Muslim Mindset

Muslim Mindset

Partager

""প্রচার করো যদি একটি মাত্র আয়াত ও হয়""(বুখারী)

26/06/2026

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
❝যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করতে চায়, তার কর্তব্য হলো, নিজের মাঝে গাম্ভীর্য, ধীরস্থিরতা ও আল্লাহভীতি বজায় রাখা। আর সে যেন তার পূর্ববর্তী নেককারদের পথ ও আদর্শের অনুসারী হয়।❞
__
খতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ)
[ আল-জামিয়ু লি আখলাকির রাবি : ১/১৫৬ ]

26/06/2026

ছোটবেলায় এরকম লালচে আকাশ দেখে কী ভাবতেন?

ছোটবেলার কথা৷ সূর্য যখন প্রায় অস্ত যায় যায় অবস্থা হতো, প্রকৃতিতে যখন নেমে আসত গোধূলির আবহ, আকাশের পশ্চিম কোণটা তখন লালচে বর্ণ হয়ে উঠত। সারা আকাশজুড়ে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকত সেই লাল রঙ। আমার স্পষ্ট খেয়াল আছে, আকাশের এই অবস্থা দেখে আমরা বলতাম—কারবালার ময়দানে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে শহিদ করা হয়েছিল, আকাশের এই লাল রঙ হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই লাল রক্ত।

কীভাবে এই বিশ্বাস আমাদের সেই ছোট্ট মনে গেঁথে গিয়েছিল জানি না৷ ব্যাপারটায় নিঃসন্দেহে একটা আবেগ আছে, কিন্তু যা নেই তা হলো—সত্যতা।

কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলোর অন্যতম। আল্লাহর রাসুল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র, হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর পরিবারের অনেক সদস্য সহ শহিদ করা হয় ইরাকের কারবালা নামক প্রান্তরে।

তিনি শুধু নবিজির দৌহিত্রই ছিলেন না, একদিকে তিনি ছিলেন আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সন্তান যাকে বীরত্বের জন্য ‘আসাদুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সিংহ’ বলে ডাকা হতো। অন্যদিকে তিনি ছিলেন নবি তনয়া ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার নাড়িছেঁড়া সন্তান যিনি হবেন জান্নাতের রমনীকূলের সর্দার।

এতো চমৎকার বংশ পরম্পরা, এতো চমৎকার বংশীয় রক্ত-ধারা মানব ইতিহাসের আর ক’জনের রয়েছে?

এমন পবিত্র রক্ত-ধারা যার শরীরে প্রবাহিত, যিনি দেখতে অনেকবেশি নবিজির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন, যার শরীরে লেগে ছিল নবিজির পবিত্র স্পর্শ—তাঁকেই কী না একদল যালিম কারবালা প্রান্তরে পৈশাচিকভাবে শহিদ করে ফেলে! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

কারবালার এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের বুকে পাহাড় সমান বোঝা হয়ে বিঁধে আছে। সেদিনের সেই বিধ্বস্ত কারবালা প্রান্তরে যে পবিত্র জীবনপ্রদীপ নিভে গিয়েছিল, তা আমাদের জন্য তৈরি করেছিল কৃষ্ণগহ্বরের মতো অসীম অন্ধকার।

তবে অস্বীকারের জো নেই, মুসলিম ইতিহাসের যে সকল ঘটনাকে অনেকবেশি বিকৃত করা হয়েছে, কারবালার ঘটনাও তার মধ্যে অন্যতম৷ স্বয়ং কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় বিশ্বাসের মতো আলাদা ‘বিশ্বাস’ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। এই কারবালার ঘটনাকে শিয়া সম্প্রদায় একভাবে উপস্থাপন করে, আহলে সুন্নাহর অনুসারী ধারা উপস্থাপন করে অন্যভাবে। সেই সম্প্রদায়গুলোও আবার কারবালার ঘটনার প্রেক্ষিতে দল উপদলে ভাগ হয়েছে। কারবালার ঘটনায় যেমন লাগানো হয়েছে রাজনীতির রঙ, তেমনই এটাকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ব্যক্তি, দল আর সম্প্রদায়ের নিজস্ব এজেন্ডা অনুযায়ী।

কারবালার ঘটনাটাও আসলে খুবই রহস্যপূর্ণ। যে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুফাবাসী চিঠির পর চিঠি দিয়ে কুফায় ডেকে আনল, শেষ মুহূর্তে তারা তাঁর সাথে বেইমানি করে বসল। মদিনার প্রায় সকল প্রসিদ্ধ সাহাবি, যাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা পর্যন্ত ছিলেন, তারা হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুফা যেতে দফায় দফায় বারণ করেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস তো হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেই বসেন, ‘যদি তোমার আর আমার জন্য লজ্জার না হতো, তাহলে আমি তোমার মাথার চুল টেনে ধরে রাখতাম যেন তুমি সেখানে (কুফায়) যেতে না পারো।’

কিন্তু, শেষ পর্যন্ত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের কারও কথা শোনেননি৷ তিনি শেষ পর্যন্ত কুফায় যান আর কারবালা প্রান্তরে সেই হৃদয়বিদারক ঘটনাটা ঘটে।

কারবালার এই ইতিহাস আমাদের সকল সচেতন মুসলিমের জানা থাকা উচিত। ইতিহাসের সেই ঘটনাক্রম কীভাবে ঘটেছিল, কোন কোন অনুঘটক কোন কোন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল—এসব জানা থাকলে অনেক রহস্যজট, ইতিহাসের অনেক গতিপথ বোঝা সহজ হয়ে যায়।

তবে, ইতিহাস সর্বদা এমন উৎস থেকেই পড়া উচিত যারা ইতিহাস বর্ণনায় সৎ এবং আন্তরিকতার পরিচয় দেন। কারবালার মতো বহুল চর্চিত, বহুল বিকৃত ঘটনাকে সঠিক ইতিহাসের আয়নায় জানতে এ ধরণের গ্রন্থের তো কোনোই বিকল্প নেই।

যারা কারবালার সঠিক ইতিহাসটা সঠিক উৎসস্থল থেকে পড়তে আগ্রহী, তাদের জন্য Sukun Publishing থেকে প্রকাশিত ‘যেভাবে ঘটেছিল কারবালা’ বইটা আমি সাজেস্ট করব৷

বইটা আদ্যোপান্ত আমি রিভিউ করেছি, আলহামদুলিল্লাহ। হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর সংক্ষিপ্ত জীবনী সহ, বইটা এমনভাবে সাজানো যে, কারবালা নিয়ে ছোট-বড় কোনো ঘটনাই বাদ থাকেনি৷ লেখকদ্বয় সুনিপুণভাবে সকল ঘটনা পরম্পরা ধরে ধরে তুলে এনেছেন।

বইটির সবচেয়ে দুর্দান্ত বিষয়টি হলো, বইটিতে প্রায় প্রত্যেকটা ঘটনা বর্ণনার সাথে সাথে লেখক এমন রেফারেন্স ব্যবহার করেছেন যা আহলে সুন্নাহর আলিমদের কাছে সর্বজনস্বীকৃত। রেফারেন্সগুলোও অত্যন্ত প্রাচীন কিতাবাদি থেকে তুলে আনায়, সেগুলো বইটির মান বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বইটির প্রায় প্রত্যেকটা লাইনে লাইনে লেখক রেফারেন্স রাখার চেষ্টা করেছেন। বইটি ছিল মূলত লেখকের পিএইচডির থিসিস পেপার৷ সেই থিসিস পেপার থেকেই এটাকে বই করা হয়েছে৷ এই কাজে লেখক কী পরিমাণ শ্রম দিয়েছেন তা বইটির প্রত্যেকটা পাতা সাক্ষী, সুবহানাল্লাহ!

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে সিরাতুল মুস্তাকীমের উপর রাখুন৷ বইটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে, এবং বইটির প্রত্যেক পাঠক সহ জান্নাতে যেন আমরা নবিজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গী হতে পারি—সেই তাউফিক যেন আমাদের নসিব হয়৷ আল্লাহুম্মা আ-মীন।
আরিফ আজাদ ভাইয়ের পোস্ট থেকে

25/06/2026

২:: আজকের হাদিস

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর অধিকমাত্রায় দরূদ পড়। কেননা, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” লোকেরা বলল, ’ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ পয়গম্বরদের দেহসমূহকে খেয়ে ফেলা মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন।” (বিধায় তাঁদের শরীর আবহমান কাল ধরে অক্ষত থাকবে।) (আবু দাউদ, বিশুদ্ধ সনদ) [1]
#ইসলামিক

25/06/2026

আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়ইনা মুহাম্মদ

25/06/2026

ইসলামের স্বাতন্ত্র্যবোধ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে এতটাই প্রগাঢ় ছিল যে—ইবাদতেও যেন ই*হু*দিদের অনুকরণ না হয়, সে জন্য তিনি সাহাবিদেরকে আশুরার দুইটি রোজা রাখতে বলেছিলেন।

অথচ তাঁর অনুসারী দাবিদার হয়েও আজ আমরা জাগতিক সাধারণ বিষয় তো বটেই; জীবনবোধে, সংস্কৃতিতে, মূল্যবোধে—এমনকি বহু পাপাচারেও তাদের অন্ধ অনুকরণ করছি। শুধু তাই নয়, কখনো কখনো অন্ধ অনুকরণ করে গর্ববোধ করছি।

এ যেন রাসুলের (সা.) সেই সতর্কবাণীরই জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি: তোমরা প্রতি বিঘতে ও প্রতি গজে পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করবে। এমনকি তারা গুইসাপের গর্তে ঢুকলে তোমরাও ঢুকবে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, তারা কি ই*হু*দি-খ্রি*স্টান? নবীজি (সা.) বললেন, তবে আর কারা? [বুখারি: ৩৪৫৬]

খেয়াল করুন, এটি কোনো প্রশংসাসূচক হাদিস নয়। বরং এটি ভয়ংকর এক ভবিষ্যদ্বাণী।

আসুন, যুগের স্রোতে বদলে না গিয়ে বরং যুগকেই বদলানোর চেষ্টা করি। যেভাবে মক্কার জাহিলিয়াতের বিরুদ্ধে একাই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.)।

উদাসীনতার পিঠে চাবুক মেরে আত্মপরিচয় ফিরিয়ে আনার এই লড়াই-ই হোক এবারের আশুরার অঙ্গীকার।
শাইখ Ahmadullah

25/06/2026

ভেনেজুয়েলার স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় এক লক্ষ মানুষের হতাহতের আশংকা! ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সমবেদনা।

মহান আল্লাহর বিশাল সৃষ্টি ও মহাশক্তির সামনে আমরা কত ক্ষুদ্র ও অসহায়! কিয়ামতে এভাবেই আমাদের তিল তিল করে গড়ে তোলা স্থাপনা, সম্পদ ও আয়োজন মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে—এ যেন তারই একটি নমুনা।

এসব ঘটনা আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। বাংলাদেশে অনেক দিন ধরেই ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে। জনবহুল ও অপরিকল্পিত নগরায়নের এই শহরে যদি অমন ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।

আসুন, আমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসি, নির্মাণ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দুর্যোগ থেকে বাঁচার আগাম ও যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করার অনুরোধ জানাই।
শাইখ Ahmadullah

25/06/2026

আজকের আয়াত: ০২

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ (সুরা আত তাওবা : আয়াত ৬০)

বাংলা অনুবাদ

"যাকাত কেবল ফকীরদের জন্য, মিসকীনদের জন্য, যাকাত আদায়কারী কর্মীদের জন্য, যাদের মন জয় করা প্রয়োজন তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (জিহাদে) এবং মুসাফিরদের জন্য — এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"

যাকাতের ৮টি খাত::

এই আয়াতে সাহাবা ও তাবেয়ীনদের ঐক্যমতে ফরয সদকা (যাকাত)-এর খাতগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। (HadithBD) এগুলো হলো:
১. ফকীর — যাদের কিছু আয় আছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল
২. মিসকীন — যারা একেবারে নিঃস্ব
৩. যাকাত আদায়কারী কর্মী — যারা ইসলামী সরকারের পক্ষ থেকে যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের কাজে নিয়োজিত (HadithBD)
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব — যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন
৫. দাসমুক্তি — ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য
৬. ঋণগ্রস্ত — যারা নিজেদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করলে নেসাবের চেয়ে কম সম্পদ অবশিষ্ট থাকে (Amartafheem)
৭. আল্লাহর পথে — জিহাদ ও দ্বীনি কাজে
৮. মুসাফির (ইবনুস সাবীল) — যাত্রাপথে অসহায় হয়ে পড়া ব্যক্তি

মূল শিক্ষা::

যাকাত বণ্টন কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা এই আটটি খাত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (Surah Quran) আয়াতের শুরুতে "إِنَّمَا" (কেবলমাত্র) শব্দ ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে যে ফরয যাকাত কেবল এই আটটি খাতেই ব্যয় করতে হবে, অন্য কোনো ভালো কাজেও ফরয যাকাত দেওয়া যাবে না। (HadithBD)

23/06/2026

" হে যুবক আল্লাহ তাআলা তোমাকেই উদ্দেশ্য করে বলছে..... Muslim Mindset

23/06/2026

মাত্র দুটো শব্দ — "লা তাহযান" — কিন্তু আল্লাহ এই কথা কাকে, কখন বলেছেন জানেন?

দুটো শব্দ।

"লা তাহযান।"

"দুঃখ পেও না।"

এই দুটো শব্দ কুরআনে বারবার এসেছে। কিন্তু প্রতিটি বারই — একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে। যখন কেউ একদম ভেঙে পড়েছেন। যখন পথ বন্ধ মনে হচ্ছে। যখন মনে হচ্ছে আর কেউ নেই পাশে। ঠিক সেই মুহূর্তে — আল্লাহ বলেছেন "লা তাহযান।"

কিন্তু একটা কথা আছে —

আমরা এই শব্দ দুটো শুনি, পড়ি। মাহফিলে শুনলে মন একটু হালকা হয়। কিন্তু কুরআনের কোন মুহূর্তে, কাকে, কোন অবস্থায় এই কথা বলা হয়েছে — সেটা কি কখনো ভেবে দেখেছেন? সেই মুহূর্তগুলো জানলে এই দুটো শব্দের ওজন অনুভব করতে পারবেন।

আজ চারটি মুহূর্তের কথা বলব। প্রতিটি মুহূর্তে একজন মানুষ ছিলেন একদম ভেঙে পড়া অবস্থায় — এবং আল্লাহ বলেছেন "লা তাহযান।" এই মুহূর্তগুলো বুঝলে, আপনার নিজের কষ্টের সময়গুলো ভিন্নভাবে দেখতে পারবেন।

"লা তাহযান" — কথাটার ওজন বোঝা দরকার

"লা তাহযান" শব্দটি এসেছে আরবি "হুযন" মূল থেকে। অর্থ — শুধু দুঃখ নয়, গভীর মনোকষ্ট, ভেতর থেকে ভেঙে পড়া, এমন বেদনা যা বুকের ভেতরে চাপা থাকে। কুরআনে এই মূলের শব্দ পঞ্চাশেরও বেশি বার এসেছে — কারণ আল্লাহ জানেন, হুযন মানুষের জীবনের সঙ্গী। প্রতিটি মানুষের জীবনে এমন মুহূর্ত আসে যখন বুকটা ভেঙে যায়, আর কোনো পথ দেখা যায় না। এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই আল্লাহ বলেন — "লা তাহযান।"

এবার সেই চারটি মুহূর্ত দেখুন।

শিক্ষা ১: ইউসুফ (আ) — কূপের অন্ধকারে, যখন আপনজনই আঘাত করে

একটি শিশু। তার নিজের ভাইয়েরা তাকে কূপে ছুঁড়ে ফেলেছে। একই বাবার সন্তান, একই ছাদের নিচে বড় হওয়া মানুষগুলো — তারাই এই কাজ করেছে। চারদিকে পাথরের দেয়াল। উপরে আকাশ দেখা যাচ্ছে কিন্তু পৌঁছানো যাচ্ছে না। কারাভান পথ দিয়ে যাচ্ছে — হয়তো কেউ পানি তুলতে নামবে, হয়তো তুলে নিয়ে দাস হিসেবে বিক্রি করবে। এই মুহূর্তে ইউসুফ (আ)-এর বয়স মাত্র কয়েক বছর। এই অন্ধকারে আল্লাহ নীরব ছিলেন না।

وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِ لَتُنَبِّئَنَّهُم بِأَمْرِهِمْ هَٰذَا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ

উচ্চারণ: ওয়া আউহাইনা ইলাইহি লাতুনাব্বিআন্নাহুম বিআমরিহিম হা-যা ওয়া হুম লা ইয়াশউরুন।

"আমি তার কাছে ওহি পাঠালাম — তুমি একদিন তাদের এই কাজের কথা জানিয়ে দেবে, যখন তারা বুঝতেও পারবে না।"
(সূরা ইউসুফ: ১৫)

কূপের অন্ধকারে — যখন পুরো পৃথিবী ছেড়ে গেছে — আল্লাহ সরাসরি ওহি পাঠালেন। ইবনে কাসীর (রহ.) লিখেছেন, এই ওহি ছিল ইউসুফ (আ)-এর জন্য সান্ত্বনা এবং সুসংবাদ একই সাথে — মূলত আল্লাহ বলছেন: এই কূপ তোমার পরিণতি নয়, তোমার শুরু। (তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা ইউসুফ)

আজকের জীবনে এটা কীভাবে কথা বলে?

আপনার জীবনেও কি কখনো এমন মুহূর্ত এসেছে — যখন সবচেয়ে কাছের মানুষটিই আঘাত করেছে? বছরের পর বছর পাশে থাকা মানুষ হঠাৎ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে? পরিবারে অবিচার সয়েছেন? অফিসে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদে পদে অপমানিত হয়েছেন? সেই মুহূর্তে মনে হয় — "আর কোনো পথ নেই, এখানেই শেষ।" কিন্তু ইউসুফ (আ)-এর কূপের ঘটনা বলছে — ঠিক এই মুহূর্তে আল্লাহ সবচেয়ে কাছে থাকেন। এই অন্ধকারটাই আপনার উত্থানের প্রথম অধ্যায়।

নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনার জীবনের কোন "কূপে" এখন আছেন — এবং সেই অন্ধকারকে কি আপনি শেষ মনে করছেন, নাকি শুরু?

শিক্ষা ২: সাওর পাহাড়ের গুহায় — "ইন্নাল্লাহা মাআনা"

হিজরতের রাত। নবীজি ﷺ এবং আবু বকর (রা.) সাওর পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন। মক্কার মুশরিকরা ঘেরাও করেছে — জীবিত বা মৃত যে ধরিয়ে দিতে পারবে তার জন্য ১০০ উটের পুরস্কার। শত্রুদের পায়ের শব্দ গুহার মুখের কাছে পৌঁছে গেছে। এতটাই কাছে যে আবু বকর (রা.) ফিসফিস করে বললেন — "ইয়া রাসূলাল্লাহ, তারা যদি পায়ের দিকে তাকায়, আমাদের দেখে ফেলবে।" মৃত্যু তখন একটি পদক্ষেপ দূরে।

সেই মুহূর্তে নবীজি ﷺ কী বললেন?

إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا

উচ্চারণ: ইয্ ইয়াকুলু লিসাহিবিহি লা তাহযান ইন্নাল্লাহা মাআনা।

"যখন তিনি তাঁর সাথীকে বললেন — দুঃখ পেও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।"
(সূরা তাওবাহ: ৪০)

"লা তাহযান" — দুঃখ পেও না। কিন্তু লক্ষ্য করুন — শুধু "লা তাহযান" নয়, সাথে সাথে একটি কারণ দেওয়া হয়েছে: "ইন্নাল্লাহা মাআনা।" আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। আল্লাহ এই মুহূর্তটি কুরআনে চিরকালের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন — কারণ এই দৃশ্য শুধু সেই গুহার জন্য নয়, প্রতিটি মুমিনের প্রতিটি ভয়ের মুহূর্তের জন্য।

আজকের জীবনে এটা কোথায় লাগে?

আপনি কি কখনো রাতে একা শুয়ে ভেবেছেন — "সামনে কী হবে জানি না?" পরীক্ষার আগের রাতের উদ্বেগ, ডাক্তারের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা, ব্যবসার ভাঙন — এই মুহূর্তগুলোতে মনে হয় একা। কিন্তু নবীজি ﷺ-এর সেই গুহার কথাটি আপনার জন্যও: "লা তাহযান, ইন্নাল্লাহা মাআনা।" দুঃখ পেও না। আল্লাহ তোমার সাথে আছেন।

নিজেকে প্রশ্ন করুন: আজ আপনার জীবনের কোন ভয়ের মুহূর্তে আপনি ভুলে গেছেন — আল্লাহ আপনার সাথে আছেন?

শিক্ষা ৩: উহুদের পরের দিন — হেরে যাওয়া মানুষদের কাছে

উহুদের যুদ্ধ। মুসলিমরা প্রায় জিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তীরন্দাজরা নির্দেশ অমান্য করলেন, শত্রু পেছন থেকে আক্রমণ করল। নবীজি ﷺ নিজে আহত হলেন। ৭০ জন প্রিয় সাহাবি শহীদ হলেন — তাঁদের মধ্যে হামজা (রা.), নবীজির চাচা। যুদ্ধের পরের দিন মুসলিমদের অবস্থা কেমন ছিল? মাথা নত, মন ভাঙা, নিজেদের ভুলের কষ্ট, এবং একটি প্রশ্ন বুকে চাপা — "আমরা কি পরাজিত?" ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহ বললেন:

وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

উচ্চারণ: ওয়ালা তাহিনু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আনতুমুল আলাউনা ইন কুনতুম মুমিনিন।

"দুর্বল হয়ে পড়ো না, দুঃখ করো না — তোমরাই বিজয়ী, যদি তোমরা মুমিন হও।"
(সূরা আলে ইমরান: ১৩৯)

"লা তাহযানু" — দুঃখ করো না। কিন্তু এই আয়াতে একটি অদ্ভুত কথা বলা হয়েছে — পরাজয়ের পরেও "তোমরাই বিজয়ী।" কীভাবে? কারণ আল্লাহর হিসাবে পার্থিব পরাজয় চূড়ান্ত পরাজয় নয়। ঈমান থাকলে — পরিণতিতে বিজয় নিশ্চিত। উহুদের সাহাবিরা সেদিন কেঁদেছিলেন, কিন্তু পরবর্তী প্রতিটি যুদ্ধে তাঁরাই ছিলেন বিজয়ী।

আজকের জীবনে এটা কী বার্তা দেয়?

আপনার জীবনে কি কোনো "উহুদ" আছে? ব্যবসায় বড় লোকসান হয়েছে, পরীক্ষায় ফেল করেছেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম মাটি হয়েছে, একটি সম্পর্ক ভেঙে গেছে — সেই ব্যর্থতার পর মনে হয় "সব শেষ।" কিন্তু আল্লাহ উহুদের পরের সাহাবিদের যা বলেছিলেন, আপনাকেও সেই কথাই বলছেন: তোমার ঈমান আছে, তাই তুমি পরাজিত নও — পার্থিব হিসাবে যাই মনে হোক।

নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনার জীবনের কোন ব্যর্থতাকে আপনি এখনো "সব শেষ" মনে করছেন — যেটা আসলে আল্লাহর হিসাবে পরাজয়ই নয়?

শিক্ষা ৪: মৃত্যুর মুহূর্তে — ফেরেশতারা কী বলবেন

জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত — মৃত্যু। যখন মানুষ জীবনের শেষ নিশ্বাস নিচ্ছে, সেই মুহূর্তে কী অনুভব করে? পাপের স্মৃতি চোখের সামনে ভাসে, প্রিয়জনদের ছেড়ে যাওয়ার বেদনা, সামনের অজানা পথ — সব মিলিয়ে একটি অসহ্য ভয়। কিন্তু মুমিনের জন্য সেই মুহূর্তে কিছু একটা ঘটে — যা কুরআনে সংরক্ষিত আছে।

إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ

উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযিনা কালু রব্বুনাল্লাহু সুম্মাস্তাকামু তাতানায্যালু আলাইহিমুল মালায়িকাতু আল্লা তাখাফু ওয়ালা তাহযানু ওয়া আবশিরু বিল জান্নাতিল্লাতি কুনতুম তুআদুন।

"নিশ্চয়ই যারা বলেছে 'আমাদের রব আল্লাহ' এবং অবিচল থেকেছে — তাদের কাছে ফেরেশতারা নামেন এবং বলেন: ভয় পেও না, দুঃখ করো না — এবং সুসংবাদ নাও সেই জান্নাতের, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল।"
(সূরা ফুস্সিলাত: ৩০)

"লা তাহযানু" — দুঃখ করো না। কিন্তু এখানে একটি শর্ত আছে — কারা এই সুসংবাদ পাবেন? দুটো কাজ করেছেন যারা: "কালু রব্বুনাল্লাহ" — বলেছেন আমাদের রব আল্লাহ, এবং "ইস্তাকামু" — অবিচল থেকেছেন। ঈমান আনা অনেকেই আনে, কিন্তু ইস্তিকামা — সঠিক পথে অবিচলভাবে থাকা — এটাই পার্থক্য করে। আর পুরস্কার? মৃত্যুর সেই সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে ফেরেশতারা এসে বলবেন — "ভয় নেই, দুঃখ নেই, জান্নাত তোমার অপেক্ষায়।"

আজকের জীবনে এটা কোথায় লাগে?

আমরা মৃত্যুর ভয়ে থাকি। কিন্তু এই আয়াত বলছে — মৃত্যু মুমিনের জন্য ভয়ের মুহূর্ত নয়, সুসংবাদের মুহূর্ত হতে পারে। শর্ত একটাই — জীবনে ইস্তিকামা। আজ যদি ইস্তিকামার পথে থাকেন — প্রতিদিনের নামাজ, সত্যবাদিতা, হালাল উপার্জন, পরিবারের সাথে ইনসাফ — তাহলে সেই মুহূর্ত ভয়ের নয়।

নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনার জীবনে কি এমন ইস্তিকামা আছে — যা মৃত্যুর মুহূর্তে ফেরেশতার "লা তাহযান" শোনার যোগ্য করবে?

৪টি মুহূর্ত — এক নজরে

মুহূর্ত ১ — ইউসুফ (আ) কূপে। আপনজনই আঘাত করেছে। আল্লাহ বললেন: এই অন্ধকারটাই তোমার শুরু।

মুহূর্ত ২ — গুহায় হিজরতের রাতে। মৃত্যু দরজায়। নবীজি ﷺ বললেন: লা তাহযান, আল্লাহ আমাদের সাথে।

মুহূর্ত ৩ — উহুদের পরাজয়ের পর। সব হারিয়ে গেছে মনে হচ্ছে। আল্লাহ বললেন: ঈমান থাকলে তুমিই বিজয়ী।

মুহূর্ত ৪ — মৃত্যুর মুহূর্তে। সবচেয়ে ভয়ের দরজায়। ফেরেশতারা বললেন: ভয় নেই, দুঃখ নেই, জান্নাত তোমার অপেক্ষায়।

আমল পদ্ধতি —

আজ থেকে এই অভ্যাসটি শুরু করুন। যখনই কষ্ট পাবেন — কেউ আঘাত করলে, ভয় এলে, ব্যর্থ হলে, একা লাগলে — এই আয়াতের অংশটুকু মুখে বলুন:

لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا

"লা তাহযান, ইন্নাল্লাহা মাআনা।"

শুধু মুখে নয় — মনে ধরুন। এই শব্দ দুটো নবীজি ﷺ বলেছিলেন সাওর পাহাড়ের গুহায়। আজ সেই একই শব্দ আপনার ঠোঁটে। এবং প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ফুস্সিলাতের ৩০ নম্বর আয়াতটি একবার পড়ুন — নিজেকে মনে করিয়ে দিন, ইস্তিকামার পথে থাকলে সামনে কী অপেক্ষা করছে।

মনে রাখবেন!

আল্লাহ এই "লা তাহযান" বলেছেন সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তগুলোতে।

ইউসুফ (আ) কূপে ছিলেন — মিশরের মসনদে উঠলেন। নবীজি ﷺ গুহায় ছিলেন — মদীনায় পৌঁছালেন। উহুদের সাহাবিরা ভেঙে পড়েছিলেন — পরবর্তী প্রতিটি যুদ্ধে বিজয় এলো। মুমিন মৃত্যুর দরজায় কাঁদছে — ফেরেশতা জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে আসছে।

"লা তাহযান" শুধু দুটো শব্দ নয়। এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি — তোমার কষ্ট আমি দেখছি, তুমি একা নও, এই মুহূর্তটাই শেষ নয়। আল্লাহ এই কথা কুরআনে সংরক্ষণ করে রেখেছেন শুধু সেই চারটি মুহূর্তের জন্য নয় — আপনার প্রতিটি কষ্টের মুহূর্তের জন্যও।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রতিটি কষ্টের মুহূর্তে "লা তাহযান"-এর এই প্রতিশ্রুতি স্মরণ করার তাওফিক দিন, ইউসুফ (আ)-এর মতো অন্ধকার কূপেও আল্লাহর উপর ভরসা রাখার শক্তি দিন, নবীজি ﷺ-এর সেই গুহার "ইন্নাল্লাহা মাআনা"-র অনুভূতি আমাদের হৃদয়ে জীবিত রাখুন, উহুদের পরের সাহাবিদের মতো ব্যর্থতার পরেও মাথা উঁচু রাখার সাহস দিন, এবং মৃত্যুর সেই কঠিন মুহূর্তে ফেরেশতার "লা তাহযান" শোনার যোগ্য বান্দা হিসেবে আমাদের কবুল করুন। আমিন।

✒️ Ekram Hossain - ইকরাম হোসাইন

আপনার জীবনে এই মুহূর্তে কোন কষ্টটি সবচেয়ে বেশি চাপা দিয়ে আছে — যেখানে "লা তাহযান" শোনার সবচেয়ে বেশি দরকার?

কমেন্টে একটি লাইন লিখুন। আপনার কথা হয়তো আরেকজনকে সাহস দেবে।

রেফারেন্স:
— সূরা ইউসুফ: ১৫
— সূরা তাওবাহ: ৪০
— সূরা আলে ইমরান: ১৩৯
— সূরা ফুস্সিলাত: ৩০
— তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা ইউসুফ

Téléphone

Site Web

Adresse


Democratic Republic Of The

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque Muslim Mindset publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Souscrire

Nous vous informerons quand tout se passe à Democratic Republic of the.