Fatema's Diary
success is in my veins��
অধ্যায় ১২
এভাবেই ধীরে ধীরে মেঘলার স্কুলজীবন নিজের ছন্দ খুঁজে নিতে লাগল। 📚🌿
কখনো ক্লাসের ফাঁকে চাপা হাসি, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট কোনো দুষ্টুমি, আবার কখনো টিফিনের সময় মাঠের এক কোণে বসে মুড়ির ঠোঙ্গা ভাগাভাগি করে খাওয়া—সব মিলিয়ে দিনগুলো যেন অজান্তেই রঙিন হয়ে উঠছিল।
তবে এই রঙিন দিনের আকাশে একটুখানি অস্বস্তির মেঘ হয়ে রয়ে গেল একজনই—আরিয়ান।
দিন যত যাচ্ছিল, ছেলেটার পাগলামিও যেন ততই বাড়ছিল। বিশেষ করে টিফিনের সময়টা ছিল তার প্রিয় সময়। কারণ এই সময়টুকুতেই মেঘলাকে একটু কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেত সে।
মেঘলা মাঠে গেলেই দূরে কোথাও আরিয়ানকে দেখা যেত।
ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা হাতে নিলেও চোখে পড়ত সেই পরিচিত দুষ্টু হাসি।
বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হঠাৎ পেছনে তাকালেই—কেমন করে যেন ছেলেটা সেখানেও হাজির!
মেঘলা বিরক্ত হয়ে ভাবত,
‘এই ছেলেটা কি সত্যিই আমাকে একটুও শান্তিতে থাকতে দেবে না?’
একদিন শেষ পর্যন্ত মেঘলা ঠিক করেই ফেলল—আজ আর নয়। আজ তাকে একটু ফাঁকি দিতেই হবে।
তনুকেও বেশি কিছু না বলে টিফিনের সময় চুপিচুপি স্কুলের একেবারে ছোটদের ক্লাসগুলোর দিকে চলে গেল। তনু অবশ্য মেঘলার এই কাণ্ড দেখে মুচকি হেসেই সঙ্গে গেল।
বাচ্চাদের ক্লাসরুমের একেবারে পেছনের দিকে বসে দুজন গল্পে মেতে উঠল।
মেঘলার মনে হলো,
এবার দেখি কীভাবে আমাকে খুঁজে বের করে!’
কিন্তু ভাগ্য বোধহয় সেদিনও আরিয়ানের পক্ষেই ছিল।
টিফিনের ঘণ্টা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে দুজন উঠে ক্লাসের দিকে ফিরতে যাবে, ঠিক তখনই মেঘলা হঠাৎ থেমে গেল।
তার ঠিক কয়েক পা পেছনে আরিয়ান দাঁড়িয়ে।
মেঘলার বুকের ভেতরটা মুহূর্তেই কেমন ধক করে উঠল। 😶
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
— কী ভেবেছিলে? আমার কাছ থেকে এভাবে পালিয়ে বেড়ালে আমি বুঝব না?
মেঘলা কোনো উত্তর দিল না।
— আজ তো বেশ বুদ্ধি করে লুকিয়েছিলে।
মেঘলা এবার এক পা পিছিয়ে গেল।
আরিয়ানও যেন মজা করে এক পা এগিয়ে এল।
মেঘলার অস্বস্তি আরও বেড়ে গেল। চারপাশটা হঠাৎ কেমন নীরব মনে হলো। এতক্ষণ যে স্কুলটা পরিচিত আর আপন লাগছিল, সেই মুহূর্তে কেন যেন সবকিছু অচেনা হয়ে গেল।
আরিয়ান নিচু স্বরে বলল,
— এত ভয় পাও কেন আমাকে?
মেঘলা মাথা নিচু করে বলল,
— আমি ভয় পাই না। শুধু... আমাকে বিরক্ত করবেন না।
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। পাশ কাটিয়ে দ্রুত চলে গেল। পেছনে তাকানোর সাহসও হলো না।
সেদিনের পর কয়েকটা দিন মেঘলা টিফিনের সময় ইচ্ছে করেই ক্লাসরুমের বাইরে বের হতো না।
তনু প্রথমদিকে সবসময় মেঘলার পাশেই থাকত।
— তুই চিন্তা করিস না মেঘলা। আরিয়ান ভাই একটু বেশি দুষ্টুমি করে, কিন্তু তুই যেটাতে অস্বস্তি বোধ করিস, সেটা ওনার বোঝা উচিত।
মেঘলা শুধু মৃদু হেসে বলত,
— থাক না তনু। এসব নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না।
কিন্তু তনু তখনও জানত না, নিজের মনের ভেতরেও সে একটা সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে তৈরি করে ফেলছে—মেঘলা যেন আরিয়ানকে অকারণে কষ্ট না দেয়। তবে সেই কথার অর্থ কী, সেটা সময়ই একদিন প্রকাশ করবে।
এভাবেই আরও কিছুদিন কেটে গেল।
একদিন টিফিনের ঘণ্টা পড়েছে। মেঘলা ক্লাসরুমে বসে তনুকে খুঁজছে, কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না।
— নীরা, তনুকে দেখেছিস?
— না তো।
মেঘলা অবশেষে নিজেই খুঁজতে বের হলো।
করিডোর পেরিয়ে নিচতলার একটা নিরিবিলি ঘরের সামনে এসে হঠাৎ তার পা থেমে গেল।
ভেতরে তনু আর রেদোয়ান কথা বলছিল।
তনু বেঞ্চের ওপর বসে আর রেদোয়ানও সামনে। দুজনের কথাবার্তায় এমন একটা ব্যক্তিগত মুহূর্তের আবেশ ছিল, যা দেখে মেঘলা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
‘এই জন্যই তাহলে আমাকে ফাঁকি দিয়ে এখানে এসেছে?’
মেঘলা তনুকে ডাকতে যাবে, ঠিক তখনই রেদোয়ান তনুর গালটা ধরে একটা কিস করে ফেলল।
তনু লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
মেঘলার চোখ বড় হয়ে গেল।
— তনু!
তার কণ্ঠ শুনে দুজনেই চমকে উঠল।
এক মুহূর্তে যেন পুরো ঘরের বাতাস বদলে গেল।
তনুর মুখ লাল হয়ে উঠল। রেদোয়ানও অপ্রস্তুত হয়ে অন্যদিকে তাকাল।
মেঘলা নিজেও বুঝতে পারল না কী বলবে।
তনু আস্তে করে বলল,
— মেঘলা... তুই এখানে?
মেঘলা আরও বেশি অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
— আমি... তোকে খুঁজছিলাম।
তারপর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সে সেখান থেকে চলে এল।
কিন্তু সেই ছোট্ট ঘটনাটাই তিন জনের মাঝে যেন অদৃশ্য একটা দেয়াল তুলে দিল।
কয়েকদিন তনু আর মেঘলার ঠিকমতো কথা হলো না।
একসঙ্গে বেঞ্চে বসা হলো না।
টিফিনের সময় আগের মতো হাসাহাসি হলো না।
মুড়ির ঠোঙ্গা ভাগ করে খাওয়ার সেই ছোট্ট আনন্দটাও কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
দুজনেই কথা বলতে চেয়েছিল, অথচ কেউ প্রথম কথাটা বলতে পারছিল না।
মেঘলা মনে মনে ভাবত।
‘আমি কি সত্যিই বারবার ওদের মাঝখানে এসে পড়ছি?’
আর অন্যদিকে তনুও বুঝতে পারছিল, ঘটনাটা যতটা অস্বস্তিকর হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছে মেঘলা।
এই নীরবতার মধ্যেই নীরা, সীমা, তনু, রেদোয়ান—সবাই ধীরে ধীরে মেঘলাকে বোঝাতে শুরু করল।
— মেঘলা, তুই আরিয়ান ভাইকে এতটা এড়িয়ে চলিস কেন?
— উনি তোকে সত্যিই পছন্দ করেন।
মেঘলা চুপ করে থাকল।
তার সামনে যেন আবার সেই পুরনো প্রশ্নটা এসে দাঁড়াল—
ভালো লাগা কি সবসময় ভুল?
নাকি কিছু অনুভূতিকে বুঝতে হলে সময়ের অপেক্ষা করতেই হয়?
মেঘলা তখনও জানত না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তার স্কুলজীবনের গল্পটা ধীরে ধীরে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে... 🌙
চলবে ........
🌙✨ "শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়..." 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #গল্প #বাংলাগল্প ゚
05/09/2026
সূর্যটা ধীরে ধীরে আড়ালে যায়, অথচ রঙগুলো থেকে যায়—
কিছু মুহূর্তও ঠিক এমন, চলে যায় কিন্তু গল্প রেখে যায়। 🌅🤍
#স্মৃতির_পাতায় ো #মুহূর্ত
কিছুদিন থাকে, অনেক সুন্দর…
কিছু সময় হয় অনেক রঙিন। 🌸
সেই দিনটা ছিল ঠিক তেমনি—হাসি, আনন্দ আর খুনসুটিতে ভরা একদম স্পেশাল। ✨
কিন্তু কিছু মুহূর্ত, খারাপ হোক কিংবা ভালো, হঠাৎ করেই আসে।
তবে দিনটা খারাপ ছিল না, সময়টা খারাপ গিয়েছে আমাদের।
সত্যি বলতে, মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। 🤍
দোষ কাকে দিব জানি না—সময়ের, নাকি ভাগ্যের!
শুধু এটুকু জানি, সুন্দর মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সুন্দর হয়েও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 🌿
#স্মৃতির_পাতায় #সুন্দর_মুহূর্ত #জীবনের_গল্প
🌿 অধ্যায়—১১ 🌿
এভাবেই ধীরে ধীরে মেঘলার স্কুলজীবনটা নিজের মতো করে আরও রঙিন হতে শুরু করল। হাসি, আনন্দ, বন্ধু আর ছোট ছোট খুনসুটিতে কেটে যেতে লাগল তার সুন্দর দিনগুলো। কখন যে মেঘলা তার পুরোনো সময়গুলোকে একটু একটু করে পেছনে ফেলে এসেছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি। 🌸
এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ মেঘলার সামনে এমন এক সত্য হাজির হলো, যা শুনে সে রীতিমতো অবাক!
তনু আর রেদওয়ানের মধ্যে বেশ গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক চলছে—সেটা মেঘলা এতদিন বুঝতেই পারেনি।
শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মেঘলা বলল,
— “তোমরা সত্যিই এই বয়সেই প্রেম নিয়ে ভাবো? এই সময়টা তো পড়াশোনা, বন্ধুত্ব আর স্কুলজীবন উপভোগ করার। এর মধ্যে আবার প্রেম কোথা থেকে এলো?”
তনু হেসে বলল,
— “সবকিছু কি আর হিসাব করে হয়?”
মেঘলা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— “আবেগের বশে এমন কিছু করা ঠিক না, যেটার দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনো তৈরি হয়নি। আমাদের জীবনে ভালো লাগা আসতেই পারে, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎটাকেও তো ভুলে গেলে চলবে না।”
তনু তখন এমন একটা মুখ করল, যেন মেঘলা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন একটা উপদেশ দিয়ে ফেলেছে!
মেঘলা বুঝল, এই মেয়েটা রেদওয়ানের ভালোবাসায় এমনিতেই ডুবে গেছে। এখন যতই বোঝানো হোক, কথাগুলো বোধহয় ওর মাথার ওপর দিয়েই যাবে। তাই ওকে আর কিছু বলল না।
বরং তাদের বন্ধুত্বের দিনগুলো আরও সুন্দর হয়ে উঠল।
টিফিনের সময় একসঙ্গে ঝালমুড়ি, কখনো ফুচকা, কখনো আইসক্রিমের প্রতিযোগিতা, আবার কখনো বাসা থেকে আনা আচারের কৌটা ঘিরে আড্ডা—মুহূর্তেই যেন মেঘলা তার হারিয়ে যাওয়া আনন্দগুলো খুঁজে পেল।
তার মনে হতে লাগল, সে যেন সত্যিই মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ছে। 🕊️🌿
তবে সেই রঙিন আকাশে শুধু একটা ছোট্ট সমস্যা ছিল।
আর সেই সমস্যার নাম—আরিয়ান। 😑
ছেলেটা যেন হাত ধুয়ে মেঘলার পেছনে লেগেছে! দূর থেকে তাকানো, সুযোগ পেলেই কথা বলার চেষ্টা, কখনো বন্ধুদের সামনে মেঘলাকে অপ্রস্তুত করে দেওয়া, কখনো ইশারা-ইঙ্গিতে কত কী বোঝানোর চেষ্টা—কিছুতেই যেন তার উৎসাহের শেষ নেই।
মেঘলার আকাশটা যতই রঙিন হোক, আরিয়ান নামের এই কালার-ব্লাইন্ড মানুষটা যেন কোনো রংই বুঝতে চায় না! 😅
কোথা থেকে এসে বারবার যে সবকিছু এলোমেলো করে দেয়!
একদিন টিফিনের সময় তনু, নীরা, সীমা আর মেঘলা মাঠের এক পাশে বসে জমিয়ে গল্প করছিল।
হঠাৎ সবাই মিলে মেঘলাকে চেপে ধরল।
— “আচ্ছা বল তো, ক্লাস এইটে পড়ছিস। এখনো প্রেম না করলে কবে করবি? এখনই তো সময় জীবনের আসল মজা নেওয়ার!”
তনু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— “আরিয়ান ভাইয়াকে এত কষ্ট দিচ্ছিস কেন? সত্যি রে, আরিয়ান ভাই তোকে অনেক পছন্দ করে!”
মেঘলা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শান্ত গলায় বলল,
— “আমি খুবই প্র্যাকটিক্যাল। তোমাদের মতো শুধু আবেগ দিয়ে দুনিয়া সাজাতে পারি না। আর বাবা-মা কষ্ট পাবে—এমন কিছু করতেও চাই না।”
সবাই মেঘলার কথায় চুপ করে গেল।
মেঘলা একটু থেমে আবার বলল,
— “প্রেম যে কোনোদিন করব না, তা কিন্তু না। আমারও ইচ্ছা আছে জীবনে কাউকে ভালো লাগুক, তার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করব। তবে হ্যাঁ, সেটা যখন হবে, তখন আমি চাই আমরা দুজনেই একটু পরিণত থাকি, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিরিয়াস থাকি। শুধু সময় কাটানোর জন্য কোনো সম্পর্ক আমার কাছে অর্থপূর্ণ না।”
মেঘলা আবার মাটির দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
— “আমি এমন একটা সম্পর্ক চাই, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখবে আর সম্পর্কটাকে হালকাভাবে নেবে না। এখনকার এসব নিয়ে ভাবার চেয়ে আমার কাছে পড়াশোনা, নিজের ভবিষ্যৎ আর তোমাদের মতো বন্ধুরাই যথেষ্ট।”
একটু হেসে শেষে বলল,
— “সময় কাটানোর জন্য প্রেম নয়—বন্ধুত্বই এনাফ, রাইট গার্লস?” 😄
তনু, নীরা আর সীমা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।
কথাগুলো হয়তো তাদের পুরোপুরি পছন্দ হয়নি, কিন্তু মেঘলার কথায় এমন এক দৃঢ়তা ছিল, যার জন্য কেউ তাকে ভুলও বলতে পারল না।
সময়ের সঙ্গে মেঘলার শান্ত স্বভাব, ভদ্র আচরণ আর পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ তাকে শুধু বন্ধুদের কাছেই নয়, শিক্ষকদের কাছেও প্রিয় করে তুলল।
ক্লাসের ফাঁকে হাসি-ঠাট্টা, টিফিনে ঝালমুড়ি-ফুচকা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প—সব মিলিয়ে স্কুলজীবনটা বেশ ভালোই কাটছিল তার। 🌸
কিন্তু মেঘলার অজান্তেই অন্যদিকে আরিয়ানের দুষ্টুমি যেন ধীরে ধীরে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল।
একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটল, যার পর মেঘলা প্রথমবার সত্যিই অস্বস্তি বোধ করল।
সে ঠিক করল, এবার থেকে আরিয়ানের চোখের সামনে না পড়াই ভালো। প্রয়োজনে একটু আড়ালেই থাকবে।
কিন্তু মেঘলা তখনও জানত না—
আরিয়ানকে এড়িয়ে চলার এই সিদ্ধান্তটাই হয়তো তাকে এমন এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করাতে চলেছে, যেটার জন্য সে একেবারেই প্রস্তুত ছিল না… 👀
চলবে… 🌙📖
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প #গল্পেরপাতায়
অনেকদিন পর আপন মানুষগুলোর সাথে একটু নিজের মতো করে সময়… 🥹🤍
ফুচকা, বার্গার আর একগুচ্ছ হাসির মাঝে জমে রইল একটা স্পেশাল বিকেল। 🌸✨
ভিডিওটা সাধারণ, মুহূর্তটা নয়। 🫶
ানুষ #সুন্দর_মুহূর্ত ゚
মাম্মা 🥹🤍
জীবনের দৌড়ে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি,
এখন এই ছোট্ট পরিচয়টাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব। 🌸
My sweetest little title. 🫶✨
#মাম্মা #আমার_গর্ব
🌿 অধ্যায়—১০ 🌿
টিফিনের সময় সবাই যখন ক্লাসের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে গল্প করছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ আরিয়ানের চোখে চোখ পড়ে গেল মেঘলার।
মুহূর্তটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু মেঘলা যেন একটু থমকে গেল। চোখ নামিয়ে নিয়ে লজ্জায় মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিল। তারপর নিজেকেই বোঝাল—এটা তো স্বাভাবিক, এর মধ্যে এত ভাবার কী আছে! 🌸
কিন্তু মেঘলা জানত না, আসল বিপত্তিটা এখনো শুরুই হয়নি।
হঠাৎ তনু আর সীমা দুজন দুদিক থেকে মেঘলার হাত ধরে টানতে শুরু করল।
— “এই, চল তো আমাদের সঙ্গে!”
— “কোথায়?” মেঘলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
দুজনের মুখে তখন রহস্যময় হাসি।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মেঘলাকে টেনে নিয়ে গেল ক্লাস নাইনের ক্লাসরুমে।
ভেতরে ঢুকেই মেঘলা একটু থমকে গেল। ক্লাস নাইনের অনেক মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিল। তাকে দেখেই সবাই যেন খুশি হয়ে উঠল।
— “এই যে মেঘলা! এসো, এসো!”
কেউ তাকে হাত ধরে একদম মাঝখানে বসিয়ে দিল।
মেঘলার নিজের কাছেই ব্যাপারটা কেমন যেন অন্যরকম লাগছিল।
এতজন সিনিয়র আপু তাকে ঘিরে বসেছে, সবার চোখে এত কৌতূহল—মুহূর্তের জন্য নিজেকেই তার ছোট্ট একটা সেলিব্রেটি মনে হলো! 😄
একজন জিজ্ঞেস করল,
— “তোমার বাবার নাম কী?”
আরেকজন,
— “বাসা কোথায়?”
— “আগে কোথায় পড়তে?”
— “তোমরা কয় ভাই-বোন?”
প্রশ্নের যেন শেষই নেই!
মেঘলা শান্তভাবে একে একে সবার প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগল। ভেতরে ভেতরে অবশ্য তার মনে হচ্ছিল—ইস! এখান থেকে যদি এখনই দৌড়ে পালাতে পারতাম!
কিন্তু সিনিয়র আপুদের সামনে সে আর কী করে! সম্মান করে চুপচাপ বসে রইল।
এমন সময় দরজার দিক থেকে রেদওয়ান আর আরিয়ান ক্লাসরুমে ঢুকল।
আরিয়ান একবার ভ্রু কুঁচকে পুরো দৃশ্যটার দিকে তাকাল। তারপর কিছু না বলে রেদওয়ানের সঙ্গে একটু দূরে গিয়ে বসে মিটমিট করে হাসতে লাগল।
সময় গড়িয়ে গেল।
মেঘলাকে নিয়ে আপুদের কৌতূহল যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত আরিয়ানও আর চুপ থাকতে পারল না।
হালকা বিরক্তি মেশানো গলায় বলল,
— “এই তোরা থামবি একটু? ওকে যেতে দে। কতক্ষণ ধরে বসিয়ে রেখেছিস!”
মেঘলা চমকে তাকাল।
আরিয়ানের চোখে তখন হাসির চেয়ে মেঘলার অপ্রস্তুত মুখটাই যেন বেশি চোখে পড়ছিল।
তারপর আরিয়ান তনুর দিকে তাকিয়ে বলল,
— “এই তনু, ওকে নিয়ে এখান থেকে যাও তো। তোমাদের ক্লাসে যাও।”
তনু আর সীমা যেন এই কথাটারই অপেক্ষায় ছিল।
— “চল মেঘলা, চল!”
নীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিল।
মেঘলা আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। তিনজনের সঙ্গে প্রায় পালিয়েই নিজের ক্লাসে ফিরে এল। 😄
ক্লাসে এসে বেঞ্চে বসেই মেঘলা একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল।
— “দেখো, এখনো আমার বুকটা ধড়ফড় করছে! তোমরা আমাকে ওই রুমে নিয়ে গেলে কেন বলো তো?”
সীমা হেসে বলল,
— “আমরা কী করব? ওই আপুগুলোই তো আমাদের বলেছিল তোমাকে নিয়ে যেতে!”
তনু যোগ করল,
— “তোমাকে নিয়ে এখন সবার কৌতূহলের শেষ নেই!”
তিনজন একসঙ্গে হেসে উঠল।
মেঘলাও শেষ পর্যন্ত হাসি আটকাতে পারল না।
তারপর ধীরে ধীরে ক্লাসের পড়ায় মন বসে গেল। কখনো তনু-সীমার সঙ্গে চাপা হাসি, কখনো শিক্ষকের কথায় মনোযোগ, কখনো নতুন বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট খুনসুটি—এভাবেই নতুন স্কুলের দিনগুলো মেঘলার কাছে একটু একটু করে আপন হয়ে উঠতে লাগল। 🌿
নতুন স্কুলটা আর এখন তার কাছে নতুন মনে হয় না। পরিচিত হয়ে উঠেছে ক্লাসরুম, পরিচিত হয়ে উঠেছে কিছু মুখ, আর সবচেয়ে বেশি—পরিচিত হয়ে উঠেছে তনু, সীমা আর নীরার বন্ধুত্ব।
এভাবেই মেঘলার দিনগুলো এগোতে লাগল—হাসি, আনন্দ, বন্ধুত্ব আর ছোট ছোট খুনসুটির রঙে। 🌸
মেঘলা জানত না, এই ছোট ছোট দিনগুলোর মাঝেই তার স্কুলজীবনের আরও কত গল্প জমে অপেক্ষা করছে।
গল্প তো সবে শুরু… 📖🤍
চলবে… 🌙✨
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প #গল্পেরপাতায়
🌿 অধ্যায়—৯ 🌿
পিকনিক শেষ করে বাস তখন স্কুলের দিকে ফিরছে। 🚌 বাসের ভেতরে যেন আনন্দের শেষ নেই। শেষ মুহূর্তের আনন্দে সবাই মাতোয়ারা। কেউ গিটার হাতে গান গাইছে, আর তার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে সবাই কখনো জোরে গাইছে, কখনো হাততালি দিচ্ছে। 🎸👏 কেউ আবার সারাদিনের ক্লান্ত শরীরটা সিটে হেলিয়ে দিয়ে বন্ধুদের মজার মজার কাণ্ডকারখানা দেখে হাসছে। 😄 কেউ আবার গানের কলি খেলায় মেতে উঠেছে।
আর এদিকে আমাদের মেঘলা চুপচাপ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে এই মুহূর্তটার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। 🌿 কখনো গুনগুন করে ঠোঁট নাড়িয়ে গান গাইছে, কখনো প্রকৃতির সঙ্গে চুপিচুপি কথা বলছে। 🍃
সোনারগাঁয়ের পথগুলো একে একে পিছিয়ে যাচ্ছে, অথচ তার মনটা যেন এখনো সেই সোনারগাঁয়ের স্পটেই আটকে আছে। 🌿
পাশে বসে থাকা নীরার শরীরটা হঠাৎ কেমন যেন খারাপ লাগতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর সে মেঘলার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,
— “মেঘলা, প্লিজ… তুমি কি আমাকে একটু জানালার কাছে বসতে দেবে? আমার না ভীষণ বমি বমি লাগছে। জানালার পাশে না বসলে মনে হয় আরও খারাপ লাগবে।”
মেঘলার একটু উঠতে মন চাচ্ছিল না। কিন্তু নীরার মুখটা দেখে সে আর কিছু বলল না। সঙ্গে সঙ্গে নিজের জায়গা বদলে তাকে জানালার পাশে বসতে দিল।
ঠিক তখনই তার কানের খুব কাছে খুব আস্তে ভেসে এলো—
— “কিছু মানুষ কাছে না থেকেও মনের খুব কাছে থাকে,
তোমার নামটা তেমনি যেন—নীরবতাতেও মনে মেঘ জমে, আমার মেঘপাখি।” 🤍🌿
মেঘলা চমকে উঠল।
এক মুহূর্তের জন্য বুকের ভেতরটা ধপ করে উঠল। সারা শরীরে যেন অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেল। কথাগুলো কে বলেছে, সেটা বুঝতে তার এক মুহূর্তও লাগল না।
আরিয়ান। 🌿
মেঘলা কিছু বলার আগেই আরিয়ান সরে গেল। পাশের নীরার অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়, তাই মেঘলাও আর কিছু বলার সুযোগ পেল না।
আরিয়ান তখন সবার সঙ্গে হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কখনো বন্ধুদের সঙ্গে খুনসুটি করছে, কখনো নিজেই গিটার হাতে নিয়ে মজা করছে, আবার কখনো আড়চোখে মেঘলার দিকে তাকিয়ে দুষ্ট একটা হাসি দিচ্ছে। 😏🎸
মেঘলা বুঝতে পারছিল, ছেলেটা ইচ্ছে করেই তাকে অপ্রস্তুত করছে।
কখনো দূর থেকে ঠোঁট নাড়িয়ে কী যেন বলছে। মেঘলা বুঝতে না পারলেও আন্দাজ করতে পারছিল—আবার নিশ্চয়ই তাকে কিছু বোঝানোর চেষ্টা করছে। কখনো গানের শব্দের আড়ালেও যেন কিছু বলার চেষ্টা করছে বারবার । 🎶
মেঘলা চোখ বড় বড় করে তাকাতেই আরিয়ান নিরীহ মুখ করে অন্যদিকে তাকিয়ে গেল। 😇
মেঘলারও ইচ্ছে করছিল সবার মতো হাসতে, গল্প করতে, এই শেষ মুহূর্তটুকু মনভরে উপভোগ করতে।
কিন্তু একদিকে সে এই স্কুলের নতুন ছাত্রী, অন্যদিকে আরিয়ানের এমন অপ্রস্তুত করে দেওয়া ব্যবহার—সব মিলিয়ে একটা অচেনা অনুভূতি যেন আনন্দের মাঝেও তাকে বারবার চুপ করে বসিয়ে রাখছিল। 🌿
এভাবেই আনন্দ, হাসি, মজা আর মেঘলার অস্থিরতার মধ্যে বাস অবশেষে স্কুলের মাঠে এসে পৌঁছাল। 🚌✨
শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী একে একে সব শিক্ষার্থীকে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন।
বাড়িতে ফিরেই মেঘলা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। 🏡
মা-বাবা আর বোনের কাছে বসে পিকনিকের গল্প করতে লাগল—কোথায় কী দেখেছে, কী খেয়েছে, সবাই কত আনন্দ করেছে। সবকিছু বলতে বলতে কখনো তার মুখে হাসি ফুটছিল, আবার হঠাৎ করেই যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিল সে নিজেই বুঝতে পারছিল না।
পরিবারের সবাই মেঘলার এই ছোট্ট আনন্দ দেখে খুশি হলো। 🤍
কিন্তু কেউ বুঝতে পারল না—এই হাসির আড়ালেই মেঘলার মনে আজ নতুন কিছু জন্ম নিয়েছে।
নতুন অভিজ্ঞতা। 🌿
সারাদিনের ক্লান্তিতে খুব তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়ল মেঘলা। 🌙
পরের দিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাই সারাদিনটা ভালোভাবেই বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ ছিল।
কিন্তু বিশ্রামের মাঝেও পিকনিকের কিছু মুহূর্ত বারবার মনে পড়ছিল।
বিশেষ করে আরিয়ানের বলা কথাগুলো।
মেঘলা চেষ্টা করছিল সেগুলো ভুলে যেতে।
“ওকে তো আর প্রতিদিন দেখব না। ও ক্লাস নাইনে, আমি ক্লাস এইটে। এসব নিয়ে এত ভাবারই বা কী আছে?”
কিন্তু যতবারই সে নিজেকে বোঝাতে চাইছিল, ততবারই অজান্তে একটা শব্দ মনে ফিরে আসছিল—
“মেঘপাখি…” 🤍
এই অনুভূতিটা কেন হচ্ছে, কেনই বা কথাটা বারবার মনে পড়ছে—মেঘলা নিজেও জানত না।
সে নিজেকেই বোঝাল,
“মাঝে মাঝে মন সব সময় যুক্তির কথা শোনে না।”
পরের দিন সকাল।
ঘড়িতে তখন নয়টা। ⏰
নাস্তা শেষ করে মেঘলা পরিপাটি হয়ে বই-খাতা গুছিয়ে নিল। ঠিক সাড়ে নয়টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল। 🎒
তখনো সে জানত না, আজকের দিনটা তার জন্য ঠিক কী নিয়ে অপেক্ষা করছে।
স্কুলে পৌঁছে আগের মতোই ক্লাস এইটের দিকে এগিয়ে গেল সে।
ক্লাস এইট আর ক্লাস নাইনের কক্ষ পাশাপাশি হওয়ার কারণে ক্লাস নাইনের সামনের পথ দিয়েই তাকে ক্লাস এইটের রুমে পৌঁছাতে হলো।
তবে আজ আর আগের মতো কিছুই অপরিচিত লাগল না।
নীরা, তনু আর সীমা তাকে দেখেই এগিয়ে এলো। সবাই যেন আজ মেঘলার সঙ্গে একটু বেশিই মিশতে চাইছে। 😊
কথা বলতে বলতে তনুর সঙ্গে মেঘলার একটা সুন্দর বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেল।
নীরা, তনু, সীমা আর মেঘলা—খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেন চারজনের একটা বন্ধুত্ব তৈরি হয়ে গেল। 🌸
গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে, নিজেদের ছোট ছোট মনের কথা ভাগ করে নিতে নিতে মেঘলার নতুন স্কুলজীবনটা ধীরে ধীরে নিজের রং পেতে শুরু করল। 🌈
মেঘলা মনে মনে ভাবল—
নতুন একটা স্কুলে এসে এত ভালো বন্ধু পাওয়াটাও তো কম কিছু নয়।
সে হাসল।
সবার সঙ্গে গল্পে মেতে উঠল।
মনে হলো, সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। 🤍
ঠিক তখনই—
টিফিনের ঘণ্টা বেজে উঠল। 🔔✨
সবাই একসঙ্গে ক্লাসের সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়াল।
কেউ টিফিন বের করছে, কেউ গল্প করছে, কেউ নিচের মাঠের দিকে তাকিয়ে আছে।
মেঘলাও বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে হাসছিল।
হঠাৎ তনু মেঘলার হাতটা ধরে বলল,
— “এই, ওইদিকে দেখ!”
মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।
তনু আর কিছু বলার আগেই নীরা মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল,
— আরিয়ান ভাইয়া…”
মেঘলার চোখ অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেদিকেই চলে গেল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
দূর থেকে আরিয়ানের চোখ এসে থামল মেঘলার চোখে।
এক মুহূর্তের জন্য দুজনের চোখাচোখি হলো। 👀
আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল সেই চেনা হাসি। 😏
মেঘলা সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিল।
তনু সেটা দেখে মুচকি হেসে বলল,
— “কী হলো?”
মেঘলা কিছু বলল না।
শুধু মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল।
কিন্তু সে জানত না—
এই টিফিনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এমন একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে, যেটা হয়তো তার নতুন স্কুলজীবনের গল্পটাকে আবার অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবে। 👀🌿
চলবে… 📖✨
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প
#গল্পেরপাতায়
24/08/2026
🌸 Laughing Factory — আমাদের তিন বছরের গল্প
চলো, আজ তোমাদের আমাদের ছোট্ট একটা গ্রুপের গল্প শোনাই।
এমন একটা গল্প, যার শুরুটা হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে—আমাদের বাচ্চাদের উসিলায়। প্রথম পরিচয় ছিল কেউ কারো সন্তানের মা, কেউ ভাবি, কেউ পরিচিত। তখন কি আর জানতাম, এই পরিচয় একদিন আমাদের এতটা আপন করে দেবে! 🤍
হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম, এই মানুষগুলো তো একেবারেই বিন্দাস! 😄
মনগুলোও কেমন যেন আলাদা—হাসতে জানে, দুষ্টুমি করতে জানে, আর জীবনটাকে খুব বেশি হিসাব করে বাঁচতে চায় না। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, এই দুষ্টু মানুষগুলোকে নিয়েই একটা ছোট্ট পৃথিবী বানানো যাক—যেখানে নিজেদের হারিয়ে ফেলব না, বরং নিজেদেরই নতুন করে খুঁজে পাব।
নাম কী হবে, সেটা ভাবতে ভাবতেই মনে হলো—Laughing Factory! 😂❤️
নামের মধ্যেই যেন আমাদের পুরো চরিত্রটা লুকিয়ে ছিল।
তারপর সেই গ্রুপের হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে কবে যে তিন বছরে পা দিয়ে ফেললাম, বুঝতেই পারিনি।
খেয়াল করলাম, আমরা আর শুধু পরিচিত নই—আমরা একে অপরের খুব ভালো বান্ধবী হয়ে গেছি।
এমন বান্ধবী, যাদের সঙ্গে কথা বলার আগে আর কথা মেপে নিতে হয় না। ফরমালিটির দরকার হয় না। কারো প্লেট থেকে খাবার তুলে খেতেও অস্বস্তি হয় না, একই স্ট্র দিয়ে পানি খেতেও “ইস!” আসে না। 😂🤭
মানে, বন্ধুত্ব যখন এতটা গভীরে যায়, তখন “তুমি-আমি” কমে গিয়ে শুধু “আমরা” হয়ে যায়।
তিন বছর—কথাটা বলতে মাত্র তিন সেকেন্ড লাগে।
কিন্তু এই তিন বছরের ভেতরে জমে আছে অসংখ্য স্মৃতি। 🌸
মন খুলে হাসার মুহূর্ত, বিপদে পড়লে একে অপরকে বলা, সংসারের ছোট-বড় গল্প, কারো মন খারাপ হলে সবাই মিলে তাকে সামলে নেওয়া—আবার কোনো কারণ ছাড়াই এমন হাসাহাসি, যেন পৃথিবীতে আমাদের কোনো চিন্তাই নেই! 😂
কখনো হাসির রিল পেলেই সবার আগে গ্রুপে পাঠানোর প্রতিযোগিতা, কখনো সামান্য একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে রাত তিন-চারটা বাজিয়ে ফেলা। 🌙🤣
আর আমরা যে মন থেকে আসলে কতটা বাচ্চা ছিলাম, সেটা আমাদের পাগলামিগুলো না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে না! 🤭
স্কুলে আমাদের দেখে বাকি দশটা গ্রুপ অন্তত একবার হলেও আড়চোখে তাকাত।
অ্যাক্টিং করতে গিয়ে এমন overacting করেছি যে রাস্তার মানুষও হয়তো মনে মনে বলত—“এরা কি সত্যিই বাচ্চাদের গার্ডিয়ান?” 😂
হাসতে গেলে মাঝে মাঝে এত জোরে হাসতাম যে নিজেরাই ভুলে যেতাম—আমরা আসলে মা হয়েছি! 😆
স্কুলের সিকিউরিটি থেকে শুরু করে আশেপাশের মানুষ—সবাই আমাদের এক নামে চিনত।
আর সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপারটা কী জানো?
কখন যে “বাচ্চাদের মা” পরিচয়টা পেছনে ফেলে আমরা একে অপরের বান্ধবী হয়ে গেলাম, কেউ বুঝতেই পারিনি। ❤️
কারো মন খারাপের গল্প শুনে সিরিয়াস হওয়ার বদলে হাসতে হাসতেই তার দুঃখটা ভুলিয়ে দেওয়া—এটাই ছিল আমাদের style।
একজনের শত্রু মানে যেন সবার শত্রু, একজনের বন্ধু মানে সবার বন্ধু। 😅
আমরা হয়তো সত্যিই খুব ভালো ছিলাম।
হয়তো সেই ভালো থাকাটার দিকেই কোথাও কারো নজর লেগেছিল… কে জানে! 🥀
হঠাৎ একদিন আমাদের Laughing Factory-এর আকাশে কালো মেঘ জমতে শুরু করল। 🌩️
ভুল বোঝাবুঝির মেঘ, অভিমানের বাতাস, কিছু বলা কথা আর কিছু না-বলা কথার বিদ্যুৎ—সব মিলিয়ে আমাদের এতদিনের পরিষ্কার আকাশটা ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে গেল।
তবুও আমরা হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলাম।
ভাবছিলাম, তিন বছরের বন্ধন, এত হাসি, এত স্মৃতি—এসব কি আর কয়েকটা ভুল বোঝাবুঝির কাছে হেরে যেতে পারে?
কিন্তু কিছু ঝড় শুধু আসে না, কিছু ঝড় এসে হিসাবও বদলে দিয়ে যায়। 🌪️
কয়েকটা কথার বিদ্যুৎ যেন আমাদের মাঝখানেই আছড়ে পড়ল। হাত শক্ত করে ধরে রাখার পরও কেউ কেউ ছিটকে গেল, কেউ দূরে সরে গেল। আর আমরা দেখলাম—যে জায়গাটা একসময় হাসিতে ভরা থাকত, সেখানে ধীরে ধীরে অভিমানের নীরবতা জমে যাচ্ছে। 🥀
তারপরও Laughing Factory-কে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু একটা সময় এসে বুঝলাম—শুধু একটা নামকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটা সম্পর্ককে টেনে নেওয়া যায় না।
হয়তো আমরা ভুলে গিয়েছিলাম, আমরা সবাই আলাদা মানুষ। সবার আলাদা মন, আলাদা অনুভূতি, আলাদা সিদ্ধান্ত। এতদিন পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে হয়তো সেই আলাদা মানুষগুলোকেই আলাদা করে দেখার কথা ভুলে গিয়েছিলাম।
তাই আজ একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিলাম—
ব্যস, Laughing Factory… তোমাকে আজ বিদায় দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। 🥹
বড় কিছু হয়ে যাওয়ার আগেই থেমে যাওয়াটাই হয়তো ভালো।
কারণ যেখানে আর আগের মতো হাসি নেই, সেখানে Laughing Factory নামটা রেখে দেওয়াটাও কেমন যেন অসম্পূর্ণ লাগে।
তবুও একটা কথা—এই গ্রুপটা আমার ফোন থেকে Delete হয়ে যাবে, কিন্তু আমার জীবন থেকে এই তিনটা বছর কখনো Delete হবে না। 🤍
রাত জাগা গল্পগুলো, অকারণের হাসিগুলো, পাগলামি, অভিমান আর সেই মানুষগুলো—কোনো Delete button দিয়ে এগুলো মুছে ফেলা যায় না।
তাই আজ বিদায়টা কাঁদতে কাঁদতে নয়—হাসতে হাসতেই দিতে চাই। 😊
কারণ আমাদের গল্পের শেষ পাতাটা হয়তো আজ লেখা হচ্ছে, কিন্তু গল্পটা যে সুন্দর ছিল—সেটা কেউ কোনোদিন অস্বীকার করতে পারবে না।
আর যারা ইতিমধ্যে Leave নিয়ে চলে গেছো, হয়তো ভেবেছো—সবকিছু এখানেই মুছে গেল।
কিন্তু তোমাদের একটা কথা হয়তো কোনোদিন বোঝাতে পারব না—মানুষকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, স্মৃতি থেকে নয়। 🤍
তাই আজ শুধু একটাই কথা—
বিদায়, Laughing Factory। 🌸
তুমি একটা WhatsApp Group ছিলে না,
তুমি ছিলে আমাদের জীবনের তিন বছরের একটা সুন্দর, পাগলাটে অধ্যায়। ❤️🥹
#লাফিং_ফ্যাক্টরি #বন্ধুত্বের_গল্প #স্মৃতির_পাতায়
🌿 অধ্যায়—৮ 🌿
সোনারগাঁয়ের আকাশে তখন তীব্র রোদ। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি সেই রোদের আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। দূরের শান্ত জলাশয়ে বাতাসের হালকা ছোঁয়ায় ছোট ছোট ঢেউ উঠছে। পুরোনো স্থাপনাগুলোও যেন নীরবে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক অজানা মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে। 🌿☀️
সেই নীরবতার মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান।
কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে, সে নিজেও জানে না। তার কাছে যেন সময়টা থেমে গেছে। চোখ দুটো এখনো সেই দিকেই, যেদিক দিয়ে মেঘলা চলে গেছে।
হঠাৎ দূর থেকে কারও ব্যস্ত পায়ের শব্দ ভেসে এলো।
আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে মৃদু একটা হাসি ফুটে উঠল। মনে হলো, অবশেষে বুঝি মেঘলা ফিরে এসেছে।
কিন্তু পরক্ষণেই একটা নরম কণ্ঠস্বর তার ভাবনা ভেঙে দিল—
— “কি শুরু করলি বল তো?”
আরিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে আছে তার বন্ধু রেদওয়ান আহমেদ।
রেদওয়ান কাছে এসে একটু শাসনের সুরে বলল,
— “একটা মেয়ের জন্য আজ পিকনিকে এসে আমাদের সঙ্গে ঠিকমতো ঘুরলি না, মজা করলি না, এখন আবার এই রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছিস! আমি সব শুনেছি। এটা ঠিক করছিস না, আরিয়ান।”
আরিয়ান চুপ করে রইল।
রেদওয়ান এবার একটু নরম হয়ে বলল,
— “সব প্রশ্নের উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পেতে হয় না, আরিয়ান। কিছু উত্তর সময়ের কাছে রেখে দিতে হয়। মানুষকে তার নিজের মতো করে ভাবার সময় দিলে সত্যিকারের উত্তরটা একদিন নিজেই সামনে এসে দাঁড়ায়।”
একটু থেমে আবার বলল,
— “তুই তো বলেছিলি, লেডিস হোস্টেলে বড় হয়েছে মেয়েটা। বোকা ছেলে, সবকিছুর একটা সময় আছে। তুই আশা করলি কীভাবে, মেয়েটা একদিনেই তোর সব অনুভূতি বুঝে যাবে? কিছু অনুভূতি বুঝতে সময় লাগে, কিছু মানুষকে বোঝাতেও সময় লাগে।”
রেদওয়ান আরিয়ানের কাঁধে হাত রাখল।
— “তুই শুধু নিজের কথাটা বলে দিয়েছিস। এখন মেঘলাকে তার মতো করে ভাবার সময়টা দে। দেখবি, সময় হলে মেঘলা ঠিকই তোর ভালোবাসা বুঝে নেবে। ভরসা আছে আমার বন্ধুর ওপর, তাই তো?”
আরিয়ান কিছুক্ষণ রেদওয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ বন্ধুটাকে জড়িয়ে ধরল। 🤍
রেদওয়ান তার কানে কানে কী যেন বলল।
কী বলল, সেটা কেউ জানল না।
শুধু দেখা গেল, আরিয়ানের মুখের ভারী ভাবটা ধীরে ধীরে কেটে গেল। ঠোঁটের কোণে আবার সেই চেনা হাসি ফিরে এলো।
কিছুক্ষণ পর আরিয়ান ছাউনির দিকে ফিরে এল।
মেঘলা দূর থেকে সবটা দেখছিল। একটু অবাক হলেও বেশি মাথা ঘামাল না। মনে হলো, সব ঠিক হয়ে গেছে। আর সেটাই ভালো।
এরপর সবাই পিকনিকের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। রান্নাবান্না শেষ, খাবার প্যাক করা হবে—টিচার আর ক্লাস নাইনের ছেলেমেয়েরা সবাই কাজে লেগে গেল।
আরিয়ানও স্বাভাবিকভাবেই সবার সঙ্গে কাজে যোগ দিল।
মেঘলা চুপচাপ বসে তাকিয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পর সবাই যার যার জায়গায় বসতে শুরু করল।
মেঘলা ভাবতেও পারেনি, ঠিক তখনই আবার আরিয়ান তার কাছে এসে দাঁড়াবে।
আরিয়ান একটু ঝুঁকে নিচু গলায় বলল—
— “এই যে ছোট্ট মেঘ… এত ভয় পেয়ে গেলে কেন?আমি কি তোমাকে অনেক অপ্রস্তুত করে ফেলেছিলাম , আমি তো শুধু একটা উত্তর চেয়েছি, তোমাকে পরীক্ষায় ফেলিনি!” 😄🌿
মেঘলা কিছু বলার আগেই আরিয়ান একটু থেমে মুচকি হাসল।
— “আজ উত্তর দিও না। কাল দিও, পরশু দিও… যতদিন লাগে নাও। শুধু আমার কথাগুলোকে একেবারে ‘না শোনা’ বলে চালিয়ে দিও না কিন্তু।” 😉
তারপর আবার একটু থেমে বলল—
— “আর হ্যাঁ… আমাকে এড়িয়ে যাওয়ার অভিনয়টা বেশ ভালো করছ। কিন্তু তোমার চোখ দুটো যে তোমার পক্ষ নিয়ে কথা বলে ফেলে—সেটা কি তুমি জানো?” 🤭🤍
কথাগুলো বলেই আরিয়ান নিঃশব্দে সরে গেল।
মেঘলা কয়েক মুহূর্ত যেন পাথরের মতো স্থির হয়ে বসে রইল।
চারপাশে এত মানুষের কোলাহল, অথচ তার কাছে সবকিছু যেন হঠাৎ দূরের কোনো শব্দ হয়ে গেল।
তার বুকের ভেতরটা অকারণে ধুকপুক করতে লাগল।
“এতক্ষণে কী হলো আমার?
আরিয়ানই বা কী বলে গেল?”
সে জানত না এই অনুভূতির নাম কী।
শুধু জানত, আজকের এই দুপুরটা তার জীবনের আর দশটা দুপুরের মতো নয়। 🌿🤍
কিছু কথা মানুষ শুনে ভুলে যায়,
আর কিছু কথা না চাইলেও মনের ভেতর থেকে যায়।
হয়তো আজ আরিয়ান শুধু কিছু কথা বলে যায়নি—মেঘলার মনে একটা প্রশ্নও রেখে গেছে।
যে প্রশ্নের উত্তর মেঘলা নিজেও এখনো জানে না।
এরপর সবাই দুপুরের খাবারে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। হাসি-আড্ডার মাঝে পিকনিকের আনন্দ আবার ফিরে এলো। খাওয়া-দাওয়া শেষে হলো নাচ, গান আর লটারির ছোট্ট আয়োজন। 🎶✨
কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না।
বিকেল গড়িয়ে এলো।
এবার ফেরার পালা।
সবাই ব্যাগ গুছিয়ে একে একে বাসে উঠে বসল।
মেঘলা জানালার পাশে বসে শেষবারের মতো সোনারগাঁয়ের সেই শান্ত জলাশয়ের দিকে তাকাল।
সকালে এই জায়গাটা ছিল শুধু একটা পিকনিকের স্মৃতি।
আর এখন?
সেই জলাশয়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কিছু অপ্রস্তুত মুহূর্ত, কিছু না-বলা কথা আর একজন মানুষের ফালতু অপেক্ষা।
বাস ধীরে ধীরে সোনারগাঁ ছেড়ে এগিয়ে চলল। 🚌🌿
জানালার বাইরে দৃশ্যগুলো একে একে পিছিয়ে যেতে লাগল।
মেঘলা চুপ করে বসে রইল।
কিন্তু তার মনের ভেতর একটা কথাই বারবার ফিরে আসছিল—
“আমি কি সত্যিই আরিয়ানের কথাগুলো ভুলে যেতে পারব?”
হয়তো কিছু গল্পের শুরু হয় কোনো বড় ঘটনার মধ্য দিয়ে নয়।
কখনো কখনো একটা দুপুর, কয়েকটা না-বলা কথা আর একটা অপেক্ষাই যথেষ্ট হয়—একটা নতুন অধ্যায়ের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য। 📖🤍
কিন্তু সেই দিনের পর মেঘলার মনে আসলে কী বদলে গেল?
আরিয়ানের সেই অপেক্ষার শেষেই বা কী ছিল?
সেদিন কি মেঘলা সত্যিই আরিয়ানকে কোনো উত্তর দিয়েছিল, নাকি সেই উত্তরটাও সময়ের কাছে রেখে দিয়েছিল? 👀
সেটা জানতে হলে… আমাদের আবার ফিরতে হবে পরের গল্পের পাতায়। 🌙📖
চলবে....
🌙✨
"শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়..." 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প #গল্পেরপাতায়
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka