Caregiver Professional Association-CPA

Caregiver Professional Association-CPA

Share

First Time in Bangladesh for Making Quality Professional and established a global network. Caregiver

02/05/2023

রংপুরের মানুষ কত বিষয়ে কথা বলে কিন্ত নিজের জেলার দারিদ্র নিয়ে কোন পোস্ট বা আলোচনা চোখে পড়লোনা।
আমি নিজে রংপুরের মানুষ । এই পরিচয়ে আমি গর্বিত। কিন্ত রিপোর্টটি হতাশা তৈরি করছে।
টিবিএস রিপোর্ট:
দেশের দরিদ্রতম বিভাগ রংপুর, পরেই রয়েছে ময়মনসিংহ: বিবিএস
পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২১’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ধনী লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০.৯৭ শতাংশ ধনী পরিবার বসবাস করে এই বিভাগে।
দেশে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস রংপুর বিভাগে। অর্থাৎ, এখনও দেশের দরিদ্রতম বিভাগ উত্তরাঞ্চলের রংপুর। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও দুর্বল শিল্পায়ন এই অঞ্চলের দারিদ্র্যের হারে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে পারেনি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুসারে, দেশের ৮ বিভাগের মধ্যে দারিদ্র-প্রবণ উত্তর অঞ্চলের রংপুর বিভাগের মানুষেরা সম্পদের দিক দিয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে। এই বিভাগের ৪৪ শতাংশ পরিবারই দরিদ্র। এরপরেই রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। সম্পদ এবং আর্থ-সামাজিক সূচক বিবেচনায় ময়মনসিংহে ৩৯.৫৭ শতাংশ দরিদ্র পরিবার রয়েছে।
২০১৬ সালের খানা আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপেও দেখা যায়, দেশে সবচেয়ে বেশি গরিব মানুষ (৪৭ শতাংশ) রয়েছে রংপুর বিভাগে। এরপরেই ছিল ময়মনসিংহ বিভাগ। সে সময় এই বিভাগে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ছিল প্রায় ৩৩ শতাংশ।
Unibots.in
গত ১৭ এপ্রিল পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত 'বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২১' শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে ধনী লোকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ২০.৯৭ শতাংশ ধনী পরিবার বসবাস করে এই বিভাগে।
এদিকে, জাতীয় পর্যায়ে খানা হিসাবে দেশে মোট দরিদ্র পরিবার ২৪.১৮ শতাংশ, যেখানে ধনী পরিবারের সংখ্যা ১৩.৬২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঐতিহাসিকভাবে দেশের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলো এখনও দরিদ্রই রয়ে গেছে। এসব অঞ্চলের দারিদ্র্যতা কমাতে বিবিএস কর্মকর্তারা সরকারকে শিল্পায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। যাতে শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এসব পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষদের আয় বাড়ানো যায়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন দ্য বিজিনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, গত দশকে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নামে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এসব দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার মানুষদের দারিদ্র্য কমাতে পারেনি।
"যদিও পরিবহন অবকাঠামো বাণিজ্য ও মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা এনে দিয়েছে, কিন্তু আয় বাড়াতে এবং দারিদ্র্য কমাতে হলে ব্যণিজ্যিক পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হবে। দারিদ্র্যতা কমাতে শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরির কোনো বিকল্প নেই," যোগ করেন তিনি।
এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, গড় হিসেবে গত দশকে দেশের দারিদ্র্য কমলেও অঞ্চলভিত্তিক তথ্যগুলোর মাধ্যমে বোঝা যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কতটা বেড়েছে।
তিনি বলেন, ময়মনসিংহ যখন ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল তখন এ অঞ্চলের দারিদ্র্য আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। আলাদা বিভাগ হওয়ার ফলে এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের দ্বিতীয় দারিদ্র্যপীড়িত অঞ্চল ময়মনসিংহ।
এদিকে, স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম প্রকল্পের পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, এই জরিপের ওয়েলথ কুইন্টাইল একটি দেশের রিলেটিভ ওয়েলথ বা আপেক্ষিক সম্পদ এবং ইক্যুইটি বুঝতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে অ্যাবসোলিউট ওয়েলথের ধারণা পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্পদের র‌্যাঙ্কিংয়ে পরিবারগুলোকে ভাগ করার জন্যই সূচকটি চালু করেছে বিবিএস।
স্যাম্পল ভাইটার স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদন-২০২১ এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো 'ওয়েলথ কুইন্টাইল ইন্ডেক্স' বা সম্পদ সূচক চালু করেছে বিবিএস। এর মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি নির্ণয় করা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন বিবিএস কর্মকর্তারা।
সূচকটি গৃহস্থালীর নির্মাণ সামগ্রী, পানি, স্যানিটেশনসহ টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরের মতো বিভিন্ন জিনিসের মালিকানা নথিভুক্তির মাধ্যমে স্কোর তৈরি করে। আর এই স্কোরের ভিত্তিতেই সম্পদ সূচকে পরিবারগুলোর র‍্যাঙ্কিং নির্ধারিত হয়।
প্রতিবেদনে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২০.৯৭ শতাংশ পরিবার ধনীর তালিকায় এবং সব বিভাগে অন্তত ১২.৩০ শতাংশ পরিবার দরিদ্রের তালিকায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে দেশের গ্রামাঞ্চল, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সম্পদের সূচক নির্দেশ করা হয়েছে।
গ্রামাঞ্চলে মাত্র ৭.১৭ শতাংশ পরিবার ধনীর তালিকায় এবং ২৯.২৯ শতাংশ পরিবার দরিদ্রের তালিকায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের মাত্র ৩ শতাংশ পরিবার দরিদ্র এবং ৪৭.৮৬ শতাংশ পরিবার ধনীর তালকায় রয়েছে। শহর এলাকায় ধনী পরিবারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং দরিদ্রের হার সবচেয়ে কম বলে উঠে এসেছে।
সারাদেশে দুই হাজারেরও বেশি এলাকা থেকে তিন লাখেরও বেশি পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই জরিপ চালানো হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জরিপের তথ্য সংগ্রহ শেষ হয় বলে জানান কর্মকর্তারা।

24/11/2022

আলো ছড়ানোর প্রকল্প অন্ধকারে ঢাকা
আলোকিত পল্লি সড়কবাতি
অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২২ ।

গ্রামের পথে রাতের অন্ধকারে আলো ছড়ানোর জন্যই নেওয়া হয়েছিল 'আলোকিত পল্লি সড়কবাতি' প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৯টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে সৌরবাতি। সেই বাতির আলো এখন আর রাস্তায় পড়ে না। সেখানে আগের মতোই ঘুটঘুটে অন্ধকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ব্যর্থ হতে বসেছে প্রকল্পটি। ফলে সরকারের প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত আলো ছড়ানোর প্রকল্পটি এখন অন্ধকারে ডুবতে বসেছে।

আলো থাকলে গ্রামীণ সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। অর্থনৈতিক উন্নতি হবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর। রাতের বেলায় মানুষ যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, এটিই ছিল সৌরবাতি প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
এ কারণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের সমবায় বিভাগের উদ্যোগে ৪৮ কোটি ৮৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে দেশের আট বিভাগের ১৩টি জেলার ১৯টি উপজেলার সড়কে সৌরবাতি বসানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় ছয় মাস আগে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিন বছরে প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। পাশাপাশি প্রকল্প ব্যয় আরও ১২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। কিন্তু যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর খুঁটির কোনোটা হেলে পড়েছে, কোনোটাতে আলো জ্বলে না। কোনো খুঁটির গোড়ায় সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া হয়নি। একেবারে নিম্নমানের কাজসহ নানা গাফিলতিতে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ার পর কয়েকটি এলাকার জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন দেখে হতাশ হয়েছেন। তাঁদের মতামতেও প্রকল্পের নাজুক চিত্র উঠে এসেছে। সমকালের পক্ষ থেকেও কয়েকটি এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, স্থাপিত বাতিগুলোর ৬০ শতাংশই জ্বলে না। বাকিগুলোও নিভুনিভু।

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি এটিএম মাজহারুল আলম মিলন জানান, পীরগঞ্জ বন্দর থেকে খালাসপীর পর্যন্ত মাঝে মাঝে সৌরবাতি দেখা গেলেও ঠিকমতো জ্বলে না। যেগুলো জ্বলে সেগুলোর উজ্জ্বলতা কম। কয়েকটি বাতি জ্বলে-নেভে। পীরগঞ্জ ইউনিয়নের (৯ নম্বর ইউনিয়ন) বাতিগুলোর একই অবস্থা। অথচ বছরখানেকও হয়নি এগুলো লাগানো হয়েছে।

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, মিঠাপুকুরের সখিবাড়ি থেকে বাজিয়া-মাসুমপুর-আফতাবগঞ্জ সড়কের বাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এক-দেড় বছর আগে এগুলো লাগানো হয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, মাধবপুর ইটভাটার কাছে দুটি মাত্র বাতি জ্বলে। চাউলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান বলেন, পাল্লা থেকে বজরুক শ্রীকুণ্ডিসহ কয়েকটি রাস্তায় লাগানো শখানেক বাতির অধিকাংশই জ্বলে না।

শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ মুহিব বলেন, আমার ইউনিয়নের শখানেক বাতির অর্ধেকেরও বেশি জ্বলে না। খুঁটিতে থাকা ঠিকাদারের ফোন নম্বরে ফোন দিলেও ধরে না। ধরলেও বলে ঢাকায় আছি।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি মো. আজাদ জানান, এক বছর আগে গৌরনদী থেকে নাটই আর আগৈলঝাড়ার দাসেরহাট থেকে সুজনকাঠি পর্যন্ত রাস্তায় বসানো সৌরবাতিগুলোর কোনোটা জ্বলে কোনোটা জ্বলে না।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার আরশীনগর ইউনিয়নের ৬৭০নং পিলারে দেখা গেছে সোলার প্যানেল থাকলেও কোনো বাতি নেই। ২২৪ নম্বর পিলারে বাতি-প্যানেল থাকলেও জ্বলে না। ৮০ নম্বর খুঁটিরও একই দশা। এ ছাড়া তিনটি খুঁটির কোনোটির গোড়াতেই কংক্রিটের ঢালাই দেওয়া হয়নি।

এ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইস্পাতের তৈরি খুঁটিগুলোর ব্যাসার্ধ যা দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়নি। এগুলো আদতে কোনো খাম্বা নয়, ইস্পাতের তৈরি চিকন কাঠি বিশেষ। খুঁটিগুলোও ৩ ইঞ্চি ডায়ার পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে আড়াই ইঞ্চি। পুরুত্ব সোয়া ৩ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও তা নেই। প্রতিটি বাতির তিন বছর পরিচালনের কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের, সেটাও তারা করছে না।

তবে সৌরবাতি প্রকল্প বাস্তবায়নের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিকে করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী দুলাল কর্মকার দাবি করেন, 'একেকটি এলাকায় ৮০০টি করে বাতি দিয়েছি। এর মধ্যে দুই-চারটি হয়তো নাও জ্বলতে পারে। তাই বলে ৬০ শতাংশ বাতি জ্বলবে না তা হয় না। ডায়া-থিকনেসও কম থাকার কোনো কারণ নেই। ফোন দিলে পাওয়া যায় না- এটাও ঠিক নয়। ওখানে আমাদের লোক দেওয়া আছে। প্রতি তিন মাস অন্তর আমাদের রিপোর্ট দিতে হয়। বিষয়টি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান পিডিবিএফ প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করে। তারপরও আমাদের ভুলত্রুটি হতে পারে।'

প্রকল্প পরিচালক গৌতম ভৌমিক সমকালকে বলেন, ভেদরগঞ্জের ৭৫০টি বাতির মধ্যে কয়েকটি বাতির সমস্যা আছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকার খুঁটির গোড়ার মাটি সরে যায়। কয়েকটি জায়গায় ঝড়ে গাছ পড়ে লাইট ভেঙে ছিল।
তিনি বলেন, একটি-দুটি মেরামতের জন্য ঢাকা থেকে যাওয়া যায় না। যখন ৫-১০টি বাতি নষ্ট হয়, তখন ঠিকাদারকে বলা হয়। তারা ঢাকা থেকে লোক পাঠিয়ে ঠিক করে দেয়। ওখান থেকে প্রত্যয়নপত্রও নিয়ে আসে। আমাদের জাতীয় গ্রিডেও তো সমস্যা হয়। সারাদিন সূর্যের আলো না পেলে তো বাতি জ্বলবে না। অনেক স্থানে গাছপালার ছায়া পড়ে। তখন দেখা যায় রাত ১১-১২টার পর বাতি নিভে যায়। এ জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানদের এ রকম গাছগুলোর ডাল কেটে দিতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি আছে তারা তিন বছর দেখভাল করবে। এর আগে যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদার দেখবে।

জানা গেছে, ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেলেও তারা নিজে না করে কাজটি করছে ডিকে করপোরেশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দফায় অনেক অনিয়ম করে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার দরপত্রে এমন কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে যাতে ওই প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউ দরপত্রে অংশই নিতে না পারে। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন একজন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এ প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তাঁদের উৎকোচ বাণিজ্যের কারণেই এমন ভালো প্রকল্পের বেহাল অবস্থা।

প্রকল্পের সার্বিক তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পিডিবিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মওদুদুর রশিদ সফদার সমকালকে বলেন, সৌরবাতি নিয়ে এ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে এই সৌরবাতি একটি পূর্ণ সেটআপ, এ পদ্ধতির কোনো একটি জায়গায় সমস্যা হলে বাতি নাও জ্বলতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় ধরনের কোনো প্রকল্প হলে ঠিকাদার চাইলে অন্য ঠিকাদারের সহযোগিতা নিতে পারেন।

07/03/2021

অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। অভিনয় ও পরিচালনার পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকীর ‘কন্ট্রিবিউটিং এডিটর’ হিসেবে লেখালেখি করেন। গত বছরের ৮ মার্চ, নারী দিবসেও একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি। কাল নারী দিবস উপলক্ষে সেটিই থাকল আজকের সফলদের স্বপ্নগাথায়।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলিঅ্যাঞ্জেলিনা জোলি
দুই মাস ধরে আমার বড় মেয়েকে কয়েকবার সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আর কিছুদিন আগে ওর ছোট বোনকেও কোমরের একটা অস্ত্রোপচার করাতে হলো।

ওরা জানে, আমি ওদের এ বিষয়টা নিয়ে লিখছি। আমি ওদের সঙ্গে কথা বলে, ওদের অনুমতি নিয়ে তবেই লিখতে বসলাম। আমি ওদের ব্যক্তিজীবনের গোপনীয়তাকে সম্মান করি, তাই কিছু লেখার আগে ওদের সঙ্গে আগে আলোচনা করে নিই। তারা আমাকে সব সময় লিখতে উৎসাহ দেয়। আমার মেয়েরা এত দিনে বুঝে গেছে, স্বাস্থ্য নিয়ে যত ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে, সেসব সাহস নিয়ে মোকাবিলা করা এবং এগুলোর সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া গর্বের ব্যাপার, লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়।

আমি দেখি, কেমন করে আমার মেয়েরা একজন আরেকজনের খেয়াল রাখে, যত্ন নেয়। আমার ছোট মেয়েটা হাসপাতালের নার্সদের সঙ্গে থেকে থেকে শিখেছে, কী করে বাড়ি গেলে সে তার বোনের যত্ন নেবে। পরের বার সে সেভাবেই বোনের দেখভাল করেছে। আমি অবাক হয়ে দেখি, কী করে আমার মেয়েরা সবকিছু ফেলে সবার আগে একে অপরের জন্য এগিয়ে আসে। আর এভাবে একে অপরকে ভালোবেসে তারা যে আনন্দ পায়, আমি তা দেখে মুগ্ধ হই।

কীভাবে সাহসের সঙ্গে ভয়ের দিকে চোখ তুলে তাকাতে হয়, সেটা আমার সন্তানেরা শিখে গেছে। প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেখান থেকে কেউ আমাদের উদ্ধার করতে পারে না। ওই সময় চোখ বন্ধ করে বড় বড় দম নেওয়া আর দিন বদলের অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের করার কিছু থাকে না। তখন চোখ বুজে স্থির হয়ে থাকতে হয়, যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে নিশ্বাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হয়।

এবারের নারী দিবসের এই লেখা আমি হাসপাতালে বসে লিখছি। আমার চিন্তায় এখন শুধু আমার মেয়েরা এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের মেয়েদের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ একজন আমাকে বলেছিল, মেয়েদের ভেতর এই যে সবার দেখভাল করার অভ্যাস—এটা একেবারেই প্রকৃতির নিয়ম, মেয়েরা নাকি এমনই হয়। আমি তখন হেসেছিলাম। কিন্তু এরপরই মনে পড়ে গেল, মানুষ অনেক সময় এই অভ্যাসের সুযোগ নেয়। যে ছোট্ট মেয়েটির নিজেরই অন্যের যত্ন আর দেখভালের প্রয়োজন, আমরা তাকেই ছোটবেলা থেকে অন্যের দেখভাল করা, অন্যের জন্য ত্যাগ করা, নিজেকে ছাপিয়ে অন্যকে নিয়ে ভাবতে শেখাই। প্রত্যেক মেয়েকেই শৈশব থেকে শেখানো হয়, ততক্ষণই তারা ভালো, যতক্ষণ তারা অন্যের জন্য ভাববে, কাজ করে যাবে। তাদের অন্তরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যে নিজের দিকে, নিজের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আর চাহিদার দিকে নজর দেওয়া মানে হলো স্বার্থপরতা।

একটা ছোট্ট মেয়ের উদারতা, অন্যের যত্ন করার স্পৃহাকে অপব্যবহার না করে তার স্বপ্নকে আমাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। ওদের সরলতা আর নমনীয়তার যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। নারীর ওপর শুধু বড় বড় সহিংসতা, অন্যায় আর নিপীড়নের জন্য সোচ্চার হওয়াটাই এখন যথেষ্ট নয়। শৈশব থেকে আমাদের ভেতর দমনের যে বীজ বুনে দেওয়া হয়, যা কেউ কখনো আমলেই নেয় না, আমাদের সেসব নিপীড়নের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে।

তাই নারী দিবসে আমার প্রত্যাশা থাকবে, আমরা প্রত্যেক মেয়েকে নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেব, আমরা তাদের মূল্যায়ন করতে শিখব। তাদের কাছ থেকে যত্নের প্রত্যাশা না করে তাদের যত্ন নেব। আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা যদি দৃঢ়, সুস্থ আর সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তাহলে পরিবার আর সমাজেও এর ছাপ পড়বে। তাদের এগিয়ে যাওয়াতেই আমাদের সাফল্য।

আর সবশেষে এ সময়ের মেয়েদের জন্য আমি বলতে চাই, ছোট্ট বন্ধুরা, লড়ে যাও। তোমাদের একে অপরের জন্য ভালোবাসাটাই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথকে মসৃণ করবে। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করো যেন কেউ বৈষম্যের পাঠ তোমাকে না পড়াতে পারে। তুমি মূল্যবান, সমান আর বিশেষ নও—এমনটা বলার সাহস যেন কেউ না পায়।

20/11/2020

শহরটা যেন এখন একটু বেশি চুপচাপ। সাতসকালে দুই বেণি বেঁধে, পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে হেঁটে যাওয়া শিশুদের চোখে পড়ে না। বিকেলবেলা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শোনা যায় না তাদের কিচিরমিচির। স্কুলের ছোট্ট মাঠ, ক্লাসরুমগুলো খাঁ খাঁ করে। দুরন্ত শিশুরা যে সব ঘরে বন্দী।

পৃথিবীটা যেন এখন রূপকথায় পড়া সেই দৈত্যের রাজ্য। দৈত্যের ভয়ে শিশুরা সব ঘরে বন্দী। শিশুদের কাছে করোনাভাইরাস তো দৈত্যের মতোই। তাই তো ছোট্ট মাইসা বলে, ‘মা বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। বাইরে তো করোনা দৈত্য আছে।’ মাইসার বোনের নামটা তুলতুল হলেও দারুণ সাহসী সে। পাশ থেকে বলে ওঠে, ‘এই দেখ স্যানিটাইজার। এটা দিয়ে দৈত্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়।’

এ তো গেল ঘরের বাইরের কথা। কিন্তু ঘরের ভেতরে কেমন আছে শিশুরা? ঘরবন্দী জগতে কীভাবে কাটছে তাদের দিন? ঘরবন্দী জীবনে শিশুরা আরও বেশি করে জেনে যাচ্ছে বড়দের কথা। শিশুরা জেনে যায়, মা-বাবা কেন ঝগড়া করেন কিংবা বাবা রেগে গেলে মায়ের গায়ে হাত তোলেন। ছোট্ট ছেলে বা মেয়েটা জানতে পারে মায়ের হাতে টাকা নেই। কারণ, বাবা মাকে হাতখরচের টাকা দেন না। ছোট্ট শিশুটি এটাও শুনতে পায়, দাদা-দাদি সংসারে খুব বেশি অকেজো। সে জানতে পারে, মা নানাভাইকে টাকা পাঠালে বাবা ভীষণ রাগ করেন। সে শুনতে পায়, গৃহকর্মী কাজ কম করে। কিন্তু বেশি ভাত খায়।

ঢাকায় পায়রার খোপের মতো ফ্ল্যাটবাড়িতে এঘরের কথা কান না পাতলেও ওঘরে শোনা যায়। ফলে শিশুটি শুনে ফেলে চাচা বলছেন, নানি মাকে আদবকায়দা কিচ্ছু শেখাননি। তাই মা শুধু মুখে মুখে কথা বলেন।

সংসারের টুকরো টুকরো এসব জটিল ছবিই কিন্তু খুদে শিশুটির জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। যেমনটা হয়েছিল প্রথম শ্রেণির ছাত্রী রামিসার (ছদ্মনাম) বেলায়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে স্কুল বন্ধ রামিসার। রামিসাকে নিয়ে কয়েক মাস ধরেই ভীষণ উদ্বিগ্ন তার পরিবার। কাঁঠালবাগানের দুই রুমের ছোট্ট একটা বাড়িতে তারা থাকে। রামিসার সমস্যাটা তার মা আর দাদিকে নিয়ে। মাকে সে ভাবে রাক্ষসী। মায়ের রূপ ধরে নাকি রাক্ষসীটাই থাকে তার কাছে। আর দাদিকে তার মনে হয় ডাইনি। তিনি আসলে মানুষ না। মা আর দাদিকে রীতিমতো ভয় পায় রামিসা। প্রথমটা সবাই ভেবেছিল এ ছোট্ট রামিসার কল্পনা। শিশুরা তো কত কিছুই ভাবে, বলে। কিন্তু পরিস্থিতি গুরুতর হলো। রামিসা ঠিকমতো খেতে পারে না। ঘুমাতেও পারে না। রামিসাকে নেওয়া হলো মনোবিদের কাছে। আসলে কী হয়েছে রামিসার? মা আর দাদির মধ্যে মতবিরোধ চলে প্রায়ই। করোনার সংক্রমণের সময় কলেজশিক্ষক মা অনলাইনে ক্লাস নেন। বাসায় গৃহকর্মী নেই। সংসারের খুঁটিনাটি নিয়ে মা আর দাদির বিরোধ চরমে ওঠে। রাগের মাথায় মা রামিসাকে বলেছেন তার দাদি ডাইনি। আর দাদি বলেছেন মা রাক্ষসী। রামিসা মা আর দাদি দুজনকেই ভালোবাসে। দুজনের এত দ্বন্দ্বে সে অসহায় বোধ করতে থাকে। যার ছাপ পড়েছে তার ছোট্ট মনে। সে চলে গেছে ট্রমায়। এখন তাকে মনোবিদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সংসারের এসব জটিলতা থেকে শিশুদের হয়তো পুরোপুরি বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু আরেকটু সতর্কতা, মনোযোগ এসবের মধ্যেও শিশুটিকে ভালো রাখতে পারে। মা পাখি ছোট্ট ছানাকে আগলে রেখে যেভাবে ঝড় থেকে বাঁচায়, পরিবারের বড় সদস্যরাও শিশুটিকে বাঁচাতে পারেন সেভাবে। আর এ ক্ষেত্রে বড় একটা ভূমিকা রয়েছে মা-বাবার। রেগে গেলে মাথার ঠিক থাকে না অনেকের। সে জন্যই কথায় আছে ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন।’ আবার এটাও বলা হয়, রাগ প্রকাশ করতে পারলে মনটাও হালকা হয়। তাই রাগের প্রকাশটাও জরুরি। শিশুরা শুনতে পাবে এ ভেবে পরিবারের বড়দের পক্ষে রাগ গিলে থাকাটাও কঠিন।

এই পরিস্থিতি থেকে শিশুকে নিয়ে নচিকেতার মতো ‘চল যাব তোকে নিয়ে’ গান গেয়ে পালানোও সম্ভব না। তাই শিশুকে বোঝাতে হবে তার মতো করেই।

রূপকথার রাজা-রানির মতো বাস্তবের মা-বাবা সারা জীবন সুখে–শান্তিতে সংসার করবেন না। এই সত্যটা শিশুদের তাদের মতো করে বোঝাতে পারলে সংকট কিছুটা কমানো সম্ভব। শিশুদের বোঝানো যেতে পারে তার যেমন বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া হয়, মা-বাবারও হয়। বন্ধুর সঙ্গে আড়ির পর যেমন ভাব হয়, তেমনি মা-বাবারও হয়। বেশি পড়া দিলে শিশুর যেমন শিক্ষকের ওপর রাগ হয়, তেমনি মায়েরও দাদির ওপর বা দাদিরও মায়ের ওপর রাগ হয়। আবার তা মিটেও যায়। ঝগড়ার পরে মা-বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা ভালো সময়গুলোতে শিশুদের বেশি যুক্ত করতে পারেন। বলতে পারেন, দেখো আমাদের ঝগড়া মিটে গেছে। তাহলে হয়তো শিশুর সংবেদনশীল মনে চাপ কিছু কম হতে পারে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজির আহম্মদও এতে কিছুটা একমত পোষণ করেন। তবে তিনি বলছেন, সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কঠোরভাবে শিশুটিকে এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখা। প্রয়োজনে মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যদের রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল জানতে হবে। এ সময়ের জীবনযাত্রায় এটা খুব প্রয়োজন। রাগ বা ঝগড়ার সময় আমাদের আরও একটি ভয়াবহ প্রবণতার কথা উল্লেখ করলেন এই মনোবিদ। তিনি বলেন, রাগের সময় অনেকেই আমরা শিশুটিকে নিজেদের দলে টানতে চেষ্টা করি। মা বলেন, বাবা ভালো না। তার কথা শুনবে না। অথবা বাবা বলেন, মায়ের থেকে আমি বেশি ভালো। আমার কথা শুনবে। এতে শিশুদের মধ্যে স্থায়ী একধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় (যেমনটা ঘটেছিল রামিসার ক্ষেত্রে)। ঝগড়া মিটে গেলে বড়দের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও শিশুর মনে থেকে যায় স্থায়ী ছাপ। বিশেষ করে ঝগড়ার সময় শব্দ নির্বাচন ও মুখভঙ্গির ব্যাপারে সতর্ক থাকার কথা বললেন এই মনোবিদ। খুব বেশি আক্রমণাত্মক শব্দ ও মুখভঙ্গি শিশুকে ভয় পাইয়ে দিতে পারে।

শিশুর সামনে মিথ্যা বলা যাবে না। এতে সে–ও শিখে নেবে ‘ঘরে বসে বাইরে থাকার কথা বলা অপরাধ না!’ বড়রা কথা বলার সময় শিশুদের সামনে কী বলছেন, সেটা খেয়াল রাখা জরুরি।

20/11/2020

নিউজিল্যান্ডের পুলিশের পোশাকে হিজাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরো বেশি মুসলমান নারীকে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে আরো বেশি মুসলমান নারী পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী হবে বলে তারা আশা করছে।

সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কনস্টেবল জিনা আলি হবেন প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরবেন।

এর আগে ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তাদের পুলিশ সদস্যরা চাইলে ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরতে পারবে। ২০১৬ সালে একই রকম সিদ্ধান্ত নেয় স্কটল্যান্ডের পুলিশ। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার মাহা শুক্কুর তার পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরেন।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, সেকেন্ডারি পুলিশ স্কুল পরিদর্শনের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের সুপারিশের পর ২০১৮ সাল থেকেই ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব সংযুক্ত করার ব্যাপারে কাজ শুরু করে। নিজের পোশাকের অংশ হিসাবে প্রথম হিসাব ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলেন কনস্টেবল আলী। এরপর এই পোশাকের চালু করার কর্মসূচীতে অংশ নেয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

কনস্টেবল আলী ফিজিতে জন্মগ্রহণ করার পর শিশু অবস্থায় নিউজিল্যান্ডে চলে আসেন।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ক্রাইস্ট চার্চ সন্ত্রাসী হামলার পরে তিনি পুলিশে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি উপলব্ধি করতে শুরু করলাম, মানুষকে সহায়তা করার জন্য পুলিশ বাহিনীতে আরও বেশি মুসলমান নারীদের অংশগ্রহণ করা উচিত। নিউজিল্যান্ড পুলিশ বাহিনীতে আমার পোশাকের অংশ হিসাবে হিজাব তুলে ধরতে পারায় আমার খুব ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এটা দেখে এখন আরও বেশি মুসলমান নারী পুলিশে যোগ দিতে চাইবেন।

17/11/2020

ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) মনোনীত পরিচালক হিসেবে সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হলেন রেবেকা ব্রসন্যান। ২০১৭ সাল থেকে সিটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত রয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসি।

ব্রসন্যান বর্তমানে হংকং ভিত্তিক এনজিও মাদারস চয়েজ-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে কৌশলগত উন্নয়নে অবদানের পাশাপাশি সহযোগী সাতটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখভাল করছেন। পরিবারহীন শিশু এবং কিশোরী মায়েদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে মাদারস চয়েজ।

২০১৬ সালে মাদারস চয়েজ-এ যুক্ত হবার আগে পুঁজিবাজার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হংকং এক্সচেঞ্জ এবং ক্লিয়ারিং লিমিটেড (এইচকেএক্স) এর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেছেন ব্রসন্যান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্টের প্রধান হিসেবে বৈশ্বিক পণ্য বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক প্রবেশ, একীভূতকরণ এবং অধিগ্রহণের কৌশল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা ছিলো রেবেকা ব্রসন্যানের। এইচকেএক্স-এর জন্য বিনিয়োগ পণ্য, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মুদ্রাবাজার এবং পণ্যবাজারের জন্য নির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।

সামাজিক উন্নয়নে যুক্ত ব্রসন্যান ‘জেনারেশন ক্রিশ্চিয়ান এডুকেশন’ এবং রুম-টু-রিড নামে উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য হিসেবে নীতিনির্ধারণে কাজ করেছেন। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য চায়না ডেইলি এবং এশিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক যৌথভাবে ২০১৬ সালে ‘এশিয়ান উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে’ তাকে ভূষিত করে।

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের জেনারেল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের ডিগ্রিধারী ব্রসন্যান লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং ট্রিনিটি কলেজ, আমেরিকা থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

অর্থসূচক/এমএস

Workshop on Happy Parenting and Family Management 08/11/2020

সাত ঘন্টা!!মাত্র সাত ঘন্টা বাকি রেজিস্ট্রেশন করার।

শুধুমাত্র প্যারেন্টসদের জন্য "সফল প্যারেন্টিং এবং পরিবার ব্যবস্হাপনা" টপিকে আজ সন্ধ্যা সাতটায় গুগল মিটের মাধ্যমে ইন্টারেক্টিভ সেশনের আয়োজন করেছে উত্তরা কেয়ার।

সাথে থাকছেন উত্তরা কেয়ারে'র প্রিন্সিপাল ট্রেইনার, বিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার, লেখক এবং জাতীয় থিওসফিক্যাল প্রভাষক ড.আলমাসুর রহমান স্যার।

তিনি যেসব বিষয়ে আলোচনা করবেনঃ
★পরিবার ব্যবস্হাপনা,
★সফল বাবা-মা,
★রাগ ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ,
★স্বাস্থ্য ও মন নিয়ন্ত্রণ,
★কিভাবে ইতিবাচক চিন্তাধারা আনা যায়,
★সুখ ও শান্তি
★ আন্তঃপারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি।

রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য গুগল ফর্ম লিংকঃ
https://docs.google.com/forms/d/e/1FAIpQLSf3G2vP4XY2FMW-fRNY7b1IMHsVR_aVf6QDhuqwhJxCN3IFow/viewform

ওয়ার্কশপ ডিটেইলসঃ
https://fb.me/e/93bZzL5eT

Workshop on Happy Parenting and Family Management ওয়ার্কশপটি সম্পূর্ণ ফ্রি, গুগল মিট এ অনলাইনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, বাবা মায়াদের জন্য শুধু মাত্র। অথবা আপনারা আগ্.....

24/10/2020

কচি থেকে বৃদ্ধ বয়সে পদার্পণ করাই সত্য। বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিবর্তন হতে থাকে খাবারের ধরন। এই বয়সে খাবারের চাহিদা কি বাড়ে না কমে সে নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকেই।

সাধারণত ৬০ বছরের বয়স সীমাকে বৃদ্ধ বয়স ধরা হয়। কিন্তু পুষ্টি গত দিক দিয়ে ৪০ বছর এর পর থেকেই বৃদ্ধ বয়স ধরা হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শারীরিক, মানসিক, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর মারাত্তক প্রভাব পড়ে। যার ফলে এই বয়সে সে আস্তে আস্তে নেতিয়ে যেতে থাকে এবং নানা ধরনের রোগ এ আক্রান্ত হয়। যদিও এই প্রক্রিয়া আটকানোর ক্ষমতা কারো নেই, তবুও বৃদ্ধ বয়সে খুব সহজেই সুস্থ থাকা যায় যদি ঠিক পরিমান পুষ্টি গ্রহণ করা হয়। আসুন জেনে নিই, কী পরিমান পুষ্টি দরকার একজন বয়স্ক মানুষের।


৩৫ বছরের পর থেকে পেশী ও কলা কাজ কম করে এবং সেই সাথে (বি এম আর) হ্রাস পায়। ফলে শক্তি চাহিদা কমে যায়। কারণ এই সময় মানুষ কাজ কর্ম কম করে। তাই ওজন এর সাথে মিল রেখে প্রতিদিনের খাবার কেমন হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে ব্যক্তি যদি মোটা হয় তবে সে ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ব্যবস্থা করে নিতে হবে।

বৃদ্ধ বয়সে ক্ষুদা হ্রাস পায়, এবং হজম শক্তি কমে আসে বলে মানুষ কম আমিষ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসময় আমিষ এর চাহিদা সাধারন মানুষের মতই থাকে। তাই এসময় আমিষ গ্রহণ করা দরকার। সে ক্ষেত্রে মাছ ও দুধের পরিমান বেশি রাখা যেতে পারে।

শারীরিক কর্ম হ্রাস পাওয়ায় ক্যালরি চাহিদা কমে যায়। সেই সাথে কমে যায় ফ্যাট এর চাহিদা ও। ফ্যাট এর চাহিদা পুরণ করার জন্য ভেজিটেবল তেল যেমন (সয়াবিন, সূর্যমুখীর তেল, জল্পাই এর তেল) ব্যাবহার করা উচিত।

বৃদ্ধ বয়সে ক্যালসিয়াম এর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ৫০+ মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন তৈরি হয় খুবই এবং ক্যালসিয়ামের এর চাহিদা বাড়ে।এই বয়সে তাই হাড্ডি ক্ষয় বা অস্ট্রীয়পরোসিস রোধ করতে দরকার হয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন ডি জাতীয় খাবারের। এক্ষেত্রে দুধ খুব উপকারি খাবার। এছাড়াও কিছু মিনারেলস এর চাহিদা এই বয়সে বেড়ে যায়। তার মদ্ধে রয়েছে আয়রন। এর অপর্যাপ্ততায় রক্ত শুন্যতা দেখা দিতে পারে। সোডিয়াম, জিঙ্ক, ইত্যাদি চাহিদা অনুযায়ী প্রদান করতে হবে।

বৃদ্ধ বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই শরীর অনেক দুর্বল থাকে। তাই পর্যাপ্ত চাঞ্চল্যতা ধরে রাখার জন্য এ সময় সব ধরনের ভিটামিন বেশি পরিমান দিতে হবে। তবে এর মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও ভিটামিন ডি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

পানির গুরুত্ব আমরা সবাই জানি। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করতে হবে। কমপক্ষে ২ লিটার পানি প্রতিদিন। এই পানি কিডনিকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে এবং দেহ থেকে দূষিত ও বজ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে।

প্রচুর পরিমানে আঁশ জাতীয় খাবার খেতে হবে। বৃদ্ধ বয়সে কোস্টকাঠিন্য একটি সমস্যা যা দূর করতে আঁশ এর বিকল্প নেই।

একটু নজর দিলেই আপনার বাসার সম্মানের মানুষটাকে রাখতে পারেন সুস্থ ও সুন্দর। নিজের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি খেয়াল রাখুন, সেই মানুষটির উপরে যে কিনা এতদিন আপনার তদারকি করেছেন।

23/10/2020

বৃদ্ধ বয়সে সুস্থ থাকার সন্ধান দিলেন গবেষকরা!


বৃদ্ধ বয়সে সুস্থ থাকার সন্ধান দিলেন গবেষকরা!

মানুষের বৃদ্ধ বয়সে নানা সমস্যা দেখা যায়। বিভিন্ন রোগ-ব্যাধির সঙ্গে যুক্ত হয় একাকিত্ব। যার ফলে প্রবীনদের মধ্যে দেখা যায় নানা মানসিক সমস্যা। বিশেষ করে স্মৃতিভ্রংশ ব্যাপক হারে দেখা যায় প্রবীনদের মধ্যে। তবে প্রবীনদের জীবন সুস্থ থাকার পথের সন্ধান দিলেন ব্রিটেনের লাগবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

লাগবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই গবেষণায় বলা হয়েছে, বয়সকালে স্মৃতিভ্রংশ, একাকিত্ব থেকে মুক্তি দিতে পারে বিয়ে। প্রবীন বয়সের বিয়ে করলে নতুন বন্ধুত্বের ছোঁয়ায় মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে বলে গবেষকদের দাবি। এছাড়াও বিবাহিত জীবন এবং পরম বন্ধুত্ব প্রবীনদের স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রবীন বয়সে হাওয়া আলঝাইমার্স রোগ সারিয়ে তুলতে ওষুধের মত কাজ করে বিয়ে।

এই নিয়ে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৮ বছর ধরে ৬৫০০ জনের উপর গবেষণা চালিয়েছেন। পাশাপাশি আলঝাইমার্সে আক্রান্তদের ওপরও গবেষণা করে তারা বেশ কিছু লক্ষণ প্রবীনদের মধ্যে দেখেছেন। যেমন- মধ্যবয়সে শ্রবণশক্তি কমে আসা, বিষণ্নতায় ডুবে যায় ধীরে ধীরে।

এরপর বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিবাহিত জীবন প্রবীনদের আলঝাইমার্সের ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি তারা আরও জানিয়েছেন, কাছের বন্ধু-বান্ধব থাকলেও অনেকটা উপকার পাওয়া যায়।

21/10/2020

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আসিফ-ই-এলাহী (বাঁয়ে) ও সাজিদ আখতার
২০১৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র সাজিদ আখতার পেয়েছিলেন জিপিএ-৪.৫০। আর এ বছর সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসিফ-ই-এলাহীর অর্জন ৪.৬৭। ছেলে জিপিএ-৫ পায়নি বলে মা-বাবা আশাহত হয়েছিলেন, মন খারাপ হয়েছিল সাজিদ আর আসিফেরও। অথচ কী আশ্চর্য! গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যগামী একটি বিমানে চড়ে বসলেন দুজন। কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে তাঁরা ‘পিওর ম্যাথমেটিকসে’ স্নাতক পড়তে গেছেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেমন করে যুক্তরাজ্যের এই স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ হলো?

কলেজে পড়ার সময় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো জিপিএ অর্জন করাই থাকে শিক্ষার্থীদের প্রধান লক্ষ্য। অথচ সাজিদ-আসিফ নাকি বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির চেয়ে কেমব্রিজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন! কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে গণিত নিয়ে পড়ার জন্য এসটিইপি বা সিক্সথ টার্ম এক্সামিনেশন পেপার্স ইন ম্যাথমেটিকস নামের একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সঙ্গে প্রয়োজন হয় আইইএলটিএসের ভালো স্কোর। আবেদনের আরও বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নয়, এসবই ছিল আসিফ ও সাজিদের ভাবনায়। তাঁদের মনে এই আত্মবিশ্বাস গড়ে দিয়েছে গণিত অলিম্পিয়াড। স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছেন দুজন। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে আসিফ-ই-এলাহী দুবার রৌপ্য, একবার ব্রোঞ্জ ও একবার ‘অনারেবল মেনশন’ পেয়েছেন। সাজিদ আখতার অংশ নিয়েছেন তিনবার। তাঁর ফলাফল দুটি ব্রোঞ্জ ও একটি অনারেবল মেনশন। গণিত যাঁদের শক্তি, রুখবে তাঁদের কে!
এর আগে গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ থেকে যেই শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন, তাঁরাই পথ দেখিয়েছেন আসিফ-সাজিদদের। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়ে সামিন রিয়াসাত কেমব্রিজ থেকে গণিতে স্নাতক হয়েছেন, নাজিয়া চৌধুরী এমআইটি থেকে পড়াশোনা শেষ করে সিঙ্গাপুরে মেডিসিনে উচ্চতর ডিগ্রি নিচ্ছেন। তারিক আদনান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তামান্না ইসলাম, সৌরভ দাশ, বৃষ্টি শিকদার, শিঞ্জিনি সাহা, নূর মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, সানজিদ আনোয়ার সুযোগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি)। হক মোহাম্মদ ইশফাক স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। আদিব হাসান এমআইটিতে পড়ার আগে ছয় মাস সময় নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
সাজিদ আর আসিফও বেশ কয়েক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। গত বছর উচ্চমাধ্যমিক পাস করে সাজিদ ভর্তি হয়েছিলেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে, তবে কেমব্রিজে যাওয়ার চেষ্টাও চলছিল। সাজিদের মা রাকিবা আফরোজ বলেন, ‘এইচএসসিতে এ প্লাস পায়নি বলে আমার ছেলের একটু মন খারাপ হয়েছিল। তবে সে ভেঙে পড়েনি। একদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে, অন্যদিকে বাইরে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে।’ বাবা সোহেল আখতারের বক্তব্য, ‘এ প্লাস নিয়ে এখন আর দুঃখ নেই। শেষটা ভালো হলো, এতেই আমি খুশি।’ আর সাজিদ? তাঁর কাছে জানতে চাই, কীভাবে পেলেন এই আত্মবিশ্বাস? আকাশে ওড়ার আগে মুঠোফোনে সাজিদ বলেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার কারণে একটা সমস্যার পেছনে লেগে থাকা শিখেছি। হাল ছাড়িনি। নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির জন্য লেগে ছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেখানেই যাচ্ছি।’
আসিফ-ই-এলাহী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মধ্যেই মালয়েশিয়ায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর বাবা আজিজুর রহমান বললেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আসিফ খুব একটা পড়েনি। ওর মায়েরও কেমব্রিজের প্রতিই বেশি আগ্রহ ছিল।’ আর মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘এ প্লাস না পাওয়ায় মন একটু তো খারাপ হয়েছিলই। ছেলে যখন এইচএসসির ফলাফল ভুলে বিদেশে যাওয়ার জন্য পরিশ্রম শুরু করল, তখন আমিও ভরসা পেয়েছি।’ কেমব্রিজে পৌঁছে আসিফ ই-মেইলে জানিয়েছেন, ‘গণিত অলিম্পিয়াডের সুযোগে অনেক বড় ভাই-আপুদের দেখেছি, যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড, এমআইটি আর স্ট্যানফোর্ডে পড়ছেন। তাঁদের দেখেই কেমব্রিজে পড়ার স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি।’ কিন্তু যদি কেমব্রিজে সুযোগ না হতো, তখন? এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আসিফের উত্তর, ‘তাহলে আমেরিকার কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যেতাম।’
শেষ পর্যন্ত তাঁকে বিকল্প খুঁজতে হয়নি। আসিফ-ই-এলাহী ও সাজিদ আখতার তাঁদের স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বপ্নের বিষয় নিয়েই পড়ছেন। তাঁরা যে শুধু নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করেছেন, তা নয়। দেশে জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের যাঁরা ‘খারাপ ছাত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেন, তাঁদের জন্য একটা বার্তাও দিলেন এই দুই তরুণ

Website

Address


Uttra Sector 15
Dhaka