RDR mushroom centre

RDR mushroom centre

Share

mushroom sales and service

23/06/2025

With RDR Food – I just got recognised as one of their top fans! 🎉

13/10/2022

কিভাবে musroom ক্যান এ সংরক্ষণ করবেন
উপাদান
14 1/2 পাউন্ড মাশরুম
9 চা চামচ। লবণ
জল
নির্দেশনা
ভাল মানের মাশরুম নির্বাচন করুন, প্রান্তগুলি এবং যে কোনও বিবর্ণ অংশ ছেঁটে দিন।
মাশরুম 10 মিনিটের জন্য ঠান্ডা জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন।
আপনার মাশরুম টুকরো টুকরো করে রাখা যেতে পারে।
মাশরুমগুলি একটি পাত্রে রাখুন এবং জল দিয়ে ঢেকে দিন। একটি ফোঁড়া আনুন এবং 5 মিনিটের জন্য রান্না করুন।
ক্যানিং জার মধ্যে বাছা এবং প্রয়োজন হলে মাথার 1 ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে জল দিয়ে উপরে. 1/2 চা চামচ যোগ করুন। প্রতিটি পাত্রে লবণ। জার থেকে বায়ু বুদবুদ সরান, জার রিম পরিষ্কার মুছুন এবং ঢাকনা যোগ করুন। আপনার উচ্চতায় 45 মিনিটের জন্য 10 পাউন্ড চাপে প্রেসার ক্যানারে প্রক্রিয়া করুন।
ক্যানার পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেলে এবং সমস্ত চাপ ছেড়ে দিলে বয়ামগুলি সরিয়ে একটি তোয়ালে রাখুন। বয়ামগুলিকে 12 থেকে 24 ঘন্টার জন্য নির্বিঘ্নে বসতে দিন। জার রিংগুলি সরান, জারগুলি পরিষ্কার করুন। তারপর লেবেল করুন এবং একটি শীতল, অন্ধকার, শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করুন

24/08/2022

শৈবাল ও ছত্রাকের মধ্যে

শৈবাল:

শৈবাল জলজ সুকেন্দ্রিক এককোষী বা বহুকোষী জীব, যারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এদের দেহ মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত নয়। এরা বাতাসের নাইট্রোজেন গ্যাস সংবন্ধন করতে সক্ষম। পৃথিবীতে বহু প্রকার শৈবাল জন্মে থাকে। এদের কতক এককোষী ও কতক বহুকোষী।

এরা মিঠা জলে এবং লোনা জলে জন্মাতে পারে। শৈবালের হাজার হাজার প্রজাতির মধ্যে আকার, আকৃতি, গঠনস্বভাবে প্রচুর পার্থক্য রয়েছে। আকার, আকৃতি ও গঠনে প্রচুর পার্থক্য থাকলেও এরা সবাই কতিপয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য একই রকম। আর তাই, এরা শৈবাল ও শেওলা নামে পরিচিত।

ছত্রাক:

ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না এবং যাদের দৃঢ় কোষ প্রাচীর আছে। ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন এমন একটি জীবগোষ্ঠী যারা বিভিন্ন পরিবেশে মৃতজীবী অথবা পরজীবী হিসেবে বসবাস করে এবং খাদ্যকে শোষণ করে দেহের অভ্যন্তরে নেয়। বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, বাসি পাউরুটির গায়ে, জুতার ওপর ছাতা পড়তে থাকবে, এরা সব ছত্রাক।

খুব সহজ-সরল পরগাছা হলো ছত্রাক এবং শ্রেণিগতভাবে উদ্ভিত। এদের পরগাছা বলার কারণ হলো যে এদের দেহে অন্য উদ্ভিদের মতো শিকড়, কাণ্ড ও পাতা বলতে কিছুই থাকে না, নিজেদের খাবারও নিজেরা জোগাড় করতে পারে না। মাইক্রোস্কোপের তলায় ছত্রাককে দেখায় যেন বুনট করা কাপড়। এই আঁশগুলোর রং কালো হতে পারে, আবার হলুদ বা নীলও হতে পারে।

শৈবাল ও ছত্রাকের মধ্যে পার্থক্য:

ছত্রাক হল এককোষী বা বহুকোষী সুকেন্দ্রিক জীব, যারা সালোকসংশ্লেষনের মাধ্যমে শর্করা তৈরি করতে পারে না। শৈবাল ও ছত্রাকের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরুপ-

১। শৈবাল সবুজ উদ্ভিদ। অন্যদিকে ছত্রাক অসবুজ উদ্ভিদ।

২। শৈবাল স্বভোজী উদ্ভিদ। অন্যদিকে ছাত্রাক পরভোজী উদ্ভিব।

৩। শৈবাল অযৌন ও যৌন জনন উপায়ে বংশবৃদ্ধি করে। অন্যদিকে ছত্রাক দ্বিবিভাজন, বাডিং ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।

৪। শৈবালের দেহে ক্লোরোফিল আছে। অন্যদিকে ছত্রাকের দেহে ক্লোরোফিল নেই।

৫। শৈবালকে উদাহরণ স্বরূপ চেনার উপায় হলোঃ স্পাইরোগাইরা। অন্যদিকে ছত্রাকে উদাহরণ স্বরূপ চেনার উপায় হলো ঈস্ট, এগারিকাস ইত্যাদি

16/08/2022

মাশরুম খিচুড়ি রেসিপি
মাশরুমের জন্য

টুকরো করে কাটা মাশরুম ২ কাপ, তেল ১ টেবল চামচ, মাখন ২৫ গ্রাম, মেথি সামান্য, জিরে ১/২ চা-চামচ, রসুন কুচি ১ টেবল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ টেবল চামচ, লঙ্কা গুঁড়ো ১ চা-চামচ

প্রণালীঃ

চাল-ডাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন।
কড়াইতে তেল ও মাখন একসঙ্গে গরম করে মাশরুমের সমস্ত উপকরণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।
মাশরুম সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়ে গেলে তুলে রাখুন।
অন্য কড়াইতে তেল গরম করে তেজপাতা, গোটা জিরে, গোটা গরম মশলা ফোঁড়ন দিন।
সুন্দর গন্ধ বেরোলে চাল-ডাল বাদে খিচুড়ির সব উপকরণ দিয়ে ভালো করে কষান।
এরপর চাল-ডাল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন।
চাল-ডাল ভাজা ভাজা হলে আঁচ কমিয়ে পরিমাণ মতো জল দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
চাল-ডাল মোটামুটি সেদ্ধ হয়ে এলে কষানো মাশরুম দিয়ে কিছুক্ষণ দমে বসান।
নামানোর আগে মাখন ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন।

16/08/2022

Mushroom
মাশরুম” ব্যাঙের ছাতার মতো এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় গাছ। মাশরুম ও ব্যাঙের ছাতা দেখতে একই রকম হলেও এদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া কোন কোন মাশরুম বিষাক্ত হয় এবং সেগুলো খাওয়া যায় না। সূর্যের আলোয় প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারে না তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের জন্য বেশি করে মাশরুম পাওয়া যায় না। আমাদের দেশে অনেক স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাশরুম চাষ করা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষকরা মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় বিশেষ করে ঢাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, মধুপুর প্রভৃতি স্থানে এখন ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাশরুম চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। মাশরুম চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয় করাও সম্ভব। মাশরুম চাষ করতে আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না।

বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশের বড় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন হোটেল ও চাইনিজ হোটেলগুলোতে মাশরুমের চাহিদা আছে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মাশরুমের বাজার মূলত শহরে গড়ে উঠেছে। এছাড়া বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। মাশরুম শুকিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। এজন্য যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিদেশে সবজি ও কাঁচামাল পাঠায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাশরুম বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

প্রয়োজনীয় মূলধন

মাশরুম চাষ করার জন্য ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকার প্রয়োজন হবে। যদি ব্যক্তিগত পূঁজি না থাকে তাহলে মূলধন সংগ্রহের জন্য নিকট আত্মীয়স্বজন, ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এসব সরকারি ও বেসরকারি ঋণদানকারী ব্যাংক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (এনজিও) শর্ত সাপেক্ষে ঋণ দিয়ে থাকে।আয়-ব্যয়

অয়েস্টার মাশরুমের পাপড়ি বেশি ছড়ানোর আগেই তুলে গোড়া থেকে সামান্য কেটে ফেলতে হবে। পলি প্রোপাইলিনের প্যাকেটে কয়েকটা ছিদ্র করে এর মধ্যে মাশরুমগুলো ভার মুখ বন্ধ করে এই প্যাকেট বাজারজাত করতে হবে। প্রতিটি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ২০০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যায়। সুতরাং ২০০টি বীজ বা স্পন থেকে প্রায় ৪০ কেজি মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মাশরুমের দাম প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয় –

স্ট্র মাশরুম :

ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চাউলের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্র মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।

ইয়ার মাশরুম:

সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙের। ইয়ার মাশরুম সারাবছর চাষ করা গেলেও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।

অয়েস্টার মাশরুম:

আমাদের দেশে এই জাতের মাশরুম চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারাবছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত ও বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়।

চাষের উপযোগী স্থানমাশরুম খোলা জায়গায় চাষ করা যায় না। তাই এর জন্য আবাদী জমির প্রয়োজন হয় না। মাশরুম চাষ করার জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় ছন বা বাঁশের চালা দিয়ে ঘর তৈরি করতে হয়। মাটির দেওয়াল দিয়েও ঘর তৈরি করা যায়। আবার বাঁশের বেড়াও দেওয়া যায়। ঘরের ভেতর যাতে আলো ঢুকতে না পারে সেজন্য বাঁশের বেড়ায় মাটি লেপে দিতে হয়।

অয়েস্টার মাশরুম চাষ পদ্ধতি

অয়েস্টার মাশরুম বীজ বা স্পন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করে মাশরুম চাষ শুরু করা যাবে। ধাপে ধাপে মাশরুম চাষ করতে হয়।

১ম পদ্ধতি

মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে মাশরুমের বীজ বা স্পন প্যাকেট সংগ্রহ করতে হবে। বীজ বা স্পনের দুই পাশে কিছুটা গোল করে কেটে চেঁছে নিতে হবে।
মাশরুমের প্যাকেট পানিতে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখতে হবে। ৩০ মিনিট পরে পানি থেকে মাশরুমের প্যাকেট উঠিয়ে নিতে হবে।
অতিরিক্ত পানি ঝরানোর জন্য মাশরুমের প্যাকেট ৫ থেকে ১০ মিনিট উপুড় করে রাখতে হবে। পানি ঝরে গেলে ঘরের নির্ধারিত জায়গায় রেখে দিতে হবে। প্রতিদিন এর উপর তিন থেকে চারবার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিন পর কাটা জায়গা থেকে অঙ্কুর গজায়। অঙ্কুর গজানোর পর মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
খাওয়ার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হতে ৫ বা ৬ দিন সময় লাগে। খাবার উপযোগী মাশরুম উৎপন্ন হলে তা গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
বীজের যে জায়গা কাটা হয়েছিল তা ব্লেড দিয়ে একটু চেঁছে দিতে হবে। এই বীজ থেকে আবার মাশরুম গজাবে।
একটা আধা কেজি ওজনের বীজ বা স্পন প্যাকেট থেকে ৩-৪ বার মাশরুম পাওয়া যায়। এতে মোট ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম মাশরুম পাওয়া যাবে।

২য় পদ্ধতি

মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে বীজ বা স্পন সংগ্রহ করতে হবে। এক কেজি ওজনের একটি বীজের পলিথিন খুলে ভিতরের কম্পোস্ট গুঁড়ো করে নিতে হবে।
দুই কেজি পরিমাণ ধানের পরিষ্কার ও শুকনো খড় সংগ্রহ করতে হবে। খড়গুলোকে এক ইঞ্চি মাপে কেটে টুকরা করতে হবে।
পরিমাণ মতো পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। খড়গুলো জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটন্ত পানিতে খড়ের টুকরোগুলো এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।
খড়গুলো পানি থেকে তুলে চিপে পানি শূন্য করে একটি পাত্রে রাখতে হবে।
পাঁচটি পলিব্যাগ নিয়ে পলিব্যাগের ভেতরে প্রথমে কিছু খড় বিছিয়ে নিতে হবে। খড়ের উপর মাশরুম বীজের গুঁড়ো দিতে হবে। এভাবে একটি পলিব্যাগে চার স্তরে খড় আর মাশরুম বীজের গুঁড়ো বিছিয়ে দিতে হবে। শেষ স্তরে আবার খড় বিছিয়ে দিতে হবে।
খড় বিছানো শেষ হলে খুব শক্ত করে পলিব্যাগ বাঁধতে হবে। এভাবে প্রতিটি পলিব্যাগ বাঁধতে হবে।
পলিব্যাগের চার দিকে ১০-১২টি ছিদ্র করতে হবে। এরপর ব্যাগগুলোকে বীজে পরিণত হওয়ার জন্য ১৫-১৮ দিন রেখে দিতে হবে।
১৫-১৮ দিন পরে পলিব্যাগগুলো খুলে বীজের দলাগুলো বের করে নিতে হবে।
প্রতিটি বীজের দলা শিকায় করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন ৪-৫ বার করে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
৩-৪ দিন পর চারদিক দিয়ে মাশরুমের অঙ্কুর গজাতে শুরু করবে। ৪-৬ দিন পর খাওয়ার উপযোগী মাশরুম গোড়া থেকে তুলে নিতে হবে।
এভাবে মাশরুম চাষে লাভ বেশি হবে। কারণ প্রতিটি পলিব্যাগ থেকে প্রায় আধা কেজি মাশরুম পাওয়া যাবে। সুতরাং পাঁচটি ব্যাগ থেকে প্রায় আড়াই কেজি মাশরুম উৎপন্ন হবে।

সাবধানতা

বীজ বা স্পনে কোনভাবেই সূর্যের আলো পড়তে দেওয়া যাবে না। সবসময় ঘরটি ঠান্ডা রাখতে হবে। খুব বেশি গরম পড়লে ঘরের চারদিকে বস্তা ঝুলিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
মাশরুম ঘর ও ঘরের বাইরের চারদিক সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় মাশরুম ফ্লাই নামের পোকা মাশরুমের ক্ষতি করে।
কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না।

মাশরুমের উপকারিতা

মাশরুমে প্রচুর প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। তাই খাদ্য হিসেবে এটা খুবই পুষ্টিকর। এর উপকারিতাসমূহ হল-রক্তে চিনির সমতা রক্ষা করে ফলে ডায়াবেটিক রোগী এবং যারা স্থুল বা স্বাস্থ্যবান তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার।
মাশরুম দেহের ক্ষয়পূরণ, হাড় গঠন ও দাঁত মজবুত করে।
রক্তহীনতা, বেরিবোধ, হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
খাবারের উপযোগী মাশরুম

প্রশিক্ষণ

সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা জেলার সাভারে অবস্থিত ‘মাশরুম চাষ কেন্দ্র’ আছে। এছাড়া বাংলাদেশের নানা স্থানে “মাশরুম চাষ কেন্দ্রের” ১৬টি শাখা আছে। মাশরুম চাষ করে ব্যবসা করার জন্য এসব মাশরুম চাষ কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে নেওয়া যাবে। এছাড়া মাশরুম চাষ সম্পর্কে বাজারে অনেক বই পাওয়া যায়। এসব বই পড়ার মাধ্যমেও মাশরুম চাষ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া অভিজ্ঞ কারও কাছ থেকে মাশরুম চাষের বিস্তারিত জেনে নিলে চাষ করতে সুবিধা হবে এবং উন্নতমানের মাশরুম পাওয়া সম্ভব হবে।মাশরুম মূল্যবান সবজি। বিদেশে এর যথেষ্ট চাহিদা আছে। মাশরুমের পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কথা বলে সাধারণ মানুষকে মাশরুম খাওয়ার জন্য উদ্ধুদ্ধ করতে হবে। তাহলে সাধারণ বাজারেও এর চাহিদা বাড়বে। আমাদের দেশে এখনও যে খাদ্য ঘাটতি আছে, মাশরুম কিছুটা হলেও তা পূরণ করতে পারে।

01/08/2022

মাশরুম খাওয়ার উপকারিতা
মাশরুম কি?
মাশরুম অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি। প্রাচীনকাল থেকে মানুষ মুখোরোচক এই মাশরুমের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে খাদ্য তালিকায় মাশরুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। সব ধরনের ছত্রাকই মাশরুম না। শুধুমাত্র খাওয়ার উপযোগী ছত্রাকই মাশরুম। অর্থাৎ সকল মাশরুমই ছত্রাক কিন্তু সকল ছত্রাক মাশরুম নয়। মাশরুম হলো এক ধরণের ভক্ষণযোগ্য মৃতজীবী ছত্রাকের ফলন্ত অংগ। এগুলো মূলত Basidiomycetes অথবা Ascomycetes শ্রেণীর অন্তরগত ছত্রাক। মাশরুম একপ্রকার অপুষ্পক উদ্ভিদ। এতে সবুজ কণা (ক্লোরোফিল) নাই বিধায় সবুজ কণাযুক্ত উদ্ভিদের মতো নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে না। সে কারণে খাদ্যের জন্য এরা প্রাণীজ বা উদ্ভিজ বস্তুর ওপর নির্ভরশীল। মাশরুম ব্যাঙের ছাতার মতো এক ধরণের ছত্রাক জাতীয় গাছ। মাশরুম ও ব্যাঙের ছাতা দেখতে একই রকম হলেও এদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্ম নেওয়া কোন কোন মাশরুম বিষাক্ত হয় এবং সেগুলো খাওয়া যায় না। সূর্যের আলোয় প্রাকৃতিকভাবে খুব বেশি মাশরুম জন্মাতে পারে না তাই প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারের জন্য বেশি করে মাশরুম পাওয়া যায় না।

পৃথিবীতে ৩ লক্ষ্য প্রজাতির ছত্রাক থাকলেও এ যাবত কাল পর্যন্ত মাত্র ২০০ প্রজাতির খাওয়ার উপযোগী ছত্রাক তথা মাশরুমের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩০ টি প্রজাতি বানিজ্যিক ভিত্তিতে এবং ১০ টি ইন্ডাট্রিয়াল স্কেলে চাষ করা সম্ভব। বলে রাখা ভালো প্রতিটি প্রজাতিরই আবার অসংখ্য চাষ উপযোগী বর্ন রয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারন কেন্দ্রে ১৫৭ টি চাষ উপযোগী মাশরুমের স্ট্রেইন রয়েছে।

পবিত্র কোরআন ও হাদীসে মাশরুমকে অত্যন্ত মর্যাদাকর খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহীহ বুখারী শরীফে রাসুল (সঃ) বলেছেন, আল কামাতু মিনাল মান্না ওয়া মাহা সাফা আল্ আইন” অর্থাৎ মাশরুম এক শ্রেণীর মান্না এবং এর রস চোখের জন্য ঔধষ বিশেষ। আর মান্না সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সূরা বাকারার ৫৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে – অযাল্লালনা আলাইকুমুল গামামা ওয়া আনযালনা আলাইকুমুল মান্না-ওয়াস্-সালওয়া কুলুমিন তায়্যিবাতি মা রাযাক্বনাকুম; ওমা জলামুনা আলাকিন কানূ আনফুছাহুম ইয়াযলিমূন অর্থাৎ আর আমি মেঘমালা দিয়ে তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি এবং তোমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানিত খাবার পাঠিয়েছি মান্না ও সালওয়া। তোমরা খাও সে সব পবিত্র বস্তু যা আমি তোমাদের জন্য দান করেছি।



মাশরুমের ভক্ষণযোগ্য অংশটি সাধারণত চারভাগে ভাগ করা হয়েছে।



১। টুপী (Pilius)

২। জিল (gills)

৩। আবরণ (veil annulus)

৪। স্টাইপ (stipe)

খাওয়ার উপযোগী মাশরুম
আমাদের দেশে সাধারণত খাবারের উপযোগী তিন জাতের মাশরুম চাষ হয়।

১। স্ট্র মাশরুমঃ ধানের খড়, শিমুল তুলা, ছোলার বেসন ও চাউলের কুড়া ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে স্ট্র মাশরুম চাষ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর চাষ করা যায়।

২। ইয়ার মাশরুমঃ সাধারণত বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবে আম গাছে ইয়ার মাশরুম পাওয়া যায়। ইয়ার মাশরুম দেখতে কালচে রঙের। ইয়ার মাশরুম সারাবছর চাষ করা গেলেও সাধারণত বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়।

৩। অয়েস্টার মাশরুমঃ আমাদের দেশে এই জাতের মাশরুম চাষ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সারাবছরই এই মাশরুম চাষ করা যায় তবে শীত ও বর্ষাকালে এর ফলন ভালো হয়। অয়েস্টার মাশরুম খুব সহজে চাষ করা যায় এবং এর জন্য খুব অল্প জায়গার প্রয়োজন হয়।

মাশরুম থেকে পাওয়া পুষ্টিমান ও উপকারিতা
মাশরুমে খনিজ পদার্থের পরিমান মাছ ও মাংসের তুলনায় বেশী এবং প্রচলিত সবজীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। বিভিন্ন রান্নায় মাশরুম ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট গুলোতে চিকেন বিরিয়ানি রান্নাতে মাশরুম ব্যবহার করা হয় স্বাদ বাড়ানোর জন্য। মাশরুমে থাকা আমিষের পরিমান আলু থেকে দ্বিগুন, টমেটো থেকে চারগুন এবং কমলা লেবুর থেকে ছয়গুন বেশী। পুষ্টির বিচারে মাশরুম নিঃসন্দেহে সবার সেরা। কারণ আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেসব উপাদান অতি প্রয়োজনীয় যেমন – প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সেগুলো মাশরুমে উচ্চ মাত্রায় আছে। অন্যদিকে যেসব খাদ্য উপাদানের আধিক্য আমাদেরকে জটিল ব্যাধীর দিকে নিয়ে যায়,যেমন - ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেড তা মাশরুমে নেই বললেই চলে। প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনা মাশরুমে পাওয়া যায়। আমিষ ২৫-৩৫ গ্রাম,ভিটামিন ও মিনারেল ৫৭-৬০ গ্রাম,শর্করা ৫-৬ গ্রাম,চর্বি ৪-৬ গ্রাম। মাশরুমে থাকা প্রোটিন অত্যন্ত উন্নত। একটি সম্পূর্ণ প্রোটিনের পূর্বশর্ত হলো মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় ৯টি এমাইনো এসিডের উপস্থিতি। মাশরুমে অপরিহার্য এ ৯টি এমাইনো এসিডই প্রশংসনীয় মাত্রায় আছে। অন্যান্য প্রাণীজ আমিষ যেমন-মাছ,মাংস,ডিমের আমিষ উন্নতমানের হলেও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত চর্বি থাকায় তা গ্রহণে দেহে কোলেস্টরল সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ,হৃদরোগ,মেদভুড়ি ইত্যাদি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পক্ষান্তরে মাশরুমের প্রোটিন নির্দোষ। তাছাড়াও প্রোটিনের বিপরীতে ফ্যাট এবং কার্বোহাইড্রেটের সর্বনিম্ন উপস্থিতি এবং কোলেস্টরল ভাঙ্গার উপাদান লোভাস্টাটিন, এন্টাডেনিন, ইরিটাডেনিন ও নায়াসিন থাকায় কোলেস্টরল জমার ভয় থাকে না। এ কারণে প্রোটিনের অন্যান্য সব উৎসের তুলনায় মাশরুমের প্রোটিন সর্বোৎকৃষ্ট।



> মাশরুম খাওয়ার ১৮ টি উপকারিতা



মাশরুমে প্রচুর প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন আছে। তাই খাদ্য হিসেবে এটা খুবই পুষ্টিকর।



১। মাশরুমে চর্বি ও শর্করা কম এবং আঁশ রক্তে চিনির সমতা রক্ষা করে ফলে ডায়াবেটিক রোগী এবং যারা স্থুল বা স্বাস্থ্যবান তাদের জন্য উপযুক্ত খাবার।

মেদ ভুরি কমানোর উপায় হিসাবে মাশরুম খুবই কার্যকারী।



২। মাশরুম দেহের ক্ষয়পূরণ, হাড় গঠন ও দাঁত মজবুত করে।



৩। রক্তহীনতা, বেরিবোধ, হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।



৪। আমাশয় নিরাময় করতে মাশরুম খুব ভালো কাজ করে।



৫। মাশরুমে নিউক্লিক এসিড ও এন্টি এলার্জেন থাকায় এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি রোগের প্রতিরোধক।



৬। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।



৭। মাশরুমে প্রচুর ক্যালসিয়াম , ফসফরাস ও ভিটামিন ডি আছে। যা শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।



৮। মাশরুমে আছে প্রচুর ফলিক এসিড ও লৌহ , যা রক্তশূন্যতা দূর করে।



৯। মাশরুমে ট্রাইটারপিন থাকায় এটা বিশ্বে এইডস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে।



১০। মাশরুমে এডিনোসিন থাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রতিরোধক।



১১। মাশরুমে আছে এনজাইম ,যা হজমে সহায়ক ও পেটের পীড়া দূর করে।



১২। মাশরুমে আছে নিউক্লিক এসিড ও অ্যানটি-এলারজেন যা কিডনি রোগ প্রতিরোধক।



১৩। মাশরুমে আমিষ, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন ও মিনারেল এমন সম্বনিতভাবে আছে যা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে গর্ভবতী মা ও শিশু নিয়মিত মাশরুম খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।



১৪। রক্তের কোলেষ্টেরল কমানোর অন্যতম উপাদান ‘ইরিটাডেনিন’ ‘লোবাষ্টটিন’ এবং ‘এনটাডেনিন’ মাশরুমে থাকায় এটি হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিরাময় করে ।



১৫। লিংকজাই-৮ নামক পদার্থ থাকায় মাশরুম,হেপাটাইটিস-বি জন্ডিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।



১৬। মাশরুমের বেটা-ডি, গ্লুকেন, ল্যাম্পট্রোল, টারপিনওয়েড এবং বেনজোপাইরিন ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধক।



১৭। মাশরুমে সালফার সরবরাহকারী এমাইনো এসিড থাকায় তা চুল পড়া ও চুল পাকা প্রতিরোধ করতে সক্ষম। মাথায় নতুন চুল গজানোর উপায় হিসাবে কার্যকারী।



১৮। মাশরুমে স্ফিংগলিপিড এবং ভিটামিন-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ্য রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দূর হয় এবং মেরুদণ্ড দৃঢ় থাকে।

মাশরুম খাওয়ার উপকারিতা


মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মাশরুমের মধ্যে রয়েছে বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ যা মস্তিষ্কে স্নায়ুর বৃদ্ধি বাড়ায় ও নিউরোটক্সিক স্টিমিউলি কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝেইমার্সের মতো নিউরোডিজেনেরেটিভ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।



চলনু জেনে নেয়া যাক মাশরুম খাওয়ার উপকারি দিকগুলো-



* মাশরুমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন-ডি আছে। শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে এই উপাদানগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।



* ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধে মাশরুম বেশ উপকারী।



* হেপাটাইটিস বি ও জন্ডিস প্রতিরোধ করে। অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।



* খাদ্য হজম করতে সাহায্য করতে মাশরুম সাহায্য করে।



* আমাশয় নিরাময় করতে মাশরুমের উপকারিতা রয়েছে।



* মাশরুমে নিউক্লিক এসিড ও এন্টি এলার্জেন থাকায় এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকায় কিডনি রোগ ও এলার্জি রোগের প্রতিরোধক।



* মাশরুমে স্ফিংগলিপিড এবং ভিটামিন-১২ বেশি থাকায় স্নায়ুতন্ত্র ও স্পাইনাল কর্ড সুস্থ্য রাখে। তাই মাশরুম খেলে হাইপার টেনশন দূর হয় এবং মেরুদণ্ড দৃঢ় থাকে।



* মাশরুমের খনিজ লবণ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক।



* মাশরুমে কোলেস্টরেল কমানোর অন্যতম উপাদান ইরিটাডেনিন, লোভাষ্টটিন, এনটাডেনিন, কিটিন এবং ভিটামিন বি, সি ও ডি থাকায় নিয়মিত মাশরুম খেলে উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) ও হৃদরোগ নিরাময় হয়।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি


মাশরুম পুষ্টিকর এবং ওষুধিগুণসম্পন্ন একটি উৎকৃষ্ট সবজি। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য উপযোগী।



মাশরুম চাষের উপকরণ

মাশরুম চাষ করতে বীজ, ধানের খড়, পাতলা পলিথিন ব্যাগ, ঝুলন- শিকা বা বাঁশ, ছিদ্রযুক্ত কালো পলিথিন সিট, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা পরিমাপের জন্য হাইগ্রোমিটার, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হ্যান্ড স্প্রেয়ার, জীবাণুনাশক, ব্লেড বা ছোট ছুরি, বালতি, আনুষাঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হয়। এ সবজিটি ঘরের মধ্যে চাষ করা যায় এবং মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই মাশরুম পাওয়া যায় যা অন্য ফসলে পাওয়া যায় না। চাষাবাদে কোন খরচ নেই বললেই হয়।



মাশরুমের পুষ্টিগুণ

মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ, আমিষ এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইম রয়েছে। এটা খেতে বেশ সুস্বাদু এবং সহজেই হজম হয়।



মাশরুমের জাত

আমাদের দেশে বেশ কয়েকটি জাতের মাশরুমের চাষ হয়। যেমন- ঝিনুক মাশরুম, দুধ মাশরুম. কান মাশরুম, শিতাকে মাশরুম, খড় মাশরুম ইত্যাদি।



মাশরুম চাষ

১. পরিমাণমত শুকনো পরিষ্কার ধানের খড় সংগ্রহ করে পানিভর্তি ড্রামের মধ্যে কিংবা মাটির বড় চাড়ির মধ্যে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে ভিজিয়ে নিতে হবে।



২. ভেজানো খড়গুলো একটা ঝুড়িতে রেখে অতিরিক্ত পানি বের হতে দিতে হবে।



৩. এবার ভেজা খড়গুলো একটা পলিথিন কাগজের ওপর স্তূপ করে রেখে তার ওপর আরেকটি পলিথিন কাগজ দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে।



৪. পরিমাণমত শিমুল তুলা কিংবা মিলের পরিত্যক্ত তুলা একটি পাত্রে ভিজিয়ে রাখতে হবে।



৫. যে ঘরে বা স্থানে মাশরুম চাষ করা হবে সে জায়গা ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে দিতে হবে।



৬. এক মিটার লম্বা, এক মিটার চওড়া এবং ৩০ সি.মি. উঁচু তলাবিহীন কাঠের ফরমা বা বাক্সটি পলিথিন বিছানো কাগজের ওপর রাখতে হবে।



৭. এখন কাঠের ফরমার মধ্যে সমানভাবে ভিজা খড় একটু চাপ দিয়ে সাজাতে থাকুন যেন বিছানো খড়ের স্তর ৮-১০ সে.মি. পুরু বা উঁচু হয়।



৮. চারদিকে খড়ের স্তূপের কিনার থেকে ৫ সে.মি. ছেড়ে এক সে.মি. পুরু ও ৫ সে.মি. চওড়া করে ভিজা তুলা ঠিকমত বিছিয়ে দিতে হবে।



৯. মাশরুমের বীজ ছিটানোর পর একই নিয়মে আবার ৮-১০ সে.মি. করে খড় বিছিয়ে ২য় স্তর তৈরি করে একইভাবে তুলা বিছিয়ে তাতে মাশরুম বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে।



১০. এরপর একইভাবে ৩য় স্তর তৈরি হলে বেডের উপরের সব অংশে তুলা ছড়িয়ে তার ওপর মাশরুম বীজ বুনে আবার হালকাভাবে সামান্য খড় ছিটানোর পর বাক্সটি ভরে গেলে সাবধানে তুলে নিতে হবে।



১১. ঐ একই নিয়মে পাশাপাশি ১০ সে.মি. ফাঁকে ফাঁকে একটির পর একটি বেড প্রয়োজনমত বসাতে হবে।



১২. সাজানো শেষ হলে বেডগুলো পলিথিন কাগজ অথবা চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।



মাশরুমের পরিচর্যা

১. মাশরুম বেডে বীজ বপনের পর থেকে গজানোর আগ পর্যন্ত তাপমাত্রা ৩৫-৪০ সে.এর মধ্যে রাখতে হবে এবং মাশরুম গজাতে শুরু করলে তাপমাত্রা ৩০-৩৫ সে.এর মধ্যে রাখতে হবে।



২. পলিথিন দ্বারা ভালোভাবে ঢেকে তাপ বাড়ানো এবং খুলে দিয়ে তাপ কমানো যায়। কাজেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।



৩. মাশরুম বেডকে পোকা-মাকড় ও জীব-জন্তুর উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে হবে।



৪. মাশরুম বেড সব সময় ভেজা থাকা দরকার। বেডের উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে মাঝে মাঝে হালকাভাবে পানি ছিটিয়ে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।



পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন

মাশরুমে মাছির প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এজন্য ম্যালাথিয়ন (০.১%) স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া ফর্মালিডিহাইডে (৪%) তুলা ভিজিয়ে সানস্ট্রেটে ঘসে দিলে সবুজ বাদামী বা নীল মোল্ড দূর হবে।



মাশরুম সংগ্রহ

মাশরুম বেডে বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে আলপিনের মাথার আকারে মাশরুম গজানোর লক্ষণ দেখা যায়। মাত্র ২ দিনের মধ্যে এ অবস্থা পেরিয়ে মাশরুম দেশীয় মুরগির ডিমের আকার ধারণ করে। এ অবস্থা মাশরুম সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। সংগ্রহে বিলম্ব হলে মাশরুম ছাতার মতো হয়ে ফুটে যায় এবং এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই সময়মত মাশরুম সংগ্রহ করা আবশ্যক। একটা বেড থেকে ২ সপ্তাহ পর্যন্ত দফায় দফায় মাশরুম সংগ্রহ করা যায়।

মাশরুম রেসিপি - ১
আপনারা হয়তো জানেন মাশরুম দিয়ে অনেক রকমের মুখরোচক খাবার বানানো যায়। তেমন কিছু খাবারের রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আজ আমরা। চলুন জেনে নেই কিছু মাশরুম রেসিপি বা মাশরুম দিয়ে নানা ধরণের খাবার তৈরির নিয়মঃ



১. মাশরুম ফ্রাই

উপকরণ

মাশরুম : ২০-২৫ টি (২০০ গ্রাম)

ছোলার বেসন : ২০০ গ্রাম

চালের গুঁড়া :২ টেবিল চামচ

ডিম : ২ টা

লবণ : পরিমাণমত

সয়াবিন তেল : পরিমাণমত



প্রণালী

একটি পাত্রে বেসন ও চালের গুঁড়া পরিমাণমত পানি ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। ডিম ভেঙ্গে মিশ্রণের মধ্যে মিশিয়ে নিন। কড়াইতে সয়াবিন তেল গরম করে একটি করে মিশ্রণে ডুবিয়ে ভেজে নিন।



২. মাশরুম সবজি

উপকরণ

মাশরুম : ২৫০ গ্রাম

আলু : ২০০ গ্রাম

বাঁধাকপি : ২০০ গ্রাম

বরবটি : ২০০ গ্রাম

ফুলকপি : ২০০ গ্রাম

গাজর : ১০০ গ্রাম

পিঁয়াজ : ৫০ গ্রাম

আদা-রসুন বাটা : ১ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ : ৫-৭ টা

লবণ : পরিমাণমত

সয়াবিন তেল : পরিমাণমত



প্রণালী

প্রথমে মাশরুম ছিঁড়ে হালকা গরম পানিতে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। মাশরুমের পানি ঝরিয়ে নিন। অন্যান্য সবজিগুলো টুকরো করে কেটে লবণ দিয়ে হালকা করে সিদ্ধ করে নিন। অন্য একটি পাত্রে তেল গরম করে আদা রসুন বাটা দিয়ে মাশরুমগুলো দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন



পানি কমে গেলে তাতে সিদ্ধ করা সবজি গুলো দিয়ে লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। পানি কমে গেলে লবণ দেখে নামিয়ে নিন ও গরম গরম পরিবেশন করুন।



৩. মাশরুম সালাদ

উপকরণ

মাশরুম : ১০০ গ্রাম

শসা : ১০০ গ্রাম

টমেটো : ২০০ গ্রাম

গাজর : ১০০ গ্রাম

পিঁয়াজ : ৫০ গ্রাম

ঘি : পরিমাণমত

পনির : ৫০ গ্রাম

কাঁচা মরিচ : ৩-৪ টা



প্রণালী

প্রথমে মাশরুম টুকরো করে হালকা গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিন। সিদ্ধ করা মাশরুম ও অনান্য সবজিগুলো টুকরো করে মিশিয়ে নিন। তার সাথে পনির, ঘি, কাঁচা মরিচ, লবণ মিশিয়ে পরিবেশন করুন।



৪. চিংড়ি মাশরুম

উপকরণ

মাশরুম : ২৫০ গ্রাম

চিংড়ি : ১০০ গ্রাম

পিঁয়াজ : ৫০ গ্রাম

আদা, রসুন, জিরা বাটা : ১ টেবিল চামচ

কাঁচা মরিচ : ৫-৭ টা

লবনঃ পরিমাণমত

সয়াবিন তেল : ৫০ গ্রাম



প্রণালী

প্রথমে চিংড়ি মাছ পরিস্কার করে ধুয়ে নিন। মাশরুম টুকরা করে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে পিঁয়াজ দিয়ে নাড়ুন। অন্যান্য মশলাগুলো দিয়ে নাড়ুন। মশলা কষানো হয়ে গেলে চিংড়ি মাছ দিয়ে নাড়ুন। মাছ সিদ্ধ হয়ে গেলে মাশরুমের টুকরাগুলো দিন। পরিমাণমত পানি, লবণ ও কাঁচামরিচ দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন। পানি কমে গেলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।



৫. মাশরুমের চপ

উপকরণ

মাশরুম : ২০০ গ্রাম

আলু : ১০০ গ্রাম

বাঁধাকপি : ১০০ গ্রাম

ছোলার বেসন : ২৫০ গ্রাম

গাজর : ৫০ গ্রাম

পিঁয়াজ : ৫০ গ্রাম

কাঁচা মরিচ : ৫-৭ টা

লবণ: পরিমাণমত

সয়াবিন তেল : ৫০ গ্রাম



প্রস্তুত প্রণালী

প্রথমে আলু সিদ্ধ করে মিশিয়ে নিন। মাশরুম, বাঁধাকপি, গাজর কেটে লবণ, পিঁয়াজ, কাঁচা মরিচ দিয়ে একসাথে মিশিয়ে নিন। আলুর সাথে মিশিয়ে বল তৈরী করুন। অন্য পাত্রে বেসন গুলে নিন। চুলায় কড়াই দিয়ে তেল ঢেলে গরম করুন। বলগুলো গরম তেলে ভেজে নিন ও পরিবেশন করুন।



৬. মাশরুমের আচার

উপকরণ

মাশরুম : ২৫০ গ্রাম

রসুন : ১০ গ্রাম

আদা : ২০ গ্রাম

সরিষার গুড়া : ২০ গ্রাম

শুকনা মরিচ : ৫ গ্রাম

মরিচের গুড়া :২ গ্রাম

পিঁয়াজ : ১০০ গ্রাম

ভিনেগার : আধা কাপ

কাঁচা মরিচ : ৫-৭ টা

লবণ: পরিমাণমত

সরিষার তেল : ১০০ গ্রাম

চিনি : ১০০ গ্রাম



প্রস্তুত প্রণালী

মাশরুম টুকরো করে ৫-১০ মিনিট কুসুম গরম পানিতে ব্লানচিং করে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে নিয়ে আদা রসুন ও পিঁয়াজ বাটা মিশিয়ে নাড়ুন। তাতে মাশরুম গুলো দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। তারপরে ভিনেগার, চিনি, শুকনা মশলা (মরিচ, লবণ ও সরিষার গুড়া) দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে জীবাণুমুক্ত করে সংরক্ষণ করুন।



৭. মাশরুম চিকেন স্যুপ

উপকরণ

মাশরুম : ২৫০ গ্রাম

কর্নফ্লাওয়ার : ২ টেবিল চামুচ

মুরগীর স্টক : ৪ কাপ

টেস্টিং সল্ট : ৫০ গ্রাম

ডিম (কুসুম ছাড়া) : ২ টা

দুধ : ১ কাপ

বাটার : ৫০ গ্রাম

আদা : ৫০ গ্রাম

লবণ: পরিমাণমত



প্রস্তুত প্রণালী

মুরগীর স্টক তৈরী করার জন্য ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি মুরগীর গিলা, কলিজা, মাথা ও পা বাদে ২-২.৫ লিটার পানি দিয়ে আদা ও লবণ দিয়ে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ হয়ে গেলে হাড়গুলো ছাড়িয়ে মাংসগুলো পানির সাথে মিশিয়ে নিন। মাশরুম হাতে ছিড়ে ব্লানচিং করে নিন। প্যানে বাটার গরম করে মাশরুম ভেজে নিন। মুরগীর স্টকে পরিমাণমতো গরম পানি মিশিয়ে (১০ জনের খাওয়ার মতো) ফুটিয়ে নিন। ভাজা মাশরুম গুলো এতে মিশিয়ে দিন। কর্ণ-ফ্লাওয়ার ঠান্ডা পানিতে গুলে দিয়ে দিন। ডিমের কুসুম আলাদা করে ফেটিয়ে নিন ও স্যুপের মধ্যে দিয়ে ভালো করে ঘুটে দিন। টেস্টিং সল্ট ও দুধ তাতে মিশিয়ে দিন, প্রয়োজনে সাধারণ লবণ দেওয়া যায়। নামিয়ে সস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।



৮. মাশরুমের কোপ্তা

উপকরণ

মাশরুম : ২৫০ গ্রাম

বেসন : ৩ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়ো : আধা চা চামচ

মরিচ গুঁড়ো : ১ চা চামচ

লবণ : ১ চা চামচ

সয়াবিন তেল : আধা কাপ



প্রস্তুত প্রণালি :

মাশরুম পরিষ্কার করে ধুয়ে বেটে নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন। ছোট ছোট বল বানিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তুলুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

মাশরুম রেসিপি - ২


ভাত কিংবা ফ্রাইড রাইস, পরোটা কিংবা রুটি ইত্যাদি সব কিছুর সাথেই দারুণ জমবে এই মাশরুম ডিশগুলো। ভালো লাগবে স্রেফ স্ন্যাক্স হিসেবেও। রেসিপির তালিকায় আছে- ডিপ ফ্রাইড মাশরুম , চিলি গারলিক মাশরুম , গারলিক মাশরুম, চাইনিজ মাশরুম কারি, ইন্ডিয়ান মাশরুম কারি।



চাইনিজ মাশরুম কারি

প্যানে মাখন দিন বেশ খানিকটা। মাখন গরম হলে বেশ কিছু রসুন কিমা দিয়ে দিন। রসুন গন্ধ ছড়ালে আস্ত বা স্লাইস করা মাশরুম দিয়ে দিন। অল্প আঁচে ভাজাভাজা করুন। মাশরুম একটি প্লেটে নামিয়ে নিন। এরপর একই প্যানে আবারও মাখন দিন। সেই মাখনে খুব সামান্য একটু ময়দা দিয়ে দিন। ময়দা ভালো করে নাড়ুন, হালকা রঙ ধরলে দুধ দিয়ে দিন। দুধ দিয়ে ভালো করে নেড়ে মাশরুম দিয়ে দিন। সাথে অন্য সবজি যোগ করতে পারেন। লবণ, সয়াসস, গোলমরিচ গুঁড়ো এবং সামান্য চিনি যোগ করুন। ঝোল ঘন হওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। বেশি ঘন হয়ে গেলে পানি দিয়ে পাতলা করে নিতে পারেন।





ডিপ ফ্রাইড মাশরুম

মাশরুমগুলোকে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর অল্প সয়াসস, লবণ, মরিচ পেস্ট, চিলি সস, গোলমরিচ গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে মেখে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর মাশরুমগুলোকে ময়দায় গড়িয়ে ডিমে চুবিয়ে নিন। তারপর বিস্কিটের গুঁড়ো মেখে নিন ঠিক চিকেন ফ্রাইয়ের মত করে। ১৫ মিনিট ফ্রিযে রাখুন সেট হবার জন্য। এরপর সোনালি করে ভেজে পরিবেশন করুন।





চিলি গারলিক মাশরুম

প্যানে মাখন বা তেল দিন। এরপর দিয়ে দিন রসুন মিহি কুচি। একটু গন্ধ ছড়ালে পেঁয়াজ পাপড়ি, কাঁচামরিচ, পছন্দের কয়েকটি সবজি দিয়ে দিন। মাশরুম যোগ করুন। মাঝারি আঁচে ভাজুন কিছুক্ষণ। এতে দিন সয়াসস, লবণ, চিলি সস ও টমেটো সস। ভালো করে নেড়ে নেড়ে ভাজুন। অল্প একটু সিরকা, সামান্য চিনি ও গোলমরিচ গুঁড়ো ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন ফ্রাইড রাইসের সাথে।





গারলিক মাশরুম

প্যানে মাখন দিন বেশ খানিকটা। মাখন গরম হলে বেশ কিছু রসুন কিমা দিয়ে দিন। রসুন গন্ধ ছড়ালে আস্ত বা স্লাইস করা মাশরুম দিয়ে দিন। অল্প আঁচে ভাজাভাজা করুন। লবণ, সয়াসস, গোলমরিচ ও অল্প একটু চিনি যোগ করুন। পছন্দের কোন হার্ব যোগ করতে পারেন। ভাজা ভাজা হলে নামিয়ে নিন।





ইন্ডিয়ান মাশরুম কারি

এটা রান্না করা সবচাইতে সোজা। যেভাবে আমরা মাংস রান্না করি, ঠিক সেভাবেই কষিয়ে রান্না করে নিন। তেলের মাঝে তেজপাতা ও এলাচ দিন। পেঁয়াজ-আদা-রসুন বাটা দিন। হলুদ-মরিচ-ধনিয়া গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। মশলা সম্পূর্ণ রান্না হয়ে গেলে মাশরুম দিন। ভালো করে কষিয়ে পানি দিন। এরপর রান্না করুন। পানি কম দেবেন, ভুনা ভুনা ঝোল হবে। জিরা গুঁড়ো ও কাঁচা মরিচ ছিটিয়ে নামিয়ে নিন। মাংসের চাইতে কোন অংশে কম হবে না স্বাদ। এই রেসিপিতে মাশরুম ও মুরগীর মাংস একসাথে মিশিয়ে রান্না করতে পারেন।

মাসরুম রেসিপি- ৩
> মাশরুম খিচুড়ি



বৃষ্টি-বাদলের আবহাওয়ায় খিচুড়ি খেতে খুব ভালই লাগে। তাই মাশরুম দিয়ে ঝটপট খিচুড়ি তৈরি করে ফেলেন।



উপকরণ



১. পোলাওয়ের চাল এক কেজি।

২. পছন্দমতো সবজি (গাজর, টমেটো, ব্রকলি)।

৩. পিঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি।

৪. স্লাইস করে কাটা কয়েকটি মাশরুম।

৫. হলুদ গুড়া।

৬. আদা ও রসুন বাটা।

৭. লবণ।

৮. মাখন ও সাদা তেল।

৯. রান্না করার ক্রিম।

১০. ধনেপাতা কুচি।

১১. পারমিসান চিজ।

১২. পুদিনাপাতা।



প্রণালি

প্রথমে পোলাওয়ের চাল হালকা তেলে পিঁয়াজ দিয়ে ভেজে সিদ্ধ করে রাখুন। এরপর একটি প্যানে মাখন দিয়ে তাতে সব মশলা দিয়ে কষিয়ে নিন। কষানো হয়ে গেলে পছন্দমতো সবজি ঢেলে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন। এখন সামান্য পানি দিয়ে স্লাইস করে কাটা মাশরুম দিয়ে দিন। এরপর একটু নেড়ে মাশরুম হালকা সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ঢেকে রাখুন। এরপর সিদ্ধ করা পোলাওটি দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পর রান্না করার ক্রিমটি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। পুরোপুরি হয়ে গেলে গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে দিন। এরপর চুলা থেকে নামিয়ে ধনে পাতা কুচি ও পুদিনা পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।



> মাশরুম-মুরগি রান্নার রেসিপি

উপকরণ: মুরগির মাংস ১ কেজি, মাশরুম দেড় কাপ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা দেড় চা-চামচ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, এলাচি ৩-৪টি, লবণ পরিমাণমতো, জিরা বাটা ১ চা-চামচ, ধনে বাটা ১ চা-চামচ, গরম মসলা ১ চা-চামচ, মেথি বাটা আধা চা-চামচ, মৌরি বাটা আধা চা-চামচ, তেল ২ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২টি, কাঁচা মরিচ ৩-৪টি।





প্রণালি: মুরগির মাংস ছোট ছোট টুকরা করে নিন। তেলে এলাচি, তেজপাতা ও পেঁয়াজ দিয়ে বাদামি করে ভেজে নিন। এরপর তাতে সব মসলা দিয়ে কসিয়ে মাংস দিয়ে ঢেকে দিন। মাংস সেদ্ধ হলে মাশরুম ও কিছুক্ষণ পর কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিন।

29/07/2022

মাশরুম চাষ করে বিপণন করবেন কোথায়? এই পন্থায় বিপণন করে আয় করুন প্রচুর অর্থ (Mushroom Market)
(Mushroom Market) মাশরুম এক প্রকার ছত্রাক। এটা একটি সুস্বাদু খাবার। কিন্তু সবধরনের মাশরুম খাবার হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। পৃথিবীতে প্রায় ৩ লাখ প্রজাতির মাশরুম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার প্রজাতি খাওয়ার অযোগ্য। আনুমানিক ১০ হাজার প্রজাতির মাশরুমের ওপর গবেষণা চলছে। এদের ভেতরে মাত্র ১০ প্রজাতির মাশরুম খাবার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ঋষি মাশরুম, গুটি বা বাটন মাশরুম, মিল্ক হোয়াইট মাশরুম, ওয়েস্টার মাশরুম, স্ট্র মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। অধিক পরিমাণ লাভজনক হওয়ায় অনেক লোক মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। ক্ষুদ্র বা ব্যাপক পরিসরে মাশরুম চাষ করা যায়। স্পূন থেকে মাশরুম চাষ করা হয়। এই স্পূনগুলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়।

মাশরুম চাষ পদ্ধতি (Cultivation) -
মাশরুম চাষ করতে গেলে সর্বপ্রথম সঠিক কর্মপরিকল্পনা করা প্রয়োজন। সঠিকভাবে কাজ পরিচালনা করার জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। কিছু লোক একত্রে মিলেমিশে মাশরুম চাষ করলে দ্রুত লাভবান হওয়া সম্ভব। ঘরে বসে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা যায়। গ্রাম বা শহরের বেকার যুবকরা এই মাশরুম চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেন। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও ঘরে বসে অল্প মূলধনে মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন। মাশরুম চাষ করার জন্য আলোহীন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ প্রয়োজন, তবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে, শহর ও গ্রামে সব জায়গায় মাশরুম চাষ করা সম্ভব। স্পূনগুলোকে রাখার জন্য ছোট ছোট মাচা ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো হতে পারে লোহা, বাঁশ কিংবা কাঠের। অতিরিক্ত গরম মাশরুম চাষের জন্য প্রতিকূল; এজন্য প্রয়োজন হলে ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মাশরুম চাষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি প্রয়োজন। হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্পূনগুলোতে নিয়মিত পানি দিয়ে স্যাঁতসেঁতে করে রাখতে হবে।মাশরুম বিপণন পদ্ধতি (Market) :
মাশরুম চাষের পাশাপাশি মাশরুম বিপণন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বিপণন করতে না পারলে মাশরুম থেকে অধিক পরিমাণ লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য চাষের পাশাপাশি বিপণন বা মার্কেটিং পদ্ধতিটিও ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। মাশরুম কোথায় কোথায় বিক্রি করা যায়। কোথায় বিক্রি করলে লাভ বেশি এগুলো জানা প্রয়োজন। সাধারণত বিভিন্ন হোটেলে মাশরুম বিক্রি করা যায়। এছাড়া বড় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোর যেমন_ আগোরা, নন্দন, মিনা বাজার ইত্যাদি জায়গায় ভালো ও অধিক পরিমাণে মাশরুম সরবরাহ করতে পারলে বিক্রির সুযোগ আছে। খোলাবাজারে নিজ উদ্যোগেও মাশরুম বিক্রি করা সম্ভব। সাধারণত বাজারে প্রতিকেজি মাশরুম ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। যদি কোনো কারণে কখনো মাশরুম বিক্রি করা না যায়, সেক্ষেত্রে মাশরুম শুকিয়ে রাখা সম্ভব। এটাকে ড্রাই মাশরুম বলে। বাজারে ড্রাই মাশরুমের দাম কেজিপ্রতি ১,০০০-১,২০০ টাকা। ড্রাই মাশরুম পানিতে ভিজালে আবার কাঁচা মাশরুমের মতো হয়ে যায়। বিক্রির অসুবিধা হলে মাশরুম সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেই এটা একটি লাভজনক ব্যবসা। কোনো সুখ্যাত প্রতিষ্ঠানে মাশরুম সরবরাহ করতে হলে দুটি বিষয় ভালো করে মনে রাখতে হবে। একটি দ্রব্যের মান ও অপরটি দ্রব্যের উৎপাদনের পরিমাণ। যখন ভালো মানের মাশরুমের চাহিদা তৈরি হবে তখন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তা অধিক পরিমাণে আশা করবে। একজন ক্ষুদ্র মাশরুম চাষির পক্ষে যা পূরণ করা কষ্টকর। এ জন্যই কিছুসংখ্যক লোক মিলেমিশে চাষাবাদ করতে পারলে অধিক পরিমাণ মাশরুম সরবরাহ করা সম্ভব।মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণ স্থান:
মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীকে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারিভাবে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কিভাবে মাশরুম চাষ করা যায়, কিভাবে বিপণন করা যায়, মাশরুম চাষের সমস্যা সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করে থাকে। সরকারিভাবে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অধিক সময় না হওয়ায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও মাশরুম চাষের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সম্ভাবনা:
মাশরুম চাষ আমাদের দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক। সরকার সঠিকভাবে মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে মাশরুম চাষ একটি অন্যতম সাফল্যমণ্ডিত ক্ষেত্রে পরিণত হবে। এখান থেকে হাজার হাজার বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মাশরুম চাষের দিকে নজর দিলে সম্ভাবনাময় মাশরুম চাষ আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে এটাই সবার প্রত্যাশা ।

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Sapahar?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


Sapahar
6560