Mufti shafiullah 55
আসসালামু আলাইকুম।
আমরা ভালো কাজে একে অপরের সাথে আছি।
22/09/2026
🌸 ইসলামের সৌন্দর্য 🌸
ইসলাম শুধু নামাজ-রোজার ধর্ম নয়; ইসলাম হলো মানুষের পুরো জীবনকে সুন্দর করার বিধান।
🌿 ইসলাম শেখায়—
আল্লাহকে ভালোবাসো, তাঁর ওপর ভরসা করো।
🕌 নামাজ পড়ো—যাতে হৃদয় আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত থাকে।
📖 কুরআন পড়ো—যাতে জীবন আলোর পথে পরিচালিত হয়।
❤️ মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণ করো—কারণ তাঁদের হক অত্যন্ত মহান।
🤝 প্রতিবেশীর হক আদায় করো—সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, তার প্রতি জুলুম করো না।
💝 গরিব-মিসকিনকে সাহায্য করো—নিজের সম্পদে অন্যের অধিকার মনে রাখো।
🗣️ সত্য কথা বলো—মিথ্যা, গীবত ও অপবাদ থেকে বেঁচে থাকো।
⚖️ ন্যায়বিচার করো—নিজের বিরুদ্ধেও সত্য ও ন্যায়কে গ্রহণ করো।
🌹 ক্ষমা করতে শেখো—প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা ইসলামের সৌন্দর্যের অংশ।
🕊️ প্রাণীর প্রতিও দয়া করো—ইসলাম দয়া ও করুণার শিক্ষা দেয়।
🌙 আর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—
বান্দা যত বড় গুনাহগারই হোক, আন্তরিকভাবে তাওবা করলে আল্লাহর রহমতের দরজা তার জন্য খোলা থাকে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।”
— সূরা আল-বাকারা: ২২২
ইসলামের সৌন্দর্য হলো—এটি মানুষকে শুধু ভালো মুসলিম নয়, বরং ভালো মানুষ হতেও শিক্ষা দেয়। 🌿
#ইসলামের_সৌন্দর্য #ইসলাম #কুরআন #সুন্নাহ #তাওবা
21/09/2026
তাওবা সম্পর্কে ১০টি কুরআনের আয়াত ও ১০টি সহিহ/গ্রহণযোগ্য হাদিস আরবি, বাংলা অর্থ ও সূত্রসহ দিলাম।
🌿 তাওবা সম্পর্কে ১০টি কুরআনের আয়াত
১. সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৮
> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তাওবা করো।
---
২. সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩
> لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ
অর্থ: তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।
পূর্ণ আয়াতের শিক্ষা: আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
---
৩. সূরা আন-নূর ২৪:৩১
> وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।
---
৪. সূরা আল-বাকারা ২:২২২
> إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদের ভালোবাসেন।
---
৫. সূরা আন-নিসা ৪:১৭
> إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِن قَرِيبٍ
অর্থ: আল্লাহর কাছে তাওবার গ্রহণযোগ্যতা তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর দ্রুত তাওবা করে।
---
৬. সূরা আন-নিসা ৪:১১০
> وَمَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
অর্থ: যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের ওপর জুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।
---
৭. সূরা আল-ফুরকান ২৫:৭০
> إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا
অর্থ: তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে—তাদের কথা ভিন্ন।
বিশেষ শিক্ষা: তাওবার পর আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে নেকিতে পরিবর্তন করে দিতে পারেন।
---
৮. সূরা হূদ ১১:৩
> وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ
অর্থ: তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, তারপর তাঁর দিকে তাওবা করে ফিরে আসো।
---
৯. সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩৯
> فَمَن تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ
অর্থ: অতঃপর যে ব্যক্তি নিজের জুলুমের পর তাওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।
---
১০. সূরা আল-কাসাস ২৮:৬৭
> فَأَمَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَىٰ أَن يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
অর্থ: তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আশা করা যায় সে সফলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
---
🌸 তাওবা সম্পর্কে ১০টি হাদিস
১. আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
অর্থ: আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর সর্বোত্তম ভুলকারীরা হলো যারা বেশি তাওবা করে।
📚 সুনান আত-তিরমিজি, ২৪৯৯
---
২. আল্লাহ বান্দার তাওবায় অত্যন্ত আনন্দিত হন
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মরুভূমিতে হারানো বাহন ফিরে পেয়ে কোনো ব্যক্তি যতটা আনন্দিত হয়, আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তার চেয়েও বেশি আনন্দিত হন।
📚 সহিহ মুসলিম, ২৭৪৭
---
৩. দিনে-রাতে তাওবার সুযোগ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ
অর্থ: আল্লাহ রাতে তাঁর রহমতের হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনের পাপকারী তাওবা করতে পারে; আর দিনে তা প্রসারিত করেন, যাতে রাতের পাপকারী তাওবা করতে পারে।
📚 সহিহ মুসলিম, ২৭৫৯
---
৪. সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগে পর্যন্ত
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
অর্থ: বান্দার প্রাণ কণ্ঠনালীতে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
📚 সুনান আত-তিরমিজি, ৩৫৩৭
---
৫. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাওবার দরজা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
অর্থ: বান্দার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত আসার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন।
📚 সুনান আত-তিরমিজি, ৩৫৩৭
---
৬. রাসুল ﷺ নিজেও বেশি বেশি তাওবা করতেন
ইবনু উমর (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এক মজলিসে তাঁকে একশবার বলতে গণনা করেছি:
> رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
📚 সুনান আবু দাউদ, ১৫১৬; সুনান আত-তিরমিজি, ৩৪৩৪
---
৭. গুনাহ না করলে আল্লাহ অন্য জাতি আনতেন
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللَّهُ بِكُمْ، وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ
অর্থ: সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা যদি গুনাহ না করতে, আল্লাহ তোমাদের সরিয়ে এমন জাতি আনতেন যারা গুনাহ করত, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং তিনি তাদের ক্ষমা করতেন।
📚 সহিহ মুসলিম, ২৭৪৯
শিক্ষা: গুনাহ করা বৈধ নয়; বরং গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করা জরুরি।
---
৮. তাওবার মাধ্যমে পাপ মুছে যায়
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
অর্থ: যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই নেই।
📚 সুনান ইবনু মাজাহ, ৪২৫০
---
৯. আল্লাহ বান্দার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি মায়ের সন্তানের প্রতি দয়ার চেয়েও বেশি দয়ালু।
📚 সহিহ বুখারি, ৫৯৯৯; সহিহ মুসলিম, ২৭৫৪
শিক্ষা: তাই গুনাহ হয়ে গেলে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।
---
১০. উত্তম আমল হলো তাওবা ও ফিরে আসা
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> أَفْضَلُ الْعِبَادَةِ الدُّعَاءُ
তাওবার সঙ্গে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, ক্ষমা চাওয়া ও নেক আমল করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
তাওবার মূল শিক্ষা হলো—গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া, পুনরায় গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা এবং মানুষের হক নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া।
🤲 হে আল্লাহ! আমাদের প্রকাশ্য ও গোপন সব গুনাহ ক্ষমা করুন, খাঁটি তাওবা করার তাওফিক দিন এবং তাওবার ওপর অটল রেখে ঈমানের সঙ্গে মৃত্যু দান করুন। আমিন।
20/09/2026
নামাজের কিছু ভুল এমন আছে, যেগুলোর কারণে নামাজ সহিহ হয় না। তবে সব ভুলের হুকুম এক নয়—কিছু ভুলে নামাজ নষ্ট হয়, কিছু ভুলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়, আবার কিছু ভুলে নামাজের কোনো ক্ষতি হয় না।
যে ভুলগুলোতে নামাজ সহিহ হয় না
1. ওযু ছাড়া নামাজ পড়া — ওযু না থাকলে নামাজ সহিহ হবে না।
2. নামাজের ফরজ সময়ের আগে নামাজ পড়া — সময় হওয়ার আগে পড়লে নামাজ আদায় হবে না।
3. কিবলা থেকে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যে কিবলা দিক সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়—বিনা ওজরে হলে নামাজ নষ্ট হবে।
4. সতর খোলা থাকা—যদি নামাজের প্রয়োজনীয় সতর এমনভাবে প্রকাশিত থাকে যে শরিয়তসম্মতভাবে নামাজের শর্ত পূরণ হয় না।
5. নামাজে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা—সাধারণ মানুষের কথাবার্তা নামাজ নষ্ট করে।
6. ইচ্ছাকৃতভাবে খাওয়া বা পান করা—সামান্য হলেও নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।
7. ইচ্ছাকৃতভাবে এমন বেশি নড়াচড়া করা, যা দেখে মনে হয় সে নামাজে নেই।
8. ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজের কোনো ফরজ ছেড়ে দেওয়া—যেমন রুকু বা সিজদা বাদ দেওয়া।
9. এক রাকাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিয়ে অন্য রাকাতে চলে যাওয়া, এবং পরে শরিয়তসম্মতভাবে তা সংশোধন না করা।
10. নামাজ ভেঙে যায় এমন কোনো কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করা—যেমন অট্টহাসি, ইচ্ছাকৃতভাবে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করে দেওয়া ইত্যাদি।
মনে রাখবেন: শুধু ভুল হলেই নামাজ বাতিল হয় না। যেমন কোনো ওয়াজিব ভুলে ছুটে গেলে অনেক ক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু করতে হয়।
20/09/2026
📚 আলেম হও, তালেবে ইলম হও!
একটি প্রসিদ্ধ বাণীতে বলা হয়েছে—
كُونُوا عَالِمًا، أَوْ مُتَعَلِّمًا، أَوْ مُسْتَمِعًا، أَوْ مُحِبًّا
“তুমি আলেম হও, অথবা তালেবে ইলম হও, অথবা জ্ঞান মনোযোগ দিয়ে শ্রবণকারী হও, অথবা জ্ঞানীদের ভালোবাসো।”
🌿 জীবনকে শুধু দুনিয়ার জ্ঞান ও সম্পদ অর্জনে ব্যস্ত রেখো না।
কুরআন শেখো, হাদিস শেখো, দ্বীনের মাসআলা শেখো এবং যারা দ্বীনের ইলম অর্জন করেছেন—তাদের সম্মান ও ভালোবাসা রাখো।
🤲 আজ থেকেই সিদ্ধান্ত নিন—
আলেম হতে না পারলেও তালেবে ইলম হবো,
তালেবে ইলম হতে না পারলেও ইলম শুনবো,
আর অন্তত দ্বীনের ইলম ও আলেমদের ভালোবাসবো।
কারণ ইলমের পথই মানুষকে আল্লাহর নৈকট্যের পথে নিয়ে যায়। 🤍
#ইলম #তালেবে_ইলম #আলেম #দ্বীনি_জ্ঞান #ইসলাম
20/09/2026
ছেলেটার বয়স মাত্র ১৩ বছর! 💔
নাম—ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।
বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে মায়ের আইফোনটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফিরেনি। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পরে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনায় কয়েকজনকে আটক/গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলছে।
একজন মা যখন দেখেন—তার সন্তান ঘরে ফিরছে না, তখন তার বুকের ভেতর দিয়ে কী ঝড় বয়ে যায়, তা হয়তো শুধু একজন মা-ই বুঝতে পারেন।
নাহিদা বেগমও বারবার তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
একজন মা শুধু চেয়েছিলেন—তার সন্তান জীবিত অবস্থায় ফিরে আসুক।
কিন্তু অপ্রতিম আর ফিরল না।
ফিরল তার নিথর দেহ। 💔
একটি মোবাইল ফোনের মূল্য যতই হোক, একটি শিশুর জীবনের চেয়ে তা কখনোই বড় হতে পারে না।
একটি আইফোন আবার কেনা যায়।
হারানো টাকা আবার উপার্জন করা যায়।
কিন্তু একজন মায়ের হারিয়ে যাওয়া সন্তান—
কোনো মূল্যেই আর ফিরে পাওয়া যায় না।
আজ অপ্রতিমের মায়ের ঘরে শুধু একজন সন্তান নেই—
একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে প্রিয় একটি অংশ যেন চিরতরে হারিয়ে গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।
আর আমাদের প্রত্যেকের জন্য এটি হোক কঠিন একটি সতর্কবার্তা—
সন্তানকে শুধু ভালো স্কুলে পড়ালেই দায়িত্ব শেষ নয়;
তাকে নিরাপদ রাখা, বিপদ চিনতে শেখানো এবং কোথায় যাবে—কার সঙ্গে যাবে—এসব বিষয়ে সচেতন করাও আমাদের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা অপ্রতিমকে মাফ করুন, তার পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দিন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করুন। আমিন। 🤲
#অপ্রতিম #শিশু_নিরাপত্তা #ন্যায়বিচার_চাই #সচেতনতা #বাংলাদেশ
19/09/2026
🌿 জীবনের একটি সুন্দর শিক্ষা 🌿
মানুষের জীবনে সবকিছু একসঙ্গে সুন্দর থাকে না।
কখনো সুখ আসে, কখনো দুঃখ; কখনো সম্মান আসে, কখনো অবহেলা; কখনো দরজা খুলে যায়, আবার কখনো অনেক চেষ্টা করেও দরজা বন্ধ থাকে।
তবে মনে রাখবেন—
আল্লাহ যা দেন, তা হিকমতের সঙ্গেই দেন।
আর যা থেকে বঞ্চিত করেন, তাতেও কোনো না কোনো কল্যাণ লুকিয়ে থাকে।
তাই মানুষের কথায় ভেঙে পড়বেন না,
পরিস্থিতির চাপে হতাশ হবেন না,
নিজের অতীত নিয়ে আফসোসে ডুবে থাকবেন না।
বরং আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন।
নামাজকে আঁকড়ে ধরুন, দোয়া করুন, তাওবা করুন এবং ধৈর্য ধরুন।
আজকের কষ্ট হয়তো আগামী দিনের সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষায় পরিণত হবে।
🤲 হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে আপনার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসে পূর্ণ করে দিন, বিপদে ধৈর্য দিন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন। আমিন।
#ইসলামিক_পোস্ট #আল্লাহর_উপর_ভরসা #সবর #দোয়া #আখিরাত
19/09/2026
দাইয়ূস কাকে বলে? — ভয়াবহতা
দাইয়ূস (الدَّيُّوث) বলতে এমন পুরুষকে বোঝানো হয়, যে নিজের স্ত্রী বা পরিবারের নারীদের প্রকাশ্য অশ্লীলতা ও ব্যভিচারের মতো হারাম কাজে জেনেও মেনে নেয় এবং এতে তার কোনো শরয়ি গায়রত বা প্রতিবাদ থাকে না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> ثَلَاثَةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: الْعَاقُّ لِوَالِدَيْهِ، وَالدَّيُّوثُ، وَرَجُلَةُ النِّسَاءِ
“তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না: যে ব্যক্তি পিতা-মাতার অবাধ্য, দাইয়ূস এবং নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষ।”
—মুসনাদ আহমদ
দাইয়ূস হওয়া কেন এত ভয়াবহ?
১. পরিবারের পাপকে প্রশ্রয় দেওয়া
একজন স্বামী বা অভিভাবকের দায়িত্ব হলো পরিবারের মানুষকে হারাম থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা। জেনে-শুনে অশ্লীলতা ও ব্যভিচারকে অনুমোদন করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।
২. গায়রত বা আত্মমর্যাদাবোধ হারিয়ে ফেলা
ইসলামে গায়রত মানে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে পরিবারকে রক্ষা করার বৈধ ও ভারসাম্যপূর্ণ চেতনা। তবে গায়রত কখনো জুলুম, সন্দেহ, মারধর বা অন্যায় নিয়ন্ত্রণের নাম নয়।
৩. নিজের গুনাহের পাশাপাশি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া
পরিবারের কেউ গুনাহ করলে তাকে ভালোভাবে নসিহত করা এক বিষয়; আর গুনাহকে জেনেশুনে সমর্থন বা স্বাভাবিক করে দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
একজন পুরুষ কীভাবে দাইয়ূস হওয়া থেকে বাঁচবে?
স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা দিন।
পরিবারে পর্দা, শালীনতা ও ইসলামী আদব প্রতিষ্ঠা করুন।
অশ্লীলতা দেখলে ভালোবাসা ও হিকমতের সঙ্গে নিষেধ করুন।
প্রমাণ ছাড়া স্ত্রী বা পরিবারের কাউকে সন্দেহ করবেন না।
রাগের নামে জুলুম বা নির্যাতন করবেন না।
নিজের আমল ও চরিত্র দিয়েও পরিবারের জন্য আদর্শ হন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা:
কোনো নারী ভুল করলে তার স্বামীকে শুধু সেই ভুলের কারণে “দাইয়ূস” বলে দেওয়া ঠিক নয়। দাইয়ূস হওয়ার ক্ষেত্রে জেনে-শুনে হারাম ও অশ্লীলতাকে মেনে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নিজেদের, স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারকে হারাম থেকে হেফাজত করার তাওফিক দিন। আমিন।
19/09/2026
🎵 গান-বাদ্যের ভয়াবহতা — ইসলামের আলোকে
ইসলাম মানুষের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে জীবিত রাখতে চায়। তাই অশ্লীল, গুনাহের দিকে আহ্বানকারী বা হারাম বিষয়যুক্ত গান থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
> وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ
“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমন কথাবার্তা ক্রয় করে, যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে।”
—সূরা লুকমান: ৬
ইবনু মাসউদ (রা.) ‘لَهْوَ الْحَدِيثِ’-এর ব্যাখ্যায় গানকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> «لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ»
“আমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক অবশ্যই হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করবে।”
—সহিহ বুখারি, ৫৫৯০
⚠️ গান-বাদ্যের ক্ষতিকর দিক
১. অন্তরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করতে পারে।
২. নামাজ ও ইবাদতে অলসতা সৃষ্টি করতে পারে।
৩. অশ্লীলতা ও হারাম সম্পর্ককে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
৪. সময় ও জীবনের মূল্যবান মুহূর্ত নষ্ট করতে পারে।
৫. গুনাহের প্রতি ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে।
৬. অশ্লীল গান মানুষের চিন্তা ও চরিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৭. গান যদি মদ, zina, অশ্লীলতা বা অন্য গুনাহের প্রচার করে, তার গুনাহ আরও গুরুতর হয়।
৮. শ্রবণের অভ্যাস অন্তরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—তাই কী শুনছি, তা নিয়ে মুমিনের সতর্ক থাকা উচিত।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা: ইসলামী ফিকহে সব ধরনের কণ্ঠ, কবিতা ও সুরের একই বিধান নয়; বিশেষ করে দফ, ঈদ ও বিবাহের কিছু ক্ষেত্রে হাদিসে ব্যতিক্রমের আলোচনা আছে। তাই বিষয়টি বুঝতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়।
> “যে জিনিস আপনাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা ছেড়ে দেওয়াই মুমিনের নিরাপদ পথ।”
কুরআন তিলাওয়াত #কুরআন
Category
Telephone
Website
Address
Madhabpur
3330
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Mufti shafiullah 55 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.