JAMIL AHMED
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
এটাই আমাদের জীবনের সব চাইতে বড় সত্য।
একটা দেশ একটা জাতিসত্তা ধর্মীয় আবেগ,
জাতীয়তা কিংবা গণতন্ত্র ভোটের অধিকার সব কিছুর পরেও একটা স্থানে সবাই -এইদেশের মানুষের মধ্যে কোন বিরোধ নেই সেটা হচ্ছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।
যেদেশটি ২১ বছরের গ্লানি বুকে চেপে ধরে রক্তের নদী
পার করে, লক্ষ স্বজন খুইয়ে ঘরবাড়ি হারিয়ে একটি দেশের জন্য এতত্যাগ করে স্বাধীনতা অর্জন করে তার বিরুদ্ধে কথা শুনতে কি কেউ চায়?
এটা কেউ চায়না, এই দির্ঘ সময় ৫৫ বছর পার করে একটা দেশ এই স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে আজ দুটি চেতনার মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছে।
এই দির্ঘ ৫৫ বছর ধরে একটা শ্রেণীর মানুষ নিজের মনের ভাব প্রকাশ না করে অভিনয় করে গেছে, তারা যেন সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির চেয়েও বেশি কিছু।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন এর পরে সেই সব মানুষের মুখোশ যেন আলগা হয়ে গেলো। তারা হঠাৎ নিজেদের পরিচয় উন্মোচন করতে শুরু করলো, এতদিন তারা মিথ্যা অভিনয় থেকে বের হয়ে নিজেদের
আসল মনোভাব প্রকাশ করতে শুরু করলো।
জুলাই আন্দোলন এইদেশকে আর যাই দিক কিছু লুকিয়ে থাকা মানুষের পরিচয় কিন্তু ঠিকই দিয়েছে!
এরা স্বাধীনতা ও একুশে পদক হাতিয়ে নিয়েছে কিন্তু আদতে এরা স্বাধীনতাকে শিকারই করেনা।
জুলাই আন্দোলন ছিল একটা দলের গোছানো পরিকল্পনা, এটা আমাদের কথা নয় এটা যারা এই আন্দোলন করিয়েছে তারাই তা শিকার করেছে।
এরা রাজনীতির শেষ ধাপে ছিল হয়তো আর কিছু দিন পরে এরা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেত। এটা ছিল তাদের শেষ ভরসা তা না হলে এরা
আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতোনা। এদের একের পর এক নেতার ফাঁসি হয়ে গেছে সাধারণ কর্মীরা দলের উপর থেকে আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে সেই সাথে নিজেদের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে।
এই ছিল এদের অবস্থা, সেই অবস্থাকে অন্য ভাবে ঘুরিয়ে দিতে একটা ছোট আন্দোলনের পথ ধরে তারা আস্তে আস্তে মুল ঘটনার দিকে এগিয়ে গেছে।
এটা ছিল একটা দির্ঘ পরিকল্পনা।
এটা অবশ্যই তাদের জন্য নতুন স্বাধীনতার স্বাদ যেটা তারা নতুন বাংলাদেশ নাম দিয়েছে। এটা অবশ্যই তাদের জন্য ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। সুতরাং এটা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের লড়াই ছিলনা এটা ছিল সেই দলের লড়াই যারা বিলুপ্ত হতে হতে এই আন্দোলনের মাধ্যমে বেঁচে গেছে।
জুলাই আমাদের জন্য নয় এটা তাদের জন্য ছিল
আমাদের ৭১ সারা জীবন আমাদের এটাই বাস্তবতা এটাই আমাদের মনে রাখতে হবে।
আজকাল মানুষকে বিশ্বাস করা যায়না!
মানুষের মধ্যে অহেতুক মিথ্যা বলা বা মিথ্যা সম্পর্কে জরিয়ে যাওয়া যেন এক নিত্য বিষয়।
এইযে ফেসবুক এখানে সদা-মিথ্যা বলিবো সত্য বলা মহাপাপ জাতীয় একটা দৃঢ় আচরণ দেখা যায়।
একজন অতি বয়স্ক মানুষের ছবি দেখে বোঝার উপায় নেই এটা তার সত্যিকারের ছবিকিনা।
AI করে ছবি পোস্ট এখন ডালভাত! আমার বাস্তবিক এক বন্ধু ইদানীংকালে একটা ছবি পোস্ট করেছে আমি সেটা দেখে আসমান থেকে পড়েছি। তার এই চেহারা দেখে মনে হচ্ছে সে বুঝি অসম্ভব জোয়ান পুরুষ
আসলে সেটা AI করে পোস্ট করা হয়েছে।
আমি প্রায় দেখি কিছু মহিলা পোস্ট করছে তাদের একজন প্রিয় বন্ধু চাই? কিংবা একজন ভালো বন্ধু চাই
আসলেই কি তাই? এটা কমেন্ট শিকার করার একটা টেকনিক। লাইকের বন্যা বয়ে যায় এজাতীয় পোস্টে।
এটাই তাদের উদ্দেশ্য যা বোকা ফেসবুক ইউজারস বুঝতে পারেনা। আরো একটা ফেক পোস্ট হচ্ছে পাত্র পাত্রী হিসেবে কাউকে চাওয়া। এটাতেও সাধারণ কিছু ফেসবুক ইউজারস বুঝতে পারেনা এবং লাইক পোস্ট করতে থাকে।
ফেসবুক যেহেতু ডলার কামাই করার জন্য অনেক সুযোগ দিয়ে থাকে তাই মানুষের মধ্যে একটা বেপরোয়া ব্যবহার বেড়ে গেছে। কিছু মহিলা তাদের ব্যক্তিগত শরীরের অংশ দেখাতেও পিচপা হচ্ছেনা।
আমার দেখা একজন মহিলা তার একটা বিশেষ পাট
নিয়ে ভিডিও তৈরি করে। ভারতের একজন মহিলা তার
সবগুলি রিল অন্য একটা বিশেষ পাট নিয়ে তৈরি করে
তিনি রান্না করছে আর এমন ভাবনিচ্ছে যে উনি জানেই
না তার কি দেখা যাচ্ছে।
ফেসবুক ইউজারস বুঝতে পারেনা আমরা আসলে কি
দেখছি। কারণ আমরা দেখতে চাইনা তবুও আমাদের সেটা দেখানো হয়। আপনি যদি ভুল করেও কোন বিশেষ বিষয় নিয়ে একবার কিছু দেখে ফেলেন তো ফেসবুক ভেবে নিবে আপনি এই জাতীয় প্রডাক্ট বা বিষয় দেখতে আগ্রহী। আসলে এখানে কোন ভুল বা ইচ্ছা নিয়ে কথা হবেনা। যা আছে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। এর বাইরে কিছু বলা বা করা যাবেনা।
এখন সময়টা খারাপ তাই ফেসবুকের সাথে আমরা আমাদের মত করে চলতে শিখতে হবে।
একটা অতিচালাক AI বুদ্ধিমর্তা আমাদের পরিচালিত করবে এটাতো হতে পারেনা, তাইনা?
আমাদের উচিৎ আমাদের নিজস্বতার দিকে দৃষ্টি দেওয়া
আমাদের রুচির যেন আকাল না পরে।
বাস্তবতা যাই হোক আমাদের জন্য যেটা সঠিক সেটা
যেন আমাদের কাম্য হয়।
হোটেল বিজনেস এর সাথে যুক্ত হতে চায় এমন একজন পার্টনার চাই,,,
ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।
যখন ভালো না বাসার দিকে মানুষের মন ঘুরে যায়, তখন ভালোবাসা এলেও তাতে খুব আগ্রহ প্রকাশ পায়না।
মানুষ কি জানে তার নিজের নিয়তি কি?
না মানুষ তা জানার ক্ষমতা রাখেনা মানুষের চিন্তার মধ্যে তা থাকে কিন্তু মানুষের জীবন এমন এক সুতায় বাঁধা যে মানুষের নিয়তি মানুষ নিজে তৈরি করতে পারেনা।
আমরা তৈরি- হই, পড়াশোনা করি লক্ষ স্থির করি
কিন্তু সেই লক্ষ তৈরি হয় একটা সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায়
সেই ধারাবাহিকতায় যদি কোন রুপ অপ্রত্যয় ঘটে তাহলেই তার ভবিষ্যৎ সেই নিয়তির কাছে ভেঙ্গে পরে।
ভালবাসা আস্থা সব মিলেমিশে একটা জীবন এগিয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতিকেও যদি একসাথে করে দেওয়া হয় তবুও মানুষ তার নিয়তিকে বদলাতে পারবেনা।
মানুষের জন্য কোন নিদিষ্ট সময় নেই কখন তার মৃত্যু হবে। কেউ নেই যে বলতে পারে তার মৃত্যু কখন হবে
এবং কিভাবে।
মানুষ আসলে জন্ম হয় একটা প্রশ্ন নিয়ে তার ভবিষ্যৎ সে, না জেনে- সে একটার পর একটা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যায়, শুধু মাত্র জীবনের লক্ষ অর্জন করতে।
সবার লক্ষ পূর্ণতা পায়না, কারো কারো পায়না।
বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা......
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ইংরেজ শাসন থেকে ১৯৪৭ সালে ভাগ হয়ে যে রাস্ট্র দুটি তৈরি হয়-
তা ছিল ভারত এবং পাকিস্তান।
আর পাকিস্তান যে দুটি ভাগে বিভক্ত হয় সেটা ছিল পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান। মানচিত্র দেখলে একজন সুস্থ মানুষকে অসুস্থ হতে হবে।
দুটি ভূখণ্ডের মধ্যে দুরুক্ত প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার।
মাঝখানে ভারতের ভূখণ্ড পার হতে হয়।
এই ব্যবস্থা যারা করে গেছে তারা নিশ্চয়ই মনে মনে হেঁসে ছিল, আর বলেছিল যা একটা ল্যাঠা লাগানো হয়েছে যে এরা নিজেদের মধ্যে সারাজীবন ঝামেলা করে যাবে।
হাঁ তাদের দূরভিসন্ধি পরিকল্পনা সঠিক ছিল!
পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে প্রায় ২০ বছর এক প্রকার গোলাম করে ছেড়েছিল।
পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কোন কিছুই তাদের করার ইচ্ছে কোনদিন হয়নি।
পূর্ব পাকিস্তানের পাট বিক্রির টাকা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নতিতে কাজে লেগেছে। চা বিক্রির টাকা পকেটে ভোরেছে, তারা সমৃদ্ধির শিকড়ে উঠলেও পূর্ব পাকিস্তান ছিল তার বাইরে। বৈষম্যের চরম সীমার নিচে ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। শুধু এটাই শেষ ছিলনা বাংলা ভাষাকে মুছে ফেলার হীন চক্রান্ত ছিল। তারা মনে করলো এই জাতিকে শোসন করতে হলে এদের ভাষাকে মুছে ফেলা দরকার তারই প্রেক্ষিতে ঘোষণা এলো উর্দু হবে অভিন্ন পাকিস্তানের রাস্ট্র ভাষা। কিন্তু তারা তা পারেনি শেষ পর্যন্ত বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করতে তারা বাধ্য হয়। এটা ছিল এক নিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা। পাকিস্তানের শাসক কোনদিন শাসক ছিলনা ছিল শোসক। এরা কোনদিন নিজেদের ছাড়া কাউকে মানুষ হিসাবে গ্রহণ করেনি। আজ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা তারই প্রতিচ্ছবি। তারা আজ বাংলাদেশের কথা বলছে। পাকিস্তানের সাথে হয়তো কোন প্রদেশ আর ভবিষ্যতে থাকবেনা তারা একে একে সব কিছু হারাবে। তাদের মনে যেহেতু শুধুই লোভ তাই এই লোভ তাদের কাল হয়ে দাড়াবে। পূর্ব পাকিস্তান ১৯৭১ সালে রক্তের সাগর পার করে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ হারিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই লক্ষ নারীর সম্ভ্রম হারিয়ে ধন সম্পদের বিশাল ক্ষতি গ্রহণ করে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম দেয়।
এটা কোন গল্প নয়, এটা ইতিহাস এটা নির্মম গণহত্যা আর ধর্ষণের ইতিহাস। পাকিস্তানি মিলিটারি আর শাসক গোষ্ঠীর এই মাটির নিচে চাপা পরে থাকা জঘন্য অপরাধ করে যাওয়া ইতিহাস। আজ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র।
এদিকে বেলুচিস্তানে আছে প্রকৃতির অনেক সম্পদ যা পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করেছিল কিন্তু সেই সম্পদের কোন উপকার বেলুচিস্তানের মানুষের জন্য পাকিস্তান সরকার ব্যয় করেনি। ব্যয় করেছে নিজেদের জন্য। এরা এখনো আগের সেই পূর্ব পাকিস্তান নীতিতেই রয়ে গেছে, এদের চরিত্র বদলায়নি।
আর কখনো বদলাবে এর কোন কারণও নেই। বেলুচিস্তান ভেঙ্গে গেলে পাকিস্তানের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পরবে। তাদের পরমাণু বোমা নিয়ে বসে বসে আঙ্গুল চোষা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না। একটা অস্থির রাস্ট্র যাদের বেশির ভাগ সময় গেছে সেনা শাসনে আর অর্থনীতি দুর্বল, তারা যতই হুংকারদিক সেটা ফাকা আওয়াজ ছাড়া কিছুই না।
লেখক -
জামিল আহমেদ
১৭/০৭/২০২৬
শিক্ষা নিয়ে যত কান্ড.......
-------------------------------------------------------------------------
লেখক: জামিল আহমেদ
১৬ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার
একজন মা শিক্ষিত হলে একটা জাতি শিক্ষিত হবে
আবার মনিষীগণ বলেন কোন জাতিকে ধ্বংস করতে চাইলে সে জাতির শিক্ষাকে ধ্বংস করতে হবে।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:) বলেছেন
শিক্ষা অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে হলেও যেতে হবে।
শিক্ষা হচ্ছে একটা জাতির মেরুদণ্ড যার উপর ভর করে একটি দেশ বা একটি জাতি তার সমাজ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পথ ঠিক করে।
কোন জাতি শিক্ষা ছাড়া গড়ে উঠতে পারেনা আর সেটা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থেকে শুরু করে সব কিছুতেই শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দুটি কথা না বললেই চলছেনা।
আমরা কি আসলেই কোন প্রগতিশীল চিন্তার ধারা বহন করে ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি? নাকি সেই পুরাতন শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামান্য পরিবর্তন করে শুধু মাত্র সৃজনশীল নাম দিয়ে সেই পুরাতন মদের বোতলে নতুন মোড়ক উন্মোচন করেছি।
সৃজনশীল নাম দেওয়া এই সিস্টেমের কলকব্জা চালু করা বিগত সরকার একটা নড়বড়ে শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে গেছে। আলু ভাজা ডিম সেদ্ধ করা এই শিক্ষা দিয়ে কোন দিন কোন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আসলে বাংলাদেশের কোন সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে তেমন কোন অবদান রাখতে পারেনি। এটা আমাদের জন্য খুব বড় বিপদ সংকেত। এসি কিভাবে চালাতে হবে এটা শিখতে আমাদের সরকারি অফিসের বড় কর্মকর্তাগণ বিদেশ সফর করতে যান কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়ে সুনাম অর্জন করা জাপানের শিক্ষা ও তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে কোন উদ্যোগ নিতে এই পর্যন্ত কাউকে দেখিনি। আমাদের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার জন্য আমরা বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছি সেখানে ভালো পড়াশোনা হয় কিন্তু নিজেদের দেশের শিক্ষা নিয়ে কোন মাথাব্যথা কারো নেই।
কেন বিদেশের মত শিক্ষা আমাদের দেশে হবেনা?
আমরা কি পারিনা আমাদের শিক্ষাকে যুগপৎভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে?
কেন হাজার কোটি বছরের ইতিহাস নিয়ে আমাদের পড়তে হবে এটা জেনে কার জীবনে কি উপকার হবে।
কেন বানরদের নিয়ে অংক কষতে হবে?
কবির কবিতা পড়ে তার ভাবনা কেন আমাকে কল্পনা করতে হবে? অহেতুক বিষয় নিয়ে পড়ে সময় নষ্ট করা
কোন মানে হয়না। আমরা সুযোগ পেলেই আমেরিকার স্বপ্ন দেখি, কেন দেখি? কারণ উন্নত জীবনের খোঁজে!
আমরা নিজের দেশকে ভালবাসি বলে প্রচার করি
কিন্তু সুযোগ পেলে একমিনিট কেউ এইদেশে থাকবেনা
কারণ এদেশের কোন কিছুই ঠিক নাই।
কিন্তু ঠিক করার মত কোন সরকার আমাদের নেই
আমরা এখনো পরিক্ষায় নকল নিয়ে চিন্তা করি আমাদের চিন্তা সেই কুয়োর ব্যঙ্গের মতন যে কোনদিন সমুদ্র দেখেনি।
বর্তমান পৃথিবী হচ্ছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, আইটি ও ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির। শিশুকাল থেকে যদি এই বিষয় গুলিকে নিয়ে কোমলমতি শিশুদের জন্য উন্নত পাঠ্য বই তৈরি করা যায় তাহলে তারা বড় হয়ে এক একজন বিশেষজ্ঞ তৈরি হতে বাধ্য। চায়নারা এত উন্নত কেমন করে হয়েছে? তাদের ঘরে ঘরে এক একটা ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে। জাপান সম্পর্কে ধারণা আমাদের সবার আছে। আমরা শুধু গল্প করি ঐ দেশ এত উন্নত সে দেশ এত কিছু আবিষ্কার করে ফেলেছে কিন্তু আমরা কি আবিষ্কার করলাম? আমরা তো অন্যের আবিষ্কারের জিনিস শুধু ব্যবহার করতে শিখলাম।
শিক্ষাকে উপযুক্ত করার সময় এখনো চলে যায়নি এখনো সময় আছে আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রাইমারি স্কুল আছে মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে কলেজ আছে বিশ্ববিদ্যালয় আছে এদেরকে সঠিক ভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষাকে মূলধারার সাথে যুক্ত করতে হবে।
সব শেষে বলতে চাই আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিয়ে যদি একটা শিক্ষাকে মূল্যায়ন করা যায় তাহলে সেই শিক্ষার আলোয় দেশ আলোকিত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে একটা পরিক্ষা চলছে,
এটা এইচ এস সি পরিক্ষা। আবার বাংলাদেশে
চলছে বৃষ্টি যার কারণে ঢাকা সহ বাংলাদেশের অনেক জেলা বা বিভাগে বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম তো এখন
প্রায় পানি বন্দী কোথাও কোথাও ঘরের চালা পর্যন্ত পানি। ঢাকা শহরেও কম নয় কোথাও পানি বুক পর্যন্ত উঠেছে। একজন শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে নিয়ে খুব গর্ব করেন। তিনি বিএনপির এক সময়ে শিক্ষা প্রতি মন্ত্রী ছিলেন। তখন তিনি হেলিকপ্টারে চরে সরকারি তেল পুরিয়ে গ্রামের স্কুল পরিদর্শন করতেন আর নকল ধরতেন। উনি নিজেকে নকল বিশেষজ্ঞ মনে করেন।
এটা ছিল একটা বুলি যে উনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে নকল মুক্ত করবেন।
পূবের কথায় ফেরা যাক,
এই সময় বন্যা চলছে বৃষ্টি হচ্ছে বিরামহীন কিন্তু পরিক্ষার্থীরা দিশেহারা কেমন করে কেন্দ্রে যাবে কোন যানবাহন নেই রাস্তায় কোমর সমান পানি।
কিন্তু তবুও যে করেই হোক কেন্দে যেতে হবে, পরিক্ষা দিতে হবে, পরিক্ষা মিস করা মানে ফেল।
কি উভয় সংকট একদিকে প্রকৃতি বিরুপ অন্য দিকে সরকার না-বুঝ। সরকারের নীতি যেখানে জনগণের জন্য সহনশীল বিবেকবান হওয়া উচিত সেখানে সরকার জানেই না দেশের রাস্তা- ঘাট সব ঢুবে আছে পানির নিচে, কিন্তু তবুও পরিক্ষা নিতেই হবে। তোমরা বাঁচো বা মৃত্যুর কাছে গিয়ে মরো তাতে কোন সমস্যা নাই।
সবার আগে পরিক্ষা, পরিক্ষার কোন মাপ নাই।
একটা ছেলে বা মেয়ে ভিজে চিত্চিতে শরীর নিয়ে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তার মনে ভয় বুকে সংশয় কিভাবে পৌঁছাবো। তার পর পরিক্ষার প্রশ্ন সেটাই বা কেমন হবে? এই মন্ত্রী সাহেব তো আবার বই থেকে প্রশ্ন করা পছন্দ করেন না। তিনি এমন ভাবে প্রশ্ন তৈরি করান যেন নকল করে কেউ লিখতে না পারে। তাই বই এর ভেতরের যা কিছু ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করে তার কিছুই পরিক্ষার প্রশ্নে পাওয়া যায় না।
এই দুই টেনশনে আমাদের ছেলে মেয়েদের পরিক্ষার যে ভীতি তৈরি হচ্ছে তাতেই এরা শেষ হয়ে যাবে।
আমি জানিনা এটা কোন দেশের পরিক্ষা নিয়ে এমন পাগলামি করা যায় কিনা। মন্ত্রী মনে করছেন এখনো সবাই নকলের উপর আছে ১৭ বছর পরে ক্ষমতা পাওয়ার পর উনি ভুলে গেছেন এটা ২০২৬ সাল।
এখন উন্নত প্রযুক্তির উৎকর্ষ নিয়ে দেশ অনেক দুর এগিয়ে গেছে। এখন আর কেউ নকল করে না। এটা মনে হয় মন্ত্রী বিশ্বাস করেন না। নকলের যুগ পার হয়ে গেছে। এখনকার ছাত্র/ ছাত্রীরা অনেক স্মার্ট এরা প্রযুক্তি যুগের সন্তান এরা অনেক কিছু জানে এরা সত্যিকারের মেধাবী শিক্ষার্থী। পৃথিবী এদের হাতের মুঠোয়। অবশ্য আমি বলবোনা যে নকল নেই, হা আছে কিন্তু সেটা খুবই কম কোথাও কোথাও হয়।
কিন্তু এটা কোন মহামারী পরিস্থিতি নয়।
শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে পরিক্ষা বিশেষজ্ঞ না মনে করে একজন শিক্ষা সংস্কারক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন। তার উচিত ছিল শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগপৎভাবে
ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া। আমাদের শিক্ষা নীতি খুবই দুর্বল ও এখনো আদিম যুগের মতই রয়ে গেছে। এটাকে আধুনিক প্রযুক্তি সহযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিরাট অর্জন সম্ভব। আমাদের বাংলাদেশে শুধু দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেশা ছাত্র ছাত্রীদের জীবনের লক্ষ এক ডাক্তার আর অন্যটা ইন্জিনিয়ার। পৃথিবীতে আরও কত গুরুত্বপূর্ণ পেশা আছে কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থীরা তা জানেনা কারণ আমরাই জানিনা। আমাদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। আমরা তো শিক্ষা শুরু করি আর মনে মনে কল্পনা করি ডাক্তার হতে হবে তা না হলে সমাজে সম্মান পাবোনা।
একটা দেশের শাসন কাঠামো গড়ে উঠে সেই দেশের সরকার প্রধানের দ্বারা। তিনি সব সময় সব কিছু পর্যবেক্ষণ করবেন। দেশে বন্যা হচ্ছে তিনি অবগত আছেন। কিন্তু তিনি কি তার শিক্ষা মন্ত্রীকে জিগ্যেস করেছেন আপনি পরিক্ষার্থীদের নিয়ে কি চিন্তা করছেন? তাদের জান মালের নিরাপত্তার বিষয়টি কিভাবে ভাবছেন?
তার কি কোন পরামর্শ বা নির্দেশ ছিল?
আজকের এই সমস্যার জন্য ওনার কোন বক্তব্য আমরা শুনিনি বা পাইনি।
শুধু দেশ শাসন করলেই হবে না দেশের মানুষের প্রতি সহনশীলতা সম্প্রীতি দেখাতেও শিখতে হবে।
বর্তমান এইচ এস সি পরিক্ষা যদি জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে আমি বলবো জীবন মানে কি তা আপনারা আজও শিখেননি। আগে মানুষের প্রতি সমবেদনা আর ভালবাসা শিখুন।
আমি নিজের কাছে প্রশ্ন করছি এটাই কি আমাদের বাংলাদেশ? যেখানে মানবতার ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট নেই। এটা কেমন দেশ আর কেমন এই দেশের সরকার যারা মানুষের বিপদ আপদকে মনে করে এটা কিছুই না!
আমি মনে করি এর জন্য আমরাই দায়ী।
লেখক ----
জামিল আহমেদ
১৫/০৭/২০২৬
আমাদের লেখা পড়ায় ক্লাসে ইতিহাস পড়ানো হয় ফেলে আসা অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য। কিন্তু যে ইতিহাস গুলি আমরা শিখি তা কি আসলেই সব সঠিক ছিল? আসলে কিন্তু না, কলোম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন। আচ্ছা আমেরিকা কি পৃথিবীতে আগে ছিলনা?
সে জাহাজ নিয়ে আমেরিকায় ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে গেছে, লে বাবা এটা আমেরিকা এখন এটা তার আবিষ্কার। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক মানুষকে হত্যা করলেন আর কিছুকে দাস বানিয়ে নিয়ে গেলেন তার নিজের দেশে। ইনি তার নিজের জীবনিতেই তা লিপিবদ্ধ করেন। আর আমাদের শেখানো হলো তিনি একজন মহাৎ লোক তিনি আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন।
বেশিদুর যাবোনা আমাদের নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে ইংরেজরা লোকের কাছে নষ্ট প্রমাণ করতে তার বিরুদ্ধে
ইতিহাসে লিখলেন তিনি চরিত্রহীন ও একজন নিকৃষ্ট শাসক। আসলেই কি তিনি খারাপ ছিলেন?
বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য অস্তমিত হলো দুইশত বছরের গোলামীর বেড়ি পরে। যেদিন সিরাজুদ্দৌলাকে
ইংরেজরা গ্রেফতার করে এবং বেড়ি পরিয়ে পথ দিয়ে টেনে হিছড়ে নিয়ে যায় সেই সময় রাস্তার দুধারে যত মানুষ ছিল সবাই দাঁত কেলিয়ে হাঁসছিল।
যদি সেই দিন সবাই একটি করে পাথর নিক্ষেপ করতো ইংরেজদের দিকে তাহলেই ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে যেত। এটা আমার কথা নয় এটা লড ক্লাইড এর নিজস্ব ডায়েরি থেকে বলা।
আমার কাছে ইতিহাস হচ্ছে সত্য মিথ্যার এক জীবন্ত রসিকতা, আমাদের শিক্ষা নিয়ে আমার কোন ভরসা নেই। এটা কোন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হতে পারেনা।
ছেলে মেয়েরা মুখস্থ করে পরিক্ষাদেয় পরিক্ষার পর সব ভুলে যায়। একটা বান্দর তেল দেওয়া একটা বাঁশের উপর উঠবে তার হিসাব করে আমার কি লাভ সেটা আমার বোধে আসেনা। কোন কবি কবিতা লিখবে সেটা আমাকে মুখস্থ করতে হবে তার চিন্তা ভাবনা কি ছিল সেটা আমাকে লিখতে হবে সেটাও আমার মাথায় আসেনা। সবাই তো কবি হবেনা? আর কবিতা লিখে সংসার চলেনা। আমাদের সিলেবাসে এমন কিছু বিষয় আমরা দেখি যে এগুলির কোন কিছু আমাদের বাস্তব জীবনের সাথে যায় না। আমার কাছে আমাদের শিক্ষা
ও পাঠ্যপুস্তক কে দেখে মনে হয় আমরা এখনো আদিম যুগে আছি। আসলে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন থেকে দূরে নিয়ে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত।
জানিনা কেউ কি আছে যে এক দারুণ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এগিয়ে আসবে।
যখন মানুষ প্রতারিত হয় তখন সেই প্রতারিত মানুষের জীবন এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়ায় যে সে নিজেকে আর নতুন করে তৈরি করার অবস্থায় থাকে না
Click here to claim your Sponsored Listing.