Aayushi Collection
Aayushi Collection, 美容・化粧品・パーソナルケア, Yokohama, Yokohamaの連絡先情報、マップ、方向、お問い合わせフォーム、営業時間、サービス、評価、写真、動画、お知らせ。
03/03/2023
"যারা নিয়মিত আকাশপথে ভ্রমণ করেন তারা লেখাটি অবশ্যই পড়বেন"
আপনি যদি আকাশপথে ভ্রমণ করেন, তবে বন্ধু বৎসল যাত্রী কিংবা আপনার পাশের সীটে বসা প্রতিবেশীর কাছ থেকে সাবধান থাকুন।
বয়স্ক ভদ্রমহিলা প্লেনের ভিতরে আমার পাশে বসেই আমাকে তাঁর ব্যাগটি ওভারহেড লাগেজ বগিতে রাখার জন্য সবিনয় অনুরোধ করেন। আমি বেশ খাটো হওয়ায় আইলের অন্য পাশে বসা ভদ্রলোক এসে উনার লাগেজটি ওভারহেড বগিতে রাখেন।
ভদ্রমহিলা খুব প্রাণবন্ত, অমায়িক, বন্ধুবৎসল। মিনিটেই আমাকে একেবারে আপন করে নিলেন। যেন আমাদের অনেক দিনের জানাশোনা। পুরো ফ্লাইটে নানা বিষয়ে আমাদের কথা হয়। উনি অসুস্থ। বিদেশে যাচ্ছেন সন্তানদের কাছে। সেখানে ওদের সাথে বেশ কয়েক মাস সময় কাটাবেন। চিকিৎসাও করাবেন।
গল্পের ফাঁকে একসময় পাইলটের ঘোষণা আসে - আমরা দুবাই এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতে যাচ্ছি। এমন সময় ভদ্রমহিলা- আমাকে কন্যা হিসাবে সম্বোধন করে খুব কাতর হয়ে বলেন- উনার পেটের ব্যথা বাড়তে শুরু করছে। উনি ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন। ব্যথায় উনার শরীর ঘামছে, উনি খুবই অস্থির। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
মাতৃবয়সী ভদ্রমহিলার জন্য মায়া হলো। আল্লাহ না করুন। কোনো বিপদ যেন না হয়। কোনো দূর্ঘটনা যেন না ঘটে। মহিলা যেন অনন্ত নিজ গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন। সন্তানেরা নিশ্চয়ই মায়ের অপেক্ষায় বসে আছে।
আমি স্টুয়ার্ড বোতাম টিপে বিমান কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথাটা জানাই ।
স্টুয়ার্ডস কিছু ব্যথানাশক ঔষধ মহিলাকে খেতে দিয়ে আমরা না নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য পরামর্শ দেন। পাইলট আমাদের সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন- প্রয়োজনে প্লেন ল্যাণ্ড করার সাথে সাথে জরুরি ইমার্জেন্সি মেডিকেলের ব্যবস্থা করা হবে।
মহিলা আমার হাত খুব দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরে আছেন। অন্যান্য যাত্রীরা সবাই ধরে নিয়েছে আমি মহিলার কন্যা অথবা নিকটাত্মীয়া কেউ। আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা।
আমরা একসময় বিমান বন্দরে অবতরণ করি । প্লেনে যে ভদ্রলোক মহিলার লাগেজটি ওভারহেড বগিতে রাখতে সাহায্য করেছিলেন তিনি তার লাগেজ নামিয়ে আমাকে ইশারায় বলেন -আমি যেন এই মহিলার থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখি। এবং কেবিন ক্রুদের কাছে পরিষ্কার করে দেন যে আমরা একসঙ্গে ভ্রমণ করছি না। ভদ্রলোককে মনে হলো - দয়াময় কর্তৃক প্রেরীত আমার উদ্ধারকারী।
এরপর, কেবিন ক্রুরা এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করে আমরা একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিনা। আমি স্পষ্টভাবে তাদের বলি- জ্বিনা। আমাদের কেবলমাত্র বিমানের সীটে বসার পরপরই দেখা হয়েছে। আমরা বিমান থেকে বিদায় নিতে শুরু করি এবং আমি বিদায় জানানোর সাথে সাথে মহিলা তার হ্যান্ডব্যাগটা বহন করার জন্য আমাকে কাকুতি মিনতি করতে থাকেন। বলে- মাগো । তোমার মায়ের বসয়ী মহিলাকে এভাবে একা ফেলে যেয়োনা। তুমি আমার হ্যান্ডব্যাগটা টার্মিনাল পর্যন্ত বহন করো।
এবার কেন যেন আমি একটু ভয় পাচ্ছিলাম। সেই ভদ্রলোক আমার চোখের দিকে তাকালেন এবং জোর দিয়ে মাথা নেড়ে বললেন- আমি যেন কোনো ভাবেই মহিলার কোনো লাগেজই বহন না করি।
বয়স্ক মহিলাকে কেবিন ক্রুদের কাছে হুইলচেয়ারের জন্য অপেক্ষায় রেখে আমি বেশ অপরাধী ফিল করে বিমান থেকে প্রস্থান করি।
যখন আমরা আমাদের লাগেজ আসার জন্য অপেক্ষা করছি - ঠিক তখনি বেশ জোরে হৈচৈর শব্দ শুনতে পাই । ভদ্র মহিলা হুইলচেয়ার ছেড়ে কেবিন ক্রু থেকে পালানোর চেষ্টা করছেন। সৌভাগ্যক্রমে বিমানবন্দরের পুলিশরা ছিলো উনার চেয়ে দ্রুত । তারা উনাকে ধরে হুইলচেয়ারে ফিরিয়ে আনে।
এই ভদ্রমহিলা এবার আমাকে ডাকতে শুরু করে....তুমি আমার সাথে এটা কিভাবে করতে পারো......তোমার লাগেজ আমার কাছে রেখে কেনো তুমি আমাকে ছেড়ে যাচ্ছো ।
আমি পুরোই থ হয়ে যাই। এবার আমি বুঝতে পারি- উনি তার হ্যাণ্ডব্যাগে এমন কিছু বহন করছেন- যার দায়ভার উনি আমার উপর দিতে চাচ্ছেন। যিনি কৌশলে আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
পুলিশ উনার হ্যান্ডব্যাগ তল্লাশি করে দেখে পুরো ব্যাগভর্তি অবৈধ ড্রাগ। আমার পুরো শরীর ভয়ে হিম হয়ে যায়। জীবনে এরকম ঘটনার মুখোমুখি আমি কোনোদিন হইনি। আরেকটু হলেই আমি নিজেই এই অবৈধ ড্রাগের ব্যাগটি বহন করতাম।
আমি বুঝতে পারছিনা- সিকিউরিটি স্ক্যান চ্যাকে ধরা না পড়ে, পুরো সিকিউরিটি সিস্টেম ফাঁকি দিয়ে মহিলা এই অবৈধ ড্রাগ নিয়ে কিভাবে প্লেনে প্রবেশ করে এতোদূর পর্যন্ত এলেেন।
সেই ভদ্রলোকও উনার লাগেজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। উনি আমার মনের ভাব বুঝতে পেরে বলেন-লাগেজ স্ক্যানতো মেশিনে করে কিন্তুু মেশিনের পেছনেতো মানুষই থাকে। সিকিউরিটি সিস্টেম তিন ধাপ এগুলো ড্রাগ ডীলাররা ত্রিশ ধাপ এগোয়। তাছাড়া, সিকিউরিটি সিস্টেমের অনেক লোকই এসবের সাথে জড়িত থাকে। কর্তৃপক্ষের সাথে ডীলারদের লেনদেন যখন সঠিকভাবে হয়না- তখনই সাধারণত এরা ধরা পড়ে। আমার প্রথম থেকেই যেন মহিলাকে সন্দেহ হচ্ছিলো।
এরপর, ভদ্রলোক নিজ থেকেই সিকিউরিটি পুলিশদের বলেন- আমার সাথে মহিলার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের বিমানের ভিতরেই দেখা হয়েছে।
পুলিশ আমার পাসপোর্ট নিয়ে মহিলার সাথে একটা ছো্ট্ট অফিস ঘরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।
আমাদেরকে চতুর্দিক থেকে পুলিশ ঘেরাও করে রেখেছে। এবার আমি ঘামতে শুরু করি।
পুলিশ নানা কথা জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। মহিলার সাথে কোথায় দেখা হয়েছে, কিভাবে দেখা হয়েছে। আমি কোথায় কোথায় গিয়েছিলাম। মহিলার সাথে আমার সম্পর্ক কি? আমি আদৌ মিথ্যা বলছি কিনা ? নানা রকম মেশিনে আমার আঙ্গুলের ছাপ নেয়া হয়।
আমার কোনো আঙ্গুলের ছাপ মহিলার হ্যান্ডব্যাগে আছে কিনা ইত্যাদিও পরীক্ষা করে দেখা হয়।
আমি আমার আপনজনকে ফোন করার জন্য অনুরোধ করলে- আমার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এবার মহিলাকে বলেন- আমার পুরো নাম বলার জন্য।
মহিলা আমার পুরো নাম বলতে পারেনা। সৌভাগ্য যে, মহিলাকে আমি আমার পুরো নাম বলিনি।
প্রায় চল্লিশ মিনিট জেরার পর- বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অন্য কারোর লাগেজ বহন না করা, স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়ে আমার জীবন বৃত্তান্ত সব তাদের ডাটা সিস্টেমে লিপিবদ্ধ করে আমাকে মুক্তি দেন। এই চল্লিশ মিনিটকে মনে হলো- আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াল, শীতল চল্লিশটি বছর।
সেদিন থেকে আপনার কাছে কতটা লাগেজ আছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আপনার লাগেজ। আপনার সমস্যা। যার লাগেজ সেই সামলাবে। আমি আপনাকে আপনার লাগেজ রাখার জন্য বড়জোড় একটি ট্রলি এনে দিতে পারি। এর বেশি কিছুনা। আমার নীতি হলো- যদি আপনি ওভারহেড বগিতে আপনার হ্যাণ্ডব্যাগ না রাখতে পারেন, এবং আমিই নিকটতম ব্যক্তি হই। তবে দয়া করে কেবিন ক্রু আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এই পরিস্থিতিতে আমি অসহায়ের সহায় হবো না। অসহায়কে অবশ্যই সাহায্য করবো ভালো কথা । কিন্তু নিজেকে যেন পরে অসহায় হতে না হয়।
সি-১...
পুরো লেখাটি এয়ারপোর্ট সেফটি এণ্ড সিকিউরিটি থেকে অনুবাদ করা।
আয়ুশী কালেকশন এ সবাইকে স্বাগতম। আশা করি সবাই পাশে থাকবেন।
ここをクリックしてあなたのスポンサー付きリスティングを獲得。
カテゴリー
ウェブサイト
住所
Yokohama, Kanagawa
236-0035