Pronab Priya Vlog
আমি আমার প্রতিদিনের কাজ কর্ম শেয়ার করে থাকি ।সবাই ভালোবেসে ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন প্লিজ 🙏
13/05/2026
প্রায় দুইমাস আনাস তার স্ত্রী সুমাইয়া কে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করেছে 😱😱 তার কাছে নাকি কেউ জানতে চাই নি সে দোষ ী কি না😱 সেদিন কি হয়েছিল😱 সে নাকি এখনো মেনে নিতে পারছেন না সুমাইয়া আপু বেঁচে নেই🥲 ゚ ゚
আমার শাশুড়ি হঠাৎ আমার হাতে ২০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়ে বললেন, কয়েক দিনের জন্য বিদেশ থেকে ঘুরে এসো মনটা সতেজ করতে। যে দিন এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা হলাম, সেদিনই চুপিচুপি বাড়িতে ফিরে এলাম... আর আবিষ্কার করলাম এক ভয়াবহ সত্য।
আরিয়ানের সাথে আমার বিয়ের বয়স পাঁচ বছর। আমাদের সংসার জীবন খুব একটা নিখুঁত ছিল না, তবে নিজেকে আমি ভাগ্যবতীই ভাবতাম—বিশেষ করে আমার শাশুড়ির জন্য।
আমার শাশুড়ি জাহানারা বেগম পরিবারে একজন শান্ত ও বিবেচক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমাদের সংসারে তিনি খুব একটা নাক গলাতেন না। কথা বলার সময় তার স্বর সবসময় থাকতো নরম, আর তার উপদেশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মমতাই বেশি প্রকাশ পেত। পাড়া-প্রতিবেশী এমনকি আত্মীয়রাও আমাকে বলত, "তুমি বড় ভাগ্যবতী। সবার কপালে এমন শাশুড়ি জোটে না।"
কিন্তু ইদানীং আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ ক্লান্ত বোধ করছিলাম। অফিসের চাপে আমি বিধ্বস্ত, আর মনের ভেতরটা কেমন জানি শূন্য হয়ে আসছিল। আরিয়ান ইদানীং দিন-রাত ব্যস্ত, অনেক দেরিতে বাড়ি ফেরে, আমার নীরবতাটুকুও যেন সে খেয়াল করার সময় পায় না।
একদিন বিকেলে জাহানারা বেগম আমাকে আমাদের ধানমন্ডির বাসার ড্রয়িং রুমে ডাকলেন। আমাকে পাশে বসিয়ে টেবিলের ওপর একটা মোটা খাম রাখলেন, তারপর আলতো করে সেটা আমার দিকে ঠেলে দিলেন।
"মা," তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন,
"এই নে, এখানে ২০ লক্ষ টাকা আছে। তুই কয়েক সপ্তাহের জন্য ইউরোপ থেকে ঘুরে আয়। একটু ঘুরে বেড়া, প্রাণভরে নিশ্বাস নে, মনটা শান্ত কর... তারপর ফিরে আসিস।"
আমি পাথর হয়ে গেলাম।
বিগত পাঁচ বছরে তিনি আমাকে একবারে এত টাকা কখনো দেননি। এমনকি একা একা কোথাও যাওয়ার কথা তো চিন্তাই করা যেত না। প্রথমে আমার বুকটা কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠল। ভাবলাম, তিনি সত্যি আমাকে কতটা ভালোবাসেন!
কিন্তু পরক্ষণেই একটা তীব্র সন্দেহ আমার মাথায় দানা বাঁধল।
আমাকে একা কেন পাঠাচ্ছে ইউরোপে?
ঠিক কি কারনে আমাকে বাড়ি থেকে দূরে পাঠাতে চাইছেন?
তা সত্ত্বেও, আমি টাকাটা গ্রহণ করলাম।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমি টিকিট কাটলাম। আরিয়ানকে যখন জানালাম, সে কোনো প্রশ্নই করল না। শুধু স্বাভাবিকভাবে মাথা নেড়ে বলল:
"যাও, একটু বিশ্রাম হবে তোমার। এখানে মা সব সামলে নেবেন।"
এই একটা বাক্য আমাকে সবকিছুর চেয়ে বেশি অস্থির করে তুলল।
যাওয়ার দিন মা নিজেই আমার সাথে এয়ারপোর্টে এলেন। আমার মাথার ওড়নাটা ঠিক করে দিলেন, সময়মতো খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিলেন, বারবার আমাকে 'মা' বলে ডাকলেন। বিদায় নেওয়ার আগে আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। তিনি স্নিগ্ধ হাসলেন।
কিন্তু তিনি যেই আড়ালে গেলেন, আমার মনের ভেতর একটা কথা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল:
আমি কোথাও যাচ্ছি না।
বিমানে ওঠার ভান করে আমি কিছুক্ষণ পর চুপিচুপি ফিরে এলাম। একটা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে আমাদের এলাকার কয়েক গলি আগে নামলাম। বুকটা ধড়ফড় করছিল যখন আমি বাড়ির দিকে হাঁটছিলাম। কিছু একটা যে খুব বড় রকমের ভুল হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছিলাম।
যখন বাড়ির গেটের সামনে পৌঁছালাম, ভয়ে আমার বুকটা কেঁপে উঠল।
প্রধান দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়ে আছে।
ভেতর থেকে উচ্চৈঃস্বরে হাসির শব্দ আসছিল—অত্যন্ত পরিচিত কিন্তু এক অদ্ভুত নিশ্চিন্ত হাসি।
আমি গেটের আড়ালে লুকলাম এবং খুব সাবধানে ভেতরে উঁকি দিলাম।
ড্রয়িং রুমের ভেতরে যা দেখলাম, তা দেখে আমার শরীরের র*ক্ত যেন হিম হয়ে গেল।
আমার চোখের সামনেই...
চলবে....
ধোকা
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven
খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।
আমি নিজের চোখে দেখেছি—ঈদের দুপুরে আমার মেয়ের স্বামী তাকে সবার সামনে চড় মেরেছে…
আর সেই মুহূর্তে তার দেবর হেসে বলেছিল,
“এই তো ঠিক আছে… বউকে শাসনে রাখতে হলে এমনই লাগে।”
ওই কথাটাই যেন আমার বুকের ভেতর আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।
আমার নাম আব্দুল কাদের। বয়স ঊনষাট।
ঢাকায় একটা বেসরকারি তদন্ত সংস্থায় প্রায় তিরিশ বছর কাজ করেছি।
মানুষের মুখ দেখে মিথ্যা ধরতে শিখেছি।
চোখের ভেতর ভয় চিনতে শিখেছি।
কিন্তু নিজের মেয়ের চোখের আতঙ্ক… সেটা আমি কোনোদিনও বুঝতে পারিনি।
সেদিন ছিল ঈদের দ্বিতীয় দিন।
আমাদের গ্রামের বাড়িতে সবাই মিলে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম।
বড় উঠানে প্যান্ডেল টাঙানো, পাশে আমগাছ, গরম ভাতের ধোঁয়া উঠছে, টেবিলজুড়ে গরুর মাংস, রোস্ট, পোলাও, বোরহানি, সেমাই…
সবকিছু এত সুন্দর ছিল।
যতক্ষণ না আমার জামাই রাফি হঠাৎ টেবিল চাপড়ে চিৎকার করে উঠল।
“তুমি আবার আমাকে টাকা শেখাও? একটা সংসারও ঠিকমতো সামলাতে পারো না!”
আমার মেয়ে মেহরিন কেঁপে উঠেছিল।
মাথা নিচু করে ছোট গলায় বলেছিল,
“আমি তো শুধু বলছিলাম… এই মাসে গাড়ির কিস্তিটা একটু—”
“চুপ!”
ওই “চুপ” শব্দটার ভেতর এমন এক ভয় ছিল, যেটা স্বাভাবিক না।
আমি তখনও নিজেকে সামলে বসে ছিলাম।
কারণ আমার স্ত্রী সালমা আমার হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলেছিল,
“ঈদের দিন… প্লিজ ঝামেলা কোরো না।”
কিন্তু পরের মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।
রাফি হঠাৎ মেহরিনের চুল মুঠো করে ধরে এমন জোরে থাপ্পড় মারল যে আমার মেয়েটা পাশে রাখা খাবারের টেবিলের উপর পড়ে গেল।
গ্লাস ভেঙে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।
বোরহানি গড়িয়ে সাদা টেবিলক্লথ ভিজে গেল।
আর আমার মেয়ের ঠোঁট ফেটে রক্ত ঝরতে লাগল।
চারপাশ নিস্তব্ধ।
শুধু রাফির ছোট ভাই সাগর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে হাসছিল।
তার হাতে কোকের ক্যান।
সে দাঁত বের করে বলল,
“ভাবি বেশি মাথায় উঠছিল… ভাইয়া ঠিকই করছে।”
আমি জীবনে অনেক রাগ দেখেছি।
কিন্তু ওই মুহূর্তে আমার ভেতর যে ঠান্ডা আগুন জ্বলে উঠেছিল, সেটা অন্যরকম।
আমার স্ত্রী চিৎকার করে মেহরিনের কাছে দৌড়ে গেল।
আমার ছোট বোন রোজিনা মুখে আঁচল চেপে দাঁড়িয়ে রইল।
আর আমি শুধু মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
আমার ছোট্ট মেয়ে…
যে ছোটবেলায় ভয় পেলে এসে আমার বুকের ভেতর মুখ লুকিয়ে রাখত…
আজ সে নিজের স্বামীর সামনে কাঁপছে।
আমি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালাম।
রাফি তখনও গরম গলায় বলছে,
“আঙ্কেল, আপনার মেয়েকে আগে শিখান স্বামীর সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়।”
আমি তার দিকে তাকালাম।
তার চোখে অনুতাপ নেই।
ভয় নেই।
বরং বিরক্তি।
যেন সে ভুল কিছু করেনি।
বরং আমরা সবাই বাড়াবাড়ি করছি।
আমি পকেট থেকে ফোন বের করলাম।
একটা নাম্বার ডায়াল করলাম যেটায় বহু বছর কল করা হয়নি।
নাজিয়া রহমান।
আমার পুরনো সহকর্মী।
একসময় ডিবিতে কাজ করত।
এখন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর।
ওপাশ থেকে গম্ভীর গলা ভেসে এলো,
“কাদের ভাই?”
আমি নিচু গলায় বললাম,
“একটা মেয়েকে তার স্বামী মারছে… আর আমার মনে হচ্ছে এর পেছনে আরও বড় কিছু আছে। এখনই আসতে পারবেন?”
রাফি রাগে দাঁত চেপে বলল,
“আপনি আবার কাকে ডাকছেন?”
আমি শান্ত গলায় বললাম,
“যে মানুষ মিথ্যার গন্ধ খুব দূর থেকেও পায়।”
সাগর এবার উঠে দাঁড়াল।
মোটা গলায় বলল,
“চাচা, স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে বেশি ঢুকবেন না।”
আমি ধীরে ধীরে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
“যেদিন কোনো পুরুষ আমার মেয়ের গায়ে হাত তোলে, সেদিন থেকে সেটা আর শুধু স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার থাকে না।”
ঠিক তখনই মেহরিন কাঁপা গলায় এমন একটা কথা বলল, যেটা শুনে আমার বুক ভেঙে গিয়েছিল।
“আব্বু… ও আমাকে প্রায় এক বছর ধরে মারছে…”
আমার চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল।
এক বছর?
পুরো একটা বছর আমার মেয়ে নির্যাতন সহ্য করেছে?
আর আমি কিছুই বুঝিনি?
আমি মেহরিনের দিকে তাকালাম।
তার চোখের নিচে কালচে দাগ।
হাতের কব্জিতে পুরনো আঘাতের চিহ্ন।
হঠাৎ মনে পড়ল—
কয়েক মাস আগে সে গরমের মাঝেও ফুলহাতা জামা পরেছিল।
ফোনে কথা বলার সময় সবসময় ভয় পেত।
কখনো একা আসত না।
আমি কেন বুঝিনি?
রাফি এবার ফোন বের করে কারও সাথে আস্তে কথা বলতে লাগল।
“সমস্যা হয়ে গেছে… শ্বশুর বেশি ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করছে… তোরা তাড়াতাড়ি আয়।”
আমার বহু বছরের অভিজ্ঞতা সঙ্গে সঙ্গে বলে দিল—
এটা শুধু সংসারের অত্যাচার না।
আরও কিছু আছে।
অনেক বড় কিছু।
নাজিয়া প্রায় চল্লিশ মিনিট পরে এলো।
সে বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে মেহরিনের দিকে তাকাল।
তারপর খুব ঠান্ডা চোখে রাফিকে দেখল।
“আপনার স্ত্রীকে মারলেন?”
রাফি হেসে বলল,
“পারিবারিক ব্যাপার ম্যাডাম।”
নাজিয়া শান্তভাবে বলল,
“বাংলাদেশের আইনে গায়ে হাত তোলা অপরাধ। পারিবারিক ব্যাপার না।”
তারপর সে আমাকে আলাদা ডেকে নিয়ে গেল।
নিচু গলায় বলল,
“কাদের ভাই… আমি আসার পথে একটা তথ্য পেয়েছি। আপনার জামাই আর তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগ আছে।”
“কিসের অভিযোগ?”
“ইনস্যুরেন্স জালিয়াতি… আর কয়েকটা ভুয়া এক্সিডেন্ট কেস।”
আমার বুক ধক করে উঠল।
কারণ ঠিক এই ধরনের কেস নিয়েই আমি সারাজীবন কাজ করেছি।
নাজিয়া আরও বলল,
“দুই মাস আগে একটা লোকের নামে কোটি টাকার বীমা ক্লেইম করা হয়েছে। অথচ লোকটা নাকি এখনও বেঁচে আছে।”
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
তখনই বাইরে কয়েকটা মোটরসাইকেলের শব্দ ভেসে এলো।
রাফি জানালার দিকে তাকিয়ে হালকা হাসল।
“আমার মানুষজন এসে গেছে।”
আমি বুঝে গেলাম—
এই রাত শুধু আমার মেয়ের নির্যাতনের সত্য না…
আরও ভয়ংকর একটা অন্ধকার বের করে আনতে যাচ্ছে।
আর সেই অন্ধকারের দরজা খুলতে যাচ্ছি আমি নিজে…
চলবে…
#নীল_অন্তর
[লেখক #গল্প_ঘর ]
11/05/2026
স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ের ড্রেস খু"লতে যাচ্ছিল, হঠাৎ শার্টের পকেটে হাত দিতে...See more
আমারে আর মাই'রো না!” রান্নাঘর থেকে মায়ের এই আর্তচিৎকার শুনে সুজনের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। ভুলে ফেলে যাওয়া পাসপোর্টটা নিতে বাসায় ফিরেছিল সে, কিন্তু তার বদলে ফিরে পেল এক ভয়ংকর সত্য। মাত্র কয়েক মাস আগে বিয়ে করা স্ত্রী শায়লা, যার হীরের মতো উজ্জ্বল হাসিতে সে নিজের পুরো পৃথিবী খুঁজে পেয়েছিল, সেই মেয়েটাই আজ তার মায়ের গায়ে হা*ত তুলছে।
সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল। ঢাকার আকাশে তখনও হালকা মেঘ, রাস্তায় অফিসগামী মানুষের ভিড়। সুজন বিমানবন্দরের পথে রওনা দিয়েছিল। মালয়েশিয়ায় নতুন চাকরি পেয়েছে সে। দুপুরের ফ্লাইট। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
হঠাৎ গাড়িতে বসে বুকের ভেতর ধাক্কার মতো মনে পড়ল, পাসপোর্টটা বাসার ড্রয়ারে রেখে এসেছে।
ড্রাইভারকে ঘুরিয়ে আবার বাসার দিকে রওনা দিল সে।
মাথায় তখন শুধু একটাই চিন্তা, “যদি ফ্লাইট মিস হয়ে যায়?”
কিন্তু সে জানত না, কয়েক মিনিট পর তার পুরো জীবনটাই অন্যদিকে মোড় নিতে যাচ্ছে।
বাসার সামনে এসে সুজন অবাক হলো। প্রধান দরজা ভেতর থেকে লাগানো, অথচ এই সময়ে সাধারণত তার মা রহিমা বেগম বারান্দায় বসে কোরআন পড়েন।
ডোরবেল চাপতেই ভেতর থেকে কোনো সাড়া এল না।
ঠিক তখনই রান্নাঘরের দিক থেকে ভেসে এল একটা আতঙ্কে কাঁপা কণ্ঠ।
“আমারে আর মাই*রো না মা… আমি কিছু করি নাই…”
সুজনের বুক কেঁপে উঠল।
এটা তার মায়ের গলা।
সে জোরে দরজায় ধাক্কা দিল।
“শায়লা! দরজা খোলো!”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর দ্রুত পায়ে এসে শব্দ করে দরজা খুলল শায়লা।
মেয়েটার মুখে অদ্ভুত এক অস্থিরতা। কপালে ঘাম, হাতে রান্নাঘরের তোয়ালে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই সে জোর করে ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,
“আরে! তুমি আবার ফিরলা কেন?”
সুজন কোনো উত্তর দিল না। সরাসরি রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
রান্নাঘরে ঢুকেই তার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
রহিমা বেগম মেঝেতে বসে আছেন। এক হাত দিয়ে গাল চেপে ধরে কাঁদছেন। পাশে ভাঙা একটা প্লেট পড়ে আছে। তার চোখের কোণে স্পষ্ট ভয়।
“মা!” ছুটে গিয়ে তাকে ধরল সুজন। “কি হইছে?”
রহিমা বেগম কাঁপা গলায় বললেন,
“কিছু না বাবা… আমি অসাবধানতাবশত প্লেটটা ফালাইয়া ভেঙ্গে ফেলছিলাম…”
সুজন মায়ের মুখের দিকে তাকাল। ডান গালে লাল দাগ।
ওটা প্লেট পড়ে হওয়ার দাগ না।
তার মাথার ভেতর যেন আগুন জ্বলে উঠল।
পেছন থেকে শায়লা শান্ত গলায় বলল,
“তোমার মা অনেক দুর্বল হয়ে গেছেন। একটু আগে পড়ে গিয়েছিলেন।”
সুজন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
“তুমি কি আমার মায়ের গায়ে হা*ত তুলছ?”
শায়লার চোখে এক মুহূর্তের জন্য ভ*য় ঝলসে উঠল। কিন্তু সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিল।
“তুমি কি পাগ*ল হইছ? আমি কেন তোমার মায়ের গায়ে হাত তুলবো?”
রহিমা বেগম তাড়াতাড়ি বললেন,
“না বাবা, শায়লা কিছু করে নাই।”
কিন্তু মায়ের কণ্ঠে সেই চিরচেনা আত*ঙ্ক সুজন ঠিকই টের পেল।
ছোটবেলায় বাবার মা*রধর সহ্য করার সময়ও এই একই ভ*য় তার মায়ের চোখে দেখেছিল সে।
সুজন চুপ হয়ে গেল।
কিছু একটা ভ*য়ংকর ভুল হচ্ছে এই বাসায়।
কিন্তু ঠিক কী?
পাসপোর্ট নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেল সে। যাওয়ার আগে একবার পেছনে তাকাল।
শায়লা দাঁড়িয়ে আছে দরজার পাশে।
তার ঠোঁটে আবার সেই মিষ্টি হাসি।
কিন্তু আজ প্রথমবারের মতো সেই হাসিটা সুজনের কাছে ভয়ংকর লাগল।
বিমানবন্দরে পৌঁছেও সুজন অস্থির হয়ে রইল। বারবার মায়ের ভীত মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
সে মাকে ফোন দিল।
রহিমা বেগম স্বাভাবিক গলায় কথা বললেন।
“আমি ভালো আছি বাবা। টেনশন কইরো না।”
কিন্তু কথার মাঝখানে যেন চাপা কান্না লুকানো ছিল।
তারপর ফোনটা হঠাৎ কেটে গেল।
দুই মিনিট পর শায়লার মেসেজ এল।
“তোমার মা বয়সের কারণে অনেক কিছু ভুল বুঝে। তুমি প্লিজ মাথা গরম কইরো না।”
সুজনের বুকের ভেতর একটা সন্দেহ জমে উঠল।
সেদিন রাতে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেও তার ঘুম এল না।
ভোর চারটার দিকে হঠাৎ মোবাইলে একটা ভিডিও নোটিফিকেশন এল।
অজানা নম্বর থেকে।
ভিডিও চালু করতেই সুজনের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল।
চলবে...
আড়ালে
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven
আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে সবাই পেজটি ফলো করে ছোট একটা কমেন্ট করবেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করার সাথে সাথে নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন।
বুয়া
পর্ব ০৫ (শেষ পর্ব)
লেখক: The Story Haven
রান্নাঘরের চৌকাঠে পা দিতেই গরম ভাপটা মুখে লাগল, কিন্তু আজকের অনুভূতিটা আলাদা। পেছনে তাকাতেই দেখলাম রাফি ড্রয়িংরুমে মেজ মামার ছেলেদের ছড়িয়ে রাখা ময়লাগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরছে। ওদিকে ড্রয়িংরুমে মামানিরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করছেন। আমি ফ্রিজ থেকে বড় একটা পানির জগ বের করে টেবিলে রাখলাম।
বড় মামানি একটু গম্ভীর গলায় বললেন, “বউমা, রান্নার আয়োজন কি আমরাই শুরু করব? এই গরমে পেঁয়াজ কাটলে তো আমি শেষ হয়ে যাবো।”
আমি খুব মিষ্টি করে হাসলাম। “মামানি, গরমের চেয়েও বড় জিনিস হলো আপনজনদের খাওয়ানো। আপনারা না সবসময় বলতেন আপনাদের সময়ে কত কিছু সামলেছেন? আজ সেই দক্ষতা একটু দেখান। আমি তো অসুস্থ, আজ শুধু আপনাদের গাইড করব।”
শ্বাশুড়ি আম্মা তখন দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন। ওনার মুখে একটা পরাজয়ের ছাপ, কিন্তু নিস্তব্ধ বাসায় বিশৃঙ্খলার যে পাহাড় জমেছিল, তা থেকে বাঁচতে তিনিও এবার সায় দিলেন। উনি এগিয়ে এসে বড় মামানিকে বললেন, “আপা, নিহা ঠিকই বলছে। চলো আমরা সবাই মিলেই করি। নিহা তুমি শুধু বলে দাও মসলা কোথায় আছে।”
পাঁচ বছরে এই প্রথম রান্নাঘরটা একটা যু*দ্ধের ময়দান না হয়ে পিকনিক স্পটের মতো হয়ে উঠল। মেজ মামানি পেঁয়াজ কাটছেন, বড় মামানি চাল ধুয়ে দিচ্ছেন, আর আমার শ্বাশুড়ি আম্মা কড়াইতে খুন্তি নাড়ছেন। আমি চেয়ারে বসে নির্দেশ দিচ্ছি। রাফি মাঝে মাঝে এসে পানির গ্লাস দিয়ে যাচ্ছে। মেহমানরা আজ অবাক হয়ে দেখছে যে, এই বাড়ির বউ শুধু আদেশ পালনকারী নয়, সে এখন চালক।
দুপুরে যখন ডাইনিং টেবিলে সবাই বসল, খিচুড়ি আর ডিম ভাজির খুব সাধারণ এক আয়োজন। মেজ মামা একটু খুঁতখুঁত করে বললেন, “এতগুলো মেহমান আসলাম, একটু মাংস-পোলাও হলো না?”
রাফি এবার মুখ খুলল। ও খাওয়ার থালাটা টেনে নিয়ে শান্ত গলায় বলল, “মামা, বাজারে সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। আর নিহার শরীরও ভালো না। আমরা ঠিক করেছি এই এক মাস সাধারণ খাবারই খাব। যদি আপনাদের ভালো কিছু খেতে ইচ্ছে করে, তবে বাজারের টাকাটা আপনারা ভাগ করে দিলে আমি ভালো বাজার করে আনতে পারি।”
রাফির এই সোজাসাপ্টা কথা শুনে পুরো ডাইনিং টেবিল নিস্তব্ধ হয়ে গেল। মেজ মামা আর কথা বাড়ালেন না। আমি আড়চোখে রাফির দিকে তাকালাম—ওর এই পরিবর্তনটাই আমার সবচেয়ে বড় জয়। ও বুঝতে পেরেছে, সংসারটা শুধু আবেগ আর আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে চলে না, এখানে শ্রম আর অর্থের একটা কঠিন বাস্তবতা আছে।
মেহমানরা চারদিন থাকার পর একে একে বিদায় নিতে শুরু করলেন। যারা এক মাস থাকার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলেন, তারা যখন দেখলেন এখানে আর আগের মতো ‘বিনা মূল্যের সেবা’ পাওয়া যাচ্ছে না, তখনই তাদের গরমের ছুটি ছোট হয়ে এল।
সবাই চলে যাওয়ার পর ঘরটা যখন আবার আগের মতো শান্ত হলো, তখন বিকেলবেলা। ড্রয়িংরুমের সিলিং ফ্যানটা এখন পূর্ণ গতিতে ঘুরছে। আমি সোফায় বসে বই পড়ছিলাম। শ্বাশুড়ি আম্মা এসে আমার পাশে বসলেন। ওনার হাতে কিছু টাকা ছিলো।
উনি আমার দিকে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “নিহা, এটা তোমার এই মাসের হাতখরচ। রাফি দিয়েছে ও নিজে দিতে অপমান বোধ করলো তাই আমি দিলাম। আর শোনো... কাল থেকে রান্নার জন্য একটা মেয়ে আসবে ঠিক করেছি। তুমি শুধু তদারকি করবে।”
আমি ওনার দিকে তাকালাম। ওনার চোখে আজ আর সেই কর্তৃত্ব নেই, আছে এক ধরনের শ্রদ্ধা। আমি টাকাটা হাতে নিয়ে ওনার হাতটা শক্ত করে ধরলাম। বললাম, “আম্মা, আমি তো কাজ করতে ভয় পাই না। আমি শুধু ভয় পাই অবহেলার। আমি এই বাড়ির বউ হতে চেয়েছিলাম, কাজের মেয়ে নয়।”
রাফি অফিস থেকে ফিরে এক প্যাকেট আইসক্রিম নিয়ে এল। আমার সামনে রেখে বলল, “আজ কোনো রান্না হবে না। বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসব। আজ তোমার ছুটি।”
আমি জানালার বাইরে গোধূলির আকাশের দিকে তাকালাম। জুন মাসের সেই অসহ্য গরমটা আজ আর নেই। এক পশলা বৃষ্টির পর বাতাসটা এখন অনেক বেশি স্নিগ্ধ। আমি বুঝতে পারলাম, অধিকার কখনো চেয়ে পাওয়া যায় না, তা আদায় করে নিতে হয়। আর সেই আদায়ে কোনো চিৎকার বা ঝগড়ার প্রয়োজন নেই, শুধু প্রয়োজন সঠিক সময়ে ‘না’ বলার সাহস।
আমার সংসারটা আজ আর কোনো হোটেল নয়, এটা এখন আমার ঘর। যেখানে আমি ‘বুয়া’ নই, আমি নিহা—এই বাড়ির অঘোষিত রানী।
(সমাপ্ত)
গল্পটি কেমন লাগলো আশা করি কমেন্টে জানিয়ে যাবেন।
11/05/2026
কিছু মানুষ আসলে সবজায়গা তে খুঁ'ত ধরার জন্য বসে থাকে... সাত্ত্বিক ফ্যামিলির দিদি তারপরে ইলা আপু.. মৌনো আপু.. ওরা জাপানে থাকলেও ওরা এই দেশের মানুষের চেয়েও মিলেমিশে থাকে....
আর ওদের মনমানসিকতা ও যথেষ্ট ভালো... প্রায়ই সবাই একসাথে হয় আনন্দ করে মজা করে সময় কাটায়...
কিন্তু আজকে একজন কমেন্ট করছে দেখলাম সাত্ত্বিক ফ্যামিলির দিদি নাকি ইলা আপুকে ইগনোর করে... 🤣
এই দিদি মানে গেদার মা ও দেখলাম এটা নিয়ে পোস্ট দিয়েছে যে মানুষ আসলে কি যে বলবে সেটা আর খুঁজে পায়না... 🤣
এই তিনজন মানুষ আমার খুব পছন্দের... কে কে তাদের ভিডিও দেখেন...?? 😊
11/05/2026
উর্মির এখন কত রাত কেটে যায় নির্ঘুম।
কারণ, ছেলে জেগে উঠলে কোলে নিয়ে আবার ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার সেই মানুষটা যে আর নেই…
একটা সন্তানকে বড় করে তুলতে যেমন মায়ের ভূমিকা অনেক বড়, তেমনি বাবার ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়।
রাতে সন্তানের পাশে জেগে থাকা, কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ানো, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, সময়মতো খাইয়ে দেওয়া— এই ছোট ছোট দায়িত্বগুলোই একসময় হয়ে ওঠে পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসা।
কিন্তু মানুষটা পাশে থাকতে আমরা অনেক সময় এসব বুঝতে পারি না।
অনেকেই ভাবি, “আমি একাই সব করছি।”
অথচ সংসারের এই নীরব দায়িত্বগুলোই একজন বাবার ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ।
আজ সেই মানুষটা নেই বলেই প্রতিটা মুহূর্তে তার অভাবটা আরও বেশি করে অনুভব করছে উর্মী।
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ছোট্ট অব্যয় আর সহজে ঘুমাতে চায় না।
বুলেট বেঁচে থাকতে ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে ঘুম পাড়িয়ে দিত, যেন উর্মীর ঘুম না ভাঙে।
কারণ খুব সকালে উঠে তাকে আবার সংসারের সব কাজ সামলাতে হবে।
এখন সেই সঙ্গী নেই…
তাই প্রতিটা রাত, প্রতিটা নীরবতা যেন উর্মীকে নতুন করে শিখিয়ে দিচ্ছে— মানুষ হারানোর শূন্যতা কতটা গভীর হতে পারে।
এটা তো কেবল শুরু…
সামনের দিনগুলোতে তাকে আরও অনেক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে।
তবুও আশা করি, ভালোবাসার স্মৃতি আর সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে উর্মী সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার শক্তি খুঁজে পাবে।
#বুলেটবৈরাগী
08/05/2026
‘মাত্র দেড়মাসের আলাপেই…’, চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী মাফিন।
ভোটের আগেই বিজেপিতে যোগ দেওয়া মাফিন জানালেন, মৃ*ত্যুর আগে চন্দ্রনাথের সঙ্গে মেসেজে কথা হয়েছিল তাঁর।
কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, ‘‘মাত্র দেড়মাসের আলাপে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। শুভেন্দু স্যরের স*ঙ্গে ওঁর (চন্দ্রনাথ) খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।”
চন্দ্রনাথের আসল বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সেখানেই পৌঁছে গিয়েছেন মাফিন। ছিলেন শেষকৃ*ত্যে।
কপি পোস্ট
07/05/2026
১১ বছরের বাচ্চা মেয়েটিকে ধ//র্ষ/ণ করেছে তার আপন নানা, ডিএনএ টেস্ট থেকে see more......
07/05/2026
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে,,, এবার কঠিন ভাবে ফেঁ"/"সে যাচ্ছে হুজুর প্রথম জিজ্ঞাসাবাদে খোঁ"ড়া যুক্তি see more......
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
7200