Hasib Eidtz

Hasib Eidtz

Share

স্বপ্ন যখন আকাশ সমান,বাস্তবতা তখন কাগজের বিমান।

31/12/2025

এই ঘরটা হযরত আয়শা (রাঃ) এর ঘর। রাসূল (সাঃ) এর কবর যেখানে সেখানে একটা চৌকি ছিলো। যাতে রাসূল (সাঃ) আরাম করতেন। এবং এই চৌকির উপরেই হযরত আয়শা (রাঃ) এর কোলে মাথা রেখে তিনি ইন্তেকাল করেন।

রাসূল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম চিন্তায় পড়ে যান কোথায় দাফন করা হবে তা নিয়ে। কেউ মসজিদে, কেউ জান্নাতুল বাকীতে একেকজন একেক রকম মত দিচ্ছিলেন।

তখন আবু বকর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ) থেকে শুনেছি কোনো নবী যেখানে ইন্তেকাল করেন, সেখানেই তাকে দাফন করা হয়। এরপর সাহাবায়ে কেরাম একমত হলে এখানেই রাসূল (সাঃ) কে দাফন করা হয়।

দাফনের পরও আয়শা (রাঃ) এই ঘরেই আগের মত বসবাস করতেন। রাসূলের মৃত্যুর ২বছর পর আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় তিনিও ইন্তেকাল করেন।

অসুস্থ থাকাকালীন তিনি বলেছিলেন, আমি চাই আমাকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর পাশে দাফন করা হোক, যদি আয়িশা অনুমতি দেন। আয়শা (রাঃ) অনুমতি দিলে রাসূল (সাঃ) এর পাশেই আবু বকর (রাঃ) কেও দাফন করা হয়।

এরপর আয়শা (রাঃ) এর ইচ্ছে ছিলো রাসূল (সাঃ) ও তার পিতা আবু বকরের পাশে তিনি নিজে দাফন হতে। কিন্তু মৃত্যুশয্যায় শুয়ে হযরত উমর (রা.) তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, আমি রাসূল (সা.)-এর রওজার পাশে দাফন হতে চাই।

তুমি মা আয়েশা (রা.) এর কাছে যাও এবং তাকে বলো, উমর তার দুই সাথীর পায়ের কাছে কবরস্থ হওয়ার অনুমতি চাইছে। তাকে 'আমিরুল মুমিনীন' বলো না, শুধু 'উমর' বলো।

এটা শুনে আয়িশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। এবং তিনি দীর্ঘ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। এরপর বললেন, আমি এই জায়গাটি নিজের জন্য রেখেছিলাম, কিন্তু আজ আমি উমরের জন্য তা ছেড়ে দিলাম।

আয়শা (রাঃ) অনুমতি দেওয়ার পরও উমর (রাঃ) তার ছেলেকে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর আবার অনুমতি চাইবে। কারণ হতে পারে আমার জীবদ্দশায় লজ্জায় পড়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যদি আবার অনুমতি পাওয়া যায়, তবে দাফন করবে নতুবা সাধারণ কবরস্থানে দাফন করে দিও।

তার মৃত্যুর পর রওজার দরজায় গিয়ে অনুমতি চাইলে মা আয়েশা (রা.) বললেন, "উমরকে তার সাথীদের পাশে দাফন হওয়ার জন্য স্বাগতম।

উমর (রাঃ) কে দাফনের আগে আয়শা (রাঃ) সেই ঘরে স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতেন। কিন্তু তার দাফনের পর ছবিতে যেভাবে দেওয়া আছে সেভাবে পর্দার ব্যবস্থা করেন।

আয়শা (রাঃ) বলেন, উমরকে যখন তাঁদের সঙ্গে দাফন করা হলো, আল্লাহর কসম! এরপর থেকে আমি সেখানে প্রবেশ করিনি যতক্ষণ না আমি আমার কাপড় শক্ত করে জড়িয়ে পূর্ণ পর্দা করে প্রবেশ করেছি।

আয়শা (রাঃ) ৬৫ বা ৬৬ বছর বয়সে এই ঘরেই তিনি ইন্তেকাল করেন। রাসূল এর মৃত্যুর পরেও প্রায় ৪৭ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এই মহিয়সী। এই পুরো সময় ইলমের চর্চা, উম্মতের ফিকির ও ইবাদতে কাটিয়ে দিয়েছিলেন।

মৃত্যুর পূর্বে তিনি ওসিয়ত করে বলেছিলেন, আমাকে রাসূল (সাঃ) এর সাথে ঘরে দাফন করো না, রাসূল (সাঃ) এর বাকি স্ত্রীদের সাথে দাফন করো। কারণ আমি চাই না আমাকে বাকি স্ত্রীদের থেকে বিশেষভাবে পবিত্র বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করা হোক। এরপর এই মহিয়সীকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়। রদ্বিআল্লাহু আনহা। 🌹

একটা কবর থেকেও পর্দা করেছিলেন জগত শ্রেষ্ঠ এই নারী। তবুও তোমরা কেন পর্দা থেকে এত দূরে?? ও নারী সমাজ!

(ছবি মদিনা মিউজিয়াম থেকে সংগৃহীত।)

09/10/2025

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Rajshahi?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Address


Rajshahi