Dr Purvita Sarkar Ray
Dr. Purvita Sarkar Ray, MD, is a dedicated psychiatric practitioner based in greater kolkata area.
29/05/2026
২০২০ এর ঘোর কোভিড কাল। আসামের তেজপুরের LGBRIMH এ তখন সদ্যই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে যোগ দিয়েছি। চারদিকের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই একদিন শুনলাম, আমার মেয়েবেলার হিরোর মুম্বাইতে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর কুয়াশা সরিয়ে যখন জানা গেলো তিনি অবসাদে ভুগছিলেন তখনই চারপাশ থেকে কানে উড়ে আসতে থাকলো—"আরে ওর তো টাকা-পয়সা, নাম, গাড়ি, বাড়ি, বান্ধবী সবই আছে! ওর আবার কিসের অবসাদ!!"
এর মাস ছয়েক পরের ঘটনা। LGBRIMH ওপিডিতে এক গ্রামীণ যুবা তার মায়ের সাথে এসেছে। যুবাটি একপ্রকার জোর করেই দেখাতে এসেছে কারণ তার অনেক দিন ধরেই কাজের উদ্যম কমে যাচ্ছে, ইদানীং ঘুমও একটানা হয় না, খাওয়ার ইচ্ছাও নেই। আগে ফুটবল খেলতে যেতো রোজ বিকেলে ইদানীং যেতেও ইচ্ছা করেনা। যুবাটির সাথে কিছুক্ষণ কথা বলার পর বোঝা গেলো যে অবসাদ তাকে ঘিরে ফেলেছে - কাউন্সেলিং এর সাথে সাথে কিছুদিন ওষুধ খেতে হবে। তার মা কে ডেকে জানানো হলো যে কিছু সমস্যা আছে তবে ঠিক হয়ে যাবে সাথে অল্প কথায় কেয়ার গিভিং এর সামান্য কিছু অংশ বলা হলো। এবার ওই মা আমায় সরাসরি অসমিয়া ভাষায় বলে বসলেন—"এসব হচ্ছে বড়লোকদের রোগ, আমার ছেলের এসব নেই। ছেলে জোর করে এসেছে বটে কিন্তু ওষুধ ওকে খাওয়াবো না, আর আনবো ও না।"
আমাদের সমাজ মানসিক স্বাস্থ্যকে ঠিক এই দুটো চরম ভুল ধারণার বেড়াজালে আটকে রেখেছে। একদল ভাবেন—সব থাকলে অবসাদ আসতে পারে না, আর অন্যদলের ধারণা—নুন আনতে পান্তা ফুরনোর সংসারে অবসাদ হওয়াটা আসলে একধরণের 'বিলাসবহুল আদিখ্যেতা'! যেন যারা বিত্তশালী নন, তাদের অবসাদ হতেই নেই!
আসলে বাস্তবটা একদম সে রকম নয়। আমার স্কুলবেলায় হেডব্যাং করা শুরু, চেস্টার বেনিংটন (Linkin Park)-এর গান শুনে। সেই মানুষটা ২০১৭ সালের ৬ই জুলাই বার্মিংহামে হাজার হাজার মানুষের সামনে স্টেজ কাঁপিয়ে শো করার ঠিক দু-সপ্তাহ পরে, ২০শে জুলাই নিজেকে শেষ করে দেন। সাফল্য, ব্যাংক ব্যালেন্স, সামাজিক স্তর কিংবা বাইরের হাসিখুশি মুখ দেখে মানুষের ভেতরের লড়াই চেনা যায় না।
মস্তিষ্কের ভেতরের জটিল নিউরোনাল নেটওয়ার্কে ডোপামিন (Dopamine), সেরোটোনিন (Serotonin) বা নরএপিনেফ্রিন (Norepinephrine)-এর মতো জরুরি নিউরোট্রান্সমিটারগুলোর ভারসাম্যহীনতা হলে তা যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। ডায়াবেটিস যেমন কোনো ধনী-দরিদ্রের বিচার করে শরীরে থাবা বসায় না, ডিপ্রেশনও ঠিক তেমনি একটি নিখাদ মেডিকেল কন্ডিশন।
বাইরে সবার সামনে স্বাভাবিক হাসিমুখ থাকার অভিনয় করতে করতে নিজের মনের মধ্যেকার ঝড় সামলানো (Smiling Depression) যে কতখানি ভয়ানক, তা কেবল সেই মানুষটিই জানেন যিনি প্রতিদিন এই নীরব লড়াইটা লড়ছেন। সে তেজপুরের ওপিডির সাধারণ গ্রামীণ যুবাই হোক, কিংবা মুম্বাই-লন্ডনের সেলিব্রিটি—মস্তিষ্কের ভেতরের বিজ্ঞানটা সবার জন্যই এক।
সমাজ কী বলবে, লোকে 'বড়লোকী রোগে আক্রান্ত' বলে উপহাস করবে, নাকি ব্যাক্তি সফলতার দিকে আঙুল তুলবে—এই ভয়ে কতো মানুষ যে এই লড়াই বছরের পর বছর বুকের ভেতর চেপে রেখে ক্লান্তিকর মুখোশ পরে থাকেন তা বলে বোঝানো মুশকিল। মাঝে মাঝে কোনো বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ব অবসাদে ভুগে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে সমাজ কয়েকদিনের জন্য একটু নড়ে চড়ে বসে। ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক পেরোনোর পরেই আবার মানসিক ভাবে ভালো না থাকাটাকে অপরাধ হিসাবে দেখা হতে থাকে। একটা রোগকে অস্বাভাবিক ভাবে লুকিয়ে রেখে হাসিমুখেই কতশত লোকের জীবন চলতে থাকে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা জানতে পারলেই আশপাশ থেকে উড়ে আসে বিদ্রুপ "কি রে তুই নাকি মন খারাপ করে পাগল হয়ে যাচ্ছিস!, পাগলের ডাক্তার দেখাচ্ছিস!!" আবার মানুষটার কিছু হয়ে গেলে, কিছু চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে সেই বিদ্রুপকারীই ওয়ালে পোস্ট করেন "আমায় তো বলতে পারতি ভাই, আমি শুনতাম!"
24/05/2026
১৯৫৮-৫৯ সাল। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি।
করিডোরে করিডোরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক বছর ৩০ এর প্রফেসর এবং গণিতের ব্ল্যাকবোর্ডে অদ্ভুত সব কোড লিখে রাখছেন। ভদ্রলোক বছর দশেক আগেই (১৯৪৮-১৯৫০) ন্যাশ ইকুলিব্রিয়াম আবিষ্কার করে প্রিন্সটনে তথা দুনিয়ার প্রবল বিখ্যাত হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ইদানীং ওনার মনে হয় দেওয়ালে কান পাতলে অদৃশ্য কিছু মানুষ ওনার সাথে কথা বলছে, ওনাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে— যা ওনার চারপাশে থাকা অন্য কেউ দেখতে বা শুনতে পাচ্ছে না। ওনার মনে হতে থাকলো খবরের কাগজগুলো আসলে ভিনগ্রহের প্রাণী বা গুপ্তচরদের কোড ল্যাঙ্গুয়েজ। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তিনি পৃথিবীর সমস্ত দেশের প্রধানদের সাথে কোনো বিশেষ উপায়ে যুক্ত, এবং তিনি নিজেই এই পৃথিবীর "ঈশ্বরের বাম হাত" (The left hand of God on Earth)। স্ত্রী অ্যালিসিয়া গর্ভবতী তাই তাকেও কিছু জানাচ্ছেন না।
কাট টু ১৯৭৮-১৯৮০। মুম্বাই।
দিওয়ার, অমর আকবর অ্যান্টনি মুক্তির পর এক অনন্যা সুন্দরী অভিনেত্রীর হাসি দোলা দিয়ে যাচ্ছে আসমুদ্র হিমাচল মানুষের মনে। সাফল্য, গ্ল্যামার আর আলোর রোশনাইয়ের ঝলকানির মাঝের জীবন, যা গড়পড়তা সাধারণ ভারতীয়ের কাছে জীবনে চূড়ান্ত সফল হওয়ার নামান্তর। অভিনেত্রীর বয়স যখন ৩০ এর আশেপাশে তখন হঠাৎ করেই ওনার মনে হতে লাগল— ওনাকে কেউ বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে, ঘরের সিলিং ফ্যানের ভেতর একটা ক্যামেরা লুকানো আছে, যা দিয়ে ওনার ওপর চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে। উনি এক অদ্ভুত, কাল্পনিক আতঙ্কে নিজের ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে দিলেন বাড়ির বাইরে আসা যাওয়া কমিয়ে দিলেন।
দুজনেরই মগজে ডোপামিন নামের কেমিক্যালের ব্যালেন্স বিগড়ে গিয়েছিল যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় প্যারাণয়েড সিজোফ্রেনিয়া বলে। রোগটা এক হলেও, ওনারা সমাজ আর পরিবারের কাছ থেকে যা পেয়েছিলেন—তা ছিল আকাশ আর পাতাল তফাত।
আমেরিকার সেই অধ্যাপকের ক্ষেত্রে ওনার এই অদ্ভুত আচরণকে ওনার পরিবার বা ওনার বিশ্ববিদ্যালয় "পাগলামি" বা "লজ্জা" বলে দূরে ঠেলে দেয়নি। ওনার স্ত্রী ওনার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। ওনারা জানতেন— এটি কোনো স্বভাবের দোষ বা চরিত্রের খামখেয়ালিপনা নয়, এটি একটা গুরুতর অসুখ। ওনাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানো হলো এবং সমাজ ওনার মর্যাদা কেড়ে নেয়নি।
আমাদের দেশের সেই অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে আমাদের সমাজ, মিডিয়া আর ওনার চারপাশের মানুষ ওনাকে আগলে রাখা তো দূর, ওনাকে নিয়ে নোংরা গসিপ আর মুখরোচক গল্প শুরু করল। কেউ বলল ওনার "মাথা খারাপ" হয়ে গেছে, কেউ বলল ওনার "অহংকার বা নাটক"। ওনার এই মানসিক অসুস্থতাকে এদেশের সমাজ এক চরম "লজ্জা" আর "পাপ" বানিয়ে দিল। ওনাকে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে একাকীত্বের এক গভীর অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হলো।
শেষ দৃশ্য: ওনাদের টাইমফ্রেম আর আমাদের নিষ্ঠুরতার ইতিহাস
রোগের শুরুতে দুজনের বয়স এক হলেও, আমাদের ব্যবহারের কারণে ওনাদের জীবনের টাইমফ্রেম কিন্তু এক থাকল না। এখানেই এই ট্র্যাজেডির আসল মোচড় আর অনেকটাই আমাদের সমাজের ব্যর্থতা। সেই নোবেলজয়ী অধ্যাপক দীর্ঘদিনের সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত ওষুধ আর পরিবারের নিঃশর্ত ভালোবাসার জোরে তিনি ওনার মাথার ভেতরের সেই অদৃশ্য আওয়াজগুলোকে জয় করতে পেরেছিলেন। ওনার ব্রেনের কেমিক্যাল ব্যালেন্স আবার ফিরে এসেছিল। কয়েক দশকের দীর্ঘ লড়াই শেষে, ৬৬ বছর বয়সে (১৯৯৪ সালে) এই মানুষটিই অর্থনীতিতে পৃথিবীর সর্বোচ্চ সম্মান লাভ করেন। রোগ জয় করে তিনি ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত এক দীর্ঘ ও সফল জীবন বাঁচার সময় পেয়েছিলেন। ওনার নাম— জন ন্যাশ (John Nash)।
আমাদের দেশের সেই অভিনেত্রী পাশে কোনো অবলম্বন না থাকায়, সঠিক চিকিৎসাটুকু মাঝপথে হারিয়ে যাওয়ায় ওনার শেষ জীবনটা হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত নরক। ওনার জীবনের ইনিংসটা কিন্তু জন ন্যাশের মতো দীর্ঘ হতে পারেনি। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে (২০০৫ সালে) ওনার ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ওনার গলে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন দিন ওনার নিথর দেহটা ওভাবেই পড়েছিল, একটা চিল-কাকও ওনার খোঁজ নেয়নি। একই রোগ, অথচ আমাদের সমাজের নিষ্ঠুরতা একটা জীবন থেকে ওনার সুন্দর বাঁচার অন্তত ৩০টা বছর কেড়ে নিল! ওনার নাম— পারভীন বাবি (Parveen Babi)।
সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরা কোনো অপরাধী নন, ওনারা ওনাদের মাথার ভেতরের এক ভয়ানক নরকের সাথে প্রতিদিন লড়াই করেন। ওনাদের আপনার-আমার চেয়েও বেশি একা লাগে। ডায়াবেটিসের রোগী যেমন ইনসুলিন ছাড়া বাঁচতে পারেন না, সিজোফ্রেনিয়ার রোগীরও তেমনই আজীবন নিয়মিত সাইকিয়াট্রিক ওষুধের প্রয়োজন। ওষুধ আর সঠিক যত্ন পেলে এই রোগীরাও সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন। ওনাদের ওষুধ বন্ধ করে ঘরে বন্দি করে রাখা একধরণের সামাজিক অপরাধ।অসুখটা ব্রেনের, স্বভাবের বা চরিত্রের নয়। ওনাদের অবহেলা নয়, সঠিক চিকিৎসা আর সহানুভুতি দিন।
আজ বিশ্ব সিজোফ্রেনিয়া দিবস। আসুন এই লজ্জা আর স্টিগমা ভেঙে ফেলি। পোস্টটি শেয়ার করে সচেতনতা ছড়াতে সাহায্য করুন।
20/05/2026
সেইসব বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি, যাঁরা বলেন— "আমি আমার সন্তানকে ওষুধের ওপর নির্ভরশীল করতে চাই না।" 🧠❤️🩹
১৬ বছরের একটি ছেলে, ধরে নিন ওর নাম "রাহুল"। আমার সামনে বসে অনবরত কাঁপছে। দিনে ৪০ বার হাত ধুতে ধুতে ওর হাতের চামড়া ফেটে রক্ত বেরোচ্ছে। গত চারটে রাত ও ঘুমাতে পারেনি, কারণ ওর মগজ অবিরত ওকে বলছে - "সব শেষ হয়ে যাবে।"
অথচ মাত্র তিন মাস আগে রাহুল একদম স্বাভাবিক ছিল। হাসছিল, স্কুলে যাচ্ছিল। আমাদের চিকিৎসায় ও ডিপ্রেশন আর ওসিডি-র (OCD) বিরুদ্ধে লড়াইটা প্রায় জিতেই গিয়েছিল। আর আজ? ও তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে।
ওর বাবা গম্ভীর হয়ে বসে আছেন।
বাবা: "ডাক্তারবাবু, আমি ইন্টারনেটে পড়েছি এই ওষুধগুলো মানুষকে নেশাগ্রস্ত করে দেয়। ও তো ভালোই ছিল, তাই দু-মাস আগে ওর সব ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছি। আমি চেয়েছিলাম ও নিজের মনের জোরে ঠিক হোক।"
আমি ওনার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম— "আচ্ছা, আপনি বা আপনার স্ত্রী কি নিজেদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিজেদের মনের জোরে হুট করে বন্ধ করে দেন?"
ভদ্রলোক একটু ক্ষুণ্ণ হয়ে আমায় বললেন "ডাক্তারবাবু, ওটার সাথে এটার কী তুলনা? আমি হার্টের পেশেন্ট। আমাকে রোজ নিয়ম করে টেলমিসার্টান-অ্যামলোডিপিন আর ক্লোপিডোগ্রেল খেতেই হবে। ওর মায়ের ডায়াবেটিস— রোজ গ্লুকোমিটার দিয়ে সুগার মেপে ইনসুলিন নিতে হয়। এগুলো জীবনদায়ী ওষুধ। এটা নেওয়া আমাদের বাধ্যবাধকতা।"
আমি: "একদম ঠিক। ওটা আপনার শরীরের বাধ্যবাধকতা। কিন্তু আপনি যখন আপনার ছেলের ওষুধটা হুট করে বন্ধ করে দিলেন, তখন ওর সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম একটা মারাত্মক নিউরোকেমিক্যাল ক্র্যাশের মধ্যে দিয়ে গেল, সেটার কি হবে??"
আমাদের সমাজের এই দ্বিচারিতা বন্ধ হওয়া দরকার 🩺
চিকিৎসার সাধারণ সত্যটা সকলের বোঝা দরকার
ডায়াবেটিস → ওষুধ বন্ধ করলেন → ব্লাড সুগার শুট করল → কোমা। (মেডিক্যাল এমার্জেন্সি)
হাই ব্লাড প্রেসার → ওষুধ বন্ধ করলেন → রক্তচাপ বেড়ে গেল → স্ট্রোক। (প্রাণঘাতী ভুল)
তীব্র ওসিডি বা ডিপ্রেশন → ওষুধ হুট করে বন্ধ করলেন → মগজে নিউরোট্রান্সমিটারের মারাত্মক ঘাটতি।
মনোরোগের ওষুধ একদিনে বন্ধ করলে শুধু রোগ ফেরে না, ব্রেনের ভেতর ভয়ানক ঝড় ওঠে। এর ফলে কী হয়?
শারীরিক যন্ত্রণা: মাথা ঘোরা, মাথার ভেতর বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি এবং তীব্র অনিদ্রা। মগজে হঠাৎ সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে নিজের ক্ষতি করার তীব্র ইচ্ছে জেগে ওঠে।
সমাজ একে বলে "ইচ্ছাশক্তির অভাব"। আর আমরা চিকিৎসকরা একে বলি "চিকিৎসার চরম গাফিলতি"।
যখন রাহুলের বাবা-মা ওর সব ওষুধ কেড়ে নিলেন, তখন ১ম সপ্তাহে ওর মাথা ফেটে যন্ত্রণা হতো, ব্রেনে ইলেকট্রিক শক লাগত। বাবা-মা বললেন, "ওষুধ খেয়ে শরীর দুর্বল হয়েছে।"
২য় সপ্তাহে কেমিক্যাল ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে ওসিডি ১০ গুণ শক্তি নিয়ে ফিরল। ও হাত ধুতে ধুতে চামড়া ফাটিয়ে ফেলল। বাবা-মা বললেন, "নাটক করছে।"
আজ ও আমার সামনে বসে আছে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত অবস্থায়।
পাঠক বাবা-মায়েদের উদ্দেশ্যে 👇
আপনার থাইরয়েড বা হাই প্রেসার থাকলে শরীর ঠিক রাখার জন্য রোজ ওষুধ খাওয়াকে আপনারা "দায়িত্বশীলতা" ভাবেন। কিন্তু সন্তান তার ব্রেনের সেরোটোনিন বা ডোপামিন ব্যালেন্স করার জন্য ওষুধ খেলে আপনারা সেটাকে বলেন "নেশা" বা "ডিপেডেন্ট" হয়ে যাওয়া।
এই দ্বিচারিতা বন্ধ করুন।
আপনার সন্তানের মৃগীরোগ (Epilepsy) থাকলে আপনি কি খিঁচুনির ওষুধ হুট করে বন্ধ করে দিতেন? তাহলে ডিপ্রেশন বা ওসিডির ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা কেন হবে?
শেষ কথা 🏛️
রাহুলকে আমরা আবার সুস্থ করে তুলব, চিকিৎসা নতুন করে শুরু হচ্ছে। ও আবার আগের মতো হাসবে, তবে কিছুটা সময় লাগবে।
মনে রাখবেন: হাঁপানির টানের সময় রোগীকে যেমন "মনের জোরে শ্বাস নেওয়ার" জ্ঞান দেওয়া যায় না, ঠিক তেমনই ব্রেনের কেমিক্যাল ইমব্যালেন্স "মনের জোরে" ঠিক করা যায় না। ওষুধের ডোজ কমাতে হলে সাইকিয়াট্রিস্ট ধীরে ধীরে, বৈজ্ঞানিক নিয়মে (Taper করে) কমাবেন।
মানসিক স্বাস্থ্যও যে শরীরেরই একটা অংশ, এই সত্যটা সবার কাছে পৌঁছানো দরকার। পোস্টটি শেয়ার করুন।
05/05/2026
Illness Anxiety Disorder is a condition where a person becomes excessively worried about having a serious illness despite normal medical reports.
With the rise of health-related videos on social media, people are constantly exposed to symptoms and worst case scenarios.
This repeated exposure can heighten body awareness and lead to misinterpretation of normal sensations as signs of disease. Social media often show similar videos repeatedly, reinforcing fear and anxiety specifically in already anxious people.
As a result, individuals may engage in frequent self-checking or doctor visits, further maintaining the cycle of worry.
Managing screen time and relying on credible medical advice can help reduce this anxiety.
03/05/2026
ভালো বাবা-মা হওয়ার আগে, নিজের ভালো থাকাটা কি খুব জরুরি? ❤️🩹
আমরা প্রায়ই ভাবি, সন্তানের জন্য সবটুকু উৎসর্গ করাই হয়তো আদর্শ বাবা-মায়ের কাজ। নিজের ভালো লাগা, নিজের ক্লান্তি বা নিজের মানসিক অশান্তিকে আমরা সিন্দুকের ভেতর তালাবন্ধ করে রাখি। কিন্তু আমরা কি জানি, আমাদের সেই ‘অদৃশ্য’ মানসিক চাপ আমাদের অজান্তেই সন্তানের মনের ওপর প্রভাব ফেলছে?
কেন আপনার ‘ভালো থাকা’ প্রয়োজন?
১. মন ভালো থাকলে ঘরও ভালো থাকে: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাবা-মা যখন মানসিকভাবে শান্ত থাকেন, তখন শিশুদের বিকাশের পরিবেশ অনেক বেশি ইতিবাচক হয়।
২. শান্ত ব্যবহার: আমরা যখন ভেতরে ভেতরে স্ট্রেসড (Stressed) থাকি, তখন খুব ছোট কারণেই বাচ্চাদের ওপর চিৎকার করে ফেলি। পরে হয়তো আমাদের খারাপ লাগে, কিন্তু বাচ্চার মনে সেই ভয়ের ছাপটা থেকেই যায়।
৩. রোল মডেল: আপনি কীভাবে নিজের স্ট্রেস হ্যান্ডেল করছেন, আপনার সন্তান সেটাই দেখছে এবং শিখছে। তাই নিজের যত্ন নেওয়া মানে আদতে তাকেও সঠিক জীবনবোধ শেখানো।
ছোট্ট কিছু টিপস:
দিনের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ মিনিট নিজের পছন্দের কিছু করুন। সেটা গান শোনা হোক বা স্রেফ চুপচাপ বসে চা খাওয়া।
সব কাজ নিখুঁত হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। কোনোদিন শরীর খারাপ লাগলে পরিবারের অন্যদের সাহায্য চান।
আপনার যদি দিনের পর দিন মন খারাপ থাকে বা খিটখিটে লাগে, তবে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে দ্বিধা করবেন না।
মনে রাখবেন, "একটি ক্লান্ত মন কখনোই একটি হাসিখুশি শৈশব উপহার দিতে পারে না।" আপনি সুস্থ থাকলেই আপনার সন্তান সুস্থ থাকবে।
25/04/2026
22/04/2026
ওষুধের খাঁচা নাকি সুস্থ জীবনের সেতু? 🩺✨
ক্লিনিকে যখন কোনো রোগী প্রথমবার আসেন, তাঁদের চোখে অনেক প্রশ্নের ভিড় থাকে। কিন্তু একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি ভয় জাগায়— "ডাক্তারবাবু, একবার ওষুধ শুরু করলে কি সারাজীবন খেতে হবে? আমি কি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ব?"
আমি জানি, এই ভয়টা আপনার একার নয়। আমাদের সমাজ আমাদের শিখিয়েছে যে মনের ওষুধ মানেই তা এক 'আজন্ম কারাদণ্ড'। কিন্তু সত্যিটা ঠিক উল্টো।
আমি সবসময় একটা কথা বলি—
ভেবে দেখুন তো, পায়ে চোট পেলে আমরা যখন লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটি, সেই লাঠিটা কি আমাদের সারাজীবনের সঙ্গী? একদমই নয়! লাঠিটা শুধু ততক্ষণই দরকার, যতক্ষণ না আপনার পা নিজের ভার নিতে পারছে। ঠিক তেমনই, সাইকিয়াট্রি মেডিসিন হলো সেই 'অবলম্বন' বা 'সেতু', যা আপনার মনকে খাদের কিনারা থেকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
✅ ওষুধ সবার জন্য নয়: প্রতিটি মানুষের সমস্যা আলাদা। তাই প্রত্যেকের ওষুধের প্রয়োজনও হয় না।
✅ লক্ষ্য যখন মুক্তি: আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আপনাকে এমন এক অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া, যেখানে আপনি নিজেই নিজের মনের যত্ন নিতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে ওষুধের প্রয়োজন ফুরিয়ে আসবে।
✅ আপনি আগের মতোই থাকবেন: ওষুধ আপনার ব্যক্তিত্ব পাল্টে দেয় না, বরং আপনার ভেতরের সেই হারিয়ে যাওয়া হাসিখুশি মানুষটিকে খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
ভুল ধারণা বা 'মিথ'-এর ভয়ে নিজের সুস্থ হওয়ার অধিকার কেড়ে নেবেন না।
আপনার মনের সেই 'Ray of Hope খুঁজে পেতে আমরা আছি আপনার পাশে। 🌿
আপনার মনেও কি ওষুধ নিয়ে এমন কোনো প্রশ্ন আছে? দ্বিধা না করে কমেন্টে জানান, আমি উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। 💬
#মনেরকথা #সুস্থজীবন
19/04/2026
আপনার জীবন কি অন্যের ‘হাইলাইট রিল’ (Highlight Reel) এর সাথে অসম লড়াই করছে? 📱💔
আমরা আজকাল নিজের ঘরের আলো জ্বালাতে ভুলে গিয়ে অন্যের জানলার চাকচিক্য মেপেই চলেছি।ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কারও প্রমোশন, কারও বিদেশ ভ্রমণ, কিংবা রাজকীয় বিয়ের ছবি। আর এগুলো দেখতে দেখতে আমরা অবচেতন মনেই নিজেকে প্রশ্ন করি— "আমি কি তবে পিছিয়ে পড়লাম? আমি কি সত্যিই জীবনে কিছু করতে পারলাম না?" সেই থেকে শুরু হয় নিজের ওপর খারাপ লাগা, নিজেকে নিয়ে অবসাদ।
চলুন জেনে নি সোশ্যাল মিডিয়া কীভাবে আমাদের এমন এক রেসে দৌড়াতে বাধ্য করছে যার কোনো শেষ নেই।
১. The Perfection Trap: সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের একটি 'পারফেক্ট লাইফের' মিথ্যে স্বপ্ন দেখায়। আমরা ভুলে যাই যে, ওটা একজনের জীবনের সেরা মুহূর্তের ফিল্টার করা ছবি মাত্র। সেই 'পারফেক্ট' ছবির সাথে যখন আমরা নিজেদের সাধারণ দৈনন্দিন জীবনের তুলনা করি, তখন মনের অজান্তেই হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।
২. The Dopamine Cycle: লাইক আর কমেন্টের নেশায় আমরা এতটাই বুঁদ হয়ে থাকি যে, নিজের ছোট ছোট ব্যক্তিগত অর্জনগুলো (যেমন—নিজে হাতে এক কাপ চা বানানো বা প্রিয়জনের সাথে একটু সময় কাটানো) আমাদের কাছে মূল্যহীন মনে হতে থাকে।
৩. Comparison is a Thief: সাইকিয়াট্রির ভাষায়, এই অনবরত তুলনা মস্তিষ্কে Cortisol বা স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এটি দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতা (Depression), প্যানিক অ্যাটাক বা ইনসোমনিয়া (ঘুমের সমস্যা)-র প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কখন বুঝবেন আপনার সাহায্যের প্রয়োজন?
যদি দেখেন অন্যের সাফল্য দেখে আপনার মনে আনন্দ আসার বদলে শুধু হাহাকার তৈরি হচ্ছে, আপনি সারাক্ষণ নিজেকে 'অযোগ্য' বা 'ব্যর্থ' ভাবছেন, অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার পর আপনি ভীষণ একা বোধ করছেন— তবে বুঝবেন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।
মনে রাখবেন, মনের চিকিৎসা মানেই 'পাগল' হওয়া নয়। বরং ধুলো জমে যাওয়া জানলাটা পরিষ্কার করে নিজের ঘরের আলোটা নতুন করে খুঁজে পাওয়া। 🌿
আপনার কি মনে হয়? সোশ্যাল মিডিয়া কি আমাদের সুখ কেড়ে নিচ্ছে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান। 👇
17/04/2026
"Why should I see a Psychiatrist? I’m not 'crazy'—I just feel overwhelmed."
This is the most common thing I hear in my clinic in Howrah. In our society, there is a massive wall between 'Physical Health' and 'Mental Health.'
But here is the truth: Your brain is an organ, just like your heart or your lungs.
What is a Psychiatrist, really?
Think of me as a 'Brain Physician.' While a therapist provides a safe space to talk and process emotions (which is vital!), a Psychiatrist looks at the biological side of your well-being.
✅ We bridge the gap: We look at sleep cycles, hormonal balances, and neurochemistry.
✅ Medicine is a tool, not a trap: Not every visit results in a prescription. Sometimes, the 'medicine' is simply a professional diagnosis that validates what you are feeling.
✅ Total Care: We work alongside therapists to ensure your recovery is 360-degrees.
If you’ve been feeling 'off' for weeks—struggling to sleep, constant worry, or a low mood that won't lift—it isn't a sign of weakness. It’s a signal from your body.
Let’s break the stigma together. Mental health care is a sign of strength, not a last resort. 🌿
24/05/2025
Raising awareness about schizophrenia is not just about the illness—it’s about supporting the entire care system around it. By breaking the stigma and offering empathy, education, and resources, we can make life better not only for those diagnosed, but also for the families who stand beside them every day.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Sarat Chatterjee Road
Howrah
711104
Opening Hours
| Monday | 5pm - 8pm |
| Wednesday | 5pm - 8pm |
| Thursday | 4pm - 8pm |
| Sunday | 9am - 5pm |