H.M.U Shakil
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from H.M.U Shakil, Skin Care Service, 18, Boshir Complex, Bandar Bazar, Sylhet.
#এলার্জিঃ
#চুলকানিতে অবহেলা নয়
যাঁরা পানি নিয়ে অনেকক্ষণ কাজ করেন বা বেশি কাজ করেন, বিশেষত নারীরা, তাঁদের হাতে চুলকানি হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাছবিক্রেতা, সবজিবিক্রেতা ও চিকিৎসকদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি। সাধারণত সাবান, ডিটারজেন্ট বা সোডাজাতীয় বস্তু বেশি ধরার কারণে এমনটি হয়। তবে অনেকেরই সবজির রস, প্লাস্টিকের দ্রব্যাদি, এমনকি মিস্ত্রিদের সিমেন্ট বা রং থেকেও এটি হতে পারে। চুলকানিকে অবহেলা না করে সঠিক কারণটি জানুন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। চুলকানি মূলত অ্যালার্জিজনিত হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়ার ফল। সবার যে একই কারণে ঘটবে, তা নয়। প্রাথমিকভাবে হাতের আঙুলগুলো লাল হয়ে যায়। পরে শুকনো বোধ হয় এবং ফেটে যায়। কারও কারও ফুসকুড়ির মতো দেখা যায়। এটি অনেক চুলকায়। তীব্র ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করে মৃদু সাবান ব্যবহার করে দেখুন। প্রয়োজনে বাসন-কোসন বা কাপড়-চোপড় ধোয়ার সময় দস্তানা ব্যবহার করুন। হাত ধোয়া, কাপড় ধোয়ার কাজে কড়া অ্যান্টিসেপটিক তরল যেমন ডেটল বা স্যাভলন ব্যবহার করা উচিত নয়। বড় নখ দিয়ে চুলকিয়ে রক্ত বের করে ফেলবেন না, এতে ত্বকে সংক্রমণ হতে পারে। প্লাস্টিক ও ইমিটেশন অলংকার প্রয়োজনে ত্যাগ করুন। হাতে পানি লাগে এমন কাজ শেষে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন ও ভ্যাসলিন লাগিয়ে শুষ্কতা দূর করুন।
#এলার্জির কারণ ও প্রতিকার
সচরাচর নির্দোষ বলে গণ্য কোনো জিনিস যদি শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তবে তাকে এলার্জি বলা হয়। যে সব দ্রব্য এলার্জি সৃষ্টি করে তাকে বলা হয় এলারজেন বা এন্টিজেন এবং এসব দ্রব্য দেহে প্রবেশের ফলে দেহের অভ্যন্তরে যে দ্রব্য সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিবডি। এন্টিজেন ও এন্টিবডি পরস্পর মিলিত হলে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় এন্টিজেন-এন্টিবডি বিক্রিয়া।
হাঁপানির সঙ্গে এলার্জির গভীর সংযোগ আছে। ফুলের পরাগ, দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রংয়ের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধূলো, পুরানো ফাইলের ধূলো দেহে এলার্জিক বিক্রিয়া করে হাঁপানি রোগের সৃষ্টি করে। কাজেই যারা হাপানিতে ভুগছেন তাদেরকে এগুলি পরিত্যাগ করে চলতে হবে।
ছত্রাক দেহে এলার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টি করে। ছত্রাক হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র সরল উদ্ভিদ। ছত্রাক ২০ ডিগ্রী সেঃ গ্রেঃ থেকে ৩২ ডিগ্রী সেঃ গ্রেঃ উত্তাপে জন্মে, ভেজা পদার্থে এই ছত্রাক জন্মাতে দেখা যায়। আবার কোনো কোনো খাদ্য ছত্রাকদ্বারা দূষিত হয়ে থাকে। পনিরে ছত্রাক মিশিয়ে তৈরী করা হয়। কোনো কোনো পাউরুটি এবং কেক তৈরী করতেও ইয়েস্ট জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। আলু, পেঁয়াজও ছত্রাকদ্বারা দূষিত হয়। এই ছত্রাক ও এলর্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ। ঘরের ধূলোতে একটি সচরাচর পরিচিত। এক অনুসন্ধানে দেখা যেছে যে শতকরা প্রায় ষাট শতাংশ ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টির জন্য এই ‘মাইট’ দায়ী। সে জন্যে যারা হাঁপানিজনিত এলার্জিক সমস্যায় ভোগেন তারা ঘরের ধূলো সবসময় এড়িয়ে চলবেন। ঘরের আসবাবপত্র, কম্বল, পর্দা, তোষক, বালিশ, প্রভৃতিতে যে ধূলো জমে থাকে তা পরিষ্কার করার সময় দূরে সরে থাকতে হবে।
খাদ্যে প্রচুর এলার্জির সম্ভাবনা থাকে যেমন, দুধে এলার্জি, বিশেষ করে শিশুদের থেকে গরুর দুধে খুবই বেশী এলার্জি হতে দেখা যায়। গরুর দুধে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে গায়ে চুলকানি, হাঁপানি ইত্যাদি হতে দেখা যায়। এছাড়া গমে ডিমে, মাছে এলার্জি হতে দেখা যায়। বাদাম, কলা, আপেল, আঙ্গুর, ব্যাঙের ছাতা, তরমুজ, পেঁয়াজ, বসুন, চকোলেট, এমনকি ঠান্ডা পানীয় কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করে।
পতঙ্গের কামড়ে গায়ে চুলকানি, স্থানটি ফুলে যাওয়া এমকি হাঁপানি পর্যন্তও হতে দেখা যায়। মশা, বেলেমাছি, মৌমাছি, বোলতা, ভীমরুল, প্রভৃতি, পতঙ্গের কামড়ে দেহে এলার্জির সৃষ্টি হয়।
জীবজন্তু—– যেমন বিড়াল, কুকুর, অর্শ্ব, প্রভৃতি গৃহপালিত পশু, অনেকসময় এলার্জি সৃষ্টির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এছাড়া একটি চর্মরোগ আছে যাকে বলা হয় আর্টিকোরিয়া, বাংলায় কেউ কেউ আমরাতও বলে থাকেন। এক্ষেত্রে ত্বকে চাকা চাকা হয়। আর ফুলে উঠে চুলকাতে দেখা যায়। এটিও হল এলার্জির অন্যতম প্রকাশ। অধিকাংশ লোকের জীবনেই কোনো না কোনো সময় এই রোগ হতে দেখা যায়। এই আর্টিকোরিয়া শরীরের কোনো অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে অথবা সমস্ত শরীর ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বিভিন্ন আকারে লালচে চাকা চাকা ফোলা দাগ হতে দেখা যায় এবং সেইসঙ্গে থাকে প্রচন্ড চুলকানি। অনেকগুলো কারণ এর মধ্যে খাদ্য এলার্জির থেকেও এ রোগ হতে পারে। যেমন- বাদাম, ডাল, মাংস, ডিম ইত্যাদি। এছাড়া এই এলার্জির সৃষ্টি পতঙ্গ থেকেও হতে পারে এছাড়া ঔষধই এলার্জি সৃষ্টি দায়ী। এছাড়া এই এলার্জির সৃষ্টি পতঙ্গ মৌমাছি, ভীমরুল, মাকড়সা প্রভৃতির কামড়ে এই এলার্জি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ঔষধ এলার্জি হতে পারে। এর মধ্যে পেনিসিলিন আর অ্যাসপিরিন অন্যতম। মোট কথা এলার্জিতে ভুগলে লক্ষ্য করবেন কোনো খাবারে আপনার এলার্জি হয় কিনা ? যদি খাবারের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় তবে সেই খাবারের সর্ম্পর্ক খুজে পাওয়া যায়। তবে সেই খাবার অবশ্যই পরিহার করতে হবে। মোট কথা যে করণে আপনার এলার্জি হয় সেই কারণ এড়িয়ে চলতে হবে।
#খাবার থেকে শিশুর অ্যালার্জি
বিভিন্ন খাবার থেকে শিশুদের অ্যালার্জি হতে পারে। সব শিশুরই যে অ্যালার্জি হয় তা নয়, আবার আক্রান্তদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শিশুর ভিন্ন ভিন্ন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। একটু সচেতন হলে সহজে অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়।
অ্যালার্জি কী
প্রত্যেক মানুষের শরীরের সহ্যক্ষমতা আলাদা। কোনো খাবার হয়তো কেউ সহজে হজম করে ফেলল, কারও আবার খাবার গ্রহণ করার পরই শুরু হয় চুলকানি। শ্বাস গ্রহণ, স্পর্শ, ইনজেকশন বা খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে কোনো বস্তু শরীরে ঢুকে অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে তাকে অ্যালার্জি বলে।
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া
অ্যালার্জির কারণে শিশুদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শরীরে চুলকানি, লাল চাক হয়ে ওঠা, চোখ চুলকানো ও লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চুলকানি ইত্যাদি। তবে সব সময় শুধু খাবার খেলেই অ্যালার্জি হবে তা নয়, সেদ্ধ খাবারের ঘ্রাণ নিলেও অ্যালার্জি হতে পারে। সেদ্ধ খাবার থেকে বায়ুবাহিত কিছু প্রোটিন শ্বাসনালিতে ঢুকে এমন প্রতিক্রিয়া ঘটায়।
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার
শিশুদের সবচেয়ে বেশি অ্যালার্জি হয় গরুর দুধ, ডিমের সাদা অংশ ও বাদামে। বাদামে প্রতি ২০০ জনে একজন শিশুর অ্যালার্জি হয়। তাই বাদামযুক্ত কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট নিরাপদ নয়। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ও পেস্তাবাদাম থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। বাদাম লেগুম প্রজাতির শস্য। তবে লেগুম প্রজাতির অন্যান্য শস্য, যেমন-ডাল, সয়া ও মটরশুঁটি খেলে অ্যালার্জি হয় না। চিংড়ি, ইলিশ মাছ, বেগুন, গরুর মাংস, হাঁসের মাংস ও ডিম এবং খাসির মাংস খেলে অ্যালার্জি হতে পারে শিশুদের। খুব অল্পসংখ্যক শিশুর ক্ষেত্রে পুঁটি, বোয়াল ও শোল মাছ এবং কুমড়ায় অ্যালার্জি হতে পারে। ফাস্টফুডও অ্যালার্জির জন্য কম দায়ী নয়। ময়দাজাত এসব খাবারে গ্লুটিন নামের এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা অ্যালার্জির কারণ। হোটেলে খাবারকে মুখরোচক করার জন্য যে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট মেশানো হয়, তাতে শিশুদের অ্যালার্জি হতে পারে। বিভিন্ন কৃত্রিম রং ও মসলা থেকেও অ্যালার্জি হয়। শিশুদের প্রিয় খাবার চিপস। চিপসের মচমচে ভাব বজায় রাখার জন্য সালফাইড মেশানো হয়। চিজ, কেক ও পেস্ট্রিতে মেশানো হয় টাইরামিন। এই সালফাইড ও টাইরামিন অ্যালার্জির জন্য দায়ী। শিশুরা কোমল পানীয় ও ফলের রস খেতেও ভালোবাসে। এসব পানীয়তে থাকে সাইট্রিক এসিড, ফসফরিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ফ্লোরাইড প্রভৃতি। উল্লিখিত উপাদানগুলো শিশুদের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
অ্যালার্জি প্রতিরোধ
অনেকে মনে করতে পারেন, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারগুলো বর্জন করলেই তো অ্যালার্জি থেকে মুক্ত থাকা যায়। কিন্তু এসব খাবারের অনেকগুলোই পুষ্টিগুণসম্পন্ন। আসলে অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী সব খাবারে সব শিশুরই যে অ্যালার্জি হবে তা নয়, একেক শিশুর একেক খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ঢালাওভাবে সব খাবার বর্জন না করে একটি একটি করে এসব খাবার শিশুদের দেওয়া উচিত। কোনো খাবার দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখা গেলে ওই খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুদের অ্যালার্জি দুই বছর বয়সের পর কম থাকে। তাই এ সময় অ্যালার্জিযুক্ত খাবার বর্জন করলে পরবর্তী সময়ে সুফল পাওয়া যায়। মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শেষের তিন মাসে অ্যালার্জিযুক্ত খাবার না খাওয়া ভালো। সব সময় মনে রাখতে হবে, বুকের দুধের পরিবর্তে কৃত্রিম দুধ বা কৌটার দুধ দিলে শিশুর অ্যালার্জির আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। তাই শিশুদের অবশ্যই পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুদের অ্যালার্জি হলে সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন সিরাপ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। আজকাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোন শিশুর কী কী খাদ্যে অ্যালার্জি হতে পারে তা নির্ণয় করা যায়। সে অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করলে অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
#শীতে নাকের অ্যালার্জি
নাকের অ্যালার্জি অনেকের কাছেই একটি পরিচিত সমস্যা। ছোট-বড় সবাই এ সমস্যায় ভুগতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় নাকের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। নাকের অ্যালার্জির এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস কথার অর্থ হচ্ছে অ্যালার্জিজনিত নাকের প্রদাহ।
নাকের অ্যালার্জি কেন হয়, কিভাবে হয়
মূলত শ্বাসের সাথে নাসারন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া অ্যালার্জি উদ্রেককারী বস্তুকেই অ্যালার্জির প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। তবে অ্যালার্জি উদ্রেককারী খাবার গ্রহণের কারণে নাকের অ্যালার্জি হওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। শ্বাসের সাথে নাকের মধ্যে ঢুকে পড়া অ্যালার্জি উদ্রেককারী এই বস্তুকে বলা হয় অ্যালার্জেন। এই অ্যালার্জেন বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ও এর প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে নাকে অ্যালার্জিজনিত উপসর্গ সৃষ্টি করে থাকে। ফলে নাকে চুলকানি বা অস্বস্তি, নাকের ঝিল্লি ফুলে যাওয়া ও লালাভ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি ঝরা ইত্যাদি দেখা যায়। অনেক সময় একটু দেরিতে এ কারণে শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। তবে নাকের এই অ্যালার্জি কার কিসে হচ্ছে বা কী কারণে হচ্ছে বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতী রোগীরা তা সহজেই বুঝে নিতে পারেন। যেমন অনেককেই বলতে শোনা যায়, ধুলাবালিতে গেলেই কিংবা শীতের সময় ঠাণ্ডা হাওয়া নাকে লাগলেই তার এই অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টা একটু সচেতনভাবে লক্ষ করলেই বের করা সম্ভব।
সব ঋতুতেই বিভিন্ন ফুলের পরাগরেণু উড়ে বেড়ায় এবং ফাঙ্গাসের স্পোর বা বীজ বেশি বেশি সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। এসব অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীর নাক-চোখ চুলকায়, হাঁচি হয়, নাক দিয়ে পানি পড়ে এবং শেষে নাক বন্ধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঘরবাড়ির ধুলায় অবস্থিত মাইটের মল থেকে এ ধরনের নাকের অ্যালার্জি প্রায় সারা বছর ধরেই হতে পারে। তবে মাইটের সাথে ঘরবাড়ির অন্যান্য ধুলা, পাখির পালক, পশুর লোম থেকেও এ ধরনের অ্যালার্জি হয়ে থাকে। এ ধরনের অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীদের নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড (ইনফিরিয়র টারবিনেট) ফুলে বড় হয়ে যায়। অনেকে এটিকে নাকের পলিপ বলে ভুল করে থাকেন।
নাক পর্যবেক্ষণঃ যদিও উপসর্গ থেকেই নাকের অ্যালার্জি সম্পর্কে অনেকটা ধারণা নেয়া যায়। তারপরও নাক পর্যবেক্ষণ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দরকার আছে। এ ক্ষেত্রে নাক পর্যবেক্ষণ করে তীব্র অবস্থায় নাকের ভেতরে ভেজাভাব, ফোলা ও ফ্যাকাসে ঝিল্লি, নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড ফুলে বড় হওয়া ইত্যাদি দেখা যায়।
দীর্ঘদিনের অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে হাল্কা গোলাপি রঙের ফুলে বড় হওয়া মাংসপিণ্ড দেখা যায়, যার পেছনের দিকটা ফুলে থাকে।
ল্যাব টেস্টঃ দুয়েকটা ল্যাবরেটরি টেস্ট এ ক্ষেত্রে করা যায়। যেমন ইমিউনোলজিক্যাল টেস্ট (অ্যান্টিজেনিক চ্যালেঞ্জ, ইয়োসিনোফিল কাউন্ট এবং আইজি-ই মাত্রা)।
কেমন হবে চিকিৎসাঃ কিছু নিয়ম মেনে চলা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং কিছু ওষুধপত্রের মাধ্যমে অ্যালার্জিজনিত নাকের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। নাকের এই অ্যালার্জি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব হয় না। কারণ এর সাথে অ্যালার্জেনের উপস্থিতির বিষয়টি জড়িত। অ্যালার্জেনকে কখনোই এই পরিবেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি অ্যালার্জেনকে সব সময় এড়িয়ে চলাও প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তবে সবকিছু মিলিয়ে ভালো থাকা কোনো কঠিন বিষয় নয়।
অ্যালার্জি উদ্রেককারী বস্তু এড়িয়ে চলাঃ অ্যালার্জি উদ্রেককারী বস্তু বা অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলার পূর্বশর্ত হচ্ছে, কোন জিনিসে অ্যালার্জির উদ্রেক হচ্ছে সেটি বের করা। ঘরবাড়ির ধুলার কারণে অ্যালার্জি দেখা দিলে ঘর পরিষ্কার, ধুলামুক্ত রাখতে হবে। প্রয়োজনে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ঘর ধুলামুক্ত রাখতে হবে। দরকার হলে ধুলার উৎস কার্পেট সরিয়ে ফেলতে হবে, বিছানার চাদর নিয়মিত ধুতে হবে, ঘরটিকে একটু খোলামেলা রাখতে হবে, যাতে ঘরের আর্দ্রতা কম থাকে।
ওষুধপত্রঃ ওষুধপত্র দেয়া হয় উপসর্গ অনুযায়ী। অ্যান্টিহিস্টামিনজাতীয় বিভিন্ন ওষুধের যে কোনোটি উপযুক্ততা বিচার করে ব্যবহার করতে হয়। এ ছাড়া রয়েছে সরাসরি অ্যালার্জিরোধক কিছু ওষুধ। এগুলো কারো বেলায় বেশ ভালো কাজ করে। অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হলে নাক বন্ধ প্রতিরোধক ওষুধও সাথে ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় নাকে স্টেরয়েডজাতীয় স্প্রে নাকের অ্যালার্জি সমস্যায় ব্যবহার করতে হয়। এজাতীয় স্প্রে একটু বেশি সময় ধরে ব্যবহার করতে হয়। এগুলো রক্তে খুব একটা শোষিত হয় না বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। তবে ৫-৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের এ স্প্রে ব্যবহারের ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে।
মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন গ্রহণের ব্যাপারে এখন আর তেমন উৎসাহিত করা হয় না। একইভাবে এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন খুব একটা কার্যকর নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নাকের অ্যালার্জির জন্য কার্যকর কোনো অপারেশন নেই। তবে নাসারন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী মাংসপিণ্ড ফুলে বড় হয়ে নাক বন্ধ হয়ে গেলে সেই মাংসপিণ্ডগুলো ডায়াথারমি করে কিংবা ছোট ছোট করে দেয়ার দরকার হয়।
একজন নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নাকের অ্যালার্জিজনিত সমস্যার চিকিৎসা ধৈর্যসহ গ্রহণ করা উচিত। চিকিৎসায় শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করতে হবে।
#ঠাণ্ডা থেকে এলার্জি
ঋতু বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর পরিবর্তনে আবহাওয়ারও পরিবর্তন হয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে আমাদের অনেকেরই স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাধারণতঃ শীতকালে আমাদের দেশে বিভিন্ন বয়সের মানুষের শীতকালীন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, কোল্ড এলার্জি বা শীত সংবেদনশীলতা। আমরা দেখে থাকি শীত আসলেই অনেক শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন বা সারা শীত জুড়ে অসুস্থ থাকেন। এর বেশীর ভাগ হয়ে থাকে কোল্ড এলার্জির কারণে।
ঠাণ্ডা বাতাস, সিগারেটের ধোঁয়া, সুগন্ধি, তীব্র গন্ধ, পত্রিকা বা বই-খাতার ধুলা যাতে মাইট থাকে, ফুলের রেণু, মোল্ড ইত্যাদির উপস্থিতি অনেকেই একেবারে সহ্য করতে পারেন না। এসবের উপস্থিতি শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি বা এ্যাজমা, সর্দি ইত্যাদির দেখা দেয়। এসব বিষয়কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এলারজেন বলা হয়। এসব এলারজেনজনিত উপসর্গকে আমরা এলার্জি বলে থাকি। সুতরাং প্রচণ্ড শীতও অনেকের জন্য এলারজেন হিসাবে কাজ করে এবং এ কারণে সৃষ্ট উপসর্গকে কোল্ড এলার্জি বলা হয়।
কেন হয়? আমাদের নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালীতে স্নায়ুকোষের কিছু রিসেপ্টর আছে। এই রিসেপ্টরগুলো আবার ভ্যাগাস নার্ভ (এই জোড়া নার্ভ যা শ্বাসনালী ও কক্তনালীর মাংসপেশীর সংকোচন ও প্রসারণকে উদ্দীপ্ত করে) এর সাথে সংযুক্ত। ইতিপূর্বে উল্লেখিত এলারজেনসমূহ শ্বাসনালীর রিসেপ্টর নার্ভকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে শ্বাসনালীর মাংসপেশীর সংকোচন ঘটে এবং শ্বাসনালী সরু হয়ে যায় তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি দেখা দেয়।
কাদের বেশী হয়? সাধারণত খুব কম বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশী দেখা দেয়, তবে যে কোন বয়সেই হতে পারে।
শীতকালে কেন বেশী হয়? শীতকালে কেন এ উপসর্গ বেশী হয় তা এখনো পরিপূর্ণভাবে জানা যায়নি। তবে অনেক রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পরীক্ষা করে কিছু জিনিস চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে যেমন- আবহাওয়ার অবস্থা, দ্রুত তাপমাত্রা এবং বায়ুচাপের পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা মোল্ড ও মাইট-এর বংশ বিস্তারের জন্য উপযোগী বা শীতকালীন রোগগুলোর কারণগুলোর অন্যতম।
উপসর্গসমূহঃ নাক দিয়ে পানি পড়ে, নাক চুলকায়, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বাঁশির মত আওয়াজ বের হওয়া, বুক চেপে আসা ইত্যাদি।
কি করণীয়? যে কারণে এ উপসর্গগুলো দেখা দেয় এলার্জি টেস্ট করে কারণ নির্ণয় করে তা পরিহার করে চলা উচিত। ঠাণ্ডা বাতাস থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এক ধরনের মুখোশ (ফিল্টার মাস্ক) বা মুখবন্ধনী ব্যবহার করা যেতে পারে। যা ফ্লানেল কাপড়ের তৈরি এবং মুখের অর্ধাংশসহ মাথা, কান ঢেকে রাখে। ফলে ব্যবহারকারীরা উত্তপ্ত নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারেন।
শীত প্রধান দেশে সাধারণতঃ তাদের শীতকালীন বিশেষ পোশাক-এর সাথে এই মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করে থাকেন। সালবিউটামল ইনহেলার নেয়া যেতে পারে কারণ এ ঔষধ উপসর্গ নিঃসরণে প্রথম পছন্দনীয় ঔষধ। দীর্ঘমেয়াদি ভাল থাকার জন্য স্টেরয়েড ইনহেলার নেয়া যেতে পারে। যে এলারজেন একেবারেই পরিহার করা সম্ভব নয় অথচ শ্বাসকষ্টের জন্য বহুলাংশে দায়ী যেমন মাইট, মোল্ড, পোলেন পরাগ রেণু এর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ থাকা যায়। ভ্যাকসিন পদ্ধতি-এ পদ্ধতি ব্যবহারে কর্টিকোস্টেরয়েডের ব্যবহার অনেক কমে যায়। ফলে কর্টিকোস্টেরয়েডের বহুল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোতে এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে।
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভ্যাকসিন পদ্ধতির চিকিৎসাকে এলার্জিজনিত রোগের অন্যতম চিকিৎসা বলে অভিহিত করেন। এটাই এলার্জি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ থাকার একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি।
আগে ধারণা ছিল এলার্জি একবার হলে আর সারে না। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রথমদিকে ধরা পড়লে এলার্জিজনিত রোগ একেবারে সারিয়ে তোলা সম্ভব। অবহেলা করলে এবং রোগ অনেকদিন ধরে চলতে থাকলে নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে। উন্নত দেশের সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে।
#খাদ্যে অ্যালার্জিঃ আপনারর করনীয়
নানা রকম জিনিস যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে অতি বা পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তবে তাকে অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া বলে। গরুর দুধ, গরুর মাংস, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ আছে তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। এগুলোই হলো খাদ্যের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ সচরাচর খাদ্যে অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন। তবে জন্ম হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই বেশি দেখা যায়।
প্রকারভেদ
ফুড অ্যালার্জিঃ খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে?
গরুর দুধ, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শৈল, বেগুন, কুমড়া, কচু ইত্যাদি।
খাদ্যে অ্যালার্জিজনিত লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে দেখা দেয় যেমনঃ
– ত্বকে বা চামড়াতে চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ওঠে।
– চোখে চুলকানো, পানিপড়া, লাল হয়ে ওঠে, ফুলে ওঠা।
– উপরের শ্বাস নালীতে, নাকে ও গলাতে চুলকাতে থাকে। গলা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এমকি কথা বলার সময় অসুবিধা হয়, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বন্ধ ভাব অনেক সময় শব্দও থাকে।
– নিচের শ্বাসনালীতে শ্বাসকষ্ট, কাশি, দম খাটো খাটো ভাব, বাঁশির মতো আওয়াজ।
পরিপাকতন্ত্রেঃ বমি বমি ভাব, পেটে ক্যাম্প বা ব্যথা, ডায়রিয়া দেখা যায়।
অ্যালার্জি খাদ্য না খেয়েও অ্যালার্জি খাদ্যের সংস্পর্শে এলেও কি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে?
হ্যাঁ, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে। যেমন কড়াইতে চিংড়ি সিদ্ধ করার সময় বায়ুবাহিত কিছু প্রোটিন বের হয় এবং শ্বাসনালীর ভেতর ঢোকেই এনাফাইলোটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে।
এটা বোঝার উপায় হলো যদি অ্যালার্জিক খাবার খাওয়া হয় এবং ওই খাদ্য খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যদি বেশি ব্যায়াম করা হয়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা দেয়।
অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কতটা?
সাধারণত অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্যাজমা হয় না তবে অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখ চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীদের জিজ্ঞেস করলে তাদের ২০-৬০ ভাগ মনে করেন তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্য তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন, সেই খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায় মাত্র ২-৫ ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে যা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুদের ৬-৮ ভাগ অ্যাজমা এই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খান না, যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমায় আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই।
বুকের দুধ খেয়ে কি বাচ্চাদের অ্যালার্জি হতে পারে?
মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মায়ের দুধ থেকে বাচ্চাদের অ্যালার্জি প্রায় হয় না বললেই চলে। তবে অনেক মা গরুর দুধ খান, তার একটা অংশ বুকের দুধের সঙ্গে বেরিয়ে গিয়ে বাচ্চার অ্যালার্জি হতে পারে। গরুর দুধ খেয়ে অনেক বাচ্চা একজিমা রোগে ভোগে। মায়ের বুকের দুধে খুব একটা গোলমাল হয় না।
সাধারণত বাচ্চাদের দুধের অ্যালার্জি কিছুদিন পর থেকে একটু একটু করে কমতে থাকে। জন্মের পরের অ্যালার্জি বছর পাঁচেক বয়স হওয়ার আগে চলে যায়। এরা কিন্তু ছানার মিষ্টি খেতে পারে, খুব কম বাচ্চার দুধের অ্যালার্জি বড় বয়স অব্দি থাকে, এদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
অনেক বাচ্চা ডিম খেতে ভালোবাসে। অথচ খেলেই পেটে ব্যথা, হাঁচি ও নাক বন্ধ হয়ে যায়? কী করা যেতে পারে?
ডিমে অ্যালার্জি বেশ সাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে বাচ্চাদের। এর জন্য অ্যালার্জি ক্লিনিকে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সাধারণত, ডিমের সাদা অংশে গোলমাল থাকে, হলুদ অংশে থাকে না। তাই হলুদ অংশ আলাদা করে খাওয়াতে পারেন। পরে ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে প্রতিদিন দিতে হবে খুব অল্প করে। কিছু ওষুধ আগে খাওয়াতে হয়-পরেও কিছু দরকার হতে পারে। ধীরে ধীরে এটা ঠিক হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসাঃ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জিক খাবার চিহ্নিত করে তা খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে সর্বোত্তম চিকিৎসা।
তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়, এদের মধ্যে মুখে খাওয়ার ক্রমোলিন, এন্টিহিষ্টামিন, ইপিনেফ্রিন খুব বেশি কার্যকর ভুমিকা রাখে।
রোগীদেরও রোগ সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাপারে ধারণা দিতে হবে। যেমন যে খাদ্যদ্রব্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে, তা সাধারণত পরিহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন তাকে বাড়ির বাইরে যেতে হয়, যেমন-কোনো অনুষ্ঠানে বা হোটেলে গেলে, তখন সেখানে যারা রান্নার দায়িত্বে ছিলেন তাদের জিজ্ঞেস করতে হবে এই খাবারগুলোতে কী কী আছে অথবা তার অ্যালার্জিক খাবারগুলো আছে কিনা তা জেনে অ্যালার্জিক খাবারগুলো বাদ দিয়ে খেতে হবে।
আর বড়দের ইপিনেফ্রিন ইনজেকশন নেয়ার কৌশল শিখিয়ে দিতে হবে এবং সবসময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।
প্রথম কয়েক বছরেই সাধারণত খাদ্যে অ্যালার্জি দেখা দেয় শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই জীবনের প্রথম বছরে দেখা দেয়। যদি ১ থেকে ২ বছর ওই খাদ্য তার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেয়া যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খাদ্য অ্যালার্জি আর থাকে না। গর্ভাবস্হার শেষের তিন মাস মায়েরা যদি অ্যালার্জি জাতীয় খাদ্য তাদের খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেন এবং বাচ্চাদের খাদ্যতালিকা থেকে যদি প্রথম বছর গরুর দুধ, ডিম, বাদাম বাদ দেয়া যায়, তাহলে সেসব বাচ্চার এটপিক ডার্মাটাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। অ্যালার্জিপ্রবণ বাচ্চাদের অর্থাৎ যেসব পরিবারে অ্যালার্জি সংক্রান্ত রোগী থাকে, সেসব পরিবারে বাচ্চাদের প্রথম বছর গরুর দুধ, ১২-১৫ মাস বয়স পর্যন্ত ডিম ও ৩ বছর বয়স পর্যন্ত বাদাম খাওয়া পরিহার করা উচিত। এজন্য খাদ্যে অ্যালার্জি রোগীদের প্রথমেই অ্যালার্জি পরীক্ষা করে জানা দরকার তার কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়। এজন্য অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গিয়ে এই অ্যালার্জি পরীক্ষা করতে হবে।
#ঘরের ধুলোয় এলার্জি
পরিচ্ছন্ন বাড়িতেও ধুলো এলার্জি সাধারণ ঘটনাঃ বছরব্যাপী মানুষ ভোগে নাক থেকে পানি ঝড়ায়, চোখ চুলকানি, চোখ থেকে পানি ঝড়ায়। তার মূল কারণ ঘরের ধুলোর জীবাণু। ধুলোর কারণে এ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, নিঃশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে কাশি হয়।
ঘরের ধুলো থেকে এলার্জি হয় কেনঃ ঘরের ধুলো প্রকৃত পক্ষে অনেকগুলো জিনিসের মিশ্রণ। এর উপাদানগুলো কম-বেশি হতে পারে এক ঘর থেকে আরেক ঘরের ফার্নিচারের প্রকারভেদে, ঘর তৈরির উপাদনের কারণে, পোষা প্রাণীর উপস্থিতির কারণে, আর্দ্রতার কারণে। ধুলোর মধ্যে থাকতে পারে সুতোর আঁশ, মানব দেহের ত্বকের মৃত কোষ, প্রাণ ীর লোম, আনুবীক্ষণিক জীবাণু, তেলাপোকার প্রতঙ্গ, ছত্রাকের জীবাণু, খাদ্যকণা এবং আরও অনেক পরিত্যাক্ত ক্ষুদ্র জিনিস। এগুলোর মধ্যে প্রাণীর লোম, তেলাপোকা এবং ধুলোর জীবাণু হচ্ছে প্রধান তিন বিপজ্জনক ব‘। কোন ব্যক্তি এগুলোর যে কোনটির কারণে ভুগতে পারেন। এবং তিনি যখন ধুলোর সংস্পর্শে আসেন, তখন এলার্জিক প্রতিক্রিয়া ঘটে।
ধুলোর এলার্জি হলে কি বলা চলে যে এটি একটি নোংরা বাড়িঃ না। নোংরা বাড়ির কারণে এলার্জি সমস্যা বেড়ে যেতে পারে যদিও। স্বাভাবিক ঘর পরিস্কারের প্রক্রিয়া ধুলোর এলার্জি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় কারণ ধুলোর সকল উপাদান এভাবে দূর করা সম্ভব নয়। যেমন আপনি ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে যত চেষ্টাই করেন না কেন, কার্পেট, মাদুর এবং বালিশ থেকে ধুলোর জীবাণু দূর করতে পারবেন না। বরং এতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে পড়তে পারে।
ধুলোর জীবাণুগুলো কী কীঃ অতি ক্ষুদ্র আণুবিক্ষণিক এই প্রাণীগুলো আটপায়ের অ্যারাকনাইড পরিবারের অন্তর্গত। আঁটুলি পোকা এবং চিগার একই পবিবারভুক্ত। এগুলো শক্ত দেহের অধিকারী। এর ৭০ ফারেনহাইট বা তার উচ্চ তাপমাত্রায় ভালোভাবে বাঁচতে পারে। ৭৫-৮০ শতাংশ আর্দ্রতাই এদের পছন্দ। আর্দ্রতা ৪০-৫০ শতাংশের কম হলে এদের বংশ বৃদ্ধি হয় না। শুষ্ক আবহাওয়ায় এদের দেখা যায় না।
দেখা গেছে শতকরা ১০ ভাগ মানুষ এদের কারণে আক্রান্ত হয়। এ্যাজমা রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনই এদের সংস্পর্শে এলে এলার্জি প্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়।
এই জীবাণুদের দেহ ও মুখমণ্ডলের সংস্পর্শে এলে মানুষের এলার্জি হয়। এদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বালিশে, মাদুরে, কার্পেটের ভাঁজে এবং আসবাব পত্রের তলায়। ঝাড় দিলে বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার প্রয়োগ করলে সরে যায়। এলার্জি রোগীদের শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এবং উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে যে ব্যক্তি দিনে ৮ ঘন্টা ঘুমান তার নাক জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময় বালিশে বাসা বেঁধে থাকা জীবাণুগুলোর প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে থাকে। এক প্রান্তের ধুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯০০০ পর্যন্ত জীবাণু থাকতে পারে। গড়ে এই সংখ্যা প্রতি গ্রামে ১০০০। প্রত্যেক জীবাণু দিনে ১০টি নতুন জীবাণু সৃষ্টি করে। এদের বেঁচে থাকার মেয়াদ ৩০ দিন। এদের খাদ্য মূলত পশুর লোম এবং ত্বকের মৃত কোষ। সুতরাং যেখানে মানুষের বাস, সেখানেই এদের বসবাস। এরা কামড়ায় না, অন্য কোনো রোগ ছড়ায় না এবং মানুষের শরীরে বাসা বাঁধে না। এরা শুধু সেই মানুষগুলোর প্রতিই ক্ষতিকর যাদের এই জীবাণুদের প্রতি এলার্জি রয়েছে। সাধারণত বাড়িতে যেসব জীবাণুরোধক ব্যবহার করা হয়, সেগুলো দিয়ে এদের অপসারণ করা যায় না। ফলে ঘরে ধুলোর জীবাণুর পরিমাণ কমানো সম্ভব হয় না।
ঘরের ধুলোতে ছত্রাক থাকে কেন?
ছত্রাক থাকে সাধারণত বাইরের বাতাসে। তবে যে কোন বাড়িতেই ছত্রাকের কলোনি তৈরী হওয়া সম্ভব। বাড়ির বাসিন্দারা হয়তো দেয়ালে ছত্রাকের কলোনি দেখতে পায় না। কিন্তু সেটি ঠিকই তৈরি হতে থাকে।
দুটি জিনিস ঘরের মধ্যে ছত্রাকের কলোনি গড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
(১) বেশি আর্দ্রতা শতকরা ৫০ এর বেশি। পানির পাইপে ক্ষুদ্র ফুটা বা যে কোনো পানির প্রবাহ এতে ভূমিকা রাখে। (২) দেয়ালে কোন বোর্ড থাকলে বা স্যাঁতস্যাঁতে আসবাব থাকলে সেখানে ছত্রাক জন্মায়। ছত্রাকের স্পোর কাপড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এই স্পোর থেকে সুনির্দিষ্ট জীবনচক্রের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ছত্রাক তৈরি হয় অনুকূল পরিবেশে। যেসব শ্রেণীর ছত্রাকে এলার্জি আছে, তারা ছত্রাক অধ্যুষিত বাড়িতে থাকলে নিশ্চিতভাবে ছত্রাকজনিত এলার্জির শিকার হন। কারণ তারা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ছত্রাক
14/04/2026
08/04/2026
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)
💚 ইউনানী চিকিৎসায় ফিরে পান স্বাভাবিক ও আরামদায়ক জীবন!
বিনা অপারেশনে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত, প্রাকৃতিক ইউনানী চিকিৎসা!
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) হল একটি সাধারণ অবস্থা যা আপনার হরমোনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি, ব্রণ এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। PCOS এর চিকিৎসা নির্ভর করে আপনি গর্ভবতী হতে চান কিনা তার উপর। PCOS আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পিসিওএস হল মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি । এটি আপনার অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আপনার লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে এবং আপনি যদি গর্ভবতী হতে চান তবে পিসিওএসের চিকিৎসা করতে পারেন।
পিসিওএস কত বছর বয়সে শুরু হয়?
বয়ঃসন্ধির পর যেকোনো সময় মহিলাদের PCOS হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের 20 বা 30 এর দশকে নির্ণয় করা হয়। আপনার যদি স্থূলতা থাকে বা আপনার জৈবিক পরিবারের অন্যদের PCOS থাকে তবে আপনার PCOS হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে।
আমার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কখন দেখা করা উচিত?
যদি আপনার সন্দেহ হয় যে আপনার PCOS আছে, তাহলে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করুন। কিছু লক্ষণ যা PCOS নির্দেশ করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে:
অনিয়মিত মাসিক চক্র। মাসিক চক্র প্রায়শই দীর্ঘ হয় (মাসিকের মধ্যে ৪০ দিনের বেশি সময়)।
অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি, ব্রণ বা অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের অন্যান্য লক্ষণ।
গর্ভবতী হতে অসুবিধা।
অতিরিক্ত সাধারণ প্রশ্নাবলী
পিসিওএস কি জেনেটিক?
গবেষকরা PCOS এর কারণ সম্পর্কে আরও জানতে পারছেন। তবে, কিছু প্রমাণ দেখায় যে PCOS এর একটি জেনেটিক বা বংশগত উপাদান রয়েছে। এর অর্থ হল যদি আপনার আসল পিতামাতার PCOS থাকে, তাহলে আপনারও এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কোন হরমোনগুলি PCOS কে প্রভাবিত করে?
পিসিওএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকে যা তাদের মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটন এবং সম্ভবত গর্ভধারণকে ব্যাহত করে। এই হরমোনগুলি একটি জটিল জালের মতো এবং আপনার প্রজনন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এর ভারসাম্যের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। পিসিওএসে ভূমিকা পালনকারী হরমোনগুলি হল:
অ্যান্ড্রোজেন (যেমন টেস্টোস্টেরন এবং অ্যান্ড্রোস্টেনেডিওন)।
লুটেইনাইজিং হরমোন (LH)।
ফলিকল-উত্তেজক হরমোন (FSH)।
ইস্ট্রোজেন ।
প্রোজেস্টেরন।
ইনসুলিন।
পিসিওএস এবং এন্ডোমেট্রিওসিসের মধ্যে পার্থক্য কী?
PCOS এবং এন্ডোমেট্রিওসিস ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা, কিন্তু উভয়ই ডিম্বাশয়ের সিস্ট এবং বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস হল এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনার জরায়ুর আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) আপনার ডিম্বাশয়, যোনি বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অন্যান্য স্থানে বৃদ্ধি পায় । এটি সাধারণত পেলভিক ব্যথা বা তীব্র মাসিক খিঁচুনির কারণ হয়। PCOS আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনিয়মিত মাসিক, অপ্রত্যাশিত ডিম্বস্ফোটন এবং অতিরিক্ত পুরুষ হরমোনের কারণে অন্যান্য শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয
💚 ইউনানী চিকিৎসায় ফিরে পান স্বাভাবিক ও আরামদায়ক জীবন!
বিনা অপারেশনে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত, প্রাকৃতিক ইউনানী চিকিৎসা!
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) হল একটি সাধারণ অবস্থা যা আপনার হরমোনকে প্রভাবিত করে। এর ফলে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি, ব্রণ এবং বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। PCOS এর চিকিৎসা নির্ভর করে আপনি গর্ভবতী হতে চান কিনা তার উপর। PCOS আক্রান্ত ব্যক্তিদের ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পিসিওএস হল মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি । এটি আপনার অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী আপনার লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে এবং আপনি যদি গর্ভবতী হতে চান তবে পিসিওএসের চিকিৎসা করতে পারেন।
পিসিওএস কত বছর বয়সে শুরু হয়?
বয়ঃসন্ধির পর যেকোনো সময় মহিলাদের PCOS হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই গর্ভবতী হওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের 20 বা 30 এর দশকে নির্ণয় করা হয়। আপনার যদি স্থূলতা থাকে বা আপনার জৈবিক পরিবারের অন্যদের PCOS থাকে তবে আপনার PCOS হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে।
আমার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কখন দেখা করা উচিত?
যদি আপনার সন্দেহ হয় যে আপনার PCOS আছে, তাহলে একজন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করুন। কিছু লক্ষণ যা PCOS নির্দেশ করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে:
অনিয়মিত মাসিক চক্র। মাসিক চক্র প্রায়শই দীর্ঘ হয় (মাসিকের মধ্যে ৪০ দিনের বেশি সময়)।
অতিরিক্ত চুল বৃদ্ধি, ব্রণ বা অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের অন্যান্য লক্ষণ।
গর্ভবতী হতে অসুবিধা।
অতিরিক্ত সাধারণ প্রশ্নাবলী
পিসিওএস কি জেনেটিক?
গবেষকরা PCOS এর কারণ সম্পর্কে আরও জানতে পারছেন। তবে, কিছু প্রমাণ দেখায় যে PCOS এর একটি জেনেটিক বা বংশগত উপাদান রয়েছে। এর অর্থ হল যদি আপনার আসল পিতামাতার PCOS থাকে, তাহলে আপনারও এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
কোন হরমোনগুলি PCOS কে প্রভাবিত করে?
পিসিওএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকে যা তাদের মাসিক চক্র, ডিম্বস্ফোটন এবং সম্ভবত গর্ভধারণকে ব্যাহত করে। এই হরমোনগুলি একটি জটিল জালের মতো এবং আপনার প্রজনন ব্যবস্থার কার্যকারিতা এর ভারসাম্যের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। পিসিওএসে ভূমিকা পালনকারী হরমোনগুলি হল:
অ্যান্ড্রোজেন (যেমন টেস্টোস্টেরন এবং অ্যান্ড্রোস্টেনেডিওন)।
লুটেইনাইজিং হরমোন (LH)।
ফলিকল-উত্তেজক হরমোন (FSH)।
ইস্ট্রোজেন ।
প্রোজেস্টেরন।
ইনসুলিন।
পিসিওএস এবং এন্ডোমেট্রিওসিসের মধ্যে পার্থক্য কী?
PCOS এবং এন্ডোমেট্রিওসিস ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা, কিন্তু উভয়ই ডিম্বাশয়ের সিস্ট এবং বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস হল এমন একটি অবস্থা যেখানে আপনার জরায়ুর আস্তরণ (এন্ডোমেট্রিয়াম) আপনার ডিম্বাশয়, যোনি বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অন্যান্য স্থানে বৃদ্ধি পায় । এটি সাধারণত পেলভিক ব্যথা বা তীব্র মাসিক খিঁচুনির কারণ হয়। PCOS আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনিয়মিত মাসিক, অপ্রত্যাশিত ডিম্বস্ফোটন এবং অতিরিক্ত পুরুষ হরমোনের কারণে অন্যান্য শারীরিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয
💚 ইউনানী চিকিৎসায় ফিরে পান স্বাভাবিক ও আরামদায়ক জীবন!
বিনা অপারেশনে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত, প্রাকৃতিক ইউনানী চিকিৎসা!
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান।
হাঁটুতে বাতের ব্যথা বা আর্থাইটিস
হাঁটুতে সাধারনত তিন ধরনের আর্থাইটিস বেশি হয় -
১। অস্টিওআর্থাইটিস - এটা হল হাঁটুর জয়েন্ট কার্টিলেজের এক ধরনের ভাংগন বা ক্ষয়জনিত সমস্যা । মধ্য বয়স্ক লোকদের থেকে এই সমস্যা শুরু হয় । বয়সের সাথে সাথে এই ক্ষয় বাড়তে থাকে এবং সমস্যাও বাড়তে থাকে ।
২। রিউমাটয়েড আর্থাইটিসঃ এটা হল জয়েন্টের এক ধরনের ইনফ্লামেটরী কন্ডিশন, যেটা যেকোন বয়সে হতে পারে ।
৩। ট্রমাটিক আর্থাটিসঃ হাঁটুতে কোন আঘাত পেলে যেমন মিনিসকাস ইনজুরি , লিগামেন্ট ইনজুরি, ফ্রাকচার জনিত কোন সমস্যার অনেক বছর পর পোস্ট ট্রমাটিক আর্থাইটিস হতে পারে ।
হাঁটুতে আর্থাইটিস বুঝার সহজ কয়েকটি উপায়
১। আর্থাইটিস জনিত ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয়, তবেই ব্যথা আস্তে আস্তে দিনে দিনে বাড়তে থাকে ।
২। পা ফুলে যেতে পারে এবং হাত দিয়ে ধরলে ব্যথা হতে পারে
৩। হাটার সময় পা হঠাৎ করে লক হয়ে যেতে পারে কিংবা যেতে পারে ।
৪। হাটার সময় বা উঠা বসা করার সময় হাঁটুতে শব্দ হতে পারে ।
৫। হাঁটু ভাজ করে নামাজ পরা কঠিন হতে পারে ।
৬। হাঁটু বাঁকা হয়ে যেতে পারে ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Sylhet