Pro Nesh
World Info
New design for Sampan Kids Park
27/07/2026
প্লাস্টিকের বোতল থেকে কি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক (এবং আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক) পানিতে নির্গত হয়, তা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। বিজ্ঞানের খ্যাতনামা জার্নাল Proceedings of the National Academy of Sciences (PNAS)-এ প্রকাশিত কলম্বিয়া ও রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে: [1]
* গড় পরিমাণ: প্রতি এক লিটার বোতলজাত পানিতে গড়ে প্রায় ২,৪০,০০০ (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে।
* কণার ধরন: এই বিপুল পরিমাণ কণার মধ্যে প্রায় ১০% হলো মাইক্রোপ্লাস্টিক (আকারে ১ মাইক্রোমিটার থেকে ৫ মিলিমিটার) এবং বাকি ৯০% হলো ন্যানোপ্লাস্টিক (আকারে ১ মাইক্রোমিটারের চেয়েও ছোট)। ন্যানোপ্লাস্টিক এতই ক্ষুদ্র যে মানুষের চুল সাধারণত ৭০ মাইক্রোমিটার পুরু হয়। [1, 2]
অন্যান্য বিভিন্ন রিভিউ ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্লাস্টিকের বোতল থেকে কণা নির্গমনের পরিমাণ প্রধানত ৩টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বাড়ে: [3]
# # ১. পুরনো ও বারবার ব্যবহৃত বোতল (যেমন আপনার ছবির বোতলটি)
ছবিতে যেমন দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিনের পুরনো, রোদে ও তাপে থাকা বা ঘর্ষণের শিকার হওয়া বোতলের ভেতরের দেয়াল ক্ষয় হতে থাকে। এর ফলে সাধারণ নতুন বোতলের তুলনায় বহুগুণ বেশি প্লাস্টিক কণা সরাসরি পানিতে ভেঙে মিশে যায়। [3]
# # ২. বোতলের মুখ খোলা এবং আটকানো
গবেষণায় দেখা গেছে, বোতলের ক্যাপ বা মুখটি যখন বারবার মোচড় দিয়ে খোলা ও বন্ধ করা হয়, তখন ক্যাপের প্লাস্টিকের থ্রেড বা প্যাঁচের ঘর্ষণে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়ে পানির ভেতর পড়ে। [3]
# # ৩. তাপমাত্রা ও সূর্যের আলো
প্লাস্টিক বোতল যদি অতিরিক্ত গরমে বা সরাসরি সূর্যের আলোতে (যেমন রোদের মধ্যে বা গাড়ির ভেতরে) রাখা হয়, তবে প্লাস্টিকের পলিমারগুলো দ্রুত ভেঙে যায় এবং পানিতে কণার নিঃসরণ তীব্র আকার ধারণ করে। [3]
# # মানবদেহে এর প্রভাব ও তুলনামূলক চিত্র
* বার্ষিক গ্রহণ: সাধারণ হিসাব অনুযায়ী, যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তারা শুধু পানি থেকেই বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৯০,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শরীরে গ্রহণ করতে পারেন। [3]
* ট্যাপের পানি বনাম বোতলের পানি: গবেষণায় দেখা গেছে যে সাধারণ ট্যাপের পানি বা কাচের পাত্রে রাখা পানিতে প্লাস্টিক বোতলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে। [3, 4]
পরামর্শ: মাইক্রোপ্লাস্টিক ও কেমিক্যালের এই ঝুঁকি এড়াতে প্লাস্টিকের বোতল দীর্ঘদিন বা বারবার ব্যবহার করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকুন। পানি পানের জন্য কাচ (Glass), স্টেইনলেস স্টিল (Stainless Steel) অথবা সিরামিকের পাত্র ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
#মাইক্রোপ্লাস্টিক
20/07/2026
ফুটবল বিশ্বের ট্রফিটি ১৮ ক্যারেটের ৫.০৯২ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি। বাকি অংশ অন্য ধাতুর মিশ্রণ, যা ট্রফিটিকে শক্ত ও টেকসই রাখতে সাহায্য করে।
* সবুজ বেস: ট্রফির নিচের অংশে দুই স্তরের সবুজ রঙের মূল্যবান 'ম্যালাকাইট' (Malachite) পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। সোনার উজ্জ্বলতার সাথে বৈপরীত্য তৈরি করতে এই পাথর নির্বাচন করা হয়।
* ওজন ও উচ্চতা: ট্রফিটির মোট ওজন ৬.১৪২ কেজি (প্রায় ১৩.৬ পাউন্ড) এবং এর উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার।
# # নকশা এবং পেছনের কারিগর
* ইতালীয় সংযোগ: ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপের আগে ইতালির মিলান শহরের হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান জিডিই বারতোনি (GDE Bertoni)-তে এই ট্রফিটি তৈরি করা হয়।
* ডিজাইনার: ইতালীয় বিখ্যাত ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা (Silvio Gazzaniga) এই ট্রফির নকশা করেছিলেন। বিশ্বজুড়ে ৫৩টি নকশার মধ্য থেকে তাঁর ডিজাইনটি ফিফা চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে।
* প্রতীকী অর্থ: ট্রফিটির নকশায় দেখা যায়, দুজন মানবমূর্তি উল্লাসরত অবস্থায় পুরো পৃথিবীকে হাত দিয়ে ধরে রেখেছে, যা ফুটবল মাঠের আবেগ ও বিশ্বজনীনতাকে প্রকাশ করে।
# # ট্রফি নিয়ে কিছু কড়া নিয়ম
* আসল ট্রফি কেউ পায় না: ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে আসল ট্রফিটি তুলে দেওয়া হলেও, উদযাপনের পরপরই তা আবার ফিফা ফেরত নিয়ে নেয়। এর পরিবর্তে বিজয়ী দলকে ব্রোঞ্জের ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া একটি নিখুঁত অনুলিপি বা রেপ্লিকা দেওয়া হয়। [3, 4, 10]
* স্পর্শ করার নিয়ম: ফিফার কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, গ্লাভস ছাড়া কেবল বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার, কোচিং স্টাফ এবং রাষ্ট্রপ্রধানরাই এই আসল ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন। অন্য সবার জন্য গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। [3, 10]
* স্থায়ী ঠিকানা: আসল ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখের [ফিফা মিউজিয়ামে
# # বিজয়ী দেশের নাম খোদাই
* ট্রফির একদম নিচের প্লেটে প্রতি আসরের বিজয়ী দেশের নাম এবং সাল খোদাই করে লেখা হয়। বর্তমান ট্রফির নিচে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিজয়ী দেশগুলোর নাম লেখার মতো জায়গা রয়েছে। [2, 10]
30/06/2026
নাটকীয় বিদায়।
30/06/2026
ব্রাজিল বনাম জাপান ম্যাচের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্রাজিল মাঠের খেলায় সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে একটি যোগ্য দল হিসেবেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রথমার্ধে জাপান দারুণ প্রতিরোধ গড়লেও, পুরো ৯০ মিনিটের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের একচেটিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবলের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ম্যাচের প্রধান প্রধান পরিসংখ্যানগুলো নিচে দেওয়া হলো:
* বল পজিশন (Ball Possession): পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের দখলে ছিল ৬৯% বল এবং জাপানের দখলে ছিল মাত্র ৩১% বল।
* মোট শট (Total Shots): ব্রাজিল গোলমুখে হানা দিয়ে মোট ২০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৭টি শট ছিল অন-টার্গেট (গোলের উদ্দেশ্যে)। অন্যদিকে, জাপান মাত্র ৫টি শট নিতে পেরেছে এবং তার মধ্যে অন-টার্গেট শট ছিল ২টি।
* পাসিং ও নিখুঁততা (Passing Accuracy): ব্রাজিল মোট ৬৭৯টি পাস খেলেছে যার মধ্যে ৯২% পাসই ছিল নিখুঁত (৬২৪টি সফল পাস)। বিপরীতে, জাপান ৩০০টি পাসের মধ্যে ২৫৬টি সফল পাস করতে পেরেছে (৮৪% নিখুঁততা)।
* কর্নার (Corners): আক্রমণের তীব্রতা বোঝাতে কর্নারের সংখ্যাই যথেষ্ট। ব্রাজিল আদায় করে নিয়েছে ৬টি কর্নার, যেখানে জাপান পেয়েছে মাত্র ২টি কর্নার।
* ডিফেন্সিভ প্রতিরোধ (Clearances): জাপানকে কতটা রক্ষণাত্মক খেলতে হয়েছে তা বোঝা যায় তাদের ক্লিয়ারেন্সের সংখ্যা দেখে। জাপানি ডিফেন্ডাররা ৫১ বার বল ক্লিয়ার করে বিপদ মুক্ত করেছেন, যেখানে ব্রাজিলের করতে হয়েছে ২৬ বার।
* ফাউল ও কার্ড (Fouls and Cards): পুরো ম্যাচে জাপান ১৩টি ফাউল করেছে এবং তাদের ৩ জন খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেছেন। সেখানে ব্রাজিল মাত্র ৪টি ফাউল করেছে এবং ২টি হলুদ কার্ড পেয়েছে।
পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে যে প্রথমার্ধের ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে, ব্রাজিল দ্বিতীয় আর্ধে পাসিং ও আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে।
29/06/2026
ফিফার অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা এ পর্যন্ত মোট ১১৫ বার মুখোমুখি হয়েছে।
দুই দলের সামগ্রিক হেড-টু-হেড রেকর্ড নিচে দেওয়া হলো:
# # 📊 মুখোমুখি লড়াইয়ের মূল পরিসংখ্যান
* মোট ম্যাচ: ১১৫টি
* আর্জেন্টিনার জয়: ৪৬টি ম্যাচে
* ব্রাজিলের জয়: ৪৩টি ম্যাচে
* ড্র: ২৬টি ম্যাচ [1]
# # 🏆 বড় টুর্নামেন্টের ইতিহাস
* ফিফা বিশ্বকাপ: বিশ্বমঞ্চে দুই দল ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে
ব্রাজিল জিতেছে ২ বার,
আর্জেন্টিনা ১ বার
এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়।
* কোপা আমেরিকা: ল্যাটিন আমেরিকার এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে বেশি জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তারা জিতেছে ১৬টি ম্যাচে, ব্রাজিলের জয় ১০টিতে এবং ড্র হয়েছে ৮টি ম্যাচ।
শাস্ত্র মতে, পৃথিবী বা ভূমি কেবল জড় বস্তু নয়, তিনি আমাদের 'সর্বংসহা' মা। মানুষের সমস্ত পাপ, অত্যাচার এবং পদভার তিনি নিঃশব্দে সহ্য করেন। এর পাশাপাশি তিনি আমাদের অন্ন (শস্য, ফল, সবজি) এবং জল দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বসুমতির লোট বা ঘড়া উৎসর্গ করার মাধ্যমে জীবনের আধার এই ধরিত্রী মাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভক্তি জ্ঞাপন করা হয়।
হনুমানজির পিতা-মাতা সম্পর্কে বিস্তারিত:
# # মাতা অঞ্জনা (অঞ্জনী)
* পরিচয়: হনুমানজির মা হলেন [অঞ্জনা] যাকে অনেকে বা অঞ্জলি নামেও ডাকেন।
* অভিশপ্ত অপ্সরা: পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, তিনি পূর্বজন্মে পুঞ্জিকাস্থলা নামক এক স্বর্গের অপ্সরা ছিলেন। এক ঋষির (মতান্তরে পার্বতী দেবীর) অভিশাপে তিনি বানর হিসেবে মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। অভিশাপ ছিল যে, তিনি যখন এক রুদ্র অবতারের জন্ম দেবেন, তখন তিনি এই শাপ থেকে মুক্তি পাবেন।
* অঞ্জনপুত্র: তাঁর নামানুসারেই হনুমানজিকে 'অঞ্জনীয়' বা 'অঞ্জনা-পুত্র' বলা হয়।
# # পিতা কেশরী (বনরাজ কেশরী)
* পরিচয়: হনুমানজির পার্থিব পিতা হলেন [কেশরী] যিনি বানরদের শক্তিশালী রাজা ছিলেন।
* বংশ পরিচয়: কোনো কোনো বর্ণনায় তাঁকে দেবগুরু বৃহস্পতির পুত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সুমেরু পর্বতের অধিপতি ছিলেন।
* বীরত্ব: তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ধার্মিক যোদ্ধা ছিলেন, যিনি রাম-রাবণের যুদ্ধে শ্রীরামের সেনাদলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন।
* কেশরী নন্দন: পিতার নামানুসারে হনুমানজির এক নাম 'কেশরী নন্দন।
# # আধ্যাত্মিক পিতা পবন দেব (বায়ু দেব)
* জন্মের কাহিনী: [অঞ্জনা] মহাদেবের কঠোর তপস্যা করেছিলেন যাতে তাঁদের ঘরে পুত্রসন্তান আসে।
* পবিত্র পায়েস: রাজা দশরথ যখন পুত্রকামেষ্ঠী যজ্ঞ করেন, তখন যজ্ঞের অগ্নি থেকে প্রাপ্ত পবিত্র পায়েস বা প্রসাদের একটি অংশ বায়ু দেবের মাধ্যমে অঞ্জনার কাছে পৌঁছায়। সেই প্রসাদ গ্রহণের ফলে শিবের তেজে হনুমানজির জন্ম হয়।
* পবনপুত্র: যেহেতু বায়ু দেব মহাদেবের তেজ অঞ্জনার গর্ভে পৌঁছে দিয়েছিলেন, তাই তাঁকে হনুমানজির আধ্যাত্মিক পিতা বা পালক পিতা বলা হয় এবং হনুমানজিকে বলা হয় 'পবনপুত্র' বা 'মারুতি'।
হনুমানজিকে মূলত ভগবান শিবের ১১তম রুদ্র অবতার হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি মর্ত্যে শ্রীরামের সেবার জন্য অঞ্জনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
08/05/2026
রামনামের মহিমা: যেখানে ভক্তিই শক্তি
একদিন মহাবীর হনুমান আকাশপথে পবনগতিতে উড়ে যাচ্ছিলেন তাঁর আরাধ্য প্রভু শ্রীরামচন্দ্রের দর্শনের উদ্দেশ্যে। হঠাৎ নিচের এক ঘন অরণ্য থেকে তাঁর কানে ভেসে এল এক অতি মধুর ধ্বনি— “রাম... রাম... রাম...”।
রামনামের এমন সুধা শুনে হনুমানজি আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি তো রামনামের পরম ভক্ত; যেখানেই এই পবিত্র নাম উচ্চারিত হয়, সেখানেই তাঁর হৃদয় ধাবিত হয়। কৌতূহলী হয়ে তিনি ধীরে ধীরে সেই নিবিড় অরণ্যে অবতরণ করলেন। [1]
ভূমিতে পা রাখতেই এক অভাবনীয় দৃশ্যে তিনি বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি দেখলেন, জঙ্গলের প্রতিটি প্রাণী—বিশালকায় হাতি থেকে শুরু করে চঞ্চল হরিণ, বানর, এমনকি ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ ও পাখিরাও সমস্বরে জপ করছে, “রাম... রাম...”। চারদিকে যেন এক ভক্তির সমুদ্র উথলে উঠছে। বাতাসের ঝাপটায় গাছের পাতারাও যেন শ্রীরামের জয়গান গাইছে। অরণ্যের প্রতিটি কণা আজ রামময়!
বিস্মিত হনুমানজি বিনীতভাবে সকলকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে বনবাসীগণ! তোমরা সবাই এভাবে রামনাম জপ করছ কেন? এর রহস্য কী?”
তখন ভিড় থেকে এক বৃদ্ধ বানর সামনে এগিয়ে এল। সে করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে বলতে শুরু করল— “প্রভু, এর পেছনে এক অলৌকিক ইতিহাস রয়েছে।”
সে বলতে লাগল, “বহু বছর আগে এই নির্জন অরণ্যে স্বয়ং মহাদেব ভগবান শিব তাঁর ইষ্টদেব শ্রীরামের আরাধনা করেছিলেন। পূজা শেষে ভোলানাথ যখন কৈলাসে ফিরে যান, তখন সেখানে একটি ক্ষুধার্ত হরিণ আসে। অজান্তেই সে পূজায় অর্পিত সেই পবিত্র ফুল ও প্রসাদ খেয়ে ফেলে। আর তখনই ঘটে আশ্চর্য এক ঘটনা! সেই হরিণটির মুখ দিয়ে আপনাআপনি বের হতে থাকে— ‘রাম... রাম... রাম...’। দিনরাত সে কেবল এই নামেই মত্ত হয়ে রইল।”
“একদিন এক নিষ্ঠুর শিকারি সেই হরিণটিকে লক্ষ্য করে তির ধনুক তুলল। কিন্তু মোক্ষম সময়ে সে শুনতে পেল হরিণের কণ্ঠের সেই ঐশ্বরিক রামনাম। শিকারি স্তব্ধ হয়ে গেল! তার পাষাণ হৃদয়ে কম্পন শুরু হলো। সে ভাবল— ‘যে অবলা প্রাণীর মুখে স্বয়ং ভগবানের নাম, তাকে আমি কীভাবে হত্যা করি?’ মুহূর্তেই তার মনের অন্ধকার দূর হয়ে গেল। সে অস্ত্র ত্যাগ করে হরিণটিকে মুক্ত করে দিল এবং নিজেও রামনামে দীক্ষিত হলো।”
বৃদ্ধ বানরটি আরও বলল, “সেদিন থেকেই আমরা বুঝেছি যে রামনামের শক্তি অসীম। এই নাম শুধু প্রাণই বাঁচায় না, ঘোর পাপিষ্ঠের হৃদয়ও গলিয়ে দেয়। সেই থেকে এই বনের প্রতিটি প্রাণী ভক্তিভরে এই নাম জপ করে আসছে।”
সব শুনে হনুমানজির দুচোখ বেয়ে ভক্তির অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি গদ্গদ কণ্ঠে বললেন—
“সত্যিই, রামনামের মহিমা অনন্ত। যেখানে রামনাম, সেখানেই মুক্তি, সেখানেই পরম শান্তি।”
জয় শ্রী রাম! 🙏
-----------------------------
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Chittagong
4000, 4100, 42XX