Raqi Usama Kobir.
Raqi Usama Kobir
জ্বীন যাদু সংক্রান্ত
রুকাইয়া চিকিৎসা দেয়া হয়
01851422816
26/07/2026
দ্রুত বিয়ে এবং বিয়ের জন্য উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার কিছু আমল!
১/ বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা
২/ তাহাজ্জুদ ও সালাতুল হাজতের নামাজ পড়বেন।( রেগুলার)
৩/ বেশি বেশি এস্তেগফার পড়া । ( استغفر الله) উচ্চারণ আস্তাগফিরুল্লাহ৪/ বেশি বেশি এই আয়াত টি পড়বেন
সূরা আল-কাসাস আয়াত ২৪
َ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
রাব্বি ইন্নী লিমাআনঝালতা ইলাইইয়া মিন খাইরিন ফাকীর।
এবং বললেন, হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
৪/ এই আয়াত টি বেশি বেশি পড়বেন।
সূরা আল-ফুরকান আয়াত ৭৪
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রাব্বানা-হাবলানা-মিন আঝওয়া-জিনা-ওয়া যুররিইইয়া-তিনা কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা-লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা-।
৫/. প্রতিদিন ফজরের নামাযে পর يافتاح (ইয়া ফাত্তাহু) বাম হাতের উপর ডাম হাত রেখে আল্লাহর এই নামটি ৪০ বার পড়বেন। এভাবে ৪০ দিন পড়লে ইনশাআল্লাহ ফল পাওয়া যাবে। (পিরিয়ড থাকলেও এই আমল করবেন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে )
৬/. বেশি বেশি তিলাওয়াতের অভ্যাস করুন।
৭/. আইয়ামে বীযসহ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সিয়াম পালন করুন।
৮/. এই দুয়াটা বেশি বেশি পড়ুন-
اللَّهمَّ اكْفِني بحلالِكَ عَن حَرَامِكَ، وَاغْنِني بِفَضلِكَ عَمَّن سِوَاكَ
আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।
ইনশা আল্লাহ দ্রুত আল্লাহ
উত্তম সঙ্গী মিলিয়ে দিবেন।
এমনকি বিবাহিত বোনেরাও এই দোয়া/আমল গুলো করতে পারেন। দাম্পত্য জীবন হবে আরও প্রশান্তির হবে ইন শা আল্লাহ।
পড়ার সুবিধার জন্য ডায়রীতে দোয়াটা লিখে রাখতে পারেন।
মনে রাখবেন, যেকোন দোয়া কবুলের শর্ত হল খুব আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে চাওয়া, আল্লাহর প্রশংসা করা, দুরুদ পাঠ করা এবং একজন নিঃস্ব-অসহায় হিসেবে আল্লাহর সামনে নিজেকে উপস্থাপন করা।
নিজের প্রয়োজনীয় ব্যাপার গুলো চাওয়ার পর দুরুদ ও আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা দোয়া শেষ করা। দোয়া করার পর ধৈর্য্য ও বিশ্বাসের সাথে দোয়া কবুলের জন্য অপেক্ষা করা।
পাশাপাশি সকল হারাম ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আরেকটি দোয়া
"হে আমার প্রতিপালক ,
নিশ্চয়ই তুমি অসীম দয়ালু , পরম করুনাময়।
মহান রব সবাইকে উওম জীবনসঙ্গী দান করুক।
26/07/2026
১. আপনার কাপড় চাইবে,
২. আপনার কোন অংশ (যেমন চুল, নখ চাইবে)
৩. আপনার নাম এবং মায়ের নাম জিজ্ঞেস করবে।
অনেকে প্রশ্ন করেন, অনেক আলেম মানুষও তো এরকম করেন। তাদের ব্যাপারে কি বলবেন?
অমুক বড় মাদরাসার মুফতি সাহেব এভাবে এভাবে করেন, তার ব্যাপারে কি বলবেন?
খুব পরিচিত একজন মুত্তাকী আলেম আছেন, যিনি সংখ্যা দিয়ে তাবিজ লেখেন, এবং টাকাও নেন না। তার ব্যাপারে কি বলবেন?
প্রিয় ভাই! এখানে কয়েকটা পয়েন্ট মাথায় ঢুকিয়ে নিলে আশা করি ব্যাপারটা সহজ হয়ে যাবে-
১. ‘রুকইয়াহ শারইয়্যাহ এবং শিরকিয়্যাহ’ একটা স্বতন্ত্র বিষয়। এই বিষয়ে ক্লাস নিতে চাইলে, ৪ মাসের এক সেমিস্টার পুরোটা ক্লাস নিয়েও আলোচনা শেষ করা মুশকিল।
২. একজন ব্যক্তি মুহাদ্দিস সাহেব অথবা মুফতি সাহেব হতে পারেন, কিন্তু তার মানেই উনি তাবিজ-কবচ বিষয়ে খুব গভীর ধারণা রাখবেন এমন তো না। উনি মাদরাসায় পড়েছেন ফিকহে ইসলামি অথবা উলুমে হাদিস বিষয়ে, বদনা চালান দেয়া তো দারুল ইফতায় শিখেননি।
৩. “উনি কাওমি মাদরাসায় পড়েছেন, উনি যে তাবিজ লেখেন!” – এর উত্তরে আমি বলি “দুঃখিত ভাই! কাওমি মাদরাসায় তাবিজ লেখা শিখানো হয় না। এটা উনি অন্য কোথাও শিখেছেন।”
৪. বাস্তবতা হচ্ছে, যারা এসব করেন, তাদের খুবই কম সংখ্যক এসবের গভীর জ্ঞান রাখেন। হয়তো একটা বই পেয়েছে কোন দোকানে বা ফুটপাথে, পড়ার পর আগ্রহ জন্মেছে। ব্যস! শুরু করে দিয়েছেন।
এজন্যই আমরা অহরহ দেখি “বশ করার তাবিজ করতে গিয়ে ভুল করেছিল, এখন পাগল হয়ে গেছে, কিংবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।”
৫. গভীর জ্ঞান না রাখা একটা কারণ, দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে- এব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের মতামত জানতে না চাওয়া, তাদের শরণাপন্ন না হওয়া।
৬. তৃতীয় কারণ হচ্ছে, এব্যাপারে শরিয়ত সমর্থিত পদ্ধতির প্রচলন না থাকা। যার কারণে, লোকেরা ধীরে ধীরে কুফরি যাদুটোনা আর তাবিজের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।
স্মরণ করুন, আলী রা. এর প্রসিদ্ধ উক্তি – “আহলে হক যখন চুপ থাকে, তখন আহলে বাতিল ধারণা করে, তারাই হক!”
26/07/2026
শিং মাছ ও কবুতরের গলায় তাবিজ---------!!
কুফুরি কালাম এর তাবিজ শিং মাছের গলায় বেঁধে দিয়ে তিস্তা নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।সেই মাছ ধরা পড়েছে কাকিনা মহিপুর ঘাটে। তিস্তা নদীতে জেলেরা মাছ ধরার সময় এই মাছ দুইটি জালে উঠে এসেছে।। মাছের কাটা দুইটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল শক্তিহীন করার জন্য। মাছ বড় হয় আর তার গলায় তাবিজ বাঁধা লাইলনের সুতা টাইট হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। এই মাছের সব কষ্টের প্রভাব পড়ে সেই ব্যক্তির উপর যার নামে এই কুফুরি যুক্ত তাবিজ করা হয়। শেষ পরিনতি ভয়ানক ভাবে মৃত্যুবরন।
এইটাকে মেয়াদি বান বলা হয় ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার জন্য এই ধরনের তাবিজ ব্যবহার করা হয় । এ জাতীয় তাবিজ (কুফুরি মিশ্রিত ) যারা বানায় তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামী কাফির। আল্লাহ্ পাক এই সমস্ত কাফিরদের কুনজর থেকে হেফাজত করুণ।
আমাদের দেশে অনেক মানুষ এ জাতীয় মুশরিকদের কাছে যায়।,
এসব হল কালা যাদু যা অত্যন্ত ভয়ানক ক্ষতিকর। এ জাতীয় (কুফর-মুশরিক) তাবিজ ওয়ালাদের কাছে গেলে আল্লাহর সাথে শিরীক করা হবে,
রাসূল সাঃ ও কুফরি যাদুর শিকার হয়েছিলেন,
আসুন জেনে নেই তাবিজ কবজ সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??
এক ভাই প্রশ্ন করেছেন, আমার মা এক বড় হুজুরের নিকট থেকে (বড় হুজেরের নিকট থেকে!) খুব দামী দুটি তাবিজ এনে দিয়েছে। কিন্তু এখানে সৌদি আরবে কিছু লোক বলে তাবিজ নাকি শিরক। তাদের কথায় আমি তাবিজ খুলেছি, কিন্তু এখন মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভয় করছে। আপনি কিছু বলুন।
উত্তরঃ দেখুন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, “আত-তামায়িমু শিরকুন” - তাবিজ হচ্ছে শিরক। এটা আল্লাহর নবীর কথা (হাদীস), কোনো আলেমের ফতোয়া না! ফতোয়া হলে ভাবতেন মানুষের মত, ভুল-ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু এটি কার কথা? নবী (সাঃ) এর কথা।
আচ্ছা কেউ যদি বলে, তাবিজ যার মধ্যে শিরক থাকবে সেটা শিরক, আর যেটা কুরানের দুয়া দিয়ে করবো, কুরানের সুরা বা নবীর হাদীসের দুয়া দিয়ে করবো সেগুলোতে কোনো সমস্যা নেই।
নবী (সাঃ) এগুলোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি, যদি পার্থক্য করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই বলে দিতেন, দেখো তোমরা কুরআন হাদীসের দুয়া দিয়ে তাবিজ করিও কোনো অসুবিধা নেই। আর শিরকি কথা দিয়ে বা বুঝা যায়না এমন কথা বার্তা দিয়ে তাবিজ করিওনা। এভাবে তিনি ভেঙ্গে দুইটাকে আলাদা করে বলতেন, কারণ তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে শরীয়ত স্পষ্ট করে মানুষের কাছে পোঁছে দেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। কিন্তু তিনি এইরকম কোনো পার্থক্য করেন নি, সব তাবিজকেই শিরক বলেছেন। সুতরাং, তাবিজ তা যেকোনো রকমেরই হোকনা কেনো, আল্লাহর নবী বলেছেন - তাবিজ হচ্ছে শিরক সুতরাং শিরক।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাবিজ শিরক হয় কিভাবে? তাবিজ পূজার শিরক নয়, সেজদা করার শিরক না কারণ তাবিজকে কেউ পূজা বা সেজদা করেনা। কিন্তু এটা হচ্ছে ভরসা করার শিরক। আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে, আস্থা রাখতে হবে আর আস্থা ও ভরসা পুরোপুরি হয়ে গেছে তাবিজের উপরে। এইজন্য যারা তাবিজ ঝুলায় তারা গর্বের সাথে বলে, তাবিজ আছে, কোনো যাদু আমার ক্ষতি করতে পারবেনা, তাবিজ আছে কোনো পরোয়া নেই – কোনো জিন আমাকে স্পর্শ করতে পারবেনা। তাদের মনে বল কিজন্য? তাদের মনের বল পুরোপুরি এই তাবিজের উপরে। এইযে প্রশ্নকারীর মন খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে ভয় লাগছে, কেনো? তার আস্থা ছিলো এই তাবিজের উপরে। আল্লাহর উপর ভরসা না করে তাবিজের উপর ভরসা করা সেটা কি? সেটা হচ্ছে শিরক – সেটা কুরানের দুয়া দিয়েই তাবিজ করুক না কেনো আর শিরকি কথা বা গাছ-গাছড়া দিয়ে তাবিজ করা হোকনা কেনো।
এ সম্পর্কে কুরআনে অনেক আয়াত আছে, “যদি তুমি মুমিন হয়ে থাকে তাহলে শুধুমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করো” তাহলে তাবিজের উপর যে ভরসা করবে সে মুমিন না মুশরেক? সে মুশরকে হয়ে যাবে।
আবার অনেকে বলে, কুরআন হাদীস দিয়ে তাবিজ করবো এটা এমন কি খারাপ কথা? হ্যা আরেকটি খারাপ কথা আছে। বাথরুমে প্রস্রাব-পায়খানা করতে গিয়ে আলাহর আয়াতের কত অবমাননা করা হচ্ছে। এটা কি হারাম নয় আপনার জন্য? আপনি দিনে কতবার গুনাহগার হচ্ছেন, আল্লাহর আয়াত বা নবীর দুয়া দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়ে টয়লেটে বা গোসল খানায় গিয়ে, স্বামী বা স্ত্রীর কাছে গিয়ে। সুবহা’ন আল্লাহ! আপনি কি একবারের জন্যও চিন্তা করেন না? তাহলে এই তাবিজে শিরকও আছে আবার কুরআন হাদীস বা আল্লাহর আয়াত ও নবীর দুয়ায় অবমাননা বা মানহানির অপরাধও আছে যা আপনার জন্য কুফুরী হওয়ার আশংকা আছে।
সুতরাং, খবরদার তাবিজের উপর ভরসা না করে আল্লাহর উপর ভরসা করেন। আমরা যারা তাবিজ করিনা বা লিখিনা তাদের কি এমন ক্ষতি হয়ে গেছে বলুন দেখি? আল্লাহ না চাইলে কারো কোনো ক্ষতি হবেনা, আর আল্লাহ যদি চান কারো বালা-মুসিবত তাহলে ভালো মানুষের উপরেও বালা মুসিবত আসতে পারে। খারাপ লোকের উপর বালা মুসিবত খারাপ কাজের আজাব হিসেবে আসতে পারে আর ভালো লোক বা সৎ লোকের উপরে পরীক্ষা হিসেবে বিপদ-আপদ বা বালা মুসিবত আসতে পারে। আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ) কে আগুনে ফেলে, ইউসুফ (আঃ) কে দীর্ঘদিন জেলে রেখে, আইয়ুব (আঃ) কে কঠিন অসুস্থতা দিয়ে, ইউনুস (আঃ) কে মাছের পেটে রেখে পরীক্ষা করেছিলেন। সুতরাং তাবিজ না করে আল্লাহর উপরে ভরসা করুন।
দলিল হচ্ছে-
০১). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ (من علق شيئا وكل إليه) “যে ব্যক্তি কোন জিনিষ লটকাবে, তাকে ঐ জিনিষের দিকেই সোপর্দ করে দেয়া হবে”।-তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব।-( দেখুনঃ সহীহুত্ তিরমিযী হা নং- ২০৭২ )
০২). আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত; তিনি বলেনঃ আমি রসূল (সঃ)-কে বলতে শুনেছি ঝাড়-ফুঁক, তাবীজ এবং যাদুটোনা করা শির্ক। (আবু দাউদ ২য় খন্ড ৫৪২ পৃষ্ঠা, আহমাদ)
০৩). কোন এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন লোক পাঠিয়ে বলে দিলেন যেঃ أَنْ لاَ يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلاَدَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلاَدَةٌ إِلاَّ قُطِعَتْ “কোন উটের গলায় ধনুকের রশি বা গাছের ছাল দিয়ে তৈরী হার ঝুলানো থাকলে অথবা যে কোন মালা থাকলে সেটি যেন অবশ্যই কেটে ফেলা হয়।”(বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব)।
০৪). নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ) “ঝাড়-ফুঁক করা, তাবীজ লটকানো এবং স্বামী বা স্ত্রীর মাঝে ভালবাসা সৃষ্টির জন্যে যাদুমন্ত্রের আশ্রয় নেয়া শির্ক”। (আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তিব্ব। দেখুনঃ সিলসিলায়ে সহীহা হাদীছ নং- (৬/১১৬১)) এখানে যে ঝাড়ফুঁক করাকে শির্ক বলা হয়েছে, তা দ্বারা শির্কী কালামের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য। তবে ঝাড়ফুঁক যদি আল্লাহর কালাম, আল্লাহর সিফাত বা সহীহ হাদীছে বর্ণিত কোন বাক্যের মাধ্যমে হয়, তাতে কোন অসুবিধা নেই।
০৬). নবী (সাঃ) এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি আংটা দেখে বললেনঃ এটি কী? সে বললঃ এটি দুর্বলতা দূর করার জন্যে পরিধান করেছি। তিনি বললেনঃ (انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا فَإِنَّكَ لَوْ مِتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا) “তুমি এটি খুলে ফেল। কারণ এটি তোমার দুর্বলতা আরো বাড়িয়ে দিবে। আর তুমি যদি এটি পরিহিত অবস্থায় মৃত্যু বরণ কর, তাহলে তুমি কখনই সফলতা অর্জন করতে পারবে না”। (মুসনাদে আহমাদ, দেখুনঃ আহমাদ শাকেরের তাহকীক, (১৭/৪৩৫) তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
০৭). হুজায়ফা (রাঃ) দেখলেন এক ব্যক্তির হাতে একটি সুতা বাঁধা আছে। তিনি তা কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ )وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إلاَّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ (“তাদের অধিকাংশই আল্লাহকে বিশ্বাস করে; কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে”। (সূরা ইউসুফঃ ১০৬)
০৮). সাঈদ বিন জুবায়ের (রাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মানুষের শরীর থেকে একটি তাবীজ কেটে ফেলল, সে একটি গোলাম আযাদ করার ছাওয়াব পেল। সাঈদ বিন জুবায়েরের এই কথাটি নবী (সাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীছের পর্যায়র্ভূক্ত।
০৯). উকবা বিন আমের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: من تعلق تميمة فلا أتم الله له ومن تعلق ودعة فلا ودع الله له. (أحمد وحاكم) ‘যে ব্যক্তি তাবিজ লটকালো, আল্লাহ তাকে পূর্ণতা দেবেন না, আর যে কড়ি বহার করবে, আল্লাহ তাকে মঙ্গল দান করবেন না।’ আহমদ, হাকেম।
১০). উকবা বিন আমের আল-জোহানি রাদিআল্লাহু আনহু বলেন : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أقبل إليه رهط فبايع تسعة وأمسك عن واحد فقالوا يا رسول الله بايعت تسعة وتركت هذا قال: إن عليه تميمة فادخل يده فقطعها فبايعه وقال من علق تميمة فقد أشرك. (أحمد وحاكم) ‘একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে একদল লোক উপস্থিত হল। তিনি দলটির নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! নয়জনকে বায়আত করলেন একজনকে করলেন না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার সাথে তাবিজ রয়েছে। অতঃপর তিনি স্বহস্তে তা ছিড়ে ফেললেন এবং তাকে বায়আত করলেন, আর বললেন, যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করল সে শিরক করল।’ সহিহ মুসনাদে আহমদ, হাকেম।
অতএব যে সকল নামধারী আলেম তাবিজ দিয়ে থাকেন তাদের থেকে নিরাপদ দূরততে থাকুন।
*তাবিজ দ্বারা রোগ মুক্তি হলে তা ব্যবহার করা বৈধ হবে কি?
~~~~*
ইসলামের দৃষ্টিতে তাবিজ ব্যবহারে হারাম। এর দ্বারা উপকার হোক বা না হোক সেটা ধর্তব্য নয়। যুক্তি দিয়ে ইসলাম চলে না। বরং ইসলামের ভিত্তি হল, দলীল।
তাবিজ ব্যবহার বৈধ হলে রাসূল সা. তা করতেন, সাহাবীগণ করতেন। কিন্তু তারা তা করেন নি। সুতরাং আমাদের জন্য কোনভাবেই তা বৈধ হতে পারে না।
25/07/2026
একবার বিকেলে আমার কবুতরগুলোকে খাবার দিতে গিয়ে দেখলাম একটা কবুতর খুব ছটফট করছে। উড়তে চেষ্টা করেও পারছে না। কাছে গিয়ে ধরে দেখি গলায় বাঁধা এই জিনিস। এটা আমার কবুতর ছিল না৷ অন্য কোথাও থেকে উড়ে এসে আমার পায়রার পালে পড়েছিল।
যাই হোক, তাবিজ ছিঁড়ে নিয়ে ঘরে গিয়ে মা-চাচীকে দেখাতেই তারা শুরু করল চেঁচামেচি। এসব জিনিস ঘরে আনতে হয় না, আমি কেন এটা ঘরে আনলাম ইত্যাদি বলে বকাবকি করল। কিছুক্ষণ পর আমাদের এলাকার কুলিপাড়ায় তাবিজটা নিয়ে গেলাম। সেখানে একজন আছে এসব নিয়ে কাজ করে। সে জানাল এই কবুতরের নামে একজনকে মৃত্যুর চালান করা হয়েছে। এই কবুতর যত কষ্ট পাবে যার নামে চালান হয়েছে সেও অনুরুপ কষ্ট পাবে এবং কবুতরের সাথে সাথে সেও মারা যাবে। লোকটা এও বলল যে, যার নামে চালান দেওয়া হয়েছে তার নাম আর মায়ের নাম জানাতে পারবে। কিন্তু তাকে টাকা দিতে হবে৷
তখন আরো অনেক কথার পর সে আমাকে তাবিজটা মুঠিতে ধরে রাখতে বলল। আমি কিছুক্ষণ রেখেছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল, আমার হাতটা অনেক ভারী হয়ে গেছে আর তাবিজটা নড়ছে। যদিও আমি তার কাছে এসব বলিনি। মনে হচ্ছিল সবই মনের ভুল৷
(বিঃদ্রঃ কবুতরটা কিছুদিন খুবই অসুস্থ ছিল। তারপর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে)
যারা এসব কুফুরি কাজ করবে তাদের শাস্তি কঠিন থেকে কঠিনতম হবে।
কুফরীকালামকারী জাহান্নামি
25/07/2026
বিয়ে বন্ধ করার জন্য জিনের সামনে দুটি পথ খোলা থাকে—
👉 যদি সে মেয়েটির শরীরে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে সে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা প্রতিটি ছেলের ব্যাপারে তাকে বিরক্ত ও রাগান্বিত করে তোলে এবং জাদুগ্রস্ত মেয়ের মাধ্যমেই বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।
👉 আর যদি সে মেয়েটির শরীরে প্রবেশ করতে না পারে, তাহলে সে দূর থেকে অলীক কল্পনার জাদু বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। এতে প্রস্তাবকারী ছেলের চোখে প্রস্তাবিত মেয়েটিকে কুৎসিত করে দেখায় এবং মেয়েটির ব্যাপারে তার মনে (নানা ধরনের) কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। অনুরূপ মেয়েটির সাথেও একই কাজ করে।
কোনো মেয়ের বিয়ে বন্ধের জন্য জাদু করা হলে দেখা যায়, তাকে কোনো ছেলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রথম দিকে (উভয়ে এই) বিয়েতে সম্মতি প্রকাশ করলেও কয়েকদিন পরে (কোনো কারণ ছাড়াই) বিয়ে ভেঙে দেয়। এটি মূলত তার মনে (মেয়েটির ব্যাপারে) শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দেওয়ার কারণে হয়ে থাকে।
জাদু যদি খুব কঠিনভাবে করা হয়, তাহলে প্রস্তাবকারী ছেলেটি মেয়ের ঘরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে (বুকে) খুব সংকীর্ণতা বা কষ্ট অনুভব করে এবং তার সামনে সবকিছু কালো অন্ধকারের মতো লাগে—যেন সে কারাগারে আছে। এমন ভয়ানক অনুভূতির পর ছেলেটি সেখানে দ্বিতীয়বার আর কখনো ফিরে আসে না।
উল্লেখ্য, বিয়ে বন্ধের জাদু চলাকালীন জিন মাঝেমধ্যে মেয়েটির মাথাব্যথা তৈরি করতে পারে।
16/07/2026
📖 যাদুর নোংরামি থেকে বাঁচতে কুরআনের আশ্রয় নিন!
"ওরা কবুতরটাকেও যাদুর নোংরামি থেকে রেহাই দেয়নি!" — হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। একদল যাদুকর একজন মানুষের জীবন তো লণ্ডভণ্ড করেছেই, সেই সঙ্গে একটি পাখিকেও বানিয়েছে তাদের যাদুর বাহন!
সমাজে যাদুর প্রভাব দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র নিরাপদ উপায় হলো কুরআনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা।
✅ আপনার সুরক্ষার জন্য যা করবেন:
🍥 প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত করুন অল্প হলেও নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত করুন। এটি আপনার জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা-কবচ হিসেবে কাজ করবে।
🍥 সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমল করুন সকাল ও সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো নিয়মিত পালন করুন। এর মাধ্যমে আপনি আল্লাহর হেফাজতে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।
🎗️ যাদু, জিন বা বদনজরের সমস্যায় কী করবেন?
আপনি যদি মনে করেন যে যাদু, জিন অথবা বদনজরের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাহলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
🔹 অভিজ্ঞ রাক্বীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন দ্রুত একজন অভিজ্ঞ রাক্বীর মাধ্যমে আপনার সমস্যার মূল্যায়ন (ডায়াগনোসিস) করান।
🔹 সমস্যা চিহ্নিত করুন নিশ্চিত হন যে আপনার সমস্যাটি সত্যিই জিন, যাদু অথবা বদনজরের কারণে হচ্ছে কি না।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সকল প্রকার অনিষ্ট, যাদু এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
16/07/2026
স্বামী–স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের যাদু: কিভাবে কাজ করে জানেন......?
মানুষের সম্পর্ক ধ্বংস করার জন্য যাদুর একটি মারাত্মক ধরণ হলো স্বামী–স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদু।
রুকইয়াহর পরিভাষায় একে বলা হয়
سِحْرُ التَّفْرِيقِ بَيْنَ الزَّوْجَيْنِ
অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের যাদু।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ
অর্থ:
“তারা এমন জাদু শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।”
(সূরা আল-বাকারা: ১০২)
এই আয়াত থেকেই বোঝা যায় যে দাম্পত্য বিচ্ছেদের যাদু বাস্তব এবং প্রাচীনকাল থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে।
প্রথম বিষয়
যাদুকর কিভাবে বিচ্ছেদের যাদু প্রস্তুত করে
বিচ্ছেদের যাদু সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপ: ব্যক্তিগত বস্তু সংগ্রহ
যাদুকর আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু বস্তু সংগ্রহ করে।
যেমন:
চুল
নখ
কাপড়ের অংশ
ছবি
নাম বা জন্মতারিখ
ব্যবহৃত বস্তু
এই বস্তুগুলো যাদুর সাথে ব্যক্তিকে সংযুক্ত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় ধাপ: তলাসিম ও মন্ত্রপাঠ
যাদুকর কাগজ, কাপড় বা ধাতুর উপর তলাসিম লিখে।
তলাসিম সাধারণত হয়:
অদ্ভুত চিহ্ন
সংখ্যা
অজ্ঞাত ভাষার শব্দ
শিরকপূর্ণ মন্ত্র
এরপর শয়তানি মন্ত্র ও অপবিত্র আমল করা হয়, যাতে শয়তানি জিনরা সহযোগিতা করে।
তৃতীয় ধাপ: যাদুর বস্তু তৈরি
বিচ্ছেদের যাদুতে বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়।
যেমন:
তাবিজ
তলাসিম লেখা কাগজ
পুতুল
গিঁট দেওয়া সুতা
পিন বা সূঁচ
জাদওয়াল নকশা
মাটি বা কবরস্থানের বস্তু
রক্ত বা অপবিত্র পদার্থ
এসব বস্তু লুকিয়ে রাখা হয় বিভিন্ন স্থানে:
মাটির নিচে
কবরস্থানে
পানির ভেতরে
গাছের নিচে
ঘরের আশেপাশে
বিছানা বা বালিশের ভিতরে
দ্বিতীয় বিষয়
যাদুর খাদেম জিন কিভাবে বিচ্ছেদ ঘটায়
যাদুকর সাধারণত খাদেম জিনকে এই কাজে নিযুক্ত করে।
এই জিনের প্রধান কাজ হলো স্বামী ও স্ত্রীর হৃদয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা।
তাদের কাজের পদ্ধতি
১. শরীরে প্রবেশ করা অথবা প্রভাব বিস্তার করা
২. চিন্তা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করা
৩. একে অপরের প্রতি সন্দেহ তৈরি করা
৪. তুচ্ছ বিষয়কে বড় করে দেখানো
৫. ভালোবাসাকে ঘৃণায় পরিণত করা
৬. মনে বিচ্ছেদের ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করা
জিনের অবস্থান (অভিজ্ঞতার আলোকে)
মাথা (ব্রেইন)
বুক (কলব)
হৃদয়
পেট
প্রাইভেট এরিয়া
এই স্থানগুলো থেকে তারা মানুষের অনুভূতি ও আবেগকে প্রভাবিত করে।
(আল্লাহই সর্বাধিক জানেন)
জিন কিভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে
১. অকারণ রাগ সৃষ্টি করা
২. ভালোবাসা কমিয়ে দেওয়া
৩. ছোট বিষয়কে বড় ঝগড়ায় রূপ দেওয়া
৪. অকারণ সন্দেহ তৈরি করা
৫. দাম্পত্য সম্পর্কে অনীহা সৃষ্টি করা
হাদিসের বর্ণনা
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
إِنَّ إِبْلِيسَ يَضَعُ عَرْشَهُ عَلَى الْمَاءِ...
বাংলা অর্থ:
ইবলিস তার সিংহাসন পানির উপর স্থাপন করে এবং তার বাহিনীকে পাঠায়।
যে সবচেয়ে বড় ফিতনা সৃষ্টি করতে পারে, সে তার কাছে সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।
একজন এসে বলে: আমি অমুক কাজ করেছি।
সে বলে: তুমি কিছুই করনি।
অন্যজন এসে বলে: আমি স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি।
তখন ইবলিস তাকে কাছে ডেকে নেয় এবং বলে: তুমি খুব ভালো কাজ করেছ।
(সহিহ মুসলিম)
বাস্তবতা ও সতর্কতা
অনেক সময় এই ধরনের ক্ষতি দূরের শত্রুর মাধ্যমে নয়, বরং কাছের মানুষের মাধ্যমেই ঘটে।
যারা একসময় আপন ছিল, তারাই কখনো হিংসা বা স্বার্থের কারণে একটি সুন্দর সংসার ধ্বংস করার চেষ্টা করে।
ফলাফল:
অকারণ রাগ
ভুল বোঝাবুঝি
দূরত্ব
অশান্তি
একটি ভালোবাসার সংসার ভেঙে যায়।
আমাদের করণীয়
মনে রাখতে হবে—
আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কিছুই ঘটে না।
তিনি চাইলে—
সব সমস্যা দূর করতে পারেন
সম্পর্ক ঠিক করে দিতে পারেন
তাই আমাদের করণীয়:
আল্লাহর দিকে ফিরে আসা
অন্তরকে পরিষ্কার রাখা
হিংসা থেকে বাঁচা
আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া
দোয়া
اللهم اهدِ قلوبنا وأصلح ذات بيننا واحفظنا من شر الحاسدين والسحرة
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমাদের অন্তরকে হিদায়াত দিন, আমাদের সম্পর্কগুলো ঠিক করে দিন এবং আমাদেরকে হিংসুক ও যাদুকরদের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।
15/07/2026
জ্বীন কি সত্যিই কাপড় কেটে নিয়ে যায়? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে?
অনেকেই অভিযোগ করেন—
“কাপড় আলমারিতে ঠিকঠাক রেখেছিলাম, পরে দেখি কাটা!”
“নতুন কাপড়ে হঠাৎ ছিদ্র হয়ে গেছে!”
“বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কারণ খুঁজে পাচ্ছি না!”
এসব ঘটনা মানুষকে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত করে তোলে।
বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে জ্বীন, যাদু বা প্যারানরমাল সমস্যায় ভুগছেন, তারা অনেক সময় এমন ঘটনার সাথে নিজেদের সমস্যার সম্পর্ক খুঁজতে শুরু করেন।
কিছু ক্ষেত্রে রুকইয়াহ চলাকালীন রোগীরা এমন অভিজ্ঞতার কথা জানান যে, তাদের ব্যবহৃত কাপড়, চুল বা ব্যক্তিগত কিছু জিনিস বারবার হারিয়ে যাচ্ছে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা সন্দেহ করেন—এসবের মাধ্যমে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি—
কাপড় কাটা বা নষ্ট হয়ে যাওয়া মানেই যাদু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়।
ইঁদুর, পোকামাকড়, সংরক্ষণের সমস্যা কিংবা অন্যান্য স্বাভাবিক কারণেও এমন হতে পারে।
কিন্তু যদি এর সাথে আরও কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ যুক্ত হয়, যেমন—
বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা
অকারণ ভয় ও অস্থিরতা
শরীরে অস্বাভাবিক জ্বালাপোড়া
দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও রহস্যজনক সমস্যা থেকে যাওয়া
কুরআন শুনলে অস্বস্তি বা প্রতিক্রিয়া
তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে।
আমাদের কাজ হলো—
সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা
রুকইয়াহ ডায়াগনোসিসের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা
কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা ও গাইডলাইন প্রদান করা
আমরা কখনোই অনুমানভিত্তিকভাবে বলি না—
“অমুক ব্যক্তি করেছে”
“অমুক জায়গায় যাদু করা হয়েছে”
কারণ এসব বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।
অনেক সময় রুকইয়াহর সময় রোগী কিছু বিষয় অনুভব করতে পারেন বা কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে, কিন্তু তবুও আমাদের দায়িত্ব হলো শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে সতর্কতা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে কাজ করা।
মনে রাখবেন—
শিফা কোনো রাক্বীর হাতে নয়, কোনো চিকিৎসার হাতেও নয়।
সমস্ত শিফা ও আরোগ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে জ্বীন, যাদু, বদনজর এবং সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন।
আমিন ইয়া রব।
14/07/2026
আমি যখন থেকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত শুরু করলাম, শুরুতে আমার মনে একটা নির্দিষ্ট আশা ছিল। মনে হতো—এই আমলটা করলে হয়তো আমার ইচ্ছাগুলো দ্রুত পূরণ হবে। হয়তো জীবনের যে সমস্যাগুলো নিয়ে আমি এতদিন দুশ্চিন্তা করছি, সেগুলো একে একে মিটে যাবে। আমি ভাবতাম—হয়তো খুব দ্রুত কোনো বড় পরিবর্তন ঘটবে।
কিন্তু কিছুদিন পর বুঝলাম, আল্লাহ আমার জীবনে যে পরিবর্তন আনলেন—তা আমার কল্পনার থেকেও ভিন্ন, অথচ অনেক গভীর।
আমি হঠাৎ করে সব ইচ্ছা পূরণ হতে দেখিনি। জীবনের সব সমস্যাও একদিনে শেষ হয়ে যায়নি।
বরং এর চেয়েও মূল্যবান কিছু ঘটতে শুরু করল।
ফজরের পর যখন আমি শান্ত সকালে বসে Surah Ya-Sin তিলাওয়াত করতাম, তখন মনে হতো দিনের শুরুটাই অন্যরকম হয়ে গেছে। যেন পুরো দিনটা আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু হচ্ছে।
ধীরে ধীরে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম— আগের মতো আর অস্থির লাগছে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে আগে খুব দুশ্চিন্তা করতাম, সেগুলো এখন ততটা ভারী মনে হয় না। মনে হয়—আল্লাহ আছেন, তিনি দেখছেন, তিনিই সহজ করে দেবেন। প্রতিটি সকাল এখন একটু বেশি শান্ত লাগে।
ফজরের নরম আলো, চারপাশের নিস্তব্ধতা, আর সেই সময় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা—এগুলো যেন আমার হৃদয়ের ভেতর একটা অদৃশ্য প্রশান্তি তৈরি করতে শুরু করল।
একদিন হঠাৎ বুঝলাম—
আমি আর আগের মতো অস্থিরভাবে ইচ্ছা পূরণের অপেক্ষা করছি না। বরং আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখছি। তখনই আমি বুঝলাম—ইচ্ছা পূরণ সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে না। অনেক সময় আল্লাহ প্রথমে মানুষের হৃদয়কে বদলে দেন। তিনি মানুষের ভিতরে ধৈর্য দেন, ভরসা দেন, এবং এমন এক প্রশান্তি দেন—যা কোনো দুনিয়ার অর্জন দিয়েও পাওয়া যায় না।
আমাদের প্রিয় নবী
হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরআনের তিলাওয়াতকে মানুষের হৃদয়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশান্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ আমি বুঝি— বারাকাহ শুধু সম্পদে নয়, শুধু সাফল্যে নয়। অনেক সময় বারাকাহ আসে হৃদয়ের ভেতর—শান্তি হিসেবে, সন্তুষ্টি হিসেবে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় নির্ভরতা হিসেবে।
তাই আজও প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর যখন আমি সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করি, তখন আর শুধু ইচ্ছা পূরণের জন্য পড়ি না। আমি পড়ি আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।আমি পড়ি সেই বিশ্বাসের জন্য, যা আমাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়— যে পথেই যাই না কেন, আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
কারণ ধীরে ধীরে আমি বুঝেছি— মানুষের সব ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলেও তার মন শান্ত হয় না। আর অনেক সময় মানুষের সব সমস্যার মাঝেও তার হৃদয় শান্ত থাকে—যদি সে আল্লাহর কাছে থাকে।
আমরা দুনিয়ার পেছনে এত দৌড়াই, যেন এখানেই আমাদের চিরকাল থাকতে হবে। কিন্তু কুরআনের প্রতিটি আয়াত যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয়— এই জীবন আসলে খুবই ক্ষণস্থায়ী। একদিন সব ব্যস্ততা থেমে যাবে। সব স্বপ্ন, সব দৌড়, সব হিসাব শেষ হয়ে যাবে। সেদিন আমাদের সাথে থাকবে না সম্পদ, না সাফল্য, না মানুষের প্রশংসা।
সেদিন আমাদের সাথে থাকবে শুধু সেই কাজগুলো—যেগুলো আমরা আল্লাহর জন্য করেছি।
তাই যদি তুমি আগামীকাল ফজরের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করো— শুধু কোনো ইচ্ছা পূরণের আশায় নয়।
পড়ো তোমার হৃদয়ের জন্য। পড়ো সেই প্রশান্তির জন্য, যেটা আমরা সবাই খুঁজে বেড়াই। আর তারপর ধীরে ধীরে দেখো— কীভাবে নিঃশব্দে আল্লাহ তোমার অস্থিরতাকে বদলে দেন এক গভীর শান্তিতে
11/07/2026
⚠️ যে গুনাহগুলোর কারণে মানুষ রিজিকের বরকত থেকে বঞ্চিত হতে পারে
আমরা অনেক সময় বলি— ❝সময়টা খারাপ...❞
❝ভাগ্যটাই খারাপ...❞
❝মানুষই ভালো না...❞
কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, আমাদের নিজের গুনাহও কি এর একটি কারণ হতে পারে?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"নিশ্চয়ই একজন মানুষ তার কৃত গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।"
— মুসনাদ আহমাদ, ইবন মাজাহ
📌 যেসব গুনাহ রিজিকের বরকত কমিয়ে দিতে পারে:
❶ গোপন গুনাহ
মানুষ না দেখলেও আল্লাহ সবই দেখেন। গোপনে করা পাপ ধীরে ধীরে জীবনের বরকত নষ্ট করে দিতে পারে।
❷ হারাম উপার্জন
সুদ, ঘুষ, প্রতারণা ও অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদে প্রকৃত বরকত থাকে না।
❸ নামাজে অবহেলা
নামাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে অবহেলা জীবনের বরকতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
❹ অন্যের হক নষ্ট করা
কারও অধিকার নষ্ট করা, জুলুম করা বা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে।
🌿 তাহলে কী করবেন?
✅ বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ুন।
✅ আন্তরিকভাবে তওবা করুন।
✅ হালাল উপার্জনের চেষ্টা করুন।
✅ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করুন।
✅ মানুষের হক যথাযথভাবে আদায় করুন।
🤲 মনে রাখবেন, আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না।
আজই যদি আপনি আন্তরিকভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন, তাহলে তিনিই আপনার জন্য কল্যাণ, বরকত ও রিজিকের উত্তম ব্যবস্থা করে দিতে সক্ষম।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক, বরকতপূর্ণ জীবন এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমীন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Hathazari