Libasut-Taqwa

Libasut-Taqwa

Share

আধুনিক ও মার্জিত পোশাকের সমাহার

29/08/2024

পোশাক আল্লাহর বিশেষ দান ও অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে পোশাকের মাধ্যমে সম্মানিত ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পোশাককে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানব সন্তান, আমি তোমাদের পোশাক দান করেছি, যেন তোমরা তোমাদের আব্রু ঢাকতে পারো এবং তা (তোমাদের জন্য) সৌন্দর্য।
আর খোদাভীতির পোশাকই উত্তম। এটা (পোশাক) আল্লাহর নিদর্শন, যদি তারা উপদেশ গ্রহণ করে। ’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৬)
তাফসিরবিদগণ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহ এই আয়াতে পোশাককে যেমন তাঁর অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তেমনি মুমিন নারী ও পুরুষের পোশাক কেমন হবে সে নির্দেশনাও দিয়েছেন। তা হলো, তাদের পোশাক হবে শালীন ও সুন্দর।
তাদের পোশাকে আল্লাহর ভয় প্রকাশ পাবে। ‘খোদাভীতির পোশাক’-এর ব্যাখ্যায় তাঁরা এমন পোশাকের কথা বলেন, যাতে শালীনতা, বিনয়, সংযম, পরকালমুখিতা প্রকাশ পায় এবং যা কোনোভাবেই অপব্যয়, অপচয়, অহংকার ও লজ্জাহীনতার পরিচায়ক হবে না।
শালীন ও সুন্দর পোশাকের ক্ষেত্রে আল্লাহ নারী ও পুরুষে কোনো তারতম্য করেননি; বরং উভয়কে তা মান্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। যারা লজ্জা ও শালীনতার এই সীমা অমান্য করবে, আল্লাহ তাদের শয়তানের প্ররোচনার শিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরের আয়াতেই আল্লাহ মানবজাতিকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘হে মানব সন্তান, শয়তান যেন তোমাদের প্রলুব্ধ না করে, যেমন সে তোমাদের পিতা-মাতাকে (আদম ও হাওয়া আ.) করেছিল। তাঁদের বিবস্ত্র করেছিল যেন পরস্পরের সামনে তাঁদের লজ্জাস্থান প্রকাশ পায়।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ২৭)
কোরআনের নির্দেশনা : নারীর পোশাকের ব্যাপারে কোরআনের নির্দেশনা হলো, তাঁরা এমন পোশাক পরিধান করবেন, যা তাঁদের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে সহায়ক হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন নারীদের বোলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ছাড়া তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী, স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বোলো, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়।
এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৯)
নারীদের পোশাকের মৌলিক বৈশিষ্ট্য : ইসলামের দৃষ্টিতে শরীর ও শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়—এমন পাতলা কাপড় পরিধান করা নারীদের জন্য নিন্দনীয়। হাদিসে এসেছে, ‘হাফসা বিনতে আবদুর রহমান (রা.) একটি পাতলা ওড়না পরে আয়েশা (রা.)-এর ঘরে প্রবেশ করলে তিনি তা সরিয়ে মোটা কাপড়ের ওড়না পরিয়ে দেন। ’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস : ৬৬)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ, যে নিজেও পথভ্রষ্ট এবং অন্যকে পথভ্রষ্ট করে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ পাঁচ শ বছরের দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়। ’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৬৬১)
এ ছাড়া আহকামুন নিসা গ্রন্থকার নারীদের ইসলামী পোশাকের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। যেমন - ক. নারীদের পোশাক পুরুষসুলভ না হওয়া, খ. নারীদের জন্য (জামা-পাজামা অধিক নিরাপদ পোশাক। তবে) শাড়ি পরিধান করাও জায়েজ, গ. এমন আঁটসাঁট পোশাক পরিধান না করা উচিত, যাতে শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়, ঘ. নারীদের জন্য সব ধরনের সুতা ও রেশমের কাপড় পরিধান করা বৈধ ইত্যাদি। (আহকামুন নিসা, পৃষ্ঠা ৫২৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিস থেকেও পোশাকের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায়, যাতে পোশাককে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার উদ্দেশ্য লজ্জা নিবারণ ও সৌন্দর্য গ্রহণ বলা হয়েছে। উমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নতুন পোশাক বানায়, তা তৈরি হওয়ার পর তা পরিধান করে, তখন সে বলবে, সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন পোশাক দান করেছেন, যার মাধ্যমে আমি লজ্জাস্থান আবৃত করতে পারি এবং জীবনে সৌন্দর্য গ্রহণ করতে পারি। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৬০)
মৌলিকভাবে নারী ও পুরুষ উভয়কে লজ্জা ও শালীনতা রক্ষাকারী পোশাক পরিধান করার নির্দেশ দিলেও পোশাকের ক্ষেত্রে উভয়কে স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যেন নারী ও পুরুষ দুজনই আপন সীমানায় থেকে লজ্জা ও শালীনতা রক্ষা করতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে ও প্রাগৈতিহাসিককাল থেকে চলে আসা মানব আচরণ থেকেও এটা স্পষ্ট যে নারী ও পুরুষের ‘আব্রু’র ব্যাখ্যা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের তুলনায় নারী অনেক বেশি মোহনীয় ও কমনীয়। তাই পুরুষের তুলনায় নারীর ‘আব্রু’ রক্ষায় ইসলাম বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
নারীর প্রতি ইসলামের মমত্ব ও দায়বোধ থেকেই ইসলাম নারীকে পোশাকে বেশি সংযত হওয়ার আদেশ দিয়েছে। যেন পৃথিবীতে তার পথচলা মসৃণ হয়, সে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে, পুরুষের লালসার শিকার না হয়। চিন্তাশীল আলেমরা মনে করেন, বর্তমান সমাজে ক্রমবর্ধমান নারী নিগ্রহের ঘটনা ইসলামের পোশাকনীতিকে যৌক্তিক ও অপরিহার্য প্রমাণ করে। কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামবেত্তাগণ মুমিন নারীর পোশাকের যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন, তার কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো—
১. শরীর ও সৌন্দর্যকে আড়াল করবে : মুমিন নারীর পোশাকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তা তার শরীর ও সৌন্দর্যকে আড়াল করবে। যেন তা পুরুষের কামুক দৃষ্টির শিকার না হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ করবে না, তবে যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পায়।’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)
২. খুব বেশি পাতলা বা মোটা হবে না : মুমিন নারী এমন পাতলা পোশাক পরিধান করবে না, যা পরিধানের পরও শরীর দেখা যায়। আব্রু প্রকাশ পায়। আবার এমন মোটা পোশাক পরিধান করবে না, যাতে গরমে তার কষ্ট হয়; বরং অস্বচ্ছ মধ্যম পোশাক পরিধান করবে। একাধিক হাদিসে অতিরিক্ত পাতলা পোশাক পরিধানকে কেয়ামতের নিদর্শন বলা হয়েছে।
৩. ঢিলেঢালা হবে : ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কে ঢিলেঢালা পোশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে। শরীরের অবয়ব প্রকাশ পায়—এমন আঁটসাঁট পোশাক মুমিন পুরুষও পরিধান করবে না। আর নারী তো নয়ই। কেননা এমন পোশাক অন্যকে প্রলুব্ধ করতে পারে। অনেক সময় তা বোরকা, হিজাব ও পর্দার উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করে।
৪. পুরো শরীর ঢেকে রাখবে : ইসলাম নারীকে এমন পোশাক পরিধান করতে বলেছে, যা তার পুরো শরীরকে ঢেকে রাখবে। শরীর বের হয়ে থাকে—এমন পোশাক পরিধান করতে নিষেধ করেছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীদের বলে দিন, যেন তাদের চাদর নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। ’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৯)
আলোচ্য আয়াতে ইসলাম নারীকে যে শালীন ও সংযত পোশাক পরিধান করতে বলেছে, তার কারণ বিবৃত হয়েছে। তা হলো, পুরুষের কামুক দৃষ্টি, অশালীন মন্তব্য ও যৌন সহিংসতা থেকে নারীকে রক্ষা করা।
৫. পুরুষের পোশাকের মতো হবে না : ইসলাম নারীকে নারীসুলভ এবং পুরুষকে পুরুষসুলভ পোশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে। শরিয়তের বিধানমতে, নারী যেমন পুরুষের পোশাক পরিধান করবে না, তেমন পুরুষও নারীর মতো পোশাক পরিধান করবে না। উভয় পোশাক ও সাজসজ্জা হবে ভিন্ন ভিন্ন। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিন নারী-পুরুষকে সতর্ক করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীর বেশভূষা গ্রহণকারী পুরুষকে এবং পুরুষের বেশভূষা গ্রহণকারী নারীকে অভিশাপ করেছেন। তিনি বলেছেন, তাদের তোমাদের ঘর থেকে বের করে দাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৮৫)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুল্লাহ (সা.) নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষকে এবং পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীকে অভিশাপ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৬৩১)
উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের পোশাকগুলোই মূলত নারীর জন্য আল্লাহভীতির পোশাক। ইসলাম মুমিন নারীকে এমন পোশাক পরিধানেরই নির্দেশ দেয়।

ছবি ও কথা : কালেরকন্ঠ

26/08/2024

سلام قولا من رب الرحيم

25/08/2024

পোশাক-পরিচ্ছদ মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম অনুষঙ্গ। দেহ সজ্জিত করা এবং সতর আবৃত করার প্রয়োজনীয় মাধ্যম।

কোরআন মাজিদের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা পোশাকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং সৌন্দর্য প্রদান করে। ’
সুতরাং যে পোশাক এই উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ, তা যেন শরিয়তের দৃষ্টিতে কোন পোশাকই নয়!
পোশাকের ক্ষেত্রে ইসলামের আরেকটি বিধান হলো: নারী-পুরুষ স্বতন্ত্র পোশাক পরিধান করা। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুল (সা.) অভিসম্পাত করেছেন ওই পুরুষকে যে নারীর পোশাক পরে এবং ওই নারীকে যে পুরুষের পোশাক পরে।
পোশাক-পরিচ্ছদ দ্বারা সতর আবৃত করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিপাটি রাখা ইসলামের নির্দেশনা। সাহল বিন হানজালিয়া (রা.) বলেন, কোনো এক সফর থেকে ফেরার পথে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবাদের লক্ষ করে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে আগমন করছ। সুতরাং তোমাদের হাওদাগুলো গুছিয়ে নাও এবং তোমাদের পোশাক পরিপাটি করো, যাতে তোমাদের (সাক্ষাৎ করতে আসা) মানুষের ভিড়ে তিলকের মতো (সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন) মনে হয়। (জেনে রেখো) আল্লাহ তাআলা স্বভাবগত নোংরামি বা ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা থাকা, কোনোটাই পছন্দ করেন না। ’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭০৮৩)
পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে অন্যকে প্রদর্শনের মানসিকতা পরিহার করাএকান্ত জুরুরি। অহংকার বা মানুষ দেখানোর মনোভাব সর্বাবস্থায় সকল কাজেই নিন্দনীয়। পোশাক-পরিচ্ছদের মাধ্যমেও যেন এই ব্যাধি মানুষের অন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়েও হাদিস শরিফে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অহংকারবশত মাটিতে কাপড় টেনে টেনে চলে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না (রাগান্বিত থাকবেন)। (বুখারি, হাদিস: ৫৭৯১)
আরেকটি বিষয় যেটি বিশেষভাবে লক্ষ্য নিয়েও সেটি হল মুসলমানদের পোশাক যেন বিধর্মীদের পোশাক না হয়। কেননা, বিধর্মীদের অনুকরণে পোশাক পরিধান করা নাজায়েজ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি অমুসলিমদের পোশাক পরবে সে আমার দলভুক্ত নয়। ’ (তবারানি আওসাত, হাদিস: ৩৯২১)
আল্লাহ তাআলা আমাদের পোশাকের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন।
শরীয়ত সম্মত পোশাক সংগ্রহ করতে পেজটি ফলো করে পাশে থাকুন

25/08/2024

একজন মুসলিমের পোশাক কেমন হওয়া উচিৎ। ইসলাম কি বলে এই ব্যাপারে।
゚viralシ2024fyp

একজন মুসলিমের পোশাক কেমন হওয়া উচিৎ। 25/08/2024

https://youtu.be/j2TgDIy2zgA

একজন মুসলিমের পোশাক কেমন হওয়া উচিৎ। একজন মুসলিমের পোশাক কেমন হওয়া উচিৎ।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Mymensingh?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Mymensingh