Lamia hossain Books

Lamia hossain Books

Share

I am a book lover and story lover woman...

10/05/2026

সম্মানিত ভাইয়ারা এবং আপুরা আমি ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আর গল্প লিখবো না..... 😔😔😔😔আমার গল্প হয়তো আপনাদের ভালো লাগেনি বা মন ছুতে পারেনি.... তাই কেউ রিভিউ তো দূরের কথা ঠিক মতো কমেন্ট বা লাইকও দেন না.... 😔😔😔আমি ব্যর্থ লেখিকা তাই লেখালেখি বাদ দিয়ে দিচ্ছি.... বড্ড কষ্ট পেয়েছি আমি..... ৫০টা রিয়েক্টও আসে না আমার গল্পে.... তাই আমি বিদায় নিচ্ছি সবার কাছ থেকে ভালো থাকবেন।।। 😔😔😔🥺🥺🥺

05/05/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
_______________________________________

ভোর ৬:১০মিনিট আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। কাঁচের আস্তরণগুলো পেরিয়ে সকালের আলো ফেরিহার চোখে লাগতেই পিট পিট করে চোখ খুলে তাকায় ফেরিহা।চারিদিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থান বোঝার ট্রাই করে ফেরিহা। হঠাৎ চারপাশে ফুলগাছের সমাহার দেখতেই ফেরিহা শোয়া থেকে লাফ দিয়ে উঠে বসে। উঠে বসতেই দোলনাটা দুলে উঠে। চারিদিকে তাকিয়ে ফেরিহার মুখে ফুটে উঠে প্রাণবন্ত হাসি। কারণ এরকম একটি ভিন্ন রকম সকাল হোক ফেরিহার জীবনে তা ফেরিহার অনেক দিনের ইচ্ছে। কিন্তু নিজের ইচ্ছেটা এতো তাড়াতাড়ি পূরণ হবে তা ফেরিহা ভাবতে পারেনি।হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই মনটা আবার খারাপ হয়ে যায়। ফুরফুরে মনে নেমে আসে মেঘের ঘনঘটা। চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের হাতে অক্সিজেনের মিনি বোতলটা নিয়ে দোলনা থেকে নেমে চলে যায় নিচে নিজের রুমে। রুমে ঢুকে নিজের হেজাব আর অক্সিজেন নালটা খুলে খাটের উপর রেখে একটা গাউন সেট নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরে। ফ্রেশ হয়ে এসে পিঙ্ক কালারের একটা হেজাব এর নেকাব পরে তারপর নিজের টোটো ব্যাগে অক্সিজেনের মিনি বোতলটা ভরে নেকাবের ভিতরে নিজের নাকে অক্সিজেন পাইপ সেট করে নিয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলে বের হয়ে যায় রুম থেকে।
************************************************
কানাডার একটি স্বনামধন্য হোটেলের একটি রুমে আয়বান সিদ্দিক বেডের সাথে চোখ বুজে হেলান দিয়ে বসে আছে। ঠিক তখনই নীল রুমে ঢুকে বাবার দিকে তাকায়। তারপর রুমের ডিভানে যেয়ে বসে মুখ থেকে মাস্ক খুলে কিছু বলতে যাবে তার আগেই আয়বান সিদ্দিক গম্ভীর স্বরে বলে উঠে, ' সুফিয়ার এখন কি অবস্থা???' নীল দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' বেশি ভালো না আব্বু... বাম পা আর ডান হাত ভেঙে গেছে। মাথায় ভালোই আঘাত পেয়েছে। তারপর আবার ড্রাঙ্ক ছিল। তাই ওর কন্ডিশন তেমন একটা ভালো নয়।' আয়বান সিদ্দিক চাপা শ্বাস ছেড়ে বলেন, ' সুফিয়া যে রিহুকে দেখতে পারে না রিহুর ক্ষতি চায় তা কি তুমি আগের থেকে জানতে???' নীল বাবার মুখে ফেরিহার কথা শুনে অবাক হলেও তা প্রকাশ না করে শান্ত স্বরে বলে, ' না আমি তা কিছুই জানতাম না.... ২বছর আগে অল্প কিছু শুনেছিলাম। ও নাকি রিহুর হাতে গুলি মেরেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন বিষয়টা ঠিক গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু একবছর আগে তার সঠিক প্রমান পেয়েছি।' আয়বান সিদ্দিক এবার চোখ খুলে ভারী স্বরে বলেন, ' আমাকে জানাওনি কেন??' নীল তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে বলে, ' তুমি কখনো ওর সমন্ধে কথা উঠালে শুনতেই চাওনি তো বলবো কি করে???' আয়বান সিদ্দিক কিছুক্ষন চুপ থেকে বলেন, ' ওর তো তোমার মামার বাসায় থাকার কথা.... তাহলে এখানে কি করছে???' নীল আজ ফেরিহার প্রতি বাবার কৌতূহল দেখে ভীষণ অবাক হচ্ছে। অবাক চোখে বাবার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে নীল যা জানে সবকিছু খুলে বলে। নীলের মুখে রিহুর সম্পর্কে শুনে আয়বান সিদ্দিক থ মেরে কতক্ষন বসে থেকে শান্ত স্বরে বলেন, ' ও কষ্টে থাক এটা আমি চাইনি কখনো নীল। শত হলেও জন্মদাতা পিতা আমি। তোমার মায়ের মৃত্যুর পর ওকে সহ্য করতে না পারলেও নিজের দায়িত্বের অবহেলা করিনি। ওর জন্য ঠিক মতো টাকা পাঠিয়েছি আমি তোমার মামার কাছে।' নীল আয়বান সিদ্দিকের কথা শুনে উদাস স্বরে বলে, ' আব্বু বাবার দায়িত্ব আর কর্তব্য শুধু টাকা দিয়ে হয় না।আরও অনেক কিছু লাগে। যা তুমি রিহুকে দিতে চাওনি। আর আমি তোমার কথা চিন্তা করে ওর কাছে ছুটে যাইনি।আর তোমার পাঠানো টাকা কখনো রিহুর জন্য খরচ করা হয়নি। সব মামীর ভোগ বিলাসিতায় খরচ হয়েছে আব্বু। যাই হোক একটা জিনিস খুব ভালো হয়েছে জানো আব্বু রিহু একটা পবিত্র নরম ফুল। সেই পবিত্র ফুল আমাদের মতো মানুষের কাছ না থেকেই ভালো আছে।' কথাগুলো বলেই নীল বসা থেকে উঠে আয়বান সিদ্দিকের রুম থেকে বের হয়ে যায়।আয়বান সিদ্দিক টলমল চোখে ছেলের প্রস্থান দেখেন।
***********************************************
সকাল ৯:০০টা রাতুল রুমন মাহি অনিক যুথি হিমু ঋতু সোফায় মাথা এলিয়ে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বসে আছে।অনিক ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে উঠে, ' আজও প্রত্যেকবারের মতো উধাও রিহা। এই একটাদিন কেন যে নিজের মতো কাটাতে চায় রিহা কে জানে?????' মাহি অনিকের কথা শুনে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে বলে, ' শরীরটা এমনি ভালো নেই রিহার। তারপর আবার একা একা বাইরে যাওয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত হলো??? রাতুল রুমন তোরা কিছু কর.....' রাতুল ওদের দিকে তাকিয়ে রিলেক্স মুডে বসে বলে, ' আমি কাল রাতেই ওর পিছনে গার্ড ঠিক করে রেখে ছিলাম। তাই চিন্তা করিস না। ও কখন কোথায় কিভাবে আছে???? কি করছে সব জানতেও পারবি দেখতেও পারবি।' হিমু বলে, ' থাক একটা দিন ওকে ওর মতো কাঁটাতে দে ইয়ার।হয়তো নিজের অতীত জীবনের স্মৃতি থেকে পালাতে প্রতি বছর এভাবে কাটায়।' হিমুর কথায় সবাই মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে বলে ' হয়তো। ' এরই মাঝে কলিংবেলের শব্দে ওরা সবাই দরজার দিকে তাকায়। ঋতু বলে উঠে, ' এতো সকালে কে আসলো???' রাতুল বলে,' আমি দেখছি।' বলেই উঠে যেয়ে দরজা খুলতেই রাতুল অবাক হয়ে বলে উঠে,' আপনারা।'
************************************************
হামীম খান চুপচাপ বসে আছেন তুরহানের রেন্ট হাউসের বারান্দায়। ঠিক সেই সময় তৃপ্তি সিনহা এসে হামীম খানের পাশে একটা সোফায় বসে বলে উঠেন, ' আপনি কি কোন বিষয় নিয়া চিন্তায় রইয়াছেন হানের আব্বি?' তৃপ্তি সিনহার কথা শুনে হামীম খান তৃপ্তি সিনহার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ' কাল আপনার আয়লা আম্মাকে দেখার পর থেকে আমার ভালো লাগছে না বিবিজান। কেন যেন আমার মনে হচ্ছে মেয়েটাকে আমার কিছু কথা বলার স্নেহ করার পাশে থাকার উচিত ছিল। কিন্তু কোনো এক জড়তার জন্য আমি মেয়েটার সাথে একটা শব্দ পর্যন্ত বলতে পারিনি। মেয়েটার জীবনটা কতটা ঝুঁকিতে আছে জানার পর খারাপ লাগছে। বিশেষ করে আপনার ছেলের চোখে মুখে আমি মেয়েটার জন্য আলাদা কিছু দেখেছি বিবিজান। তাই ভাবছি মেয়েটাকে আর দূরে রাখা হয়তো ঠিক হচ্ছে না। এবার আপনার ছেলের কাছে তাকে এনে দেওয়া উচিত।' হামীম খানের মুখে এমন কথা শুনে তৃপ্তি সিনহা মুচকি হেসে বলেন, ' আমার যতটুকু করিবার ছিল হানের আব্বি আমি করিয়াছি। এখন বাকিটা আপনার পুত্রই করিবে। আমার আম্মা একবার আমার কাছে এলে তখন আপনিও তাকে আম্মা বানাইয়া নিয়া স্নেহ করিয়েন। বাবার অভাব পূর্ণ করিয়া দিয়েন। তাহলে হইবে। এখন মন খারাপ করিবেন না।' তৃপ্তি সিনহার কথায় হামীম খান মাথা নাড়িয়ে সায় জানায়।
************************************************
রাতুল তুরহানদের সকাল সকাল ওদের বাসায় দেখে দরজায় অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে সুমন বলে উঠে, ' আরে ভাই দরজা থেকে সরে দাড়া ..অন্তত ভিতরে তো ঢুকতে দে.....' সুমনের কথায় রাতুল অবাকতার রেশ কাটিয়ে দরজা থেকে সরে দাঁড়াতেই তুরহানরা ভিতরে ঢুকে। তুরহানরা ভিতরে ঢুকতেই দেখে মাহিরা সবাই সোফায় বসে হেলান দিয়ে ঘুমে ঝিমছে। তুরহান কারো দিকে না তাকিয়ে সিঙ্গেল একটা সোফায় যেয়ে বসে।পিহু সবার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে বলে, ' বেলা ৯টা বাজে আর এখনো তোমাদের ঘুম ভাঙেনি!!' রুমনরা ঘুম ঘুম চোখে তুরহানদের দেখে। তারপর আবার চোখ বুজে ফেলে। যুথি ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে, ' যে আমাদের ঘুম ভাঙাবে সে বাসায় নেই আপু। তাই আমাদের ঘুমও আজ চোখ থেকে ছুটছে না। শুধু রাতুলের বকার ভয়ে এখানে সবাই বসে আছি।' যুথির কথায় তুরহানদের ভ্রু কুঁচকে যায়। ততক্ষনে রাতুল এসে দাঁড়ায় ড্রয়িংরুমে। তুরহান রাতুলের দিকে ঘাড় কাত করে তাকায়। রাতুল তুরহানের তাকানোর মানে বুঝতে পেরে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সুমনদের বসতে বলে নিজে একটা সোফায় বসে বলে, ' আসলে রিহা বাসায় নেই।' তুরহান কপালে ভাজ ফেলে রাতুলের দিকে তাকিয়ে থাকলেও সুমনরা জোরে বলে উঠে, ' হোয়াট??' রাতুল কিছু না বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। আর এদিকে সুমনদের জোরে হোয়াট বলার মাহিরা ধড়ফড় করে উঠে বসে হতভম্ব হয়। মাহিরা সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। তুরহান ওদের দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে, ' বাসায় নেই মানে কি??? অসুস্থ অবস্থায় কোথায় গিয়েছে???' তুরহানের কথা শুনে রুমন হাই দিতে দিতে বলে, ' আজ রিহার জন্মদিন।বছরে এই একটি দিন ও কারো সাথে কাটায় না।বাসায়ও থাকেও না। কোথায় যায়? আমরা নিজেরাও জানি না। অনেক ভোরে উঠে কোথায় যেন যায়.... আর ক্লান্ত পাখির মতো সন্ধ্যা হলে ঘরে ফিরে।' রুমনের কথা শুনে সুমনরা অবাক হলেও তুরহানের অভিব্যক্তি বোঝা দায়। কাইয়ান অবাক স্বরেই বলে উঠে, ' কিন্তু রিহা তো অসুস্থ!!!' রাতুল কাইয়ানের কথায় আবার দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' এইজন্যই কাল রাতে কয়েকজন গার্ডদের বলে রেখেছিলাম যাতে আজ ফজরের পর বাসার সামনে সিভিল ড্রেসে দাঁড়িয়ে থাকে। রিহা বাসার থেকে বের হতেই যেন ওর পিছু নেয়। আর সারাদিন ওকে আড়াল থেকে যেন ফলো করে। একটু ওয়েট করুন দেখছি রিহা কোথায়???' বলেই পকেট থেকে ফোন বের করে একটা গার্ডের নম্বরে ফোন দেয়।গার্ড ফোন রিসিভ করতেই রাতুল বলে, ' ড্রোন ক্যামেরা অন করো। রিহাকে দেখতে চাই। রিহা এখন কোথায় আছে? কি অবস্থা ওর?' গার্ডটি বলে, ' ছোট স্যার ম্যাম এখন অটোয়া নদীর তীরে একটা ব্রেঞ্চে বসে আছে। আর পাশেই বসে আছে একটা ১৪বছরের কানাডিয়ান ছেলে।এছাড়াও আরও অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা সবাই এতিম ছোট স্যার।' রাতুল গার্ডের কথা শুনে অবাক হয়। তাই গার্ডকে বলে ড্রোন ক্যামেরা অন করতে। গার্ড জি বলে ফোন কাটতেই রাতুল বসার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে একটা ছোট এন্টিনা টিভির সাথে সেটা করে টিভি অন করতেই যা দেখে তাতে সবাই অবাক হয়ে যায়।
************************************************
চোখ বুজে ফেরিহা ওর পাশে বসা ছেলেটার গিটারের টুং টাং শব্দ শুনছে।হঠাৎ কানাডিয়ান ছোট ছোট এতিম ছেলে মেয়েগুলো ওদের ভাষায় ফেরিহাকে বলে একটা গল্প শুনাতে। ফেরিহা প্রথমে মানা করলেও তারপর ওদের অনেক অনুরোধে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' ঠিক আছে... বাংলা ভাষায় তোমাদের আমি গল্প শুনাবো।' ছোট বাচ্চাগুলো না বুঝেই হুররেএএএএ বলে উঠে। ফেরিহা তারপর ওর পাশে বসা ছেলেটার কাছে গিটারটা চাইতেই ছেলেটি গিটারটা ফেরিহার দিকে বারিয়ে দেয়। ফেরিহা গিটারটা নিয়ে সুর তুলে গেয়ে উঠে.....

একসাথে আছি তবু মনে হয় দূরে
কত কথা বলি তবু নেই যে সুরে
অভিমানে জমে থাকে অল্প
এটা আমাদেরই গল্প
হায় এটা আমাদেরই গল্প
হায় এটা আমাদেরই গল্প
এটা আমাদেরই গল্প

দূরে দূরে সুরে সুরে কাছে আসি ঘুরে ফিরে
পথে পথে পায়ে পায়ে ফিরে আসি এ ঘরে (২)

আমাদের গল্প গুলো অল্প থেকে ডানা ভেজায়
আমাদের ডানাগুলো বারান্দাতেই পালক শুকায়

এরপরে উড়তে গিয়ে
পায় না খুঁজে আকাশ

একসাথে আছি তবু মনে হয় দূরে
কত কথা বলি তবু নেই যে সুরে
অভিমানে জমে থাকে অল্প
এটা আমাদেরই গল্প
এটা আমাদেরই গল্প হায়
এটা আমাদেরই গল্প হায়
এটা আমাদেরই গল্প

দূরে দূরে সুরে সুরে কাছে আসি ঘুরে ফিরে
পথে পথে পায়ে পায়ে ফিরে আসি এ ঘরে (২)

এতক্ষন চোখ বুজে গানটা গাই ছিল ফেরিহা। গানটা শেষ হতেই চোখ খুলে তাকায়। তাতেই দেখা যায় ফেরিহার ভেজা চোখ। এতক্ষন ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে সবাই ফেরিহার কণ্ঠে গানটা শুনেছে। পিহু মাহি হিমু যুথি ঋতুর চোখে পানি টলমল করছে। রাতুলরা এই প্রথম ফেরিহার কণ্ঠে গান শুনেছে।সবাই অবাক হয়ে টিভির পর্দায় তাকিয়ে আছে। তুরহান হঠাৎ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত দিয়ে মেইন ডোরের দিকে যেতে গেলে পিছন থেকে সুমন বলে উঠে, ' তু্ই আবার কই যাচ্ছিস???' তুরহান সুমনের কথা শুনে পিছু না ঘুরেই শান্ত স্বরে বলে, ' নীল সমুদ্রে।' বলেই চলে যায়। আর তুরহানের কথা শুনে সবাই হতভম্ব হয়ে বসে থাকে। মাহি বোকা বোকা স্বরে বলে, ' অটোয়া শহরে আবার নীল সমুদ্র কোথায়???' পিহু ফিক করে হেসে বলে, ' ও তোমরা কেউ বুঝবে না। ও যেই নীল সমুদ্রে যাচ্ছে তা যেই সেই নীল সমুদ্র নয় গো... ও যেখানে যাচ্ছে সেটা ওর ব্যক্তিগত নীল সমুদ্র।' পিহুর কথা বুঝতে না পেরে সবাই বোকা বোকা চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে থাকে।
************************************************
ফেরিহা সামনের দিকে তাকিয়ে বিশাল বিশাল মালুস ফুল গাছের নিচ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। উদাস হয়ে গাছগুলোর দিকে তাকাতে তাকাতে। ঠিক তখনই একটা বাইক এসে ফেরিহার পথ আগলে থামে। ফেরিহা ভয় পেয়ে দুকদম পিছিয়ে যেয়ে ভ্রুকুঁচকে বাইকারের দিকে তাকায়। বাইকের মালিক তখন হেলমেট খুলে ফেরিহার দিকে তাকায়। ফেরিহা অবাক হয়ে তুতলিয়ে বলে উঠে, ' স্যা... স্যা..র আপ....নি এখানে!!!' ফেরিহার কথা শুনে তুরহান কিছুক্ষন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থেকে ভারী স্বরে বলে, ' Why are you wandering around outside with a sick body???(অসুস্থ শরীরে নিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করছো কেন???)' তুরহানের কথার ধরণে ফেরিহা বেশ ভয় পায়। তাই চুপ করে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। ফেরিহাকে চুপ থাকতে দেখে তুরহান বেশ বিরক্ত হয়। তাই এবার ধমকে বলে উঠে, ' এই মেয়ে!!!কিছু জানতে চাইছি শুনতে পাওনি???' ফেরিহা তুরহানের ধমকে চমকে উঠে তুতলিয়ে বলে, ' বা....সায় ভা...লো লাগ...ছিল না স্যার।' তুরহান ফেরিহার কথা শুনে কিছুক্ষন চুপ করে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থেকে বাইকে বসা অবস্থায় বাম হাত বাড়িয়ে দেয় ফেরিহার দিকে। ফেরিহা তুরহানকে হাত ওর দিকে বাড়িয়ে দিতে দেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তুরহানের দিকে তাকায় ফেরিহা। তুরহান ফেরিহাকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে চোখ দিয়ে ইশারায় নিজের হাত ধরতে বলে তুরহান।ফেরিহা তুরহানের ইশারা বুঝতে পেরে অস্বস্তিতে পড়ে যায়। দুই হাত কোচলাতে থাকে। আড় চোখে তুরহানের দিকে তাকায়। তাকিয়ে দেখতে পায় তুরহান ফেরিহার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে আছে। ফেরিহা তা দেখে শুকনো ঢোক গিলে কাঁপা কাঁপা ডান হাতটি দিয়ে তুরহানের বাম হাতটি ধরতেই তুরহান ফেরিহার হাতটি শক্ত করে ধরে টান দিতেই ফেরিহা হুড়মুড়িয়ে তুরহানের বুকের উপর আছড়ে পরে। আর তাতেই ফেরিহা জমে শ্বাস আটকিয়ে চোখ বুজে দাঁড়িয়ে থাকে। তা দেখে তুরহান মাস্কের আড়ালে বাঁকা হেসে ফেরিহার থুতনি ধরে উচু করে বলে, ' তাকাও আমার দিকে।' তুরহানের কথা কানে যেতেই ফেরিহা কাঁপা কাঁপা চোখে তাকাতেই তুরহানের চোখে চোখ পরে। তুরহান ফেরিহার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে বলে, ' এই আজ হাত বাড়িয়ে তোমার হাতটি শক্ত করে ধরলাম মেয়ে। এই হাত যদি জীবনে আর কখনো না ছাড়ি??? খুব কি ক্ষতি হবে???' ফেরিহা তুরহানের কথা শুনে তুরহানের চোখের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ভেজা গলায় বলে, ' জীবনে চলার পথে কাউকে চাই না.....' তুরহান ফেরিহার কথা শুনে মাস্কের আড়ালে মৃদু হেসে বলে, ' Even if you didn't want it, someone has become a companion on your journey through life.(তুমি না চাইলেও কেউ তোমার জীবনে চলার পথের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে।)'তুরহানের কথা শেষ হতেই ফেরিহা চোখ বুজে ঢোলে পরে তুরহানের বুকে। ফেরিহাকে নিজের উপর ভার ছেড়ে দিতে দেখে তুরহান দুহাতে আগলে নেয় ফেরিহাকে। তারপর ফেরিহার সেন্সলেস হয়ে পরার কারণ বুঝতে পেরে হো হো করে হেসে উঠে তুরহান। সেই হাসি যদি কেউ দেখতো বিশেষ করে ফেরিহা রাতুলরা আর সুমনরা তাহলে সবাই একসাথে হার্ট এট্যাক করত।

#চলবে

[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়।এবার গল্প লিখতে গিয়ে আমার অনেক প্যারায় পোর্টে হয়েছে। কতবার যে লিখা ডিলেট হয়ে গেছে হিসাব নেই। যাই হোক গল্প পড়ে ভালো লেগে থাকলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]

28/04/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
__________________________________

মাহিদ হোসেন যখন ফেরিহার সাথে কথা বলায় ব্যস্ত ঠিক তখনই নীল কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠে, ' রিহুর দুটো গুলি লেগে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে মানে???? বিগ ব্রো কি বলছেন উনি???আর রিহু একজন অপরিচিত লোককে পাপা পাপা করছে কেন????'নীলের কথা শুনে সবাই নীলের দিকে তাকালেও ফেরিহা চোখ বন্ধ করে মাহিদ হোসেনের বুকে মাথা থাকিয়ে বসে থাকে। কিন্তু চোখের কার্নিশ বেয়ে টুপ টুপ নোনাজল ঝরতে থাকে। আকাশ ফারুকী নীলের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলে, ' রিহুর কি হয়েছিল এতোদিন কি খোঁজ নিয়েছিস??? নিসনি তো... তাহলে আজও কিছু জানতে চাস না। সেই অধিকার তোরা হারিয়ে ফেলেছিস। পারলে তু্ই আর চাচা এখান থেকে চলে যা। ওকে ওর মতো করে বাঁচতে দে। তোদের দেখলে ওর কষ্ট বরং বারে কমে না।।' আকাশ ফারুকীর কথা শুনে আয়বান সিদ্দিক গম্ভীর গলায় বলেন, ' বাড়ির মেয়ে বাইরে কি করে বেড়াচ্ছে তা কি জানার প্রয়োজন নেই বলছো???? ' আকাশ ফারুকী এবার চাচার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে বলে, ' এতো বছরে যেহেতু তোমাদের প্রয়োজন পরেনি আজও প্রয়োজন নেই।' রাতুল পরিস্থিতি বিগড়াতে দেখে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে বলে, ' আঙ্কেল তুমি তোমার কাজ করো এমনি অনেক সময় চলে গেছে। তোমাকেও তো আবার ব্যাক করতে হবে।' রাতুলের কথা শুনে মাহিও বলে, ' হ্যাঁ বাবা অনেক সময় হয়েছে তুমি রিহাকে আগে মেডিসিনটা ইনজেক্ট করো।' ফেরিহা ওদের কথা শুনে মাহিদ হোসেনের বুক থেকেই মাথা তুলে তার দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, ' পাপা তুমি আজ আবার ব্যাক করবে.... আজ না গেলে হয় না.... অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছো কাল যেও।' ফেরিহার কথায় মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলেন, ' না আম্মা আমার থাকার সময় নেই। হসপিটালে অনেক পেশেন্ট আমার অপেক্ষায় থাকে আম্মা। তুমি তো বুঝো আম্মা।' ফেরিহার মনটা একটুখানি হয়ে যায় মাহিদ হোসেনের কথায়।মাহিদ হোসেন তা বুঝতে পেরে বলেন, ' আজ থাকতে না পারার জন্য আগামী পুরো সপ্তাহ তোমার ৭পাপা মাম্মা তোমার সাথে কাটাবে আম্মা। সাথে তোমার এই বাঁদর ভাই বোন তো আছেই।' মাহিদ হোসেনের কথায় ফেরিহা অবাক হয়ে চোখ পিট পিট করে বলে, ' সত্যি পাপা!!!' মাহিদ হোসেন মুচকি হেসে বলেন, ' তিন সত্যি... তোমাদের সবাইকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছি আমরা আম্মা.... এটা বলতে পারো তোমাদের গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ছোট একটা ট্যুর....' ফেরিহা অবাক হয়ে মাহিদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও রাতুল বাদে মাহিরা সবাই হুররেয়েয়েয়ে...... বলে উঠে। এদিকে সুমনরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ফেরিহাদের অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কথা শুনে।রাতুল বলে উঠে, ' অনেক হয়েছে গল্প। ৯:৩০বাজে আঙ্কেল ৯:০০টায় ছিল ইনজেকশনটা আঙ্কেল। ৩০ মিনিট লেট। ' মাহিদ হোসেন আর কোনো কথা না বলে তার গার্ডেদের ভিতরে আসতে বলে। গার্ডরা ভিতরে এসে মাহিদ হোসেনের হাতে একটা ব্যাগ দিতেই তিনি তার ভিতর থেকে একটা বক্স বের করে তার ভিতর থেকে একটা মেডিসিন আর ইনজেকশন বের করে।মেডিসিনটা ইনজেকশনে ভরতেই ফেরিহা চিৎকার করে বলে উঠে, ' পাপা আমার সাহস সব হাওয়া হয়ে গেছে আমি এটা কিছুতেই তোমাকে পুশ করতে দিবো না। দরকার হলে আমি সারা জীবন অসুস্থতায় কাটাবো তারপরও এটা দিবো না পাপা।এটা দিলে ভীষণ কষ্ট পাই।' বলেই বাচ্চাদের মতো কেঁদে উঠতে যাবে বসা থেকে রাতুল ওর হাত টেনে বসিয়ে দেয়।আর সবাই অবাক হয়ে ফেরিহার বাচ্চামু দেখতে থাকে।
************************************************
তৃপ্তি সিনহা ফেরিহার অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে বলেন, ' ভাইজান এইটা না দিলে কি বেশি ক্ষতি হবে ?? আম্মা হয়তো বেশি ভয় পাচ্ছে???' তৃপ্তি সিনহার কথায় মাহিদ হোসেন হতাশ চোখে তাকিয়ে বলে, ' আপা আপনাকে আমি ঠিক চিনতে পারছি না। তাই কিছু মনে করবেন না। আসলে আমি আপনাদের কাউকেই চিনি না।তাই বলছি একটু সময় দিন আগে আম্মাকে ইনজেকশনটা দিয়ে নেই। তারপর আপনাদের সাথে কথা বলছি।' মাহিদ হোসেনের কথায় আকাশ ফারুকী অস্থির হয়ে বলে, ' কিছু মনে করবেন না আঙ্কেল। আমি রিহুর বড় ভাই আমি কি রিহুকে ধরবো?' মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে বলেন, ' না বাবা রাতুল বেটাই যথেষ্ট রিহা আম্মার জন্য।' এদিকে ফেরিহা কান্না কাটি শুরু করেছে কিছুতেই ইনজেকশন দিবে না। মাহি ফেরিহার কাছে এসে ওর ডান হাতের ব্লাউজের হাতা কনুয়ের উপর পর্যন্ত গুটিয়ে দেয়।ফেরিহার কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠে গেছে।তুরহান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে আছে। মাস্কের আড়ালে তার মুখের অভিব্যক্তি বোঝা দায়।এদিকে রাতুলরা সবাই ফেরিহাকে বোঝানোর ট্রাই করছে কিন্তু ফেরিহা কারো কথাই কানে দিচ্ছে না। ফেরিহা কান্না করেই যাচ্ছে। রাতুল অসহায়ের মতো ফেরিহার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ রাতুলের ফোনে মেসেজের টুং শব্দে রাতুল পকেট থেকে ফোন বের করে মেসেজটা সীন করতেই চোখ বড় বড় করে তুরহানের দিকে তাকায়। তাকাতেই দেখতে পায় তুরহান রাতুলের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রাতুল তা দেখে রুমন আর অনিকের দিকে তাকায়। রুমন আর অনিক রাতুলের চোখের ভাষা বুঝে যায়। তাই রুমন বলে উঠে, ' আরে এই বিপদের নানী বহুত কান্না করছোস বইন। এখন অন্তত থেমে যায় নয়তো আমার পেটে যেই কথাগুলো গুড় মুড় করছে সেগুলো কি করে জানতে চাইবো তোর কাছে????' বলেই ফেরিহার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে রুমন।রুমনের কথা শুনে ফেরিহা কান্না থেমে যায় কিন্তু হেঁচকি থামেনি।ফেরিহা অশ্রু ভেজা গোল গোল চোখে রুমনের দিকে তাকিয়ে বলে, ' তোর পেটে আবার কি কথা গুড় মুড় করছে???' রুমনরা সবাই স্বস্তির শ্বাস ফেলে ফেরিহার কান্না থামতে দেখে। নীল আর আয়বান সিদ্দিক শুধু অসহায় নয়নে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে থাকে। রুমন বলে, ' বলছি।।। আগে অনিক তু্ই দেখ তো রিহা এতো মারামারি করল ওর ডান হাতে ও ব্যথা পেয়েছে কিনা???? একটু হাতটা ম্যাসেজ করে দে তো.... তু্ই ম্যাসেজ করতে করতে আমি ওর সাথে একটু আমার পেটের কথা বলি।' অনিক মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে ফেরিহার হাত টান করে ম্যাসেজ করার জন্য ধরলেই ফেরিহা ' আহহ ' করে উঠে। রুমন আর রাতুল হতাশার শ্বাস ফেলে বলে, ' তার মানে হাতে টান লেগেছিল ক্যাপ না পড়ে থাকার জন্য।' ফেরিহা ওদের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বলে মাথা নিচু করে ফেলে ।রুমন অনিক রাতুল আর মাহিদ হোসেনকে চোখের ইশারায় কিছু বুঝিয়ে। তারপর ফেরিহাকে রুমন বলে, ' তা বিপদের নানী তু্ই আমাকে একটা কথা বলতো তু্ই হঠাৎ ভীতু নারীর থেকেই সাহসী নারী কি করে হলি???? ভাবা যায় একাই ১৪জন্য দামড়া দামড়া বেটাকে কুপোকাত করে দিয়েছিস বইন!!!!একটুও কি ভয় করেনি তোর???? আমাদের ডাকতে পারতিস অন্তত... যদি তোর কিছু হতো তখন কি হতো বলতো???? আর যেখানেই যাস বিপদ তোর সাথে সাথে যায়। কোথাও অঘটন না ঘটিয়ে তু্ই আসতেই পারিস না। হয় হাত কাটবি নয় পা কাটবি নয়তো আছাড় খেয়ে আসবি নয়তো আবার কপালে আলু উঠিয়ে আসবি.... আমি ভাবছি এখন থেকে তোকে নজর টিকা দিয়ে রাখবো। আর কাক তাড়ুয়ার মতো তোর পিছনে একটা কাক তাড়ুয়া ঝুলিয়ে দিয়ে তাতে লিখবো বিপদের নানারা তোমরা আমাদের আদরের রিহার কাছে এসো না প্লিজ। রিহা নিজেই বিপদের নানী। তোমরা এলে রিহা হয়ে যাবে বিপদের মহানানী।' রুমনের কথা শুনে সবাই ফিক করে হেসে দিলেও ফেরিহা গাল ফুলিয়ে বলে উঠে, ' কি বললি তু্ই??? এই তু্ই কি আমাকে অপমান করলি???নাকি আমার মজা উড়ালি????' ফেরিহাকে চোখ গরম করতে দেখে রুমন হে হে করে কেবলা হেসে বলে, ' ছি রিহা!!তু্ই আমার পাঁচটা দশটা না একটা মাত্র বোন তোকে অপমান করতে আমি যাবো কেন? আর তোর মজাই বা উড়াতে যাবো কেন??? একবার ভাব তু্ই যদি বিপদের মহানানী হয়ে যাস তবে তোকে আর কোনো বিপদ ছুঁতেও পারবে না... বিপদ উল্টো তোকে দেখে ভয় পাবে।' ফেরিহা রুমনের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে বলে, ' বিপদের মহানানীটা আবার কি?কি করে হয়??? ' রুমন ফেরিহার কথায় বিপাকে পড়ে সবার দিকে কাঁদো কাঁদো মুখে তাকায়। দেখে সবাই মিট মিট করে হাসছে। তাই ফেরিহার দিকে আবার তাকিয়ে বলে, ' বইন তু্ই বেশি প্রশ্ন করস । আগে ভাব তু্ই মহারানী বা রাজরানীর থেকেই মহানানী বা রাজনানী।। একটু ভাব কল্পনায় গিয়ে... দেখ তু্ই দেখতে কত সুন্দর ঐ বেসে।' রুমনের কথায় সত্যি ফেরিহা ভাবুক হয়ে পড়ে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনিক ফেরিহার হাত শক্ত করে ধরে আর মাহিদ হোসেন ফেরিহার হাতে ইনজেকশন ইনজেক্ট করে দিতেই ফেরিহা ' উফফ ' করে উঠে।নিজের ভাবনার রাজ্যের থেকেই বের হয়ে পাশ ঘুরে তাকাতেই ফেরিহা দেখতে পায় হাতে ইনজেকশন পুশ করা শেষ। সাথে সাথে ফেরিহার শ্বাস ভারী হয়ে যায়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফেরিহার শরীরে ঝাঁকি দিয়ে উঠেই শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। ফেরিহা নিজের শরীরে ছেড়ে দিয়ে সোফায় এলিয়ে পড়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। রাতুল তাই ফেরিহার হাতের তালু ঘষতে থাকে। রুমন ফেরিহার পা দুটোর থেকেই হিল খুলে নিজের হাঁটুর উপর ফেরিহার পা নিয়ে পায়ের তালু ঘষতে থাকে। আর অনিক মাহিদ হোসেনের ব্যাগ থেকে মিনি অক্সিজেনের বোতলটা বের করে তার সাথে পাইপ সেট করে মাহিকে বলে ফেরিহার নেকাব খুলে দিতে।মাহি ফেরিহার নেকাবটা খুলে দিতেই অনিক ফেরিহার নাকে অক্সিজেন পাইপটা সেট করে দিয়ে ফেরিহাকে বলে, ' এখন আস্তে আস্তে কষ্ট কমে যাবে রিহা। চোখ বুজে ঘুমানোর ট্রাই কর।' অক্সিজেন পাইপ সেট করার পর ঠিক মতো শ্বাস নিতে পেরে ফেরিহার চোখ দুটো আপনাআপনি বুজে যায়। ফেরিহাকে ঘুমাতে দেখে রাতুলরা আর মাহিদ হোসেন স্বস্তি নিঃশ্বাস নেয়। আর এদিকে নীল আর আয়বান সিদ্দিক ছলছল চোখে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে আছে। সেই ছোট ফেরিহা কত বড় হয়ে গিয়েছে।সেই যে ১০বছর বয়সে শেষ দেখে ছিল তারা ফেরিহাকে আর তো দেখেনি ফেরিহার চেহারা। দেখতে একদম মায়ের কার্বন কপি হয়েছে। শুধু চোখ দুটোই হয়েছে আলাদা। হঠাৎ আয়বান সিদ্দিকের বুকে চিন চিন করে ব্যথা করে। আর নীল মনে মনে বলে রিহু তোকে যদি একটু জড়িয়ে ধরতে পারতাম বোন তবে মনে হয় এই বুকে জ্বলতে থাকা হাজার ক্ষততে মলমের প্রলেপ পড়ত। আরেকদিকে মাহিদ হোসেন দাঁড়িয়ে হাতের ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে মাহিকে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলেন, ' মা তোদের সবার বন্ধুত্ব আর ভাইবোনের মতো সম্পর্ক যেন আজীবন এমন থাকে সেই দোয়া করি।নিজের খেয়াল রেখো সাথে বোনেরও।' তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বলে মাহিদ হোসেন, ' এয়ারপোর্টে নামার পর রাতুলকে ফোন দিয়ে জানাতেই রাতুল আমাকে কিছু কিছু বলেছে। তাই ওর কথার ভিত্তিতে ধরে নিচ্ছি আপনারা রিহা আম্মার পরিচিত।যাই হোক হাতে সময় কম তাই মেইন কথায় আসি। আসলে ইনজেকশনটা রিহা আম্মার জন্য অনেক জরুরী ছিল। এটাই লাস্ট ডোজ ছিল। বলতে পারেন বুস্টার ডোজ। আম্মার বুকে থেকে কিছুটা উপরে গুলি লাগার কারণে অনেক ব্লাড লস হয় সাথে তার ডান সাইডের রক্তনালী এবং রগগুলোতে ভালো ড্যামেজ হয়ে যায়। অপারেশন করে কিছুতো কেটে ফেলতে হয়েছে যার কারণে তার রগগুলো ছোট হয়ে গেছে। তাই রিহার একটু কিছু এলোমেলো হলেই তার ডান হাত সহ ঘাড়ের এর ডান সাইডের রগগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। রিহার বেঁচে ফেরাটা মিরাক্কেল ছিল। আল্লাহ তাঁয়ালা সহায় ছিলেন বিধায় মেয়েটাকে আমরা আবার ফিরে পেয়েছি। তার এখনো থেরাপি বিভিন্ন মেডিসিন চলছে। আর আগামী সপ্তাহে আমরা অস্ট্রেলিয়া যাব রিহাকে থেরাপি দিতে। এটা যদি ওকে আগে বলা হয় তবে ওকে হাজার চেষ্টা করেও নেওয়া যাবে না আসা করি রিহার বিষয়টা আপনাদের কাছে কিছুটা হলেও ক্লিয়ার করতে পেরেছি। আসি ভালো থাকবেন সবাই। আমার হাতে আর সময় নেই।' বলেই রাতুলদের দিকে তাকিয়ে ওদের সাথে কিছু কথা বলে বিদায় নেন মাহিদ হোসেন।এতক্ষন মাহিদ হাসানের কথা শুনে সবাই থমকে গেছে। একদৃষ্টিতে ফেরিহার ঘুমন্ত মায়াবী চেহারাটার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। নীল এক পা দু পা করে এগিয়ে আসতে গেলে রাতুল হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে ফেরিহাকে পাঁজাকোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে অনিককে অক্সিজেন বোতলটা নিতে বলে আকাশের উদ্দেশ্যে বলে, ' সিইও হয়ে হাজিরা দিতে বলছেন দিয়েছে। যেকোনো মিটিংয়ে ডাকবেন আসবে। কোথাও সাইন লাগবে আসবে। কিন্তু নিয়মিত আসতে বলবেন না। আর এই কোম্পানির কোনো টাকাও রিহার লাগবে না। রিহার জন্য রিহার ভাই বোন পাপারাই যথেষ্ট। রিহা কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে জানি না। কিন্তু ও যদি সারাজীবনও অসুস্থ থাকে তাতেও আমরা ওর পাশে আছি। অন্তত রিহা তার ভাইদের কাছে বেশি না। আর আমরা তিনজন আমাদের বোনের ভাগ কাউকে দিবো না। সেটা যেই হোক না কেন? বোন জামাই হলে আলাদা কথা। আর আপনি যেহেতু বিগ ব্রো রিহার তাই আপনাকেও ছাড় দিলাম। কিন্তু আর কাউকে না। আসি ভালো থাকবেন।' রাতুল ঘুরে চলে যেতে গেলে আকাশ ফারুকী মৃদু হেসে বলে, ' খুশি হলাম তোমার কথা শুনে। তুমি আমায় যেহেতু ছাড় দিয়েছো তাহলে তোমাদের বাসার ঠিকানাটা টেক্সট করবে প্লিজ আমাকে। কাল সকালে আমরা আসবো বাসায় রিহুকে দেখতে।' রাতুল মাথা নাড়িয়ে সায় জানিয়ে ফেরিহাকে নিয়ে চলে যায়। মাহিরাও রাতুলদের পিছু বেরিয়ে যায়। রাতুল ফেরিহাকে নিয়ে চলে যেতেই নীল ধপ করে হাঁটু গেড়ে নিচে বসে পরে। আয়বান সিদ্দিকও পাশের সোফায় ধপ করে বসে পড়েন। তৃপ্তি সিনহা ওদের দিকে তাকিয়ে ওদের কাছে দু পা এগিয়ে এসে বলে, ' দুলাভাই একটা কথা জানেন তো প্রকৃতি কখনো শুন্য স্থান রাখে না। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শুন্য স্থান পূরণ হয়ে যায়। ঠিক তেমনি যাকে সব দিক থেকে শুন্য করে বিশাল সমুদ্রে আপনি নিক্ষেপ করেছিলেন। তাকে প্রকৃতি নিজ ইচ্ছায় নিজের কাছে স্থান দিয়ে তার চারপাশে সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছে। একেই বলে আল্লাহর লীলা খেলা।' বলেই হামীম খানকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আয়বান সিদ্দিক আর নীল পুড়তে থাকে বিশাল বিচ্ছেদের যন্ত্রনায়।
************************************************
সুফিয়ার কপালে ব্যান্ডেজ করা। তা নিয়ে একটি বার থেকে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে হেলতে দুলতে বের হয়ে গাড়িতে উঠে ড্রাইভ করে হোটেলের দিকে যাবে দেখে হাইওয়াতে উঠেছে। এমনি কানাডায় উইন্টার সিজন চলছে। রাস্তায় রাস্তায় বরফ জমে আছে তুষারপাত হয়ে তার ভিতর মাতাল হয়ে থাকার জন্য চোখে অস্পষ্ট দেখছে সামনে। তারপরও গাড়ি চালাতে বেশ দক্ষতা থাকার কারণে বেগ পেতে হচ্ছে না তেমন একটা। কিন্তু নির্জন রাস্তায় কিছু দূর যেতে দেখতে পায় একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। যাতে সুফিয়া গাড়ি থামিয়ে উইন্ডো দিয়ে মাথা বের করে সেই গাড়ির মালিকের উদ্দেশ্যে বলে, ' ঐ শালা রাস্তা কি তোর বাপের যে মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে রেখেছিস???? গাড়ি সরা রাস্তা থেকে। উল্টো রাস্তায় এসে গাড়ি থামিয়েছে যতসব.......' আর বলতে পারলো না তার আগেই সামনের গাড়িটি প্রচন্ড স্পিডে এসে সুফিয়ার গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। সাথে সাথে সুফিয়ার গাড়িটি উল্টে দশ হাত দূরে ছিটকে পরে। তা দেখে সুফিয়ার গাড়ি ধাক্কা দেওয়া গাড়ির মালিক গাড়ির ভিতরে বসে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।
***********************************************
ফেরিহাকে তখন নিয়ে এসে মাহি হিমু ঋতু যুথি চেঞ্জ করে দিয়ে রাতুলকে ডাক দিতেই রাতুল এসে ফেরিহাকে রেন্ট হাউসের ছাদে কাচ দিয়ে ঘেরা শীত নিয়ন্ত্রিত একটি ঘরে নিয়ে দোলনায় শুইয়ে দিয়ে অক্সিজেন ঠিক করে দিয়ে চলে যায়। ঘরটির চারপাশে অনেক ফুলের সমারোহ। বলতে গেলে ছোট খাটো ফুলের বাগান বলা যায়। তার মাঝে ঝুলন্ত বেড সাইজের একটা দোলনায় ফেরিহা ঘুমিয়ে আছে। রাত ১১:৫৯ সেই কাঁচের রুমের দরজা খুলে কেউ ভিতরে ঢুকে। তারপর ফেরিহার দোলনার কাছে যেয়ে আস্তে দোলনায় বসে ফেরিহার দিকে কিছুক্ষন একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ফেরিহার কানের কাছে মুখ নামিয়ে বলে, ' Happy Birthday My Blue Rose Fairy.....!!!!' বলেই কপালে উষ্ণ পরশ একে দেয়।

#চলবে

[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়। গল্প পড়ে ভালো লাগলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]

24/04/2026

#হৃদ_মাঝারে_নীল_সমুদ্র
Lamia hossain Books
্ব

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
🚫কঠোরভাবে প্রাপ্ত মনস্ক ও মুক্তমনাদের জন্য উন্মুক্ত।
_________________________________

ফেরিহা মাথা নিচু করে বসে আছে। মাহি এগিয়ে এসে ফেরিহার পাশে দাঁড়িয়ে ফেরিহার কাঁধে হাত রাখতেই ফেরিহা মাথা তুলে মাহির দিকে ছলছল নয়নে তাকায়। তাতে মাহি যা বুঝার বুঝে যায়। রাতুল এগিয়ে এসে ফেরিহার পাশে বসে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ' ঠিক আছিস তু্ই রিহা!!!!হাতে ব্যথা পাসনি তো????' ফেরিহা ফিরে রাতুলের দিকে তাকায়। রাতুল ফেরিহার দিকে তাকাতেই। চেঁচামেচির শব্দ শুনে পাশ ঘুরে তাকাতেই যা দেখে তাতে কপালে ভাজ ফেলে।রুমন অনিক হিমু ঋতু যুথিও ফিরে তাকায় পিছে। সুফিয়াকে চেঁচামেচি করে ফেরিহার বাবা ভাই আকাশ তৃপ্তি সিনহা আর হামীম খানকে আনতে দেখে ওরা ডোর থেকে সরে ফেরিহার কাছে যেয়ে দাঁড়ায়। এদিকে সুফিয়া বলে উঠে, ' দেখুন ফুপাজান রিহু কি পরিমানে বিগড়ানো মেয়ে!!!!এই মেয়ে নিজের মাকে মেরে ফেলে শান্তি হয়নি এখন আবার মানুষ মেরে ফেলার ধান্দায় নেমেছে। দেখুন কতজনকে মেরে রেখেছে এখানে.....।' সুফিয়া কথা শেষ হওয়ার আগেই মাহি রাতুল অনিক রুমন হিমু যুথি ঋতু চিৎকার করে বলে উঠে, ' হেই সাবধানে কথা বলললল......' ফেরিহার বন্ধুদের একসাথে এমন চিৎকার শুনে তুরহানরা বাদে সবাই চমকে উঠে। বেশি চমকে যায় সুফিয়া। ফেরিহা কিছুক্ষন সবার দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে আকাশ ফারুকীকে উদ্দেশ্যে করে বলে, ' বিগ ব্রো আমাদের কোম্পানির একটা আলাদা রেপুটেশন আছে। ওপাশে অনেক বড় মাপের লোকজন আছে আমি চাই না তারা এই রুমে কি হচ্ছে বা কি হয়েছে তা জানুক প্লিজ কিছু একটা করুন..... নয়তো এই মেয়ে ওর গলার জোরে আজ সম্মান খুয়াবে এই কোম্পানির।' ফেরিহার কথা শেষ হতেই আকাশ কাউকে মেসেজ করতেই। হল রুমের ওপাশের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ওপাশের দরজা বন্ধ হতেই আয়বান সিদ্দিক ফরহাদ রেগে বলে উঠেন, ' আমি জাস্ট কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এই মেয়ে যে ভালো হবার মেয়ে নয় আমি ভুলেই গিয়েছিলাম। আমার ঘৃণা হয় এই ভেবে যে এই মেয়ের জন্মদাতা পিতা আমি..........' এইটুকু বলতেই রাতুল চিৎকার করে বলে উঠে, ' স্টপ!!প্লিজ স্টপ!!!আর একটা কথা বলবেন না। অনুরোধ করছি আমি আপনাকে। না জেনে শুনে একটা কথা বলবেন না.....রিহা মতো একটা মেয়ে হয় না। আফসোস বাবা হয়ে সন্তানকে চেনার চোখ আপনি পান নি। ভালো না লাগলে চুপ থাকুন তারপরও রিহার সম্পর্কে একটা বাজে কথা বলবেন না।' রাতুলের কথায় সবাই আরেক দফা চমকে যায়।আর ফেরিহা টলমল চোখে ওর বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।তৃপ্তি সিনহা আর হামীম খান অসহায় চোখে ছেলের দিকে তাকাতেই তুরহান ইশারায় শান্ত থাকতে বলেন। আকাশ ফারুকী এবার গম্ভীর মুখে ফেরিহার দিকে এগিয়ে যেয়ে হাঁটু গেড়ে বসে ফেরিহার দুই হাত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলে উঠে, ' তোকে একা রেখে যাওয়াটাই ভুল হয়েছে। কিন্তু মেইন ডোরে তো গার্ডের অভাব নেই তা সত্ত্বেও এরা ঢুকলো কি করে মাথায় ঢুকছে না???' আকাশ ফারুকীর কথা শেষে হতেই ফেরিহা তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে বলে, ' কি যে বলেন না বিগ ব্রো আস্ত ইবলিস একটা এখানে থাকতে আবার বলছেন এখানের এরা ঢুকলো কি করে????' ফেরিহার কথায় আকাশ ফারুকী ভ্রু কুঁচকে ফেলে। সুফিয়া রাগে কটমট করে বলে, ' কথা ঘুরানোর চেষ্টা করবি না রিহু.... বড্ড কথা বলা শিখে গিয়েছিস। আবার সাথে কতগুলো চামচাও রেখেছিস দেখতে পাচ্ছি।কিছু বলার আগেই ঘেউ ঘেউ করে উঠছে।' সুফিয়ার কথা শুনে ফেরিহা শান্ত দৃষ্টিতে সুফিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর হঠাৎ ঘাড় কাত করে অদ্ভুত ভাবে সুফিয়ার দিকে তাকায় যা দেখে সুফিয়া ঘাবড়ে যায়। সাথে সবাই ভড়কে যায়। কিন্তু রাতুলরা ফেরিহার ঘাড় কাত করতে দেখে শুকনো ঢোক গিলে। ঠিক তখনই ফেরিহার পিছন থেকে এগিয়ে আসা একটি হাতকে ফেরিহা বসে থাকা অবস্থায় ডান হাত দিয়ে ধরে মোচড় দিয়ে উল্টো ঘুরিয়ে ওই হাতে থাকা ইনজেকশনটা সেই হাতের মালিকের গলায় ঢুকিয়ে পুশ করে দেয়। সাথে সাথে একটা চিৎকার দিয়ে লোকটি ফ্লোরে পড়ে যায়। আর ফেরিহা তখনও শান্ত চোখে ঘাড় কাত করে সুফিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।ফেরিহার হঠাৎ করা কান্ডে সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। সুফিয়া ফেরিহার এই রূপ দেখে কেঁপে উঠে সাথে শুকনো ঢোক গিলে।কেউ কিছু বুঝে উঠার আগে ফেরিহা ওর পাশে থাকা কাচের সোপিচটা ছুড়ে মারে সুফিয়ার দিকে।সোপিচটা যেয়ে লাগে সুফিয়ার কপালে। সাথে সাথে সুফিয়া চিৎকার করে আহহহহ বলে উঠে..... ফেরিহার কান্ডে সবাই হতবাক হয়ে যায়। নীল অবাক কণ্ঠে বলে উঠে, ' রিহু কি করছিস তু্ই???? মাথা ঠিক আছে তোর???? এমন আচরণ করছিস কেন????' নীলের কথা শুনে রিহা শান্ত স্বরে বলে, ' যেটা ঠিক মনে করেছি সেটাই করেছি..... আপনার উডিবিকে ভাষা ঠিক করতে বলুন... আমার আপনজনদের অপমানজনক কথা বলতে না করুন..... মাস্ক পড়ে মুখ ঢেকে রেখেছেন.... চোখ তো খোলা আছে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে কি কিছু মাথায় ঢুকছে না??? নাকি চোখেও অদৃশ্য টুপি পড়ে আছেন???' ফেরিহার কথায় নীল আরও অবাক হয়ে যায়।
************************************************
ফেরিহাকে দেখে তুরহানের বন্ধুরা সবাই অবাক। তাই কাইয়ান বলে উঠে, ' ফায়াজ এই ফেরিহা আর আট মাস আগের ফেরিহার মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে।তু্ই কি চিনতে পারছিস এই মেয়েকে????' কাইয়ানের কথা শুনে জিহান কপালে ভাজ ফেলে বলে, ' কথাটা মন্দ বলিসনি..... মাত্র ৮মাসে একটা মেয়ে এতোটা পরিবর্তন হতে পারে না। যতটা এই মেয়েকে দেখা যাচ্ছে।' মুহিদ ভাবুক হয়ে বলে, ' আমি তো ভাবছি ফায়াজের কথা ও এতো শান্ত রয়েছে কি করে????' সুমন মুহিদের কথা শুনে বলে, ' নিশ্চয়ই তুরহান কিছু জানে তাই চুপ করে আছে......' ওদের সবার কথায় পিহু বিরক্ত হয়ে বলে, ' তোরা একটু চুপ কর ভাই সামনে কি হচ্ছে দেখ..... আর একটা মানুষের পরিবর্তন হতে সময় লাগে না.....একটা মেয়ে যখন পদে পদে আঘাত পায়...... আপন মানুষজনের দেওয়া আঘাতে মন ভেঙে যায় তখন এমনি সেই মেয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়......' পিহু ওদের সবার কথাই এতক্ষন শুনেছে তুরহান। তারপরও শান্ত হয়ে স্থির দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।
************************************************
সুফিয়ার কপাল চুয়ে রক্ত পড়ছে। তাতেও সুফিয়ার কোনো হেলদোল নেই। ফেরিহার দিকে চেয়ে রাগে ফুসছে। নীল এতবার করে সুফিয়াকে বলছে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই চল। কিন্তু সুফিয়ার কোনো হেলদোল নেই। একদৃষ্টিতে ফেরিহার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আয়বান সিদ্দিক ফেরিহার কান্ডে রেগে হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে বলে উঠেন, ' অসভ্য বেয়াদব মেয়ে!!!!তোমার এতো অধঃপতন হয়েছে যে বড়দের গায়ে হাত উঠে। তোমাকে আমার এই মুহূর্তে ত্যাজ্য করতে ইচ্ছে করছে.....' আয়বান সিদ্দিকের কথায় সবাই চমকে গেলেও ফেরিহা শান্ত দৃষ্টিতে আয়বান সিদ্দিকের দিকে তাকিয়ে থাকে। আকাশ রেগে উঠে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই সময় ফেরিহার মার খেয়ে সেন্সলেস হয়ে পড়ে থাকা গুন্ডাটার ফোন বেজে উঠে।আকাশ ভ্রু কুঁচকে ঝুকে গুন্ডাটার পকেট থেকে ফোনটা বের করে লাউড স্পিকারে দিতেই ওপাশ থেকে একজন বলে উঠে, ' ওই হালা কোন জায়গায় যাইয়া মরছোস????? কতক্ষন ধইরা বাইরে গাড়ি লইয়া বইয়া রইছি এহনো আসার নাম লোস না কিল্লাই??? সুফিয়া ম্যাডামে যারে তুইলা লইয়া আইতে কইছে তাড়াতাড়ি নিয়া আয়।ওই দিকে খরিদ্দার বইয়া আছে। মাল বলে মেলা কড়া দেখতে.... কি জানি নাম???? হ মনে পড়ছে ফেরিহা সিদ্দিক আয়লা... কি নাম বাবা দাঁত বেক ভাইঙ্গা যায় উচ্চারণ করতে গেলে। আজ রাতেই ওইডারে বিক্রি করতে পারলে হাতে মেলা টেকা আইবো.... সুফিয়া ম্যাডাম টেকা পাইলে আবার.... ' আর কিছু লোকটা বলার আগেই আকাশ ফারুকী লাইনটা কেটে দিয়ে রক্ত চক্ষু নিয়ে সুফিয়ার দিকে তাকায়। তুরহানও চোয়াল শক্ত করে রক্তলাল চোখে সুফিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। কাইয়ান পরিস্থিতি বুঝতে পেরে শাহীনকে ফিস ফিস করে কিছু বলতেই শাহীন সেখান থেকে চলে যায়। আয়বান সিদ্দিক আর নীল সুফিয়ার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।ফেরিহা সবার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে হেসে সোফায় হেলান দিয়ে মাথা এলিয়ে দিয়ে চোখ বুজে। মাহি একবার ফেরিহার দিকে তাকিয়ে রেগে বলে উঠে, ' তোর মতো কাজিন সিস্টার আর কারো না হোক...... যার ভিতরে হিংসার আগুন সবসময় দাউ দাউ করে জ্বলে সে কখনো মানুষ হতে পারে না..... অমানুষ ডাইনি একটা। আজকে নিয়ে ঠিক কতবার তু্ই রিহার ক্ষতি করতে চেয়েছিস তার হিসাব নেই। আরে তু্ই তো একটা মেয়ে.... একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের ক্ষতি কি করে করতে চাস??? তু্ই জানিস না মেয়েদের সবচাইতে বড় সম্পদ তার চরিত্র প্লাস সতিত্ব.... আট মাস আগেও তু্ই রিহাকে প্যারিসে তুলে নিয়ে গিয়ে বেঁচে দিতে চেয়েছিলি আজও তাই করতে চেয়েছিলি!!!তোর কলিজাটা টেনে বের করে যদি আমি টুকরো টুকরো করতে পারতাম তবে আমার শান্তি লাগতো।' মাহির কথা শেষ হতেই রুমন বলে উঠে, ' মহিলা তোর ভাগ্য ভালো তু্ই এখনো আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছিস। এখানে বড়োরা না থাকলে এতক্ষন তোর ওই সুন্দর চেহারা আর কুৎসিত চেহারা দুটোই টেনে ছিড়তাম।' রাতুল গম্ভীর স্বরে বলে, ' এই যে আয়বান সিদ্দিক আপনাকে সম্মান জানিয়ে কথা বলা আমার রুচিতে আসছে না। তাই বলি আপনাকে আপনার মেয়েকে ত্যাজ্য করতে হবে না। আপনার এমনি কোনো মেয়ে নেই। আপনার শুধু একটা সন্তান। তার নাম নীলাদ্রিয়ান নীল। বুঝতে পেরেছেন। তাই ফারদার রিহাকে কোনো উল্টো পাল্টা কথা শুনাবেন না.... আমাদের রিহা নিজের শরীরে আঘাত লাগলেও কিছু বলে না, কেউ শত অপমান করলেও মুখ ফুটে কোনো প্রতিবাদ করে না, তিন বেলা না খেয়ে থাকলেও কারো কাছে কিছু মুখ ফুটে বলে না। কিন্তু তার গায়ে কেউ দাগ লাগাতে আসবে আর সে চুপ থাকবে এমন মেয়েও কিন্তু সে নয়। সে না চাইলে কেউ তাকে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখে না। কি কথা ঠিক বললাম তো বিগ ব্রো????' আকাশ ফারুকী ভারী স্বরে বলে উঠে, ' ঠিক কি বেঠিক জানি না..... আজ যা হলো তারপর চাচ্চু আর নীল তোদের সাথে আমার সম্পর্ক কেমন থাকবে বলতে পারছি না...... এই মেয়েটাকে আমি ছোট থেকেই তো দেখেছি। ওকে কোনো দিনই আমার ভালো মনে হয়নি তা আমি তোমাদের বার বার বলেছি..... ইভেন মেঝো চাচির মৃত্যুতে যখন তোমরা সবাই ওর কথায় রিহুকে দোষারোপ করছিলে তখন আমি বিদেশে থেকেই ফোন দিয়ে বার বার মানা করেছিলাম এই মেয়ের কথা তোমরা শুনো না বিশ্বাস করো না.... কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনোনি। রিহুকে বাড়ি ছাড়া করে মামা বাড়ি পাঠালে। ভেকেশনে এসে আমি রিহুকে আনতে গেলাম ছোট রিহু অভিমান করে না আসতে চাওতে একটা থাপ্পড় মেরে ছিলাম। তাতে তার অভিমান আরও বেড়ে যায়......চাচ্চু কোনো বাবা কি তার সন্তানকে এতোটা অবহেলায় রাখতে পারে যতটা তুমি রেখেছো???? এই মেয়েটা কি তোমার রক্তের কেউ যে একে মায়া করতে পারো আদর করতে পারো বিশ্বাস করতে পারো কিন্তু নিজের ওরসজাত সন্তানকে তা পারো না????? কি রে নীল তু্ই না বড় ভাই মাকে তো কথা দিয়েছিলি ছোট বেলায় কখনো বোনকে কষ্ট পেতে দিবি না!!!এই তার নমুনা..বোনকে বিক্রি করে দিবে খারাপ জায়গায় তাও বাইরের একটা মেয়ে এটাও আজ শুনছিস তারপরও চুপ আছিস.... অবশ্য তোকে বলেই বা কি লাভ???? সবাই তো একই পথের পথিক তোরা।।। দাদু হয়তো মৃত্যুর আগে কিছু একটা বুঝতে পেরে ছিলেন। তাই কোম্পানি রিহুর নামে করে দিয়ে গেছেন..... নয়তো জীবনের চরম দুর্দশার মুখে পড়তে হতো সিদ্দিক বংশের সবার.... তু্ই যেমন হয়তো আল্লাহ তোর জন্য তেমন মানুষকেই রেখেছে তোর ওয়াইফ হিসেবে। তাই পুলিশে দিলাম না কিন্তু এখান থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ওকে বের করে দিবো।' বলেই গার্ডেদের ডাক দিয়ে আকাশ বলে সুফিয়াকে বের করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সুফিয়ার তাতে কোনো হেলদোল নেই সে এখনো রেগে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফেরিহার দিকে। তার দৃষ্টি দেখেই বুঝা যাচ্ছে পারলে ফেরিহাকে খুন করে ফেলতো এই মুহূর্তে।।।। তৃপ্তি সিনহা আর নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারেন না। গার্ডেদের একটু দাঁড়াতে বলে একপা দুপা করে সুফিয়ার কাছে যেয়ে ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে বলেন, ' এই থাপ্পড় খানা আমার আম্মার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাইয়া থাকিবার জন্য।' এক চড় খেয়ে মাথা সোজা করতে না করতেই সুফিয়ার গালে আরেকটা চড় পড়ে। সেই চড়টা তৃপ্তি সিনহা দিয়ে বলেন, ' এই চড়টা আমার আম্মাকে নিয়া খারাপ চিন্তা করিবার জন্য।' বলেই আরেকটা চড় দিতেই সুফিয়া ফ্লোরে পড়ে যায়। সেই চড় দিয়ে তৃপ্তি সিনহা বলে, ' এই চড়টা তু্ই নারী হয়ে আরেকটা নারীর সতিত্ব বিক্রি করিতে চেয়েছিস।অন্য পুরুষদের নিকট আমার আম্মাকে মাল নামক কুৎসিত শব্দ শুনিয়াতে হইয়াছে সেই জন্য।' বলেই ঝুকে সুফিয়াকে আরেকটা চড় মারতে যাবে ঠিক সেই সময় হামীম খান এসে তৃপ্তি সিনহাকে ধরে বাঁধা দিয়ে বলেন, ' বিবিজান থামুন প্লিজ। নোংরাকে মেরে আর হাত নোংরা করবেন না। তার বিচার পড়ে করবেন। শান্ত হন।' হামীম খানের কথায় তৃপ্তি সিনহা থেমে যায় কিন্তু তারপরও রেগে ফোঁস ফোঁস করতে থাকে। আয়বান সিদ্দিক বাকহারা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যেন এখনো তিনি বিশ্বাসই করতে পারছে না কিছু। নীল শুধু সুফিয়ার দিকে তাকিয়ে কঠোর স্বরে বলে, ' তোকে আমি ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম রিহুর পিছনে না লাগতে সুফি.... কেন শুনলি না আমার কথা????' কিন্তু সুফিয়ার থেকে কোনো কথা আসে না সুফিয়া ফ্লোরে বসেও ফেরিহার দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিছুটা দূর থেকেই তুরহান সেটা ঠিক দেখতে পাচ্ছে। তাই গার্ডেদের চোখের ইশারা দিতেই গার্ডরা টেনে হিচড়ে সুফিয়াকে সেখান থেকেই নিয়ে যায়। সাথে আরও গার্ড এসে সেন্সলেস গুন্ডাগুলোকেও টেনে নিয়ে যায়।
************************************************
মাথায় কারো হাতের স্নেহের স্পর্শ পেতেই ফেরিহা চোখ মেলে তাকায়।মাহির আব্বু মাহিদ হোসেনকে নিজের পাশে বসা দেখে ঠোঁট উল্টে ছোট বাচ্চাদের মতো কেঁদে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বলে, ' পাপা তুমি এসেছো.... আরেকটু আগে কেন এলে না??? তাহলে তো আমি আরও আগে ঘুমিয়ে যেতে পারতাম পাপা.... আমার আজ ঘুমিয়ে পরাটা ভীষণ জরুরী পাপা। প্লিজ আমাকে একটু ঘুম পাড়িয়ে দেও পাপা। যাতে আমি কয়েকঘন্টা অন্তত একটু প্রশান্তি পাই। আজ তোমার ওই ইনজেকশনের থেকেও বড় ব্যথা এই বুকে পাপা। তাই তোমার ইনজেকশনের ব্যথা আজ আমায় কাবু করতে পারবে না পাপা। তাড়াতাড়ি করো পাপা.... আমি ঘুমোতে চাই।' ফেরিহার কথা শুনে রাতুলদের চোখ ছল ছল করে উঠে। আকাশ ফারুকী হামীম খান তৃপ্তি সিনহা আয়বান সিদ্দিক নীল সুমনরা সবাই ফেরিহার মুখে পাপা ডাক শুনে আর কান্না দেখে হতবাক হয়ে যায়। তুরহান শুধু শান্ত চোখে ফেরিহার দিকে তাকিয়ে রয়। মাহিদ হোসেন মৃদু হেসে ফেরিহাকে আগলে নিয়ে বলেন, ' কি হয়েছে??? কেন আমার মেয়ে কষ্ট পাচ্ছে কিচ্ছু জানতে চাইবো না আমি... শুধু বলবো আমার মেয়ে ভীষণ স্ট্রং সবদিক থেকে। জীবনে যত বড় আঘাত আসুক না কেন আমার মেয়ে ঠিক নিজেকে সামলে নিতে পারবে। যেই মেয়ে দুটো গুলি খেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আল্লাহ অশেষ রহমতে আমাদের কোলে ফিরে আসতে পারে সেই মেয়ে নিশ্চয়ই দুর্বল নয় আম্মা। নিজেকে শান্ত করো আম্মা। তুমি কষ্ট পেলে তোমার ৭টা পাপা মাম্মা কিন্তু ভীষণ কষ্ট পায়। তুমি আমাদের সবার অনেক আদরের ফুল আম্মা। তুমি কাঁদলে তোমার ভাই বোনেরাও কাঁদে আম্মা। তাকিয়ে দেখো তোমার কষ্টে তারাও ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।' মাহিদ হোসেনের কথায় ফেরিহা হেঁচকি দিতে দিতে মাথা তুলে রাতুলদের দিকে তাকাতেই দেখতে পায় ওদের চোখেও পানি। তাই ফেরিহা নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে। এদিকে মাহিদ হোসেনের কথায় এবং ফেরিহার প্রতি আন্তরিকতা দেখে সবাই মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে। আয়বান সিদ্দিক আর নীল অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেন ফেরিহাকে। যেই মেয়ে একটু আগেও শান্ত শক্ত ছিল।সেই মেয়ে এখন একদম নরম ফুলে পরিণত হয়েছে। একটু আদরে ভালোবাসা স্নেহ পেয়ে।

#চলবে

[যদি গল্পে কোনো বানান ভুল থাকে মাফ করবেন আপু ভাইয়ারা। কারণ টাইপের সময় অনেক ঝামেলা হয়। গল্প পড়ে ভালো লেগে থাকলে বেশি বেশি কমেন্ট আর লাইক দিয়ে আমাকে গল্প লিখতে সহায়তা করুন 🥰🥰🥰🥰🥰]

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Savar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Savar