয়ে রাগ উঠলে পুরো দিন তা নিয়ে রেগে বসে থাকার কোন প্রয়োজন নেই। মনকে অন্য কাজে ব্যস্ত করুন। পছন্দের গান শুনুন কিংবা মজার কোন ভিডিও দেখুন। মনকে খুশী করুন।
ব্যায়াম করুন
রাগ কমানোর সব থেকে স্বাভাবিক ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী উপায় হচ্ছে ব্যায়াম করা। এই ব্যায়াম হতে পারে কোন ব্যায়ামাগারের শারীরিক ব্যায়াম কিংবা যোগ ব্যায়াম। ব্যায়ামাগারের ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ ও হতাশা দূর হয়। কারন শারীরিক ব্যায়ামের ফলে মস্তিস্কে সেরেটেনিন ও এন্ডরফিন নামক দুটি হরমোন নিঃসরণ হয় যা সুখের অনুভুতির সৃষ্টি করে। আর ডাক্তাররা রাগ নিয়ন্ত্রনের রোগীদের সকালে উঠে যোগ ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মস্তিস্ক ঠাণ্ডা রাখার প্রাচীন উপায় হচ্ছে যোগ ব্যায়াম।
আপনাদের কি হারবা ইনফিনিটি পেজটি হেল্পফুল মনে হয়েছে?
07/06/2021
#যে আটটি উপায়ে আপনি বাড়াতে পারেন মগজের শক্তি
নাম, ফোন নাম্বার, জায়গার নাম মনে রাখতে পারেন না? বলা হয়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে যুক্তি তৈরির ক্ষমতা, দ্রুত জবাব তৈরির মতো মানসিক ক্ষমতা কমতে থাকে।
কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়লেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।
সহজ কিছু কায়দাকানুনের মাধ্যমে মগজের শক্তি বাড়ানো যায়:
১. ব্যায়ামে মস্তিষ্কের আকার বাড়ে
শরীর আর মনের সুস্থতার চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যায়াম।
শরীর আর মনের সুস্থতার চাবিকাঠি হচ্ছে ব্যায়াম।
এটা খুব সত্যি কথা। শরীরচর্চা করলে দেহের পেশির সাথে সাথে মস্তিষ্কের আকারও বৃদ্ধি পায়। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কের সিন্যাপসের সংখ্যা বাড়ে। এর ফলে মগজে নতুন নতুন কোষ তৈরি হয়।
আর কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়ামের ফলে মগজে বেশি হারে অক্সিজেন এবং গ্লুকোজ সরবরাহ হয়। আর আপনি যদি খোলা জায়গায় ব্যায়াম করেন, তাহলে বাড়তি পাওনা হলো ভিটামিন ডি।
টিপস: শরীর চর্চার পাশাপাশি নতুন জায়গায় বেড়াতে যান, নতুন ধরনের কাজ শুরু করুন। অথবা নতুন কোন আইডিয়া নিয়ে কাজ করুন।
যেমন, যদি আপনার শখ হয় বাগান করা, তাহলে আরো কিছু বন্ধুকে সাথে নিয়ে বাগান করুন। পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগলে, সাথে যাওয়ার সঙ্গী খুঁজে বের করুন।
শুধু খেয়াল রাখবেন পুরো ব্যাপারটি যেন আপনি উপভোগ করতে পারেন। এতে মস্তিষ্কের ওপর ব্যায়ামের উপকারিতা বাড়ে।
২. হাঁটাচলায় বাড়ে স্মৃতিশক্তি
বাগান করার মধ্য দিয়ে শরীরের ব্যাঢিাম হয়, তেমনি মনেরও ব্যায়াম হয়।
বাগান করার মধ্য দিয়ে শরীরের ব্যায়াম হয়, তেমনি মনেরও ব্যায়াম হয়।
বহু গবেষণায় এটা প্রমাণিত। অভিনেতারাও এই কাজটা করে থাকেন।
কোন শব্দ বা বাক্য যদি আপনি হেঁটে হেঁটে মুখস্থ করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা বহুদিন ধরে আপনার মনে থাকবে।
টিপস: এরপর কোন বক্তৃতা বা প্রেজেন্টেশন মুখস্থ করতে হলে সেটা হেঁটে হেঁটে মুখস্থ করার চেষ্টা করুন।
কিংবা একটু বাইরে ঘুরে আসুন।
৩. মগজের শক্তির জন্য বেছে নিন সঠিক খাবার
আপনার পাকস্থলী ঠিক মানে আপনার মগজও ঠিক।
আপনার পাকস্থলী ঠিক মানে আপনার মগজও ঠিক।
আপনার খাবারের ২০% শর্করা এবং শক্তি আপনার মস্তিষ্কে যায়। মস্তিষ্কের কাজের পুরোটাই নির্ভর করে তার গ্লুকোজের মাত্রার ওপর।
শরীরে গ্লুকোজের মাত্রায় হেরফের হলে আপনার মনেও দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।
যেসব খাবার আপনারা খুব পছন্দ সেগুলো খেলে আপনার মস্তিষ্কের 'রিওয়ার্ড এরিয়ায়' ডোপামিন রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আপনার মনে খুশি খুশি ভাব হয়।
কিন্তু মস্তিষ্কের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি আপনার পেটের দিকেও নজর রাখতে হবে।
মানুষের দেহের পরিপাকতন্ত্রে একশো ট্রিলিয়নেরও বেশি অণুজীব বসবাস করে। এরা আপনার মস্তিষ্কের সঙ্গেও সংযোগ রক্ষা করে।
মগজের সুস্থতার জন্য এই অণুজীবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা খুব জরুরি।
আসলে, পাকস্থলীকে অনেক সময় 'দ্বিতীয় মগজ' বলে ঢাকা হয়।
পেটে নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার ঢুকলে এসব অণুজীবের মাধ্যমে তার সুফল মস্তিষ্কে পর্যন্ত পৌঁছায়।
টিপস: মস্তিষ্কের কোষ ফ্যাট অর্থাৎ স্নেহ পদার্থ দিয়ে তৈরি। তাই খাবার থেকে তেল-চর্বি একেবারে বিদায় না করাই ভাল।
বাদাম, তেলের বীজ, মাছ ইত্যাদি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে জন্য ভাল।
আর খাবার সময় একা একা না খাওয়াই ভাল। সবার সাথে বসে খাবার খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য সুফল বয়ে আনে।
৪. খুঁজে নিন অবসর
পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে অবসর নেয়াও জরুরি।
পরিশ্রমের ফাঁকে ফাঁকে অবসর নেয়াও জরুরি।
স্বল্প মাত্রার মানসিক চাপ আসলে স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।
এতে বিপদের সময় বা জরুরি প্রয়োজনে পরিস্থিতিকে দ্রুত মোকাবেলার শক্তি পাওয়া যায়।
কর্টিসল বলে হরমোনের কারণে দেহ-মন চাঙা হয় এবং মনোযোগের একাগ্রতা বাড়ে।
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ মস্তিস্কের জন্য খুবই খারাপ।
সুতরাং, কাজের ফাঁকে অবসরের সময় বের করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মস্তিষ্ককে অবসর দিয়ে, এবং নিজেকে মূলত: সুইচ অফ করে, আপনি আপনার মগজের ভিন্ন একটি অংশকে ব্যায়াম করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
এরপর যদি কেউ দেখে যে আপনি কাজের মধ্যে বসে দিবাস্বপ্ন দেখছেন তখন আপনি বলতে পারবেন যে আপনি মস্তিষ্কের ভ্ন্নি একটি অংশের ব্যায়াম করছিলেন।
টিপস: রিল্যাক্স করতে অসুবিধে হলে যোগব্যায়াম কিংবা মাইন্ডফুলনেস চর্চার সাহায্য নিতে পারেন।
এগুলো আপনার দেহের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করবে।
৫. নতুন কিছু করুন
নতুন কিছু শেখার মধ্য দিয়ে মগজকে আরো সক্রিয় করে তুলুন।
নতুন কিছু শেখার মধ্য দিয়ে মগজকে আরো সক্রিয় করে তুলুন।
মগজের শক্তি বৃদ্ধির একটা পথ হলো নতুন কোন কাজ করার জন্য মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জ করা।
ছবি আঁকা কিংবা বিদেশি ভাষা শিক্ষার মধ্য দিয়ে এটা করা সম্ভব।
টিপস: নিজে কিংবা বন্ধুদের সাথে নিয়ে অনলাইন গেমস খেলুন। শুধু নিজেকে চ্যালেঞ্জ করাই না, এর মধ্য দিয়ে অন্যদের সাথে সামাজিক যোগাযোগও বাড়বে।
৬. সুরের মাঝে লুকিয়ে আছে শক্তি
সুরের মাধ্যমে জেগে ওঠে মস্তিষ্ক। বাড়ে মেধা।
সুরের মাধ্যমে জেগে ওঠে মস্তিষ্ক। বাড়ে মেধা।
সঙ্গীত যে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করতে পারে, তার প্রমাণ রয়েছে।
কেউ গান শোনার সময় যদি তার মস্তিষ্কের ছবি তোলা যায়, তাহলে দেখা যাবে পুরো মস্তিষ্ক সুরের প্রভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মস্তিষ্ক সঙ্গীতের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারে।
এটা ডিমেনশিয়ার মত মানসিক অবস্থা ঠেকাতে বেশ কার্যকরী।
টিপস: গানের দল বা কয়্যারে যোগ দিন। আপনার প্রিয় ব্যান্ডের গানের অনুষ্ঠান দেখতে যেতে পারেন।
৭. বিছানায় শুয়ে পরীক্ষার পড়া
বিছানার ওপর শুয়ে-বসে পড়ার সুফল রয়েছে।, বলছেন বিজ্ঞানীরা।
বিছানার ওপর শুয়ে-বসে পড়ার সুফল রয়েছে।, বলছেন বিজ্ঞানীরা।
দিনের বেলা যখন আপনি নতুন কিছু শিখছেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে এক স্নায়ুকোষের সাথে নতুন একটি স্নায়ুকোষের সংযোগ তৈরি হয়।
আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েন তখন সেই সংযোগ আরও জোরদার হয়। এবং যা শিখেছেন তা স্মৃতি হিসেবে জমা হয়।
এক পরীক্ষায় জানা যাচ্ছে, আপনি যদি শোবার আগে কাউকে একটা লিস্ট দিয়ে বলেন সেটা মুখস্থ করতে, তাহলে পরদিন সকালে সে সেটা খুব সহজেই মনে করতে পারবে।
কিন্তু যদি সেই একই লিস্ট সকাল বেলা দিয়ে বলেন সন্ধ্যের সময় মুখস্থ বলতে তাহলে সেটা মনে করা বেশ কঠিন হবে।
তবে কোন দু:খের স্মৃতি নিয়ে শোবার সময় চিন্তাভাবনা না করাই ভাল। এতে মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
একই কারণে শোবার আগে হরর ছবি দেখাও বারণ।
এর বদলে সারা দিনের যেসব ভাল ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো মনে করার চেষ্টা করুন।
টিপস: পরীক্ষার পড়ার সময় প্রশ্নের জবাবগুলো শোবার সময় মনে করার চেষ্টা করুন। এবং চেষ্টা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ুন।
৮. ঘুম যখন ভাঙল
দিনের শুরুর সাথে তাল মিলিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠুন।
দিনের শুরুর সাথে তাল মিলিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠুন।
ঘুমের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুম হলে মস্তিষ্ক সজাগ হওয়ার সময় পায় না।
কিন্তু দিনের পুরোটাকে ভালভাবে কাজে লাগানোর চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে কিভাবে আপনি ঘুম থেকে জেগে ওঠেন তার মধ্যে।
সবচেয়ে ভাল হয় ঘুমাতে যাওয়ার সময় ঘর অন্ধকার থাকলে, এবং প্রভাতে দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে জেগে উঠতে হয়।
সূর্যের কিরণ যখন আপনার বন্ধ চোখের পাতা ভেদ করে ঢুকে পড়ে, তখন সেটা মস্তিষ্ককে কর্টিসল হরমোন ছড়িয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করে।
এর ফলে আপনি জেগে ওঠেন। তাই কী পরিমাণ কর্টিসল হরমোন আপনার দেহে ছড়িয়ে পড়ে, তার ওপর নির্ভর করবে দিনটা আপনার কেমন যাবে।
টিপস: এমন অ্যালার্ম ক্লক ব্যবহার করুন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে যার সুর ক্রমশই বাড়তে থাকে।
02/06/2021
যে ১০টি লক্ষণ দেখলে ডায়াবেটিস রোগের পরীক্ষা করাতে হবে
সায়েদুল ইসলাম
বিবিসি বাংলা, ঢাকা
১৪ নভেম্বর ২০২০
ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা বলছেন
ডায়াবেটিস রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা বলছেন
ডায়াবেটিস হয়েছে, সেটা দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেননি আফরোজা আক্তার। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই তিনি শুকিয়ে যাচ্ছিলেন, ক্লান্তি আর অবসাদ বোধ করছিলেন।
''অনেকদিন ধরে শরীরে খারাপ লাগছে দেখে একজন মেডিসিনের ডক্টরের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আরও কিছু পরীক্ষানিরীক্ষার সঙ্গে ডায়াবেটিসের পরীক্ষাও দিয়েছিলেন। সেখানেই ধরা পড়ে, আমার নাকি অনেকদিন ধরেই ডায়াবেটিস হয়ে গেছে।''
তিনি বলছিলেন, এরপর ডায়াবেটিস হাসপাতালে পরীক্ষা নিরীক্ষার করিয়ে ওষুধ খাওয়া শুরু করেন।
তিনি একাই নন, ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ টের পাননা যে তারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
অন্য কোন রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে তাদের রোগটি ধরা পড়ে।
ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা তথ্য
সম্পর্কিত খবর:
গবেষণা: দু'ধরণের নয়, ডায়াবেটিস আসলে পাঁচ ধরণের
ডায়াবেটিস সম্পর্কে যেসব জানা জরুরি
'ওজন কমিয়ে বহুমূত্র রোগ সারানো সম্ভব'
বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস কেন বাড়ছে?
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান বলেন, ''ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের অন্তত ৫০ শতাংশ জানেন না যে, তার ডায়াবেটিস আছে। এ কারণে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সবার সচেতনতা বৃদ্ধি খুব জরুরি।''
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ।
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে, তারা প্রথমদিকে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন না। কারণ এটা হচ্ছে ধীরগতির ঘাতক। যার হয়েছে, সেদিনই তাকে বিপদে ফেলবে না, কিন্তু আস্তে আস্তে তার শরীরের ক্ষয় করে দেবে।''
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অশনাক্ত থাকলে বা চিকিৎসা না হলে কিডনি, লিভার, চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে শরীরের ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, চুল পড়ে যায়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতির শিকার হতে পারে।
মি. সাইফুদ্দিন বলছেন, ''যারা যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন, প্রতিদিন যদি অন্তত ১০ হাজার কদম কেউ হাঁটেন, তাহলে ডায়াবেটিক হলেও সেটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। কিন্তু সেটা কতজন করেন?''
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ''কেউ ডায়াবেটিক হলে অবশ্যই তার জীবনযাপনে অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে।''
রিফাইন করা চিনি এড়িয়ে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইপ-২ ধরণের ডায়াবেটিসের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগেভাগে সতর্ক থাকলে, শারীরিক পরিশ্রম করলে এবং খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনলে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব। কিন্তু একবার ডায়াবেটিস হয়ে গেলে আর এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।
যে সব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে:
ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া ও পিপাসা লাগা
দুর্বল লাগা' ঘোর ঘোর ভাব আসা
ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
সময়মতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া
মিষ্টি জাতীয় জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া
কোন কারণ ছাড়াই অনেক ওজন কমে যাওয়া
শরীরে ক্ষত বা কাটাছেঁড়া হলেও দীর্ঘদিনেও সেটা না সারা
চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব
বিরক্তি ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠা
চোখে কম দেখতে শুরু করা
দু'ধরণের নয়, ডায়াবেটিস আসলে পাঁচ ধরণের - বলছেন গবেষকরা
দু'ধরণের নয়, ডায়াবেটিস আসলে পাঁচ ধরণের - বলছেন গবেষকরা
কাদের ঝুঁকি বেশি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের এই রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে।
এছাড়া যারা নিয়মিত হাঁটাচলা বা শারীরিক পরিশ্রম করেন না, অলস বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন, তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
এছাড়া নারীদের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগ হতে পারে।
যাদের হৃদরোগ রয়েছে, রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যেসব শিশুর ওজন বেশি, যাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী বা ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের ডায়াবেটিস রয়েছে, যাদের মায়ের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হয়েছিল, সেই সব শিশুর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্ব জুড়েই ডায়াবেটিস একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা
কী করতে হবে?
বাংলাদেশের ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলছেন, যাদের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অবশ্যই বছরে একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে।
এজন্য সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে এমন নয়। এখন অনেক ফার্মেসিতে স্বল্পমূল্যে দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা যায়। সেখান ডায়াবেটিস শনাক্ত হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যাদের শিশুর ঘনিষ্ঠ স্বজনদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদেরকেও বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে।
মি. সাইফুদ্দিন বলছেন, ''ডায়াবেটিস যত তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যাবে, সেই রোগীর জন্য সেটা ততো ভালো। তাতে তিনি যেমন রোগটির চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে পারবেন, পাশাপাশি তার জীবনযাপনও একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসবে।''
29/05/2021
চুল কেন পড়ে? চুল পড়া রোধে করণীয় কী?
চুল পড়বেই এটা স্বাভাবিক। যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে। আমাদের চুল সাধারণত ১ হাজার ১শত ১০ দিন বাঁচে। তারপর মারা যায়। আমরা যদি মাথার চুল দিয়ে শুরু করি। আমাদের মাথায় গড়ে ১ লক্ষ চুল আছে। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ চুল গজায় এবং ১০০ থেকে ১৫০ চুল পড়ে যায়। এটা নরমাল।
ডক্টর টিভির আয়োজনে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল এ বিষয়ে দিয়েছেন নানা পরামর্শ।
ডা. রুবাইয়া আলীর উপস্থাপনায় আয়োজিত ওই টকশোতে বলা হয়, অ্যাবনরমাল চুল পড়াতেও অনেকের সচেতনতা থাকে না যে তাদের অ্যাবনরমাল চুল পড়ছে। যারা নরমাল চুল পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের জন্য কিভাবে চুল পড়ে কিভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়। চুল পড়াটা আসলেই নরমাল নাকি অ্যাবনরমাল। সেগুলো জানতে হবে।
চুল কেন পড়ে?
ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল বলেন, ছেলেদের চুল পড়াটা অ্যান্ড্রোজেনেটিক বা বংশগত। অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে হেয়ার স্টাইল করা। চুলে জেল দেয়া, আয়রণ করা কারলিং, পারলিং। এসব করলে ছেলেদের চুল পড়ে যায়। পুষ্টি এটা বিরাট ফ্যাক্টর এ যুগের ছেলেদের জন্য। আগে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সে চুল পড়া নিয়ে আসতো। কিন্তু এখন টিনেজ ছেলেরা চুল পড়া নিয়ে আসছে। এর মূল কারণ হচ্ছে তারা অনেক বেশি ফাস্টফুড খায়।
ফাস্টফুডে প্রচুর ফ্যাট আছে, সুগার আছে। তারা কায়িক পরিশ্রম একেবারেই করে না। এটা যে ওদেরই দোষ দেবো সেটা না। আসলে খেলা মাঠই সেভাবে নেই। এখনতো সবাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে। আর শহরের যে সব সাপ্লাই পানি নদী থেকে তোলা হয়, সে পানিগুলোতে ক্লোরিন দেয়া থাকে। সেই ক্লোরিনযুক্ত পানিতে চুল পড়ে।
বাসা চেঞ্জ করলে অনেকে কমপ্লেইন করে যে, বাসা চেঞ্জ করার পর চুল পড়া বেড়ে গেছে। আসলে কোনো বাড়ির ট্যাঙ্কিতে বেশি মাত্রায় ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার দেয়া থাকে তাহলে চুল পড়বে। মাথায় যদি কারও স্ক্রিন ডিজিজ হয়। বড়দের যেমন স্যভোরিক অ্যাক্সিমা, সুরায়াসিস এসব ডিজিজ হলে চুল পড়েযায়।
আগে ধারণা করা হতো যে, অ্যান্ড্রোজেনেটিক কারণে মহিলাদের চুল পড়ে না। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে যে, প্রায় ৫০% মহিলার চুল পড়ে এ কারণে।
ধুমপান বড় বড় রক্তনালীকে বন্ধ করে দেয়। আর চুলের গোড়ায় অতি সূক্ষ সূক্ষ রক্তনালী। ধুমপান করলে এই সূক্ষ রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চুলের পুষ্টি আসে রক্তের মাধ্যমে তাই রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে চুল পড়ে যাবে।
গ্রামের মহিলারা সাধারণত পুষ্টির অভাবে ভুগেন। আর শহরের মেয়েরা ডায়েট কন্ট্রোলের চেষ্টা করেন। এগুলো চুল পড়ার অন্যতম কারণ। ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংকস খাওয়াও অন্যতম কারণ চুলপড়ার। চুলের ম্যাক্সিমামটা হলো প্রোটিন। ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেড এবং পানি দিয়ে গঠিত।
শ্যাম্পু ঘন ঘন করলে চুল পড়ে। এটা কতটা সত্যি? চুলটা প্রোটিন দিয়ে তৈরি। আর শ্যাম্পু অ্যালকালিক বা খার দিয়ে তৈরি। ক্ষার এবং প্রটিন একত্রিত হলে প্রটিন ভেঙে যায়। এতে চুল গোড়া থেকে ঠিক থাকবে কিন্তু সামনের অংশ ভেঙে ভেঙে পড়বে। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে।
চুল পড়া রোধে করণীয় কী?
চুল পড়া রোধে করণীয় প্রসঙ্গে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল বলেন, চুলের জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভিটামিনগুলো খুব দরকার এছাড়া ভিটামিন সি ও ডি খুব দরকার। অনেকে বলে ভিটামিন ই চুলের জন্য দরকার। কিন্তু ভিটামিন ই চুলের মধ্যে নেই বলেলেই চলে। সামান্য পরিমান ভিটামিন এ আছে। আগে মানুষ খেত কম। কিন্তু এখন মানুষ প্রচুর খায়। কিন্তু এ খাবারটা সুষম না। এ সুষম খাবারের অভাবে চুল পড়ে। প্রেগনেন্সি চুলের জন্য ভাল।
ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল বলেন, প্রেগনেন্সি অবস্থায় চুল পড়ে না। বাচ্চা জন্মের ৪ মাস পর থেকে মায়ের চুল পড়া শুরু হয় এবং বাচ্চা জন্মের ১৪ মাস পর্যন্ত মায়ের এ চুল পড়া থাকে। অনেক মা বলেন যে, আমি ব্রেস্ট ফিড করাই না। আমার চুল পড়ে কেন? চুল পড়ার সঙ্গে ব্রেস্ট ফিডের কোনো সম্পর্ক নাই। প্রেগনেন্সির সময় হরমোনাল চেঞ্জের কারণে চুল পড়ে। চুলের ওর টর্চার হলো চুল পড়ার অন্যতম কারণ। আমাকে অনেক প্রশ্ন করে যে, চুলের যত্ন কিভাবে নেব? আমি বলি চুলে কোন যত্ন নাই। যত্ন নেবেন না।
তেল চুলের জন্য অপরিহার্য একসময় ধারণা করা হত। যে সমস্ত এলাকার লোক চুলে তেল দেয় সেসমস্ত এলাকার লোকদের চুল পড়ার সংখ্যা অনেক কম। তেল চুলে প্রটেক্টর হিসেব কাজ করে। অর্থাৎ দেয়ালে রং করলে দেয়ালের সৌন্দর্য্য যেমন বৃদ্ধি পায়। তেমনি দেয়ালকে প্রটেক্ট করে।
কাজের বুয়া বা রিকশাওয়ালার মাথায় টাকের সংখ্যা খুব কম। তাদের সহজে চুল পড়ে না। কারণ তাদের কোন টেনশন নাই। তারা অনেক বেশি পরিশ্রমী এবং তারা মাথায় তেল দেয়।
থাইরয়েডের কারণে রুগির চুল পড়ে। আবার থাইরয়েডের চিকিৎসার জন্য যে ঔষধ দেয়া হয় সেটার কারণেও চুল পড়ে। মিনোক্সিডিল ও ফিনিস্টারেড এই দুটো হলো সরকারকর্তৃক স্বীকৃত। মিনোক্সিডিল দিলে চুল প্রচুর গজায়। ছেড়ে দিলে সে চুল গুলো আস্তে আস্তে পড়ে যায় । রোগীর ধারণা যে, তার সবচুল পড়ে যাচ্ছে। ব্যাপার টা তা না। যার চুল পড়া রোগ তার চুল কমতেই থাকবে। মিনোক্সিডিল খুব নিরাপদ একটা ওষুধ। যা সারাজীবন ব্যবহার করা যায়। তবে এতে অনেকের মাথা চুলকায়। ড্রাই হয়ে যায়। মাথায় নিয়মিত তেল দিলে মিনোক্সিডিলের কারণে মাথায় যে ড্রাই ভাব তৈরি হয় তা থাকবে না।
26/05/2021
চুল ওঠা, পাকা চুল, খুসকি? চুলের যে কোনও সমস্যায় আপনার সঙ্গী ভিটামিন ই
লিখছেন মনীষা দাশগুপ্ত |
সুন্দর চুল পাওয়ার পথে বাধা অনেক! কখনও চুল ওঠা, কখনও খুসকি, কখনও ডগাফাটা রুক্ষ চুল, একের পর এক সমস্যা লেগেই থাকে! এ সব সমস্যা সামলানোর একাধিক উপায় রয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজকের ব্যস্ত দিনে অত কিছু করার সময় কোথায়!তার থেকে ভালো হয় না, যদি মাত্র একটা ছোট্ট ক্যাপসুলেই লুকিয়ে থাকে সুস্থ, মজবুত চুলের চাবিকাঠি? আজ থেকেই ব্যবহার করতে শুরু করুন ভিটামিন ই ক্যাপসুল আর ছুটি দিন চুলের যাবতীয় সমস্যাকে।
আটটি ফ্যাট সলিউবল ভিটামিনের গ্রুপ দিয়ে গঠিত ভিটামিন ই অ্যান্টি অক্সিডান্টে ভরপুর যা চুলের নানা সমস্যার সমাধান করতে পারে সফলভাবে। বিশেষত যাঁরা চুল ওঠার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য ভিটামিন ই খুবই কাজের। আসুন দেখে নেওয়া যাক নিয়মিত ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করলে চুলের কী কী সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে পারবেন আপনি।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
পাতলা চুল
অনেকেরই চুলের বৃদ্ধি ঠিকমতো হয় না, চুল পাতলা হয়ে যায়। প্রতিদিন একটা করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে চুলের বাড়বৃদ্ধি ভালো হয়। ভিটামিন ই চুলের গোড়ায় রক্ত সংবহন উন্নত রে এবং চুলে বাড়তি পুষ্টি পৌঁছে দেয়। স্ক্যাল্প সুস্থ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই চুলও মজবুত হয়।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
খুসকির উপদ্রব
স্ক্যাল্প বেশি শুষ্ক হয়ে গেলে খুসকির সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে স্ক্যাল্পের ময়শ্চারাইজ়ার আর সেবামের পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত থাকে যা আসলে খুসকির কারণ। তা ছাড়া খুসকি কমাতে ভিটামিন ই হেয়ার মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিলচামচ নারকেল তেলে দু’ টেবিলচামচ ভিটামিন ই অয়েল (ক্যাপসুলের ভিতরের তরলটা) আর এক চাচামচ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে দিন। এই মিশ্রণটা চুলে আর স্ক্যাল্পে মেখে দু’ ঘণ্টা রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’বার নিয়মিত করতে পারলেই বিদায় নেবে খুসকি।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
ডগাফাটা চুলের সমস্যায়
চুলের ফলিকল কোনও কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুলের ডগা ফেটে যায়। ভিটামিন ই-র অ্যান্টি অক্সিডান্ট সেই ক্ষতি পূরণ করে চুল সুস্থ করে তুলতে পারে। দু’ চাচামচ টি ট্রি অয়েল, এত চাচামচ সেডার উড অয়েল, এক চাচামচ আমন্ড অয়েল আর তিন টেবিলচামচ ভিটামিন ই অয়েল মিশিয়ে চুলে আর স্ক্যাল্পে মাখুন। চুল পুষ্টি পাবে, ডগা ফাটাও বন্ধ হয়ে যাবে।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
বিবর্ণ চুল উজ্জ্বল করতে
চুল বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে মানে তা সঠিক আর্দ্রতা ও পুষ্টি পাচ্ছে না। চুলে নিয়মিত ভিটামিন ই তেল মাখুন। বাড়তি উপকারিতা পেতে তাতে এক চাচামচ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে নিতে পারেন। চুলের উজ্জ্বলতা ফিরবে ঝটপট!
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
চুল অকালে সাদা হয়ে গেলে
আজকাল নানা কারণে কুড়ির কোঠা পেরোতে না পেরোতেই অনেকের চুল পেকে যায়। সালোনে অকারণ টাকা খরচ না করে ভরসা রাখুন ভিটামিন ই-র উপরে। চুলে নিয়মিত ভিটামিন ই তেল মাখলে চুল অকালে সাদা হয়ে যাওয়া অনেকটাই কমে যাবে।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
প্রাকৃতিক হেয়ার কন্ডিশনার
শ্যাম্পুর পর রাসায়নিকে ভরা কন্ডিশনার ব্যবহার করার বদলে ব্যবহার করুন ভিটামিন ই। প্রথমে শ্যাম্পু করা চুলটা চিপে বাড়তি জল ফেলে দিন। তারপর ভিটামিন ই তেল স্ক্যাল্পে আর চুলে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাসাজ করুন। তেলটা চুলে শুষে গেলে চুল আর একবার ধুয়ে নিন। রেশমের মতো কোমল আর চকচকে চুল পাবেন।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
রুক্ষ চুলের জন্য
উড়োখুড়ো, রুক্ষ চুলে কোমলতা পেতে দুটো ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে ভিতরের তেলটা বের করে নিন। শ্যাম্পুতে এই তেল মিশিয়ে যথারীতি শ্যাম্পু করুন। ধোওয়ার পর চুল অনেক কোমল আর মসৃণ হয়ে যাবে।
চুলের যত্নে ভিটামিন ই
চুল ওঠা বন্ধ করতে
যাঁদের গোছা গোছা চুল উঠে যাচ্ছে, তাঁরা চুলে ভিটামিন ই অয়েল মেখে দেখতে পারেন। দু’ টেবিলচামচ ভিটামিন ই তেলের সঙ্গে আরও দু’ টেবিলচামচ নারকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করুন। এবার এই তেলটা স্ক্যাল্পে ধীরে ধীরে মাসাজ করে লাগিয়ে নিন। সারা রাত রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করে নিন। চুল ওঠা কমে তো যাবেই, নতুন চুলও গজাবে।
পরের স্টোরি :
চুলের জট ছাড়াতে হয়রান? নিজেই তৈরি করে নিন জট ছাড়ানোর হেয়ার স্প্রে
মন্তব্য
পরের স্টোরি
ফেমিনা বাংলা সৌন্দর্য চুল চুলের জট ছাড়াতে হয়রান? নিজেই তৈরি করে নিন জট ছাড়ানোর হেয়ার স্প্রে
চুলের জট ছাড়াতে হয়রান? নিজেই তৈরি করে নিন জট ছাড়ানোর হেয়ার স্প্রে
লিখছেন মনীষা দাশগুপ্ত |
চুলের জট ছাড়ান নিমেষে
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই কাজে বেরোনোর তাড়াহুড়ো শুরু হয়ে যায়। আর চুল আঁচড়াতে গিয়ে যদি দেখেন জটের কারণে চিরুনি চালানোই যাচ্ছে না, তা হলে তো দুর্দশার আর শেষ নেই! চুলের জট ছাড়াতে গিয়েই লেট মার্ক পড়ে যায় অফিসের হাজিরা খাতায়। জট পড়া চুল তাড়াহুড়ো করে আঁচড়ালে চুল ছিঁড়ে যেতে পারে, টান পড়ে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যেতে পারে যার ফলশ্রুতি আরও চুল ঝরে যাওয়া।
আপনাকেও যদি রোজ সকালে চুলের জট ছাড়াতে গিয়ে হয়রান হতে হয়, তা হলে তার চটজলদি সমাধানও রয়েছে। আপনার চুলের দরকার এমন একটি হেয়ার স্প্রে যা কোমলভাবে জট ছাড়াবে কোনও ক্ষতি না করেই! আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপারটা হল, জট ছাড়ানোর এই স্প্রে আপনি তৈরি করে নিতে পারবেন বাড়িতেই! দারুণ ব্যাপার, তাই না?
চুলের জট ছাড়ান নিমেষে
আপনার দরকার
এক কাপ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার
এক কাপ জল
এক চাচামচ জোজোবা অয়েল
30 ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল (ল্যাভেন্ডার বা ক্যামোমাইল সবচেয়ে ভালো কাজ করে)
পরিষ্কার স্প্রে বোতল
পদ্ধতি
প্রথমে এসেনশিয়াল অয়েলটা অ্যাপল সাইডার ভিনিগারে ঢেলে দিন, তারপর কিছুক্ষণ ওভাবেই রাখুন।
এবার জোজোবা অয়েল যোগ করে খুব ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিন।
এবার জল দিয়ে আর একবার মেশান। যদি মিশ্রণটা বেশি ঘন মনে হয়, আরও খানিকটা জল দিয়ে তরল করে নিন, তারপর স্প্রে বটলে ঢেলে রাখুন।
স্নানের পর আধভেজা চুলে এই মিশ্রণটা লিভ-ইন কন্ডিশনারের মতো করে স্প্রে করে নিন।
স্প্রে করার আগে বোতলটা ভালো করে ঝাঁকিয়ে নেবেন, তারপর গোটা চুলে স্প্রে করবেন।
কয়েকমিনিট রেখে মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।
26/05/2021
বাত শরীরের একটি যন্ত্রণাদায়ক রোগ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের বাতের ব্যথা হয়ে থাকে। অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমা হয়ে এ রোগের উত্পত্তি হয়। মূত্রের মাধ্যমে যে পরিমাণ স্বাভাবিক ইউরিক এসিড বেরিয়ে যায়, তার থেকে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিড যখন আমাদের যকৃত তৈরি করে তখনই তা রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। অথবা খাবারের মাধ্যমে বেশি পরিমাণ ইউরিক এসিডের উত্স যেমন লাল মাংস, ক্রিম, রেড ওয়াইন ইত্যাদি গ্রহণ করলে এবং বৃক্ক (কিডনি) রক্ত থেকে যথেষ্ট পরিমাণে তা ফিল্টার করতে না পারলে বাতের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।
রোগের প্রাদুর্ভাব
বাত সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত এটি রজঃনিবৃত্তির পর অর্থাৎ ৪৫ বছরের পর দেখা দেয়। শিশু এবং তরুণদের সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না।
কারণ এবং ঝুঁকিগুলো
অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিড জমার কারণেই বাত হয়ে থাকে। শতকরা ২০ ভাগেরও বেশি রোগীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বাতরোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকে। যেসব কারণে বাতরোগের ঝুঁকি বাড়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ডায়াবেটিস, শরীর মোটা হয়ে যাওয়া, কিডনির রোগগুলো, সিকল সেল এনিমিয়া (এক ধরনের রক্তস্বল্পতা)। নিয়মিত অ্যালকোহল পান করলে তা দেহ থেকে ইউরিক এসিড বের করে দেয়ায় বাধা দেয় এবং প্রকারান্তরে বাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিছু কিছু ওষুধ যেমন—অ্যাসপিরিন, বিভিন্ন ডাই-ইউরেটিকস, লিভোডোপা, সাইক্লোস্পোরিন ইত্যাদি অনেক সময় বাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
রোগের লক্ষণগুলো
বাতের সমস্যা সাধারণত বৃদ্ধাঙ্গুলিতে প্রথম দেখা দেয়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে—
— প্রদাহ
— ব্যথা
— অস্থিসন্ধি লাল হয়ে যাওয়া
— অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি।
— বাতে পায়ের আঙুল নাড়াতে তীব্র ব্যথা হয়; অনেক সময় রোগীরা বলে থাকে যে, চাদরের স্পর্শেও ব্যথা লাগে। বাতের লক্ষণগুলো খুব দ্রুতই দেখা দেয়, যেমন কখনও কখনও এক দিনের মধ্যেই দেখা দেয় এবং একই সঙ্গে একটি মাত্র অস্থিসন্ধিতে লক্ষণ দেখা দেয়। বিরল ক্ষেত্রে ২-৩টি অস্থিসন্ধিতে এক সঙ্গে ব্যথা হয়। যদি অনেক স্থানে এক সঙ্গে লক্ষণ দেখা দেয়, তবে হয়তো তা বাতের কারণে নাও হতে পারে। তবে চিকিৎসা না করা হলে বাত অস্থিসন্ধির যথেষ্ট ক্ষতি করতে এমনকি চলন ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে।
চিকিৎসা
চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অস্থিসন্ধিতে ইউরিক এসিডের পরিমাণ কমিয়ে আনা এবং এর মাধ্যমে রোগের লক্ষণ এবং পরবর্তী অবনতি ঠেকানো। চিকিত্সা না করা হলে বাত অস্থিসন্ধির যথেষ্ট ক্ষতি করতে এমনকি চলন ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে। সচরাচর দেখা যায়, ঘন ঘন রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ না পেলে লোকজন এর চিকিত্সা করাতে চায় না। ওষুধের মধ্যে আছে ন্যাপ্রোক্সেন এবং ইন্ডোমিথাসিনের মতো এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধ। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করা এবং সেই সঙ্গে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও মুখে খাওয়া যেতে পারে অথবা আক্রান্ত স্থানে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যালোপিউরিনল, কোলচিসিন এবং প্রোবেনেসিড আলাদাভাবে কিংবা এক সঙ্গে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ওষুধগুলো দ্রুত কার্যকর হয় তখনই, যখন এগুলো রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার করা যায়।
প্রতিরোধ
প্রতিরোধই বাতের সমস্যা থেকে উপশমের উত্তম উপায়। রোগ দেখা দিলে ওষুধের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যায় বটে, তবে তখন অ্যালকোহল এবং যেসব খাবার গ্রহণ করলে ইউরিক এসিড মজুদ হওয়া বেড়ে যায়, সেসব থেকে দূরে থাকা অবশ্য কর্তব্য।
এছাড়া রোগীকে প্রচুর পানি খেতে হবে, নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সুষম খাবার ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ওজন ঠিক রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, রোগ হলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শ মতো চলতে হবে।
24/05/2021
হরমোনঘটিত ব্রণ সম্পর্কে জেনে রাখুন কিছু জরুরি তথ্য
রাতে দিব্যি ঘুমিয়েছিলেন! সকালে উঠে দেখলেন গালের ওপরে টপ করে গজিয়ে উঠেছে লাল রঙের রাগী রাগী মুখের একটা বড়সড় ব্রণ! সত্যি বলতে কৈশোরকাল কাটিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাওয়ার পরেও ব্রণর সমস্যা যেন কাটতেই চায় না! ব্রণ কমানো আর তার পরে ব্রণর দাগ কমানোর লড়াইটাও তাই চলতেই থাকে।
আমাদের বেশিরভাগ মেয়েদের ক্ষেত্রেই ব্রণ হয় বটে, আবার কমেও যায়, আর মাঝেমধ্যে কোনও দাগও থাকে না। কিন্তু কখনও কখনও এমন ব্রণ হয় যাতে ব্যথা তো থাকেই, এমনকী চারপাশের জায়গাটা লাল হয়ে থাকে! আপনারও যদি এমন ব্রণ হয়ে থাকে, তা হলে খুব সম্ভবত তার জন্য দায়ী হরমোনগত কারণ।
নাম থেকেই বুঝতে পারছেন, হরমোনজনিত ব্রণর পিছনে থাকে হরমোনের মাত্রার তারতম্য। এ ধরনের ব্রণ বয়ঃসন্ধির মেয়েদের মধ্যে নয়, বরং অনেক বেশি দেখা যায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে। ঋতুবন্ধ বা মেনোপজের সময়, গর্ভাবস্থায় এবং ঋতুচক্রের সময় আপনার হরমোনের মাত্রায় তারতম্য দেখা দিতে পারে যার ফলে হরমোনজনিত ব্রণ বেরোয়। এ ছাড়া হরমোনজনিত ব্রণর কারণ হিসেবে মানসিক চাপ, রাসায়নিক দেওয়া স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট যা রোমছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দেয় এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কারণ হিসেবে থাকতে পারে।
হরমোনজনিত ব্রণর সবচেয়ে বড় লক্ষণ হল সিস্ট আর ত্বকের নিচে ফোলাভাব। বয়ঃসন্ধির সময় হরমোনজনিত ব্রণ সাধারণত মুখের টি-জোন অর্থাৎ কপাল, নাক আর চিবুকেই বেরোয়। পরিণত বয়সে এই ব্রণ বেরোয় গালের নিচের অংশে, চিবুকে আর জ লাইন অর্থাৎ চোয়ালের কাছে।
খাদ্যাভ্যাস কি হরমোনজনিত ব্রণর জন্য দায়ী?
হরমোনজনিত ব্রণর জন্য খাদ্যাভ্যাস সরাসরি দায়ী না হলেও কিছু কিছু খাবারের কারণে হরমোনজনিত ব্রণ বেড়ে যেতে পারে। রোজকার খাবারে ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকলে তা সেবাম উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং তা থেকে ব্রণ হতে পারে। হরমোনজনিত ব্রণ কমিয়ে ত্বক সুস্থ রাখতে চাইলে পরিশোধিত দানাশস্যজাত খাবার অর্থাৎ পাস্তা, সিরিয়েল ও পাউরুটি খাওয়া কমিয়ে দিন। কার্বোনেটেড পানীয়, মিষ্টি, দুধ ও চিজের মতো দুধ থেকে তৈরি খাবার খাওয়া চলবে না। বাদ দিতে হবে বার্গার, পেস্ট্রি, সসেজের মতো ফাস্ট ফুড। ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে ডার্ক চকোলেটও।
জন্মনিয়ন্ত্রক বড়ি, রেটিনয়েড, অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ, বেনজয়েল পারঅক্সাইড দিয়ে হরমোনঘটিত ব্রণর চিকিৎসা করা যায়। তা ছাড়া ব্রণ কমিয়ে ত্বকের অবস্থা ভালো করার জন্য কিছু প্রাকৃতিক উপায়ও আছে। টি ট্রি অয়েল আর গ্রিন টি হরমোনঘটিত ব্রণ কমাতে দারুণ ভালো কাজ করে।
টি ট্রি অয়েলের প্রদাহ কমানোর গুণ রয়েছে। ব্রণর উপরে লাগালে তা ব্রণ কমিয়ে দিতে পারে। ব্রণর প্রকোপ খুব বেশি না হলে উপকার পাবেন। অন্যদিকে গ্রিন টি-তে পলিফেনল রয়েছে যা সেবাম উৎপাদন কমিয়ে ব্রণ সারাতে সক্ষম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Website
Address
Cox's Bazar
4700