BD Health Tips & Ticks
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from BD Health Tips & Ticks, Health/Beauty, Mymensingh.
02/12/2021
17/11/2021
কেন বারবার প্রো বায়োটিক খাওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে?
আপনার কি প্রো বায়োটিক কাকে বলে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে? আপনি একা নন, অনেকেরই নেই। আমাদের পেটে বেশ কিছু ব্যাকটেরিয়া থাকে। তার কিছু ভালো, কিছু খারাপ। পেট ভালো থাকলেই ভালো থাকবে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য, তার প্রভাবেই ঝলমল করবে ত্বক আর চুলও। বার বার বলা হচ্ছে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখা একান্ত প্রয়োজনীয়, তাই খেতে হবে প্রো বায়োটিক। প্রো বায়োটিকে উপস্থিত ভালো ব্যাকটেরিয়া আপনার পেটের স্বাস্থ্যের যত্ন নেবে। যাঁদের কথায় কথায় পেট ফাঁপে, হজমের গোলমাল হয়, জিভে সাদাটে আস্তরণ পড়ে, তাঁদের অতি অবশ্যই প্রো বায়োটিক খাওয়া উচিত। প্রতিদিন আমরা যে সব ফল বা শাকসবজি খাই, তার মাধ্যমে অনেক রাসায়নিক আর প্রিজারভেটিভ ঢোকে শরীরে। এছাড়াও অনেকেই পেট ফাঁপলে বা একটু বদ হজম হলেই টপাটপ ওষুধ খান -- তাতে ভালো ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়, তাঁদেরও প্রো বায়োটিক লাগে।
এবার প্রশ্ন, কীভাবে মিলবে এমন উপকারি জিনিসটি? হ্যাঁ, বড়ো বড়ো ব্র্যান্ডের প্রো বায়োটিক কিনতে পাওয়া যায় ওষুধের দোকানে, তা অনলাইনেও আনিয়ে নিতে পারেন। তার চেয়ে সহজে অবশ্য বাড়িতেও বানিয়ে নেওয়া যায় প্রো বায়োটিক। ইডলি, দোসা, দই, আচার, ঘোলের মতো যে কোনও ফারমেন্টেড খাবারেই মেলে তা। পান্তা ভাতও খুব ভালো প্রো বায়োটিক। রান্না করা ভাত সামান্য জলে ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। মাটির পাত্রে ভেজাতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। পরদিন সকালে জলসহ ভাত দু' চামচ খেয়ে নিন খালিপেটে। সারাদিনের মতো আপনি নিশ্চিন্ত! শরীরে আর কোনও প্রদাহ থাকবে না, পেট থাকবে ঠান্ডা
17/11/2021
কেবল সুগন্ধ নয়, দারচিনির আরও অনেক গুণই আছে!
রান্নায় কখনও দারচিনি ব্যবহার করেননি, এমন কেউ আছেন নাকি? কিন্তু সুগন্ধ ছাড়া যে তার আরও নানা গুণ আছে, তা হয়তো কখনও ভেবে দেখেননি, তাই না? প্রাচীন মিশরেও দারচিনির বহুল ব্যবহার প্রচলিত ছিল। নাম শুনেই বুঝতে পারা যায় যে তীব্র মিষ্ট গন্ধযুক্ত এই মশলাটি প্রকৃতপক্ষে গাছের বাকল -- এর মধ্যে উপস্থিত সিনামালডিহাইড নামক একটি যৌগের প্রভাবে আপনার সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ক্রমশ উন্নত হয় মেটাবলিজম। তা ছাড়া এর প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডান্ট শরীরকে বাঁচায় ফ্রি র্যাডিকালের হাত থেকে। তা ছাড়া প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবেও দারচিনির ব্যবহার হয়। তাই যখন ফলের জ্যাম বানাবেন বা বেশিদিন রেখে খাওয়ার মতো কোনও চাটনি, তখন অবশ্যই দারচিনির পাউডার যোগ করে দিন।
যাঁদের শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনের মাত্রা বেশি, অর্থাৎ অ্যালার্জির সমস্যায় প্রায়ই ভোগেন, তাঁরা চা বা কফি খাওয়ার সময় দারচিনি মেশান। দারচিনি ফোটানো জলও খেতে পারেন চায়ের মতো করে। ইনফ্ল্যামেশন কিন্তু বেশিদিন ফেলে রাখা ঠিক না, তা ক্রমশ আপনার সুস্থ কোষগুলিকেও আক্রমণ করতে আরম্ভ করবে। অনেকে মনে করেন যে ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার, হজমের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এই মশলার ব্যবহার, তা বাড়ায় প্রতিরোধক্ষমতাও।
এবার প্রশ্ন, আপনি কীব্যাবে ব্যবহার করবেন এই মশলার? আগেই বলা হয়েছে যে, চা বা কফি তৈরির সময় দারচিনি ব্যবহার করা যায়। দিতে পারেন ওট বা কর্নফ্লেক্স খাওয়ার সময়েও। তবে হ্যাঁ, একটা সাবধানতা অবশ্যই মেনে চলুন -- বাজার থেকে কখনওই গুঁড়ো করা দারচিনি কিনবেন না, বাড়িতে গুঁড়িয়ে নিন এবং এয়ারটাইট পাত্রে রেখে ব্যবহার করুন।
04/10/2021
চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা আছে কী?
করোনা ভাইরাস আক্রমণ শানিয়েছে যবে থেকে, তবে থেকেই আমরা নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর সেই প্রসঙ্গেই বার বার উঠে আসছে চায়ের কথাও। চা, বিশেষ করে গ্রিন টি বা সাদা চায়ে প্রক্রিয়াকরণ সবচেয়ে কম হয়। তাই এই দুই ধরনের চায়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডান্ট মজুত থাকে। অ্যান্টিঅক্সিডান্ট কমায় ফ্রি-র্যাডিকালসের বাড়বাড়ন্ত। ফলে আপনি ভিতর থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে আরম্ভ করেন ক্রমশ। গ্রিন টি হাতের কাছে না থাকলে খাওয়া যায় দুধ ছাড়া লাল চা, তাতেও নানা উপকার মিলবে।
কালো চায়ে উপস্থিত থাকে পলিফেনলের নানা গ্রুপ, তার মধ্যেই পড়ে ক্যাটেচিনস, থিয়াফ্লাভিন, থিয়ারুবিজিনস। এ সবের প্রভাবে ভালো থাকে আপনার হার্টের স্বাস্থ্য। কমে এলডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ। পলিফেনল ভালো রাখে আপনার পেটে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়ার স্বাস্থ্য। ফলে শরীর অনেক আক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে পারে সহজে।
তবে চা খাওয়ার সময়েও কিছু নিয়ম অবশ্যই মেনে চলা উচিত। প্রথমেই চেষ্টা করুন ভালো মানের চা পাতা কিনতে। সারা দিন কাপের পর কাপ চা খেলেই কিন্তু হবে না, দিনে বড়োজোর চার থেকে পাঁচ কাপ চা খেতে পারেন। চা খেতে হবে চিনি ছাড়া, বা তা একান্ত সম্ভব না হলে সামান্য চিনি মেশাতে পারেন। তবে পরিমাণ যেন দিনে দু'চামচের বেশি না হয়। চায়ের সঙ্গে যদি বিস্কিট বা ভাজাভুজি খেয়ে ফেলেন একগাদা, তা হলেও হবে না। অল্প মুড়ি না ছোলাভাজা দিয়ে চা খেলে অবশ্য সমস্যা নেই। যদি দেখেন যে চা খাওয়ার পর পরই মুখটা টক হয়ে যাচ্ছে, তা হলে চিনি একেবারে বাদ দিন। দুধ দেওয়া চা খেলেও কিন্তু অম্বলের সমস্যা হতে পারে।
চা খালি পেটে খেলে কি সমস্যা হয়? এ প্রশ্নটা আছে অনেকের মনেই। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই যাঁরা চা খেতে অভ্যস্ত, তাঁদের যদি কোনও শারীরিক অসুবিধে না হয়, তা হলে নিজের রুটিন চালিয়ে যান। কিন্তু ইদানীং বলা হচ্ছে, ঘুম থেকে উঠে প্রথমে জল খাওয়া উচিত বেশি করে, তাতে সামান্য লেবুর রস বা নুন মেশানো যায়। এই অভ্যেস থাকলে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে। তার পর খান সামান্য বাদাম বা ছোলা ভেজানো অথবা কোনও ফল। তাতে মেটাবলিজম কাজ করতে আরম্ভ করে সুষ্ঠুভাবে। তার পর আসবে চায়ের পালা। ব্রেকফাস্টের সঙ্গে চা খেলে কোনও অসুবিধে হয় না সাধারণত। একবার ট্রাই করে দেখুন মাসখানেকের জন্য -- না পোষালে ফের নিজের রুটিনে ফিরে যাবেন।
03/10/2021
ডাবল চিন, ভারী গাল থেকে মুক্তি পেতে ভরসা রাখুন সহজ মুখের ব্যায়ামে
ফোলা ফোলা গাল, মুখের বেবি ফ্যাট ছোটবেলায় দেখতে যতই মিষ্টি লাগুক না কেন, প্রাপ্তবয়সে পৌঁছে মোটেই ভালো লাগে না, বরং নিজের হলে আরও অস্বস্তিকর ঠেকে। ডাবল চিনের সমস্যা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা মেকআপ করতে গিয়ে মাঝেমাঝেই সমস্যায় পড়েন। প্রথমত, চিবুকের নিচের অংশ ভারী হলে তা যেমন একদিকে দেখতে খারাপ লাগে, তেমনি মুখ বয়স্কও দেখায়। মেকআপ আর কায়দা করে পোশাক পরে ডাবল চিন কিছুটা আড়াল করা গেলেও তা মোটেই স্থায়ী সমাধান নয়। পাশাপাশি যাঁদের গালের দিকটাও ভারী, তাঁদের মুখ কনট্যুর করতেও অনেকটা সময় লেগে যায়। কাজেই মেকআপ দিয়ে সাময়িক ঢাকলেও শেষ পর্যন্ত মুখের বাড়তি ফ্যাট কমানোর দিকে মনোযোগ দিতেই হবে। হালকা কিছু মুখের ব্যায়াম করে মুখের পেশিগুলো টোন করা সম্ভব, তাতে গাল আর চিবুকের বাড়তি ফ্যাট তো কমবেই, মুখ হয়ে উঠবে তারুণ্যে ভরপুর। রইল কিছু সহজ ব্যায়ামের হদিশ।
ঠোঁট চেপে বন্ধ করে রাখুন, আর সেই অবস্থায় হাসার চেষ্টা করুন। গালের পেশি উপরদিকে উঠে যাবে। এবার দু'হাতের আঙুল দিয়ে গাল উপরদিকে টেনে ধরে রাখুন 20 সেকেন্ডের জন্য, তারপর ছেড়ে দিন। পাঁচবার রিপিট করুন।
মুখ বন্ধ রেখে গাল ফোলান। যতটা সম্ভব বাতাস ভরে নিন দু' গালে। এবার এই অবস্থায় 45 সেকেন্ড রেখে ধীরে ধীরে বাতাস ছেড়ে দিন। রিপিট করুন।
মুখের উপরের তালুতে জিভ চেপে ধরে থাকুন। এবার মাথা উপরের দিকে তুলে মুখ খুলে হাসার চেষ্টা করুন এবং একই সঙ্গে ঢোঁক গেলার চেষ্টা করুন। গলার উপরে চিবুকের নিচের অংশে টান পড়বে, গলা আর চিবুকের পেশি টোনড হবে।
মুখ বন্ধ রাখুন। এবার জিভটাকে মুখের ভিতরে গোল করে একপাশ থেকে অন্যপাশে ঘোরান। দশবার ডানপাশ থেকে বাঁ পাশে আর দশবার বাঁ দিক থেকে ডাইনে ঘোরালে একটি সেট সম্পূর্ণ হবে।
মুখ বন্ধ করে গালদুটো ভিতরদিকে টেনে ধরে থাকুন। ধীরে ধীরে দশ গুনে ছেড়ে দিন। এভাবে পাঁচবার করুন।
মুখ চেপে বন্ধ করে রাখুন। এবার নিচের ঠোঁটটাকে ঠেলে উপরের দিকে তোলার চেষ্টা করুন, সঙ্গে চিবুকও উঠবে। যতটা সম্ভব উঁচু করার চেষ্টা করুন।
03/10/2021
প্রাকৃতিক স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বকে উজ্জ্বলতা ফিরছে না? জেনে নিন কারণ
আমাদের ত্বকের কিছু কোষের মৃত্যু হয় প্রতিদিন -- প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই। এই যে আমরা মুখে জলের ঝাপটা দিই, স্নানের আগে তেল মালিশের পরামর্শ দেওয়া হয় -- সব কিছুরি উদ্দেশ্য একটাই -- মৃত কোষের স্তর সরিয়ে ত্বকের নিজস্ব উজ্জ্বলতা বের করে আনা। আগেকার দিনে মা-ঠাকুমারা স্নানের আগে দুধের সর-ময়দা, কমলালেবুর শুকনো খোসাবাটা দিয়ে রূপটান বানিয়ে গোটা গায়ে ঘষে ঘষে লাগাতেন -- তারও উদ্দেশ্য ছিল মৃত কোষের পরত সরিয়ে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ফেরানো। এগুলির প্রত্যেকটিই কাজ করে স্ক্রাব হিসেবে।
মনে রাখবেন যে, ত্বকের নিজেকে পরিষ্কার করে নেওয়ার নিজস্ব পদ্ধতি আছে, খুব বেশি ঘষাঘষি ছাড়াও তার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। হ্যাঁ, নিয়মিত স্ক্রাব করলে ত্বকে রক্ত চলাচল ভালো হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে। কিন্তু মুখের ত্বক যেহেতু খুব কোমল, তাই স্ক্রাব বাছাইয়ের ব্যাপারেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অনেকেই নুন বা চিনি আর মধুর মিশ্রণ মুখে ঘষে নেন স্ক্রাব হিসেবে। সঙ্গে মেশান লেবুর রস। মনে রাখবেন, ত্বকের প্রকৃতি যা-ই হোক না কেন করকরে নুন অথবা চিনিতে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, কিছু অংশে শুকনো প্যাচ তৈরির আশঙ্কাও থাকে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁদের ত্বকে বেশি সমস্যা দেখা দেয়। তার চেয়ে দুধ-ময়দার রূপটান লাগান। কোমল এই প্যাক অনেক বেশি কাজে দেবে।
একান্তই যদি ঘরোয়া সমাধানের উপর ভরসা রাখতেই হয়, তা হলে খুব নরম, পুরোনো কাপড়ের টুকরো নিন। তার উপর কয়েক ফোঁটা এক্সট্রা ভার্জিন নারকেল বা অলিভ তেল ঢালুন। তার পর সেই কাপড়টা খুব আলতো করে গোটা মুখে চক্রাকারে ঘোরাতে থাকুন। সপ্তাহে দু'বার এমনটা করলেই ঝকঝকে সুন্দর ত্বক পাবেন।
চিনি বা নুনের স্ক্রাব কিন্তু গোটা শরীর পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে দারুণ কাজে দেয়। তেল, মধু আর চিনি বা নুন মিশিয়ে নিন। তার মধ্যে লেবুর রস আর পছন্দের কোনও এসেনশিয়াল অয়েল মেশাতে পারেন। তার পর স্নানের আগে এই মিশ্রণ গোটা শরীরে লাগিয়ে নিন। কনুই, হাঁটুর কাছে ভালো করে রগড়ে নেবেন। তা হলে কালো দাগ থাকবে না।
03/10/2021
বড়ো বিপদের ঝুঁকি এড়াতে মাস্ক পরে ব্যায়াম নয়
বিশ্বজোড়া করোনার ত্রাস এখনও কমার নাম নেই। গোটা পৃথিবীতেই মানুষ সংক্রমণের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করছেন। মুখে মাস্ক পরে বেরোনো এখন দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। কিন্তু সম্প্রতি সেই ফেস মাস্কেরই একটি বিপজ্জনক দিক উঠে এসেছে সামনে। মাস্ক পরে জগিং করতে করতে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায় মুখে মাস্ক থাকা অবস্থায় শারীরিক পরিশ্রমের ধকল নিতে পারেনি ওই ব্যক্তির ফুসফুস।
আসলে সংক্রমণ রুখতে মাস্ক যত কার্যকরই হোক, অন্তত ব্যায়াম বা অন্য কোনও শারীরিক কসরত করার সময় তা থেকে দূরে থাকতেই হবে। নিজের নিরাপত্তার জন্যই জগিং বা ব্যায়ামের সময় কখনও মাস্ক পরবেন না। যদি নিজের বাড়িতেই ব্যায়াম করেন, মাস্ক পরার এমনিতেই প্রয়োজন নেই। আর লকডাউন উঠে যাওয়ার পর যদি পার্কে যান, তা হলে খেয়াল রাখবেন যেন আপনার থেকে বাকি ব্যক্তিদের দূরত্ব অন্তত ছ' ফুট হয়। এই দূরত্ব বজায় রেখে দৌড়োলে বা ব্যায়াম করলে ইনফেকশন ছড়ানোর ভয় নেই।
ব্যায়ামের সময় কেন মাস্ক পরবেন না
মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ব্যায়াম করার মধ্যে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। ব্যায়াম, বা যে কোনও শারীরিক কসরত করার সময় আমরা ফুসফুসে বাতাস বেশি টানি, ফুসফুসকেও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। মুখে মাস্ক থাকলে ফুসফুসে বাতাস ঢোকার পথে একটা বাধার সৃষ্টি হয়, যার ফলে আপনি একটুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হাঁফিয়ে যান। তা ছাড়া একটানা অনেকক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে তা ঘামে ভিজে গিয়ে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়।
কখন মাস্ক পরতেই হবে
আউটডোর ব্যায়াম করতে চান অথচ মাস্ক ছাড়া স্বস্তিবোধ করছেন না? আপনার হাঁপানি বা হার্টের সমস্যা থাকলে কিন্তু একেবারেই মাস্ক পরে ব্যায়াম করা চলবে না। এমনিতে যাঁরা সুস্থ, তাঁরাও মাস্ক পরে কোনওরকম ভারী এক্সারসাইজ করা থেকে বিরত থাকুন। জোর করে ব্যায়াম চালিয়ে যাবেন না, একটু ক্লান্ত লাগলেই থামিয়ে দিন।
03/10/2021
আচমকা বৃষ্টি আর তাপমাত্রার পরিবর্তন থেকে সাবধানতা অবলম্বন করছেন তো?
জৈষ্ঠ্য মাসের প্রবল দাবদাহ উধাও, বরং আচমকা ঝড়বৃষ্টি হয়ে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই। এতটাই ফারাক হচ্ছে দিন-রাতের তাপে যে ঘুমের মাঝে ভোরের দিকে গায়ে চাদর টানতে হচ্ছে। ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. জয়দীপ ঘোষ বলছেন, “তাপমাত্রার এই বিরাট ফারাকটাই আমাদের শরীর নিতে পারে না। বিশেষ করে যাঁরা একটু দুর্বল বা ইমিউনিটি কম, তাঁদের বেশি সমস্যা হয়। ভাইরাল ফিভার বা সর্দি-কাশিতে তাঁরা কাবু হয়ে পড়েন সাধারণত। আর বৃষ্টির জমা জলে কিন্তু মশার বংশবৃদ্ধি হয়। তাই বাড়ির আশে পাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না।"
মারণ করোনা ভাইরাস ঘরবন্দি করে ছেড়েছে গোটা দুনিয়াকে। তার মধ্যে যদি মশা বাড়ে, তা হলে কিন্তু ডেঙ্গু আর ম্যালেরিয়াও হানা দেবে খুব দ্রুত। তাই বৃষ্টির জল কোথাও জমতে দেবেন না। ঝড়ের দাপটে টব ভাঙতে পারে -- যত শিগগির সম্ভব সে সব ভাঙা টুকরো সরিয়ে ফেলুন। কোথাও বাতিল টায়ার, নারকেলের খোল ইত্যাদিও পড়ে থাকতে দেবেন না -- তাতেও জল জমতে পারে। ইদানীং বহু গাড়ি আমাদের সবার বাড়ির আশপাশেই পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায় –- সেগুলি মশার আঁতুড়ঘর হয়ে উঠছে কিনা তা দেখতে হবে খতিয়ে। আপনার রোজের গায়ে মাখার তেলে সিট্রোনেলা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে রাখতে পারেন। তা গায়ে-হাতে-পায়ে মাখলে মশা কামড়াবে না।
লকডাউনের জেরে যেহেতু আমরা অনেকেই এখন বাড়িতেই আছে, তাই তাপমাত্রার ফারাক হলেও খুব একটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টিতে ভিজে নাকাল হয়ে এসিতেও দুম করে ঢুকছেন না বেশিরভাগ মানুষ। তাই ভাইরাল ফিভার এমনিতেই কম হচ্ছে এ বছর। তা ছাড়া বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে না, সর্দি-কাশি হয়েছে এমন কেউ আপনার খুব কাছাকাছি চলে আসার সুযোগও পাবেন না চট করে। তাই সেই ধরনের সংক্রমণের সংখ্যা কম। কিন্তু ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া ছড়াতে আরম্ভ করলে মুশকিল হবে।
বাড়ি ও তার আশপাশ জলহীন রাখার পাশাপাশি কয়েকটা নিয়ম মেনে চলুন। বাড়ি ঝাড়পোঁছ করে পরিষ্কার রাখতে হবে। যাঁদের চৌবাচ্চা আছে, তাঁরে বেশি সাবধান। স্থির, বদ্ধ জলে ডেঙ্গুর মশা ডিম পাড়ে। মশা হলে তা নির্মূল করার জন্য যে পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর মনে হবে তা মেনে চলুন। অনেকে বলেন যে পাতিলেবু অর্ধেক করে কেটে, তার মধ্যে লবঙ্গ গুঁজে ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে রাখলে মশা বাড়তে পারে না। এই পদ্ধতি ট্রাই করে দেখতে পারেন। ডিফিউসারে সিট্রোনেলা তেল দিয়ে জ্বালানো যায়। তার গন্ধেও মশা আসে না।
02/10/2021
একফালি জায়গায় সহজেই ফলিয়ে নিন দরকারি হার্বস
বাঙালি রান্না মানে শুধু তেল, হলুদ, লঙ্কা নয়, তার সঙ্গে অনেকখানি নানারকম মশলার গন্ধ! আর মশলা মানে কি শুধু জিরে, পাঁচফোড়ন আর তেজপাতা? মোটেই না! ধনেপাতা, কারিপাতা, পুদিনার মতো হার্ব যে সাধারণ রান্নার স্বাদগন্ধ কতটা বাড়িয়ে তুলতে পারে, তা সব্বাই জানেন! ইদানীং, নানান মাল্টিকুইজিন রেস্তোরাঁর সুবাদে পরিচিত হার্বের পাশাপাশি অনেক বিদেশি হার্বের সঙ্গেও পরিচয় ঘটেছে আমাদের। সুপারমার্কেটে এ সব দেশি-বিদেশি হার্বস পাওয়া যায় বটে, কিন্তু এখন লকডাউনের জেরে কবে মার্কেটে সে সব পাওয়া যাবে তার ঠিক নেই, দ্বিতীয়ত, নিজের দরকারি হার্বস নিজে ফলিয়ে নেওয়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা আর কিছুতে নেই! আর সবচেয়ে বড়ো কথা, কিচেন গার্ডেন করতে মোটেই একগাদা জায়গার দরকার হয় না! বারান্দার কোণে, জানলার তাকে বা ছাদের একফালি জায়গাতেই দিব্যি ফলিয়ে নিতে পারবেন দরকারি হার্বস!
রোজকার রান্নায় দরকার কিছু হার্বের কথা বললাম আমরা। রান্নার স্বাদ দ্বিগুণ করতে এ সব হার্ব যেমন কাজের, তেমনি এদের কিছু ওষধিগুণও রয়েছে। জেনে নিন কী কী হার্ব বুনতে পারেন আপনার রান্নাঘরের বাগানে!
বেসিল
মূলত ইটালিয়ান খাবারে বেসিলের ব্যবহার হয়। খাবারের স্বাদগন্ধ বাড়িয়ে তুলতে জুড়ি নেই বেসিলের। বাড়িতে যে তুলসি গাছ থাকে, তার চেয়ে একটু আলাদা এই বেসিল। তবে গোত্রের দিক থেকে দুটিই এক। আলাদা করে বেসিল চারা কেনার দরকার নেই, বাড়িতে তুলসি গাছ থাকলেই হবে। তুলসি গাছ ছোট টবে হতে পারে, বিশেষ যত্নআত্তি ছাড়াও ভালো থাকে। অল্প রোদ আসে এমন জায়গায় টব রেখে দিন। প্রয়োজনমতো রান্নায় ব্যবহার করুন। শুধু রান্নাতেই নয়, সর্দিকাশি কমাতেও তুলসি বা বেসিলের রস উপকারী। রোজ সকালে দু' তিনটে পাতা ভালো করে ধুয়ে চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন, কাশির ধাত কমে যাবে।
পুদিনা
চাটনি থেকে শুরু করে রান্নার উপাদান হিসেবে পুদিনা পাতার স্বাদ আর গন্ধ অনেকেই খুবই পছন্দ করেন। বাড়িতে খুব সহজেই পুদিনা বুনতে পারেন। বাজার থেকে পুদিনা পাতা কিনে গোড়াগুলো কেটে অল্প জলে এক রাত ভিজিয়ে রাখুন, পরের দিন টবে বা অন্য কোনও ছোট ছড়ানো বাটিতে মাটি রেখে তাতে পুঁতে দিন। পাত্রটা আলোয় রাখুন, দু'বেলা পরিমাণমতো জল দেবেন। পুদিনা খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে, তাই প্রয়োজনমতো ছেঁটে দেবেন।
কারিপাতা
দক্ষিণ ভারতীয় রান্না তো বটেই, বাঙালি রান্নাতেও কারিপাতার গন্ধ দারুণ লাগে! অনেকেই বাড়িতে কারিপাতার গাছ রাখেন। এমনিতে কারিপাতা মাঝারি মাপের গাছ, তবে ছেঁটে রাখলে বারান্দা বা ছাদের টবেও দিব্যি রাখতে পারবেন। মুসুর ডাল, মাংস, সবজি রান্নায় স্বাদের বদল ঘটাতে কারিপাতা দেওয়া যায়। মাঝারি টবে কারিপাতার বীজ বুনে দিন, সুন্দর গাছ হয়ে যাবে।
ধনেপাতা
এই হার্বটি নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই! রান্নায় দিন, চাটনি করে খান, ধনেপাতা সব রূপেই সমান আকর্ষণীয়! পুদিনার মতোই ধনেপাতা শিকড় বুনে ফলানো যায়। তবে শুকনো ধনের বীজ মাটিতে ছড়িয়ে দিলেও সুন্দর গাছ হবে। ছোট পাত্রেও ধনেপাতার গাছ ভালো হয়, তাই জায়গার চিন্তা নেই!
পেঁয়াজ পাতা
শীতে পেঁয়াজকলি খেতে ভালোবাসেন? নিজের কিচেন গার্ডেনেই বুনে ফেলুন এবার! বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে শেকড়ের অংশটা সমেত টবে বুনে দিন, ক'দিনের মধ্যে পেঁয়াজ গাছ বেরোবে। পাতার অংশ কেটে রান্নায় দিন, খুব সুন্দর গন্ধ হবে রান্নায়।
02/10/2021
অফিসের টয়লেট থেকে সাবধান, কোভিড সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়
অফিস খুলতে আরম্ভ করেছে ধীরে ধীরে, পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে প্রাণপনে। যদিও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পালা এখনও বেশ কিছুদিন চলবে, কিন্তু পাশাপাশি অনেকেই বাড়ির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে বসে কাজ করতে পারবেন না, তাঁদের বেরোতেই হবে। ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে বাস, মেট্রো, ট্যাক্সি বা অটোতে না হয় চড়লেন, কিন্তু টয়লেট ব্যবহারের সময় কী করবেন? অনেকেই আছেন যাঁরা দূর-দূরান্তর থেকে অনেকটা পথ উজিয়ে অফিসে আসেন। সিটে বসে একটু জিরিয়ে নেন প্রথমে, তার পর টয়লেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সামান্য প্রসাধন সেরে কাজ শুরু করেন। আর পাঁচজন মহিলা সহকর্মীর সঙ্গে বাথরুম শেয়ার করতেই হয় -- সেখানে সোশাল ডিসট্যান্সিং মানবেন কীভাবে? নিজের নিরাপত্তায় বা সুনিশ্চিত করবেন কী করে?
প্রথম বিশ্বের উন্নত দেশগুলি একসঙ্গে অনেকে ব্যবহার করেন এরকম টয়লেটের নকশাতেই কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। যেমন ধরুন, সব কলে লাগানো থাকবে সেন্সর। খোলা-বন্ধ করার জন্য তাতে হাত দিতে হবে না। লিকুইড সাবানের ডিসপেন্সারও ছোঁয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বাথরুমে ঢোকা আর বেরনোর দরজাও হবে স্বয়ংক্রিয়। কিন্তু এ দেশে সে সব সিস্টেম আসতে এখনও ঢের দেরি। বড়ো কর্পোরেট হয়তো ব্যবস্থা করতে পারবে, কিন্তু ছোটোখাটো সব সংস্থার পক্ষে তো আর তেমনটা করা সম্ভব নয়। তাঁরা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?
প্রথমেই বুঝে নিন, বাথরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করা বা সাজগোজ করাটা আর মোটেই নিরাপদ নয়। তার কারণ, সাধারণত বাথরুমগুলি বদ্ধ এবং ছোটো হয়। ফলে এরকম জায়গায় ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ সারুন, গল্পগাছার তো প্রশ্নই ওঠে না। ফর্টিস আনন্দপুর হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাগরিকা বসু বলছেন, “তাই বলে জল খাওয়া কমাবেন না, তাতে কিন্তু আরও নানান জটিল সমস্যা হতে পারে। দিনে আট থেকে দশ গ্লাস জল খেতেই হবে। এবং বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে গিয়ে ব্লাডার খালি করে আসতেই হবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সঙ্গে আপনার নিজের টিস্যু রোল আর টয়লেট সিট স্যানিটাইজার ক্যারি করুন অতি অবশ্যই।"
বাথরুমে ঢোকার দরজার হাতলে সরাসরি হাত দেবেন না। তা ধরুন টিস্যু দিয়ে। কলের মাথাটাও ওইভাবে খুলে নিন, তার পর টিস্যু ফেলে দেবেন। হাত ধুয়ে নিন একবার। "এবার কিউবিকলে ঢুকে স্যানিটাইজার ছড়িয়ে টিস্যু দিয়ে টয়লেট সিট মুছে নিন একবার। তা ব্যবহার করুন। নিজেকে ধুয়ে নিন ভালো করে, তার পর যৌনাঙ্গ শুকনো করে মুছে নিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে থাকলে কিন্তু ভ্যাজাইনা বা ভালভায় নানা সংক্রমণ হতে পারে। ফ্লাশ করার পর টয়লেট সিট ফের একবার স্যানিটাইজ করে দিন পরের ব্যবহারকারীর জন্য। বেরিয়ে এসে খুব ভালো করে সাবান ও জল দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। তার পর নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন,'' বলছেন ডা. বসু।
পাবলিক টয়লেটের কোনও সারফেস বা দরজার হাতল নিরাপদ নয়। ব্যবহারের আগে সে কথা অক্ষরে অক্ষরে মনে রাখবেন। কোথাও সরাসরি হাত দেওয়ার দরকার নেই। টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুন সব কিছু। সেই সঙ্গে সঠিক খাবার খান, ভিটামিন সি যেন খাদ্যতালিকায় অবশ্যই থাকে তা দেখবেন। মেনে চলুন যৌন স্বাস্থ্যবিধিও। প্রতিদিন বদলান অন্তর্বাস, সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করাও খুব জরুরি অভ্যেস।
02/10/2021
গরমের দিনে আপনার খাদ্যতালিকায় কোন ফল থাকা জরুরি, জানেন?
প্রকৃতির চেয়ে বড়ো খেয়াল কেউ রাখে না! ভেবে দেখুন, শীতকালে আপনার জন্য এমন ফল আর সবজির ভান্ডার সাজিয়ে রাখে প্রকৃতি, যা শরীরে উষ্ণতা জোগায়। গরমের দিনে হয় ঠিক উলটো। লাউ, কুমড়ো, পটল, ঝিঙের মধ্যে থাকে প্রচুর জল। তা আপনাকে ঠান্ডা রাখে, আর্দ্র রাখে। সবচেয়ে বড়ো দান হচ্ছে গরমের ফল। আম, জাম, লিচু, বেল, শসা আপনার শরীরে জোগান দেয় খনিজ, ইলেকট্রোলাইটের। ফলে সারাদিন ঘাম হয়ে যা হারাচ্ছেন, তা আবার ফিরে আসে।
আম
আমকে এদেশে এমনিই ফলের রাজা বলা হয় না! আমে প্রচুর ভিটামিন এ আর সি থাকে। সেই সঙ্গে থাকে একান্ত প্রয়োজনীয় আলফা ও বিটা ক্যারোটিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েড। তা আপনার চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে সাহায্য করে। আমে পটাশিয়াম থাকে। শরীরে তরলের সাম্য বজায় রাখতে পটাশিয়াম খুব প্রয়োজনীয়।
কালোজাম
কালোজাম ডায়াবেটিক পেশেন্টদের জন্য খুব ভালো। তার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন সি, থিয়ামিন, রাইবোফ্লাভিন সমৃদ্ধ জাম খেলে পেট ভালো থাকে। দাঁত আর মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও কালোজাম অপরিহার্য।
পাকা বেল
পেট ঠান্ডা রাখতে পাকা বেলের কোনও জুড়ি নেই। এর ট্যানিন সারায় ক্রনিক পেট খারাপের সমস্যা। কমায় গ্যাসট্রিক আলসার। এটি অ্যান্টি ভাইরাল ও অ্যান্টি মাইক্রোবায়ালও বটে। বেলের শাঁস কমায় কনস্টিপেশনের আশঙ্কা।
লিচু
লিচুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, সেই সঙ্গে থাকে প্রচুর ফাইবার। সেই সঙ্গে কপার আর ফসফরাসও থাকে প্রচুর পরিমাণে। ত্বক আর চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে লিচু। সেই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে শর্করার পরিমাণ।
শসা
ভিটামিন এ, বি, সি, কে, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, আর পটাশিয়াম থাকে শসায়। সেই সঙ্গে শসায় জলের পরিমাণও অনেক বেশি। যাঁরা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাঁদের পেট ভরানোর কাজেও শসা খুবই কার্যকর। শসা ত্বকের জন্যেও খুব ভালো।
02/10/2021
আপনি কি আজকাল একটু বেশিই ঘুমোচ্ছেন? সতর্ক থাকুন বেশি ঘুমের বিপদ থেকে
রাতে ভালো করে ঘুমোনোর পরামর্শ কতবার শুনেছেন বলুন তো! রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীর যেমন খারাপ হয়ে যায়, তেমনি মুখে থাবা বসায় বয়সের দাগ, ত্বক অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে, দেখা দিতে পারে ডিপ্রেশনও। তবে জানেন কি, কম ঘুম যেমন শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর, তেমনি বেশি ঘুমোনোও কিন্তু একইরকম সমস্যার। যাঁদের দিনে নয়-দশ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি ঘুমোনোর অভ্যেস, তাঁদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে অনেকরকম রোগ। ওজন বেড়ে যাওয়া তো আছেই, তার সঙ্গে মাথা ব্যথা, পিঠে ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমনকী শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো কঠিন অসুখও। বেশি ঘুমোনোর ফলে ডিপ্রেশনের কবলে পড়েছেন, এমন উদাহরণও অনেক রয়েছে।
কেন বেশি ঘুমোই আমরা?
সাধারণত প্রতিদিন রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমকে স্বাভাবিক ধরা হয়। নয়-দশ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি ঘুমোলে তা নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত ঘুমকেই চিহ্নিত করে। কম ঘুম বা অনিদ্রার পিছনে যেমন কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে হতে পারে। থাইরয়েড, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডিপ্রেশনের কারণে বেশি ঘুম হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের প্রভাবেও অতিরিক্ত ঘুম হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটানা ক্লান্তির শিকার হলেও অনেকে বেশি ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কোনও শারীরিক কারণ ছাড়াই, শুধুমাত্র অনিয়মিত জীবনশৈলীর কারণেও অনেকে বেশি ঘুমোন। তাই আপনারও যদি এমন সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে সবার আগে তার কারণটা খুঁজে বের করে তা সারানোর দিকে মন দিতে হবে। শারীরিক কারণ থাকলে তার যেমন চিকিৎসা করতে হবে, তেমনি শুধু অভ্যেস বা জীবনশৈলীর কারণে বেশি ঘুম হলে সংশোধন করতে হবে তাও।
কীভাবে বেশি ঘুমোনো বন্ধ করা যায়?
আপনার বেশি ঘুমের পিছনে যদি শারীরিক কোনও অসুস্থতা না থেকে থাকে, তা হলে কিছু সাধারণ টিপস মেনে দেখতে পারেন। অভ্যেস আর ঘুমের প্যাটার্নে সামান্য অদলবদল ঘটিয়েই মুক্তি পাওয়া যায় বেশি ঘুমের হাত থেকে।
ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে যান এবং সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। নিয়মিতভাবে এটা বেশ কিছুদিন করতে পারলে শরীর ধাতস্থ হয়ে যাবে, ঘুমের নির্দিষ্ট ছন্দ আসবে। এই ছন্দটা ভাঙতে দেবেন না, উইকএন্ডেও মেনে চলুন।
ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন
ঘুমোনোর জায়গাটা আরামদায়ক হওয়া দরকার। ঘর অন্ধকার আর ঠান্ডা রাখুন। সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস সুইচ অফ করে দিন। বালিশ আর বিছানার গদি যেন আপনার অস্বস্তির কারণ না হয়, তেমন হলে তা বদলে ফেলুন।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন
জাগ্রত অবস্থায় কিছু সচেতন অভ্যেস আপনার ঘুমের রুটিনকে ছন্দে ফেরাতে পারে। চা-কফি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ঘুমোনোর আগে একেবারেই এ সব খাবেন না। ঘুমের আগে অ্যালকোহল-বেসড পানীয় খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয় ঠিকই, কিন্তু তাতে ঘুম খুব একটা ভালো হয় না। তাই এড়িয়ে চলুন অ্যালকোহলও। বদলে হার্বাল চা বা হালকা গরম দুধ খেতে পারেন। ঘুমোতে যাওয়ার আগে কখনও ব্যায়াম করবেন না।
বাদ দিন দুপুরের ঘুম
দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ভাতঘুম দেওয়ার অভ্যেস রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু দুপুরের এই ঘুম আপনার ঘুমের ছন্দটাকে নষ্ট করে দিতে পারে। আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ হলে দুপুরের ঘুমটা বর্জন করুন। বরং এমন কিছু কাজ করুন ওই সময়টায় যাতে ঘুম না আসে।
স্লিপ ডায়েরি মেনটেন করুন
প্রতিদিন কেমন ঘুমোচ্ছেন, কী কী অসুবিধে হচ্ছে, সে সব একটা ডায়েরিতে লিখে রাখুন রোজ। আপনার অভ্যেস, রুটিন, এ সবও লিখুন। দিনের বেলা ঘুমোনোর অভ্যেস থাকলে সেটাও লিখে রাখুন। কখনও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হলে এই ডায়েরি কাজে লাগবে।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Mymensingh
2200