Abdul Aziz

Abdul Aziz

Share

I m Aziz from Assam and my view to establish our society spread Islamic rules .

23/09/2016

রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রায় সময় তাঁর বক্তব্যে
বলতেন ‘‘সাবধান যার আমানতদারী
নেই তার ঈমান নেই। আর যে অঙ্গীকার
বা প্রতিশ্রম্নতি রক্ষা করে না তার
মধ্যে দীনদারী নেই।’’

25/01/2016

আসসালামু আলাইকুম।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ ﻭَﻟۡﺘَﻜُﻦ ﻣِّﻨﻜُﻢۡ ﺃُﻣَّﺔٞ ﻳَﺪۡﻋُﻮﻥَ ﺇِﻟَﻰ ﭐﻟۡﺨَﻴۡﺮِ ﻭَﻳَﺄۡﻣُﺮُﻭﻥَ ﺑِﭑﻟۡﻤَﻌۡﺮُﻭﻑِ
ﻭَﻳَﻨۡﻬَﻮۡﻥَ ﻋَﻦِ ﭐﻟۡﻤُﻨﻜَﺮِۚ ﻭَﺃُﻭْﻟَٰٓﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﭐﻟۡﻤُﻔۡﻠِﺤُﻮﻥَ ١٠٤ ﴾ [ ﺍﻝ
ﻋﻤﺮﺍﻥ : ١٠٤ ]
অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল
থাকা উচিত, যারা (লোককে)
কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং
সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ
কার্য থেকে নিষেধ করবে। আর এ সকল
লোকই হবে সফলকাম।”

24/11/2015

হামলা বেড়েছে মুসলিম নারীদের ওপর
------------------------------------
ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ব্রিটেনে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর বর্ণবাদী আক্রমণের হার
৩০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে বলে
জানিয়েছে দেশটির একটি সরকারি
সংস্থা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
ব্রিটেনে অবস্থিত নারীরা এ ধরনের
হামলার শিকার হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে
মুসলিম ও মসজিদে হামলার ঘটনা
রেকর্ডে রাখা টেল ম্যামা
হেল্পলাইনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়েছে, ১৩ নভেম্বর প্যারিসে
হামলার ঘটনার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে
মুসলিমদের ওপর আক্রমণের হার ৩০০
শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী
পোশাক পরা ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী
নারীরা বেশি এই হামলার শিকার
হচ্ছেন। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী
শ্বেতাঙ্গ পুরুষরাই মূলত এ সকল আক্রমণ
করছে নারীদের উপর। এছাড়া
প্রতিবেদনে আরো বলো হয়েছে
পাবলিক প্লেস, বাস ও ট্রেনে
বেশিরভাগ হামলার ঘটনা ঘটছে।
মুসলিম মেয়েশিশুরাও এ হামলা থেকে
রেহাই পাচ্ছে না। নারীরা
প্রতিনিয়ত নান কটূক্তির শিকার হতে
হচ্ছে। আরও উল্লেখ করা হয়েছে,
তাদের গণনার বাইরেও অনেক হামলার
ঘটনা ঘটছে। কারণ অনেক ভুক্তভোগীই
পুলিশ বা কমিউনিটি সম্প্রদায়কে
তাদের এই নির্যাতনের ঘটনা
জানাতে ভয় পান। যুক্তরাজ্যে প্রায়ই
মুসলিমদের ওপর বর্ণবাদী হামলা,
নির্যাতন চালিয়ে থাকে উগ্রপন্থী
খ্রীষ্টানরা। সম্প্রতি প্যারিসে
আইএসের দাবি করা হামলায় ১২৯ জন
নিহতের পর এ ধরনের আচরণের পরিমাণ
আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।

09/11/2015

নাশকতা, বর্বরতা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ইসলামে নিষিদ্ধ--------
মুসলমানের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য
মুসলমান নিরাপদ।' (বুখারি : ১০) রাসুল
(সা.) তাঁর উম্মতকে পরস্পরের প্রতি অস্ত্র
তাক করতে নিষেধ করেছেন। তিনি
বলেছেন, 'মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে
তার ওপর না জুলুম করতে পারে, না
তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করতে
পারে আর না তাকে হেয়প্রতিপন্ন
করতে পারে। তিনি নিজের বুকের
দিকে ইশারা করে বলেন, তাকওয়া
এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া
এখানে। কেউ নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এতটুকুই
যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে
তুচ্ছজ্ঞান করবে। প্রত্যেক মুসলমানের
জীবন, ধনসম্পদ ও মানসম্মান প্রত্যেকের
সম্মানের বস্তু। এর ওপর হস্তক্ষেপ করা
হারাম। (মুসলিম : ৬৭০৬) মানবসমাজে
কোনো রকম অশান্তি সৃষ্টি, নাশকতা,
নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, সংঘাত,
হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা,
প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও সাম্প্রদায়িক
সহিংসতা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ
তাআলা ইরশাদ করেন- 'দুনিয়ায় শান্তি
স্থাপনের পর এতে বিপর্যয় ঘটাবে
না।' (সুরা আরাফ : ৫৬)। বিশৃঙ্খলা
সৃষ্টিকে গণ্য করা হয়েছে হত্যার
চেয়েও জঘন্য অপরাধ হিসেবে। ইরশাদ
হচ্ছে, 'আর ফিতনা হত্যার চেয়ে
কঠিনতর।' (সুরা বাকারা : ১৯১)। ইসলাম
হত্যাকাণ্ডকে কঠোরভাবে নিষেধ
করেছে। নিরপরাধ জনগণকে গুলি করে,
বোমা মেরে, জবাই করে,
অগ্নিসংযোগ করে হত্যা করা
ইসলামের আদর্শ নয়। পবিত্র কোরআনে
তাই একজন মানুষের হত্যাকে পুরো
মানবজাতির হত্যা বলে আখ্যায়িত
করা হয়েছে। 'নরহত্যা বা দুনিয়ায়
ধ্বংসাত্মক কাজ করা হেতু ছাড়া কেউ
কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার
সব মানুষকে হত্যা করল; আর কেউ কারো
প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন দুনিয়ার সব
মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।' (সুরা
মায়িদা : ৩২) রাসুল (সা.) হত্যার
ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেছেন, 'হত্যার
ভয়াবহতার কারণে কেয়ামত দিবসে
সর্বপ্রথম খুনের বিচার করা
হবে।' (বুখারি : ৬৩৫৭) ইসলামে সন্ত্রাস,
জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার কোনো স্থান
নেই। রাসুল (সা.)-এর ওপর অনেক
অত্যাচার, অবিচার হয়েছে, তবুও তিনি
কোনো দিন কাউকে গালি দেননি,
বদদোয়া করেননি, প্রতিশোধ নেননি,
কাউকে আঘাত করেননি, কারো
বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেননি, কারো
কোনো ক্ষতিসাধন করেননি। তিনি
কখনো কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে
প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে হত্যা
করেননি। শত অত্যাচার ও নির্মম
নির্যাতন সহ্য করেও তিনি কখনো
কঠোরতা বা বাড়াবাড়ির পথে পা
বাড়াননি। আল্লাহ তাআলা রাসুল
(সা.)-কে 'রাহমাতুল্লিল আলামিন'
তথা সমগ্র বিশ্বের জন্য করুণার মূর্তপ্রতীক
হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ
হয়েছে, 'আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর
জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।' (সুরা
আম্বিয়া : ১০৭) যারা ইসলাম
কায়েমের নামে সহিংসতার পথ
বেছে নিচ্ছে, তারা ইসলামের ক্ষতি
ছাড়া কোনো উপকার করছে না। বরং
তারা ইসলামকে চিত্রিত করছে একটি
অসহিষ্ণু, উগ্র ও চরমপন্থী ধর্ম হিসেবে।
রাসুল (সা.) মদিনায় যখন একটি নতুন
রাষ্ট্র স্থাপন করেছিলেন, তার
ভিত্তি ছিল মদিনার সনদ। এই সনদের
একটি ধারা, 'প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা
স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন
করতে পারবে, কেউ কারো ধর্মে
হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।' এ সম্পর্কে
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'ধর্মের
ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই।' (সুরা
বাকারা : ২৫৬) ইসলাম মুসলমানদের
একটি উদার-মধ্যপন্থী সম্প্র্রদায়
হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আল্লাহ
বলেন, 'এমনিভাবে আমি তোমাদের
মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি।' (সুরা
বাকারা : ১৪৩) ইসলাম এমন এক সর্বজনীন
জীবন বিধান, যেখানে নেই কোনো
সংকীর্ণতা বা সংঘাত; বরং এতে
রয়েছে উদারতা, বিশালত্ব ও সমগ্র
সৃষ্টির প্রতি অসীম মমত্ববোধ। ইসলাম শুধু
মুসলমান নাগরিকদের জানমাল ও
ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করেনি,
বরং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী তথা
খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ প্রভৃতি সব
নাগরিকের যথাযথ অধিকার, মর্যাদা ও
নিরাপত্তা বিধান করেছে। ইসলাম
পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়, পরধর্মের
বা মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে
নির্দেশ দেয় এবং পারস্পরিক
সম্প্রীতির সঙ্গে সবার সহাবস্থান
সুনিশ্চিত করে। অন্যের ধর্ম-মতাদর্শকে
অবজ্ঞা ও অশ্রদ্ধা করতে ইসলামে
কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন, 'তারা আল্লাহ
তাআলার পরিবর্তে যাদের ডাকে,
তাদের তোমরা গালি দিয়ো না,
নইলে তারাও শত্রুতার কারণে না
জেনে আল্লাহকেও গালি
দেবে।' (সুরা আনআম : ১০৮) রাসুল (সা.)
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মুসলমানদের
কর্মপন্থা ঠিক করে দিতেন যে
'শিশুদের হত্যা করবে না। গির্জায়
যারা ধর্মীয় উপাসনায় জীবন উৎসর্গ
করেছে, তাদের ক্ষতি করবে না। কখনো
নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা করবে না। কারো
গাছপালা, ঘরবাড়ি কখনো ধ্বংস করবে
না।' (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা :
৩৩৮০৪) যারা শান্তিপূর্ণভাবে
মুসলিমদের সঙ্গে বসবাস করতে আগ্রহী,
তাদের সঙ্গে মুসলমানদের কোনো
সংঘাত নেই। ইসলাম তাদের প্রতি
কোনো ধরনের বৈষম্য অনুমোদন করে না;
বরং তাদের প্রতি ইনসাফ করার
নির্দেশ দেয়। আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ
নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে
সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে,
যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক
যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের আবাসভূমি
থেকে তোমাদের বের করে দেয়নি।
নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ
করেন।' (সুরা মুমতাহিনা : ৮)

08/11/2015

উকবা ইবনে আমার (রা) হতে বর্ণিত,
তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন,
যেই শর্তে তোমরা (স্ত্রীদের)
লজ্জাস্থান হালাল কর, তা অবশ্যই
তোমাদেরকে পূরণ করতে হবে।
- (বুখারী ও মুসলিম শরিফ)

02/11/2015

চার ধরনের ভালবাসা:
এ প্রসঙ্গে ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন:
চার প্রকারের স্বতন্ত্র ভালবাসা
রয়েছে ৷ অনেক মানুষই ভালবাসার
স্বতন্ত্র রূপ সম্পর্কে অবগত না হওয়ায়
সহসাই বিপথগামী হয় ৷ –
প্রথমত: আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ৷
কিন্তু শুধু এই ভালবাসা তার শাস্তি
হতে পরিত্রাণ ও রবের সন্তুষ্টি
বিধানের জন্য যথেষ্ট নয় ৷ কারণ মুশরিক,
খৃষ্টান, ইহুদী এবং অন্যান্য ধর্মের সকলেই
আল্লাহকে ভালবাসে ৷
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ যা কিছু
ভালবাসেন, তা ভালবাসা ৷ এই
ভালবাসা ব্যক্তিকে কুফরের গন্ডী
থেকে বের করে ইসলামের ছায়াতলে
নিয়ে আসে ৷ যে ব্যক্তি এই দ্বিতীয়
প্রকার ভালবাসার ক্ষেত্রে সর্বাধিক
সত্যাশ্রয়ী, সঠিক ও অনুগত সেই আল্লাহর
সবচেয়ে অধিক প্রিয়ভাজন ৷
তৃতীয়ত: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের
নিমিত্তেই কোনকিছুকে ভালবাসা ৷
এটা মূলত আল্লাহ যা ভালবাসেন তা
ভালবাসারও একটা অপরিহার্য শর্ত ৷
আল্লাহ যা ভালবাসেন তাই স্বীয়
ভালবাসা রূপে গণ্য করা ততক্ষণ পর্যন্ত
পূর্ণাঙ্গতা লাভ করবে না, যতক্ষণ
বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই
তা না করা হবে ৷
চতুর্থত: আল্লাহ ছাড়াও অন্য কিছু
সমান্তরালভাবে ভালবাসা এবং এই
ভালবাসা অনেকক্ষেত্রে শিরকের
সাথে সংশ্লিষ্ট ৷ আল্লাহর সন্তুষ্টি
ভ্রুক্ষেপ না করে অন্য কিছুর প্রতি যুগপৎ
ভালবাসা তাঁর প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী
দাঁড় করানোর সমতুল্য ৷ এই ধরনের
ভালবাসা মুশরিকদের বৈশিষ্ট্য ৷
আরও একপ্রকার ভালবাসা রয়েছে যা
আলোচনার বিষয়বস্তু বহির্ভূত ৷ তা হচ্ছে
প্রাকৃতিক ভালবাসা – প্রাকৃতিক
স্বাচছন্দ্যের প্রতি ব্যক্তির সহজাত
স্বাভাবিক ঝোঁক-প্রবণতা ৷ উদাহরণ:
তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির পানির প্রতি,
ক্ষুৎপীড়িতের খাদ্যের প্রতি টান অনুভব
কিংবা স্বতঃর্স্ফূত নিদ্রার প্রবণতা
বা আপন স্ত্রী-সন্তানের প্রতি
ভালবাসা ৷ এই ভালবাসা ততক্ষণ পর্যন্ত
নিষ্কলুষ, যতক্ষণ ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি
স্মরণ ও ভালবাসা হতে বিচ্যুত না হয় ৷
আল্লাহ বলেন,
“মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-
সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ
থেকে গাফেল না করে…”। (সূরা আল
মুনাফিকুন, ৬৩:৯)
“এমন লোকেরা যাদেরকে ব্যবসা-
বাণিজ্য ও ক্রয়- বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ
থেকে, নামায কায়েম করা থেকে
এবং যাকাত আদায় করা থেকে বিরত
রাখে না…” (সূরা আন-নূর, ২৪:৩৭)

01/11/2015

“আল্লাহকে ভয় কর যেখানেই
থাকনা কেন। অন্যায় কাজ হয়ে
গেলে পরক্ষণেই ভাল কাজ কর।
তবে ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে
দিবে আর মানুষের সাথে ভাল
ব্যবহার কর।“ (তিরমিযী-সহীহ)

31/10/2015

ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু
‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রোগীর
কুশল জিজ্ঞাসা করতে যাওয়া,
জানাযার সঙ্গে যাওয়া,
কেউ হাঁচি দিলে তার জবাব
দেওয়া, কসমকারীর কসম পুরা করা,
অত্যাচারিতের সাহায্য করা,
নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা
ও সালাম প্রচার করার আদেশ
দিয়েছেন।’ (বুখারী ও মুসলিম)

29/10/2015

জুমার দিনের গোসল মানুষের শরীরে
প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এর জোড়া হতে
গুনাহ সমূহকে ধুয়ে মুছে দেয়।
- (তিবরাণী শরিফ)

29/10/2015

হযরত ঈসা (আ.) এর পূর্ণাঙ্গ জীবনী
**********************************************
হযরত ঈসা (আঃ) ছিলেন বনী ইস্রাঈল বংশের সর্বশেষ নবী ও কিতাবধার রাসূল।
তিনি ‘ইনজীল’ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরপর
থেকে শেষনবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর
আবির্ভাব পর্যন্ত আর কোন নবী আগমন
করেননি। এই সময়টাকে ﻓﺘﺮﺓ ﺍﻟﺮﺳﻞ বা
‘রাসূল আগমনের বিরতিকাল’ বলা হয়।
ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অব্যবহিত
কাল পূর্বে হযরত ঈসা (আঃ) আল্লাহর
হুকুমে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন
এবং মুহাম্মাদী শরী‘আত অনুসরণে ইমাম
মাহদীর নেতৃত্বে সারা পৃথিবীতে
শান্তির রাজ্য কায়েম করবেন। তিনি
উম্মতে মুহাম্মাদীর সাথে বিশ্ব
সংস্কারে ব্রতী হবেন। তাই তাঁর
সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তৃত ধারণা দেওয়া
অত্যন্ত যরূরী বিবেচনা করে আল্লাহ
পাক শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর
মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে
দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, মূসা (আঃ)-এর
অনুসারী হওয়ার দাবীদার ইহুদীরা
তাঁকে নবী বলেই স্বীকার করেনি।
অত্যন্ত লজ্জাষ্করভাবে তারা তাঁকে
জনৈক ইউসুফ মিস্ত্রীর জারজ সন্তান
বলে আখ্যায়িত করেছে
(নাঊযুবিল্লাহ)। অন্যদিকে ঈসা (আঃ)-
এর ভক্ত ও অনুসারী হবার দাবীদার
খৃষ্টানরা বাড়াবাড়ি করে তাঁকে
‘আল্লাহর পুত্র’ (তওবাহ ৯/৩০)
বানিয়েছে’। বরং ত্রিত্ববাদী
খৃষ্টানরা তাঁকে সরাসরি ‘আল্লাহ’
সাব্যস্ত করেছে এবং বলেছে যে,
তিনি হ’লেন তিন আল্লাহর একজন ( ﺛَﺎﻟِﺚُ
ﺛَﻠَﺜَﺔٍ =মায়েদাহ ৭৩)। অর্থাৎ ঈসা,
মারিয়াম ও আল্লাহ প্রত্যেকেই
আল্লাহ এবং তারা এটাকে ‘বুদ্ধি
বহির্ভূত সত্য’ বলে ক্ষান্ত হয়। অথচ এরূপ
ধারণা পোষণকারীদের আল্লাহ
দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘কাফের’ বলে ঘোষণা
করেছেন (মায়েদাহ ৫/৭২-৭৩)। কুরআন
তাঁর সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন
করেছে। আমরা এখন সেদিকে
মনোনিবেশ করব। উল্লেখ্য যে, হযরত ঈসা
(আঃ) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের মোট
১৫টি সূরায় ৯৮টি আয়াতে[1] বর্ণিত
হয়েছে। ঈসার মা ও নানী : ঈসা (আঃ)-
এর আলোচনা করতে গেলে তাঁর মা ও
নানীর আলোচনা আগেই করে নিতে
হয়। কারণ তাঁদের ঘটনাবলীর সাথে
ঈসার জীবনের গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের শরী‘আতে
প্রচলিত ইবাদত-পদ্ধতির মধ্যে আল্লাহর
নামে সন্তান উৎসর্গ করার রেওয়াজও
চালু ছিল। এসব উৎসর্গীত সন্তানদের
পার্থিব কোন কাজকর্মে নিযুক্ত করা
হ’ত না। এ পদ্ধতি অনুযায়ী ঈসার নানী
অর্থাৎ ইমরানের স্ত্রী নিজের গর্ভস্থ
সন্তান সম্পর্কে মানত করলেন যে,
তাকে বিশেষভাবে আল্লাহর ঘর
বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খিদমতে
নিয়োজিত করা হবে। তিনি
ভেবেছিলেন যে পুত্র সন্তান হবে।
কিন্তু যখন তিনি কন্যা সন্তান প্রসব
করলেন, তখন আক্ষেপ করে বললেন, ‘হে
আল্লাহ! আমি কন্যা প্রসব করেছি’?
(আলে ইমরান ৩৬)। অর্থাৎ একে দিয়ে
তো আমার মানত পূর্ণ হবে না। কিন্তু
আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্যরূপ। তিনি উক্ত
কন্যাকেই কবুল করে নেন। বস্ত্ততঃ ইনিই
ছিলেন মারিয়াম বিনতে ইমরান,
যিনি ঈসা (আঃ)-এর কুমারী মাতা
ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাকে
জান্নাতের শ্রেষ্ঠ চারজন মহিলার
অন্যতম হিসাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন
তিনি বলেন, ﺃﻓﻀﻞُ ﻧﺴﺎﺀِ ﺃﻫﻞِ ﺍﻟﺠﻨﺖِ ﺧﺪﻳﺠﺖُ ﺑﻨﺖِ
ﺧُﻮَﻳْﻠﺪِ ﻭﻓﺎﻃﻤﺔُ ﺑﻨﺖِ ﻣﺤﻤﺪٍ ﻭﻣﺮﻳﻤُــــــــــــ
‘জান্নাতবাসী মহিলাগণের মধ্যে
সেরা হ’লেন চারজন: খাদীজা বিনতে
খুওয়ালিদ, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ,
মারিয়াম বিনতে ইমরান এবং আসিয়া
বিনতে মুযাহিম, যিনি ফেরাঊনের
স্ত্রী’।[2] মারিয়ামের জন্ম ও লালন-
পালন : মারিয়ামের জন্ম ও লালন-পালন
সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻟَﺖِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓُ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺭَﺏِّ
ﺇِﻧِّﻲ ﻧَﺬَﺭْﺕُ ﻟَﻚَ ﻣَﺎ ﻓِﻲْ ﺑَﻄْﻨِﻲْ ﻣُﺤَﺮَّﺭﺍً ﻓَﺘَﻘَﺒَّﻞْ ﻣِﻨِّﻲ ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧﺖَ
ﺍﻟﺴَّﻤِﻴﻊُ ﺍﻟْﻌَﻠِﻴﻢُ- ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻭَﺿَﻌَﺘْﻬَﺎ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺭَﺏِّ ﺇِﻧِّﻲ ﻭَﺿَﻌْﺘُﻬَﺎ ﺃُﻧﺜَﻰ
ﻭَﺍﻟﻠﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ ﺑِﻤَﺎ ﻭَﺿَﻌَﺖْ ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟﺬَّﻛَﺮُ ﻛَﺎﻷُﻧﺜَﻰ ﻭَﺇِﻧِّﻲ ﺳَﻤَّﻴْﺘُﻬَﺎ
ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻭِﺇِﻧِّﻲ ﺃُﻋِﻴْﺬُﻫَﺎ ﺑِﻚَ ﻭَﺫُﺭِّﻳَّﺘَﻬَﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥِ ﺍﻟﺮَّﺟِﻴﻢِ-
ﻓَﺘَﻘَﺒَّﻠَﻬَﺎ ﺭَﺑُّﻬَﺎ ﺑِﻘَﺒُﻮﻝٍ ﺣَﺴَﻦٍ ﻭَﺃَﻧﺒَﺘَﻬَﺎ ﻧَﺒَﺎﺗﺎً ﺣَﺴَﻨﺎً ﻭَﻛَﻔَّﻠَﻬَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ،
ﻛُﻠَّﻤَﺎ ﺩَﺧَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ ﺍﻟْﻤِﺤْﺮَﺍﺏَ ﻭَﺟَﺪَ ﻋِﻨﺪَﻫَﺎ ﺭِﺯْﻗﺎً ﻗَﺎﻝَ ﻳَﺎ
ﻣَﺮْﻳَﻢُ ﺃَﻧَّﻰ ﻟَﻚِ ﻫَـﺬَﺍ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻫُﻮَ ﻣِﻦْ ﻋِﻨﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳَﺮْﺯُﻕُ ﻣَﻦْ
ﻳََّﺸَﺂﺀُ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺣِﺴَﺎﺏٍ- ( ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৩৫-৩৭)- ‘যখন
ইমরানের স্ত্রী বলল, হে আমার প্রভু!
আমার গর্ভে যা রয়েছে তাকে আমি
তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ
থেকে মুক্ত হিসাবে। অতএব আমার পক্ষ
থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও।
নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও
সর্বজ্ঞ’ (আলে ইমরান ৩৫)। ‘অতঃপর সে
যখন তাকে প্রসব করল, তখন বলল, হে প্রভু!
আমি তো কন্যা সন্তান প্রসব করেছি!
অথচ আল্লাহ ভাল করেই জানেন, সে
কি প্রসব করেছে। (আল্লাহ সান্ত্বনা
দিয়ে বললেন,) এই কন্যার মত কোন পুত্রই
যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম
‘মারিয়াম’। (মারিয়ামের মা দো‘আ
করে বলল, হে আল্লাহ!) আমি তাকে ও
তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে
সমর্পণ করছি, অভিশপ্ত শয়তানের কবল
হ’তে’ (৩৬)। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তার
প্রভু তাকে উত্তমভাবে গ্রহণ করে
নিলেন এবং তাকে প্রবৃদ্ধি দান
করলেন সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তিনি তাকে
যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পণ
করলেন। (অতঃপর ঘটনা হ’ল এই যে,) যখনই
যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার
কাছে আসতেন, তখনই কিছু খাদ্য দেখতে
পেতেন। তিনি জিজ্ঞেস করতেন,
মারিয়াম! এসব কোথা থেকে তোমার
কাছে এল? মারিয়াম বলত, ‘এসব
আল্লাহর নিকট থেকে আসে। নিশ্চয়ই
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক
দান করে থাকেন’ (আলে ইমরান
৩/৩৫-৩৭)। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর নামে
উৎসর্গীত সন্তান পালন করাকে তখনকার
সময়ে খুবই পুণ্যের কাজ মনে করা হ’ত। আর
সেকারণে মারিয়ামকে
প্রতিপালনের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য
রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়।
ফলে লটারীর ব্যবস্থা করা হয় এবং
আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর বয়োবৃদ্ধ নবী হযরত
যাকারিয়া (আঃ) মারিয়ামের
দায়িত্বপ্রাপ্ত হন (আলে ইমরান ৩/৪৪)।
ঈসার জন্ম ও লালন-পালন : এভাবে
মেহরাবে অবস্থান করে মারিয়াম
বায়তুল মুক্বাদ্দাসের খিদমত করতে
থাকেন। সম্মানিত নবী ও মারিয়ামের
বয়োবৃদ্ধ খালু যাকারিয়া (আঃ) সর্বদা
তাকে দেখাশুনা করতেন। মেহরাবের
উত্তর-পূর্বদিকে সম্ভবতঃ খেজুর বাগান
ও ঝর্ণাধারা ছিল। যেখানে
মারিয়াম পর্দা টাঙিয়ে মাঝে-মধ্যে
পায়চারি করতেন। অভ্যাসমত তিনি
উক্ত নির্জন স্থানে একদিন পায়চারি
করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ মানুষের বেশে
সেখানে জিবরাঈল উপস্থিত হন।
স্বাভাবিকভাবেই তাতে মারিয়াম
ভীত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে কুরআনী
বর্ণনা নিম্নরূপ: ﻭَﺍﺫْﻛُﺮْ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺇِﺫِ ﺍﻧﺘَﺒَﺬَﺕْ
ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻠِﻬَﺎ ﻣَﻜَﺎﻧﺎً ﺷَﺮْﻗِﻴًّﺎ - ﻓَﺎﺗَّﺨَﺬَﺕْ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻬِﻢْ ﺣِﺠَﺎﺑﺎً ﻓَﺄَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ
ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺭُﻭﺣَﻨَﺎ ﻓَﺘَﻤَﺜَّﻞَ ﻟَﻬَﺎ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺳَﻮِﻳًّﺎ- ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ
ﺑِﺎﻟﺮَّﺣْﻤَﻦ ﻣِﻨﻚَ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺖَ ﺗَﻘِﻴًّﺎ- ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺭَﺑِّﻚِ ﻟِﺄَﻫَﺐَ
ﻟَﻚِ ﻏُﻼَﻣًﺎ ﺯَﻛِﻴًّﺎ- ﻗَﺎﻟَﺖْ ﺃَﻧَّﻰ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﻟِﻲ ﻏُﻼَﻡٌ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻤْﺴَﺴْﻨِﻲ
ﺑَﺸَﺮٌ ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﻙُ ﺑَﻐِﻴًّﺎ - ﻗَﺎﻝَ ﻛَﺬَﻟِﻚِ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚِ ﻫُﻮَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻫَﻴِّﻦٌ
ﻭَﻟِﻨَﺠْﻌَﻠَﻪُ ﺁﻳَﺔً ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔً ﻣِّﻨَّﺎ ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺃَﻣْﺮًﺍ ﻣَّﻘْﻀِﻴًّﺎ - ( ﻣﺮﻳﻢ
১৬-২১)- (হে মুহাম্মাদ!) ‘আপনি এই
কিতাবে মারিয়ামের কথা বর্ণনা
করুন। যখন সে তার পরিবারের লোকজন
হ’তে পৃথক হয়ে পূর্বদিকে একস্থানে
আশ্রয় নিল’ (মারিয়াম ১৬)। ‘অতঃপর সে
তাদের থেকে আড়াল করার জন্য পর্দা
টাঙিয়ে নিল। অতঃপর আমরা তার
নিকটে আমাদের ‘রূহ’ (অর্থাৎ
জিব্রীলকে) প্রেরণ করলাম। সে তার
কাছে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতিতে
আত্মপ্রকাশ করল’ (১৭)। ‘মারিয়াম বলল,
আমি তোমার থেকে করুণাময় আল্লাহর
আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যদি তুমি
আল্লাহভীরু হও’ (১৮)। ‘সে বলল, আমি তো
কেবল তোমার প্রভুর প্রেরিত। এজন্য যে,
আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র
সন্তান দান করে যাব’ (১৯)। ‘মারিয়াম
বলল, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে?
অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি
এবং আমি ব্যভিচারিণী নই’ (২০)। ‘সে
বলল, এভাবেই হবে। তোমার পালনকর্তা
বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ ব্যাপার
এবং আমরা তাকে (ঈসাকে)
মানবজাতির জন্য একটা নিদর্শন ও
আমাদের পক্ষ হ’তে বিশেষ অনুগ্রহরূপে
পয়দা করতে চাই। তাছাড়া এটা (পূর্ব
থেকেই) নির্ধারিত বিষয়’ (মারিয়াম
১৯/১৬-২১)। অতঃপর জিব্রীল
মারিয়ামের মুখে অথবা তাঁর পরিহিত
জামায় ফুঁক মারলেন এবং তাতেই তাঁর
গর্ভ সঞ্চার হ’ল (আম্বিয়া ২১/৯১;
তাহরীম ৬৬/১২)। অন্য আয়াতে একে
‘আল্লাহর কলেমা’ ( ﺑِﻜَﻠِﻤَﺔٍ ﻣِﻨْﻪُ ) অর্থাৎ
‘কুন্’ (হও) বলা হয়েছে (আলে ইমরান ৩/৪৫)।
অতঃপর আল্লাহ বলেন, ﻓَﺤَﻤَﻠَﺘْﻪُ ﻓَﺎﻧﺘَﺒَﺬَﺕْ ﺑِﻪِ ﻣَﻜَﺎﻧًﺎ
ﻗَﺼِﻴًّﺎ - ﻓَﺄَﺟَﺎﺀﻫَﺎ ﺍﻟْﻤَﺨَﺎﺽُ ﺇِﻟَﻰ ﺟِﺬْﻉِ ﺍﻟﻨَّﺨْﻠَﺔِ ﻗَﺎﻟَﺖْ ﻳَﺎ ﻟَﻴْﺘَﻨِﻲ
ﻣِﺖُّ ﻗَﺒْﻞَ ﻫَﺬَﺍ ﻭَﻛُﻨﺖُ ﻧَﺴْﻴًﺎ ﻣَّﻨْﺴِﻴًّﺎ- ﻓَﻨَﺎﺩَﺍﻫَﺎ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺃَﻻَّ
ﺗَﺤْﺰَﻧِﻲ ﻗَﺪْ ﺟَﻌَﻞَ ﺭَﺑُّﻚِ ﺗَﺤْﺘَﻚِ ﺳَﺮِﻳًّﺎ- ﻭَﻫُﺰِّﻱْ ﺇِﻟَﻴْﻚِ ﺑِﺠِﺬْﻉِ
ﺍﻟﻨَّﺨْﻠَﺔِ ﺗُﺴَﺎﻗِﻂْ ﻋَﻠَﻴْﻚِ ﺭُﻃَﺒًﺎ ﺟَﻨِﻴًّﺎ - ﻓَﻜُﻠِﻲْ ﻭَﺍﺷْﺮَﺑِﻲْ ﻭَﻗَﺮِّﻱْ ﻋَﻴْﻨًﺎ
ﻓَﺈِﻣَّﺎ ﺗَﺮَﻳِﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒَﺸَﺮِ ﺃَﺣَﺪًﺍ ﻓَﻘُﻮﻟِﻲْ ﺇِﻧِّﻲْ ﻧَﺬَﺭْﺕُ ﻟِﻠﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺻَﻮْﻣﺎً
ﻓَﻠَﻦْ ﺃُﻛَﻠِّﻢَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺇِﻧﺴِﻴًّﺎ - ( ﻣﺮﻳﻢ ২২-২৬)- ‘অতঃপর
মারিয়াম গর্ভে সন্তান ধারণ করল এবং
তৎসহ একটু দূরবর্তী স্থানে চলে
গেল’ (মারিয়াম ২২)। ‘এমতাবস্থায় প্রসব
বেদনা তাকে একটি খর্জুর বৃক্ষের মূলে
আশ্রয় নিতে বাধ্য করল। তখন সে বলল,
হায়! আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম
এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে
বিলুপ্ত হয়ে যেতাম’ (২৩)। ‘এমন সময়
ফেরেশতা তাকে নিম্নদেশ থেকে
(অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী নিম্নভূমি থেকে)
আওয়ায দিয়ে বলল, তুমি দুঃখ করো না।
তোমার পালনকর্তা তোমার পাদদেশে
একটি ঝর্ণাধারা সৃষ্টি করেছেন’ (২৪)।
‘আর তুমি খর্জুর বৃক্ষের কান্ড ধরে
নিজের দিকে নাড়া দাও, তা থেকে
তোমার দিকে সুপক্ক খেজুর পতিত
হবে’ (২৫)। ‘তুমি আহার কর, পান কর এং
স্বীয় চক্ষু শীতল কর। আর যদি কোন
মানুষকে তুমি দেখ, তবে তাকে বলে
দিয়ো যে, আমি দয়াময় আল্লাহর জন্য
ছিয়াম পালনের মানত করেছি।
সুতরাং আমি আজ কারু সাথে কোন
মতেই কথা বলব না’ (মারিয়াম
১৯/২২-২৬)। উল্লেখ্য যে, ইসলাম-পূর্ব
কালের বিভিন্ন শরী‘আতে সম্ভবতঃ
ছিয়াম পালনের সাথে অন্যতম নিয়ম
ছিল সারাদিন মৌনতা অবলম্বন করা।
হযরত যাকারিয়া (আঃ)-কেও সন্তান
প্রদানের নিদর্শন হিসাবে তিন দিন
ছিয়ামের সাথে মৌনতা অবলম্বনের
নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ঐ
অবস্থায় ইশারা-ইঙ্গিতে কথা বলার
অবকাশ ছিল (মারিয়াম ১৯/১০-১১)।
একইভাবে মারিয়ামকেও নির্দেশ
দেওয়া হ’ল (মারিয়াম ১৯/২৬)।
আলোচনা : (১) যেহেতু ঈসা (আঃ)-এর
জন্মগ্রহণের ব্যাপারটি সম্পূর্ণভাবে
অলৌকিক, তাই তার গর্ভধারণের
মেয়াদ স্বাভাবিক নিয়মের বহির্ভূত
ছিল বলেই ধরে নিতে হবে। নয় মাস
দশদিন পরে সন্তান প্রসব শেষে চল্লিশ
দিন ‘নেফাস’ অর্থাৎ রজঃস্রাব হ’তে
পবিত্রতার মেয়াদও এখানে ধর্তব্য না
হওয়াই সমীচীন। অতএব ঈসাকে
গর্ভধারণের ব্যাপারটাও যেমন নিয়ম
বহির্ভূত, তার ভূমিষ্ট হওয়া ও তার
মায়ের পবিত্রতা লাভের পুরা
ঘটনাটাই নিয়ম বহির্ভূত এবং অলৌকিক।
আর এটা আল্লাহর জন্য একেবারেই
সাধারণ বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর মাধ্যমে
সন্তান জন্ম হবে, মাকে দশ মাস গর্ভধারণ
করতে হবে ইত্যাদি নিয়ম আল্লাহরই
সৃষ্টি এবং এই নিয়ম ভেঙ্গে সন্তান দান
করাও তাঁরই এখতিয়ার। এদিকে ইঙ্গিত
করেই আল্লাহ বলেন, ﺇِﻥَّ ﻣَﺜَﻞَ ﻋِﻴْﺴَﻰ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ
ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺁﺩَﻡَ ﺧَﻠَﻘَﻪُ ﻣِﻦْ ﺗُﺮَﺍﺏٍ ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮْﻥُ - ﺍﻟْﺤَﻖُّ ﻣِﻦ
ﺭَّﺑِّﻚَ ﻓَﻼَ ﺗَﻜُﻦ ﻣِّﻦَ ﺍﻟْﻤُﻤْﺘَﺮِﻳْﻦَ - ( ﺁﻝ ﻋﻤﺮﺍﻥ ৫৯-৬০)-
‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে ঈসার দৃষ্টান্ত
হ’ল আদমের মত। তাকে তিনি মাটি
দিয়ে সৃষ্টি করেন এবং বলেন, হয়ে যাও
ব্যস হয়ে গেল’। ‘যা তোমার প্রভু আল্লাহ
বলেন, সেটাই সত্য। অতএব তুমি
সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো
না’ (আলে ইমরান ৩/৫৯-৬০)। অর্থাৎ
আদমকে যেমন পিতা-মাতা ছাড়াই
সৃষ্টি করা হয়েছে, ঈসাকে তেমনি
পিতা ছাড়াই শুধু মায়ের মাধ্যমেই
সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এটাই যে সত্য
এবং এর বাইরে যাবতীয় জল্পনা-কল্পনা
যে মিথ্যা, সে কথাও উপরোক্ত
আয়াতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলে দেওয়া
হয়েছে। দুর্ভাগ্য এই যে, যে বনু
ইস্রাঈলের নবী ও রাসূল হয়ে ঈসা
(আঃ)-এর আগমন ঘটলো, সেই ইহুদী-
নাছারারাই আল্লাহর উক্ত ঘোষণাকে
মিথ্যা বলে গণ্য করেছে। অথচ এই
হতভাগারা মারিয়ামের পূর্বদিকে
যাওয়ার অনুসরণে পূর্বদিককে তাদের
ক্বিবলা বানিয়েছে। (২) এখানে
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে,
মারিয়ামকে খেজুর গাছের কান্ড ধরে
নাড়া দিতে বলা হয়েছে, যাতে সুপক্ক
খেজুর নীচে পতিত হয়। এটাতে বুঝা
যায় যে, ওটা ছিল তখন খেজুর পাকার
মৌসুম অর্থাৎ গ্রীষ্মকাল। আর খৃষ্টানরা
কথিত যীশু খৃষ্টের জন্মদিন তথা তাদের
ভাষায় X-mas Day বা বড় দিন উৎসব পালন
করে থাকে শীতকালে ২৫শে
ডিসেম্বর তারিখে। অথচ এর কোন
ভিত্তি তাদের কাছে নেই। যেমন
কোন ভিত্তি নেই মুসলমানদের কাছে
১২ই রবীউল আউয়াল একই তারিখে
শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর জন্ম ও মৃত্যু
দিবস পালনের। অথচ
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুযায়ী
রাসূলের জন্মদিবস ছিল ৯ই রবীউল
আউয়াল সোমবার ও মৃত্যুর তারিখ ছিল
১২ই রবীউল আউয়াল সোমবার। ইসলামে
কারু জন্ম বা মৃত্যু দিবস পালনের বিধান
নেই। ক্রুসেড যুদ্ধের সময় খৃষ্টান
বাহিনীর বড় দিন পালনের
দেখাদেখি ৬০৫ অথবা ৬২৫ হিজরীতে
ইরাকের এরবল প্রদেশের গভর্ণর আবু সাঈদ
মুযাফফরুদ্দীন কুকুবুরী (৫৮৬-৬৩২ হি:)-এর
মাধ্যমে কথিত ঈদে মীলাদুন্নবীর প্রথা
প্রথম চালু হয়। এই বিদ‘আতী প্রথা কোন
কোন মুসলিম দেশে বিশেষ করে ভারত
উপমহাদেশে শিকড় গেড়ে বসেছে। (৩)
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে,
খেজুর গাছের গোড়া ধরে নাড়া
দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। বিশেষ করে
একজন সদ্য প্রসূত সন্তানের মায়ের পক্ষে।
এর মধ্যে এ বিষয়ে ইঙ্গিত রয়েছে যে,
নেকীর কাজে আল্লাহর উপরে ভরসা
করে বান্দাকে অবশ্যই এগিয়ে যেতে
হবে। যত সামান্যই হৌক কাজ করতে
হবে। আল্লাহ তাতেই বরকত দিবেন।
যেমন তালূত ও দাঊদকে আল্লাহ
দিয়েছিলেন এবং যেমন শেষনবী
(ছাঃ)-কে আল্লাহ সাহায্য
করেছিলেন বিশেষভাবে হিজরতের
রাত্রিতে মক্কা ত্যাগের সময়,
হিজরতকালীন সফরে এবং বদর ও খন্দক
যুদ্ধের কঠিন সময়ে। অতএব আমরা ধরে
নিতে পারি যে, মারিয়ামের
গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব ও প্রসব পরবর্তী
পবিত্রতা অর্জন সবই ছিল অলৌকিক
এবং সবই অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন
হয়। এর পরের ঘটনা আমরা সরাসরি কুরআন
থেকে বিবৃত করব। আল্লাহ বলেন, ﻓَﺄَﺗَﺖْ ﺑِﻪِ
ﻗَﻮْﻣَﻬَﺎ ﺗَﺤْﻤِﻠُﻪُ ﻗَﺎﻟُﻮْﺍ ﻳَﺎ ﻣَﺮْﻳَﻢُ ﻟَﻘَﺪْ ﺟِﺌْﺖِ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻓَﺮِﻳًّﺎ- ﻳَﺎ ﺃُﺧْﺖَ
ﻫَﺎﺭُﻭﻥَ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﺑُﻮْﻙِ ﺍﻣْﺮَﺃَ ﺳَﻮْﺀٍ ﻭَﻣَﺎ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺃُﻣُّﻚِ ﺑَﻐِﻴًّﺎ - ( ﻣﺮﻳﻢ
২৭-২৮)- ‘অতঃপর মারিয়াম তার
সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের
কাছে উপস্থিত হ’ল। তারা বলল, হে
মারিয়াম! তুমি একটা আশ্চর্য বস্ত্ত
নিয়ে এসেছ’। ‘হে হারূণের বোন![4]
তোমার পিতা কোন অসৎ ব্যক্তি
ছিলেন না কিংবা তোমার মাতাও
কোন ব্যভিচারিণী মহিলা ছিলেন
না’ (মারিয়াম ১৯/২৭-২৮)। কওমের
লোকদের এ ধরনের কথা ও সন্দেহের
জওয়াবে নিজে কিছু না বলে বিবি
মারিয়াম তার সদ্য প্রসূত সন্তানের
দিকে ইশারা করলেন। অর্থাৎ একথার
জবাব সেই-ই দিবে। কেননা সে
আল্লাহর দেওয়া এক অলৌকিক সন্তান,
যা কওমের লোকেরা জানে না।
আল্লাহ বলেন, ﻓَﺄَﺷَﺎﺭَﺕْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻧُﻜَﻠِّﻢُ ﻣَﻦْ ﻛَﺎﻥَ
ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﻬْﺪِ ﺻَﺒِﻴًّﺎ- ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧِّﻲْ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺁﺗَﺎﻧِﻲَ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲ
ﻧَﺒِﻴًّﺎ- ﻭَﺟَﻌَﻠَﻨِﻲْ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛﺎً ﺃَﻳْﻦَ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖُ ﻭَﺃَﻭْﺻَﺎﻧِﻲْ ﺑِﺎﻟﺼَّﻼَﺓِ
ﻭَﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻣَﺎ ﺩُﻣْﺖُ ﺣَﻴًّﺎ- ﻭَﺑَﺮًّﺍ ﺑِﻮَﺍﻟِﺪَﺗِﻲْ ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﺠْﻌَﻠْﻨِﻲْ ﺟَﺒَّﺎﺭًﺍ
ﺷَﻘِﻴًّﺎ- ﻭَﺍﻟﺴَّﻼَﻡُ ﻋَﻠَﻲَّ ﻳَﻮْﻡَ ﻭُﻟِﺪﺕُّ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃَﻣُﻮْﺕُ ﻭَﻳَﻮْﻡَ ﺃُﺑْﻌَﺚُ
ﺣَﻴًّﺎ - ( ﻣﺮﻳﻢ ২৯-৩৩)- ‘অতঃপর মারিয়াম
ঈসার দিকে ইঙ্গিত করল। তখন লোকেরা
বলল, কোলের শিশুর সাথে আমরা
কিভাবে কথা বলব’? (মারিয়াম ২৯)।
ঈসা তখন বলে উঠল, ‘আমি আল্লাহর দাস।
তিনি আমাকে কিতাব (ইনজীল) প্রদান
করেছেন এবং আমাকে নবী
করেছেন’ (৩০)। ‘আমি যেখানেই থাকি,
তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন।
তিনি আমাকে জোরালো নির্দেশ
দিয়েছেন যতদিন জীবিত থাকি,
ততদিন ছালাত ও যাকাত আদায়
করতে’ (৩১)। ‘এবং আমার মায়ের অনুগত
থাকতে। আল্লাহ আমাকে উদ্ধত ও
হতভাগা করেননি’ (৩২)। ‘আমার প্রতি
শান্তি যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি,
যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন
জীবিত পুনরুত্থিত হব’ (মারিয়াম
১৯/২৯-৩৩)। ঈসার উপরোক্ত বক্তব্য শেষ
করার পর সংশয়বাদী ও বিতর্ককারী
লোকদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন,
ﺫَﻟِﻚَ ﻋِﻴْﺴَﻰ ﺍﺑْﻦُ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻗَﻮْﻝَ ﺍﻟْﺤَﻖِّ ﺍﻟَّﺬِﻱْ ﻓِﻴْﻪِ ﻳَﻤْﺘَﺮُﻭْﻥَ - ﻣَﺎ
ﻛَﺎﻥَ ِﻟﻠﻪِ ﺃَﻥ ﻳَّﺘَّﺨِﺬَ ﻣِﻦْ ﻭَﻟَﺪٍ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﺇِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻰ ﺃَﻣْﺮﺍً ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ
ﻳَﻘُﻮْﻝُ ﻟَﻪُ ﻛُﻦْ ﻓَﻴَﻜُﻮْﻥُ - ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﺭَﺑِّﻲْ ﻭَﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﻓَﺎﻋْﺒُﺪُﻭْﻩُ ﻫَﺬَﺍ
ﺻِﺮَﺍﻁٌ ﻣُّﺴْﺘَﻘِﻴْﻢٌ - ( ﻣﺮﻳﻢ ৩৪-৩৬)- ‘ইনিই হ’লেন
মারিয়াম পুত্র ঈসা। আর ওটাই হ’ল
সত্যকথা (যা উপরে বর্ণিত হয়েছে), যে
বিষয়ে লোকেরা (অহেতুক) বিতর্ক করে
থাকে’ (মারিয়াম ৩৪)। ‘আল্লাহ এমন নন
যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন (যেমন
অতিভক্ত খৃষ্টানরা বলে থাকে যে,
ঈসা ‘আল্লাহর পুত্র’)। তিনি মহাপবিত্র।
যখন তিনি কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত
নেন, তখন বলেন, হও! ব্যস, হয়ে যায়’ (৩৫)।
‘ঈসা আরও বলল, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার
পালনকর্তা এবং তোমাদের
পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত
কর। (মনে রেখ) এটাই হ’ল সরল
পথ’ (মারিয়াম ১৯/৩৪-৩৬)। কিন্তু সদ্যপ্রসূত
শিশু ঈসার মুখ দিয়ে অনুরূপ সারগর্ভ কথা
শুনেও কি কওমের লোকেরা আশ্বস্ত
হ’তে পেরেছিল? কিছু লোক আশ্বস্ত
হ’লেও অনেকে পারেনি। তারা
নানা বাজে কথা রটাতে থাকে।
তাদের ঐসব বাক-বিতন্ডার প্রতি
ইঙ্গিত করেই পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ
বলেন, ﻓَﺎﺧْﺘَﻠَﻒَ ﺍﻟْﺄَﺣْﺰَﺍﺏُ ﻣِﻦْ ﺑَﻴْﻨِﻬِﻢْ ﻓَﻮَﻳْﻞٌ ﻟِّﻠَّﺬِﻳْﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭْﺍ
ﻣِﻦ ﻣَّﺸْﻬَﺪِ ﻳَﻮْﻡٍ ﻋَﻈِﻴْﻢٍ - ﺃَﺳْﻤِﻊْ ﺑِﻬِﻢْ ﻭَﺃَﺑْﺼِﺮْ ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﺄْﺗُﻮْﻧَﻨَﺎ ﻟَﻜِﻦِ
ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤُﻮْﻥَ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﻓِﻲْ ﺿَﻼَﻝٍ ﻣُّﺒِﻴْﻦٍ - ( ﻣﺮﻳﻢ ৩৭-৩৮)-
‘অতঃপর তাদের মধ্যকার বিভিন্ন দল
বিভিন্ন (মত ও পথে) বিভক্ত হয়ে গেল
(দুনিয়াতে যার শেষ হবে না)। অতএব
ক্বিয়ামতের মহাদিবস আগমন কালে
অবিশ্বাসী কাফিরদের জন্য ধ্বংস’।
‘সেদিন তারা চমৎকারভাবে শুনবে ও
দেখবে, যেদিন তারা সবাই আমাদের
কাছে আগমন করবে। কিন্তু আজ
যালেমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে
রয়েছে’ (মারিয়াম ১৯/৩৭-৩৮)।
মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে আল্লাহর
সাক্ষ্য : আল্লাহ পাক নিজেই
মারিয়ামের সতীত্ব সম্পর্কে সাক্ষ্য
দিয়ে বলেন, ﻭَﻣَﺮْﻳَﻢَ ﺍﺑْﻨَﺖَ ﻋِﻤْﺮَﺍﻥَ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﺃَﺣْﺼَﻨَﺖْ
ﻓَﺮْﺟَﻬَﺎ ﻓَﻨَﻔَﺨْﻨَﺎ ﻓِﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺭُّﻭْﺣِﻨَﺎ ﻭَﺻَﺪَّﻗَﺖْ ﺑِﻜَﻠِﻤَﺎﺕِ ﺭَﺑِّﻬَﺎ ﻭَﻛُﺘُﺒِﻪِ
ﻭَﻛَﺎﻧَﺖْ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﺎﻧِﺘِﻴﻦَ- (ﺍﻟﺘﺤﺮﻳﻢ ১২)- ‘তিনি
দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন ইমরান তনয়া
মারিয়ামের, যে তার সতীত্ব বজায়
রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে
আমার পক্ষ হ’তে রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম
এবং সে তার পালনকর্তার বাণী ও
কিতাব সমূহকে সত্যে পরিণত করেছিল
এবং সে ছিল বিনয়ীদের
অন্যতম’ (তাহরীম ৬৬/১২)। মারিয়ামের
বৈশিষ্ট্য সমূহ : (১) তিনি ছিলেন বিশ্ব
নারী সমাজের শীর্ষস্থানীয়া এবং
আল্লাহর মনোনীত ও পবিত্র ব্যক্তিত্ব
(আলে ইমরান ৩/৪২)। (২) তিনি ছিলেন
সর্বদা আল্লাহর উপাসনায় রত, বিনয়ী,
রুকু কারিনী ও সিজদাকারিনী (ঐ,
৩/৪৩)। (৩) তিনি ছিলেন সতীসাধ্বী
এবং আল্লাহর আদেশ ও বাণী সমূহের
বাস্তবায়নকারিনী (তাহরীম ৬৬/১২)।
(৪) আল্লাহ নিজেই তার নাম রাখেন
‘মারিয়াম’ (আলে ইমরান ৩/৩৬)। অতএব
তিনি ছিলেন অতীব সৌভাগ্যবতী।
শিক্ষণীয় বিষয় সমূহ: (১) মারিয়াম
ছিলেন তার মায়ের মানতের সন্তান
এবং তার নাম আল্লাহ নিজে
রেখেছিলেন। (২) মারিয়ামের মা
দো‘আ করেছিলেন এই মর্মে যে, আমি
তাকে ও তার সন্তানদেরকে আল্লাহর
আশ্রয়ে সমর্পণ করছি অভিশপ্ত শয়তানের
কবল হ’তে এবং আল্লাহ সে দো‘আ কবুল
করেছিলেন উত্তমরূপে। অতএব মারিয়াম
ও তার পুত্র ঈসার পবিত্রতা সম্পর্কে
কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই। (৩)
মারিয়াম আল্লাহর ঘর বায়তুল
মুক্বাদ্দাসের খিদমতে রত ছিলেন এবং
তাকে আল্লাহর পক্ষ হ’তে বিশেষ ফল-
ফলাদির মাধ্যমে খাদ্য পরিবেশন করা
হ’ত (আলে ইমরান ৩/৩৭)। এতে বুঝা যায়
যে, পবিত্রাত্মা মহিলাগণ মসজিদের
খিদমত করতে পারেন এবং আল্লাহ তাঁর
নেককার বান্দাদের জন্য যেকোন
স্থানে খাদ্য পরিবেশন করে থাকেন।
(৪) মারিয়ামের গর্ভধারণ ও ঈসার
জন্মগ্রহণ ছিল সম্পূর্ণরূপে অলৌকিক ঘটনা।
আল্লাহ পাক নিয়মের স্রষ্টা এবং
তিনিই নিয়মের ভঙ্গকারী। তাকে
কোন বিষয়ে বাধ্য করার মত কেউ নেই।
তিনি পিতা-মাতা ছাড়াই আদমকে
সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর পিতা ছাড়াই
শুধু মাতার মাধ্যমে ঈসাকে সৃষ্টি
করেছেন। তিনি যা খুশী তাই করতে
পারেন। (৫) ঈসার জন্ম গ্রীষ্মকালে
হয়েছিল খেজুর পাকার মওসুমে।
খৃষ্টানদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা মতে
২৫শে ডিসেম্বরের প্রচন্ড শীতের সময়ে
নয়। (৬) ফেরেশতা মানবাকৃতি ধারণ
করে অথবা অদৃশ্য থেকে নেককার
বান্দাকে আল্লাহর হুকুমে সাহায্য করে
থাকেন। যেমন জিব্রীল মানবাকৃতি
ধারণ করে মারিয়ামের জামায় ফুঁক
দিলেন। অতঃপর অদৃশ্য থেকে আওয়ায
দিয়ে তার খাদ্য ও পানীয়ের পথ
নির্দেশ দান করলেন। (৭) বান্দাকে
কেবল প্রার্থনা করলেই চলবে না,
তাকে কাজে নামতে হবে। তবেই
তাতে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসবে।
যেমন খেজুর বৃক্ষের কান্ড ধরে নাড়া
দেওয়ার সামান্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে
আল্লাহর হুকুমে সুপক্ক খেজুর সমূহ পতিত হয়।
(৮) বিশেষ সময়ে আল্লাহর হুকুমে শিশু
সন্তানের মুখ দিয়ে সারগর্ভ বক্তব্য সমূহ
বের হ’তে পারে। যেমন ঈসার মুখ দিয়ে
বের হয়েছিল তার মায়ের পবিত্রতা
প্রমাণের জন্য। বুখারী শরীফে বর্ণিত
বনু ইস্রাঈলের জুরায়েজ-এর ঘটনায়ও এর
প্রমাণ পাওয়া যায়। (৯) ঈসা কোন
উপাস্য ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন
অন্যদের মত আল্লাহর একজন দাস মাত্র
এবং তিনি ছিলেন আল্লাহর একজন
সম্মানিত নবী ও কিতাবধারী রাসূল।
(১০) ঈসা যে বিনা বাপে পয়দা
হয়েছিলেন, তার অন্যতম প্রমাণ এই যে,
কুরআনের সর্বত্র তাঁকে ‘মারিয়াম-
পুত্র’ ( ﻋﻴﺴﻰ ﺍﺑﻦ ﻣﺮﻳﻢ ) বলা হয়েছে
(বাক্বারাহ ২/৮৭, ২৫৩; আলে ইমরান ৩/৪৫
প্রভৃতি)। পিতা-মাতা উভয়ে থাকলে
হয়তবা তাঁকে কেবল ঈসা বলেই সম্বোধন
করা হ’ত, যেমন অন্যান্য নবীগণের
বেলায় করা হয়েছে। অথচ
মারিয়ামকে তার পিতার দিকে
সম্বন্ধ করে ‘মারিয়াম বিনতে
ইমরান’ ( ﺍﺑﻨﺖ ﻋﻤﺮﺍﻥ ) ‘ইমরান-কন্যা’ বলা
হয়েছে (তাহরীম ৬৬/১২)। (১১) একমাত্র
মারিয়ামের নাম ধরেই আল্লাহ তাঁর
সতীত্বের সাক্ষ্য ঘোষণা করেছেন
(তাহরীম ৬৬/১২)। যা পৃথিবীর অন্য কোন
মহিলা সম্পর্কে করা হয়নি। অতএব
যাবতীয় বিতর্কের অবসানের জন্য এটুকুই
যথেষ্ট। তাছাড়া আল্লাহ তাঁকে
‘ছিদ্দীক্বাহ’ অর্থাৎ কথায় ও কর্মে
‘সত্যবাদীনী’ আখ্যা দিয়েছেন
(মায়েদাহ ৫/৭৫)। যেটা অন্য কোন
মহিলা সম্পর্কে দেওয়া হয়নি। ঈসা
(আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য সমূহ : (১) তিনি
ছিলেন বিনা বাপে পয়দা বিশ্বের
একমাত্র নবী (আলে ইমরান ৩/৪৬ প্রভৃতি)।
(২) আল্লাহ স্বয়ং যার নাম রাখেন মসীহ
ঈসা রূপে (আলে ইমরান ৩/৪৫)। (৩) তিনি
শয়তানের অনিষ্টকারিতা হ’তে মুক্ত
ছিলেন (ঐ, ৩/৩৬-৩৭)। (৪) দুনিয়া ও
আখেরাতে তিনি ছিলেন মহা
সম্মানের অধিকারী এবং আল্লাহর
একান্ত প্রিয়জনদের অন্যতম (আলে ইমরান
৩/৪৫)। (৫) তিনি মাতৃক্রোড়ে থেকেই
সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন (মারিয়াম
১৯/২৭-৩৩; আলে ইমরান ৩/৪৬)। (৬) তিনি
বনু ইস্রাঈলগণের প্রতি প্রেরিত
হয়েছিলেন (আলে ইমরান ৩/৪৯) এবং
শেষনবী ‘আহমাদ’-এর আগমনের
ভবিষ্যদ্বাণী করেন (ছফ ৬১/৬)। (৭) তাঁর
মো‘জেযা সমূহের মধ্যে ছিল- (ক) তিনি
মাটির তৈরী পাখিতে ফুঁক দিলেই
তা জীবন্ত হয়ে উড়ে যেত (খ) তিনি
জন্মান্ধকে চক্ষুষ্মান ও কুষ্ঠ রোগীকে
সুস্থ করতে পারতেন (গ) তিনি মৃতকে
জীবিত করতে পারতেন (ঘ) তিনি বলে
দিতে পারতেন মানুষ বাড়ী থেকে
যা খেয়ে আসে এবং যা সে ঘরে
সঞ্চিত রেখে আসে (আলে ইমরান ৩/৪৯;
মায়েদাহ ৫/১১০)। (৮) তিনি আল্লাহর
কিতাব ইনজীল প্রাপ্ত হয়েছিলেন
এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের
সত্যায়নকারী ছিলেন। তবে তওরাতে
হারামকৃত অনেক বিষয়কে তিনি
হালাল করেন (আলে ইমরান ৩/৫০)। (৯)
তিনি ইহুদী চক্রান্তের শিকার হয়ে
সরকারী নির্যাতনের সম্মুখীন হন। ফলে
আল্লাহ তাঁকে সশরীরে আসমানে
উঠিয়ে নেন (আলে ইমরান ৩/৫২, ৫৪-৫৫;
নিসা ৪/১৫৮)। শত্রুরা তাঁরই মত
আরেকজনকে সন্দেহ বশে শূলে চড়িয়ে
হত্যা করে এবং তারা নিশ্চিতভাবেই
ঈসাকে হত্যা করেনি’ (নিসা ৪/১৫৭)।
(১০) তিনিই একমাত্র নবী, যাকে
আল্লাহ জীবিত অবস্থায় দুনিয়া
থেকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন
এবং ক্বিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি
পুনরায় সশরীরে দুনিয়াতে অবতরণ
করবেন এবং দাজ্জাল, ক্রুশ, শূকর প্রভৃতি
ধ্বংস করবেন। অতঃপর ইমাম মাহদীর
নেতৃত্বে সারা পৃথিবীতে ইসলামী
শরী‘আত অনুযায়ী শান্তির রাজ্য
কায়েম করবেন।

28/10/2015

কি বলছে ইসলাম, পা ছুঁয়ে সালাম করা যাবে কি?
উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশে পাঁ ছুঁয়ে সালাম দেয়ার একটা সংস্কৃতি চালূ রয়েছে।
অধিকাংশ সময়ে অবশ্য মেয়েরাই পাঁ
ছুঁয়ে সালাম করে থাকে। হিন্দু সমাজে
বেদের শিক্ষক তথা পুরোহিত থেকে শুরু
করে গুরুজনেরা মূলত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের
হয়। আর হিন্দু ধর্ম মতে ব্রাহ্মণরা বিশেষ
করে ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা হচ্ছে ঈশ্বরের
প্রতিনিধি। ঈশ্বরের প্রতিনিধি
হিসেবে তারা সাধারণ হিন্দুদের
কাছে প্রায় পূজনীয় হিসেবে
বিবেচিত হয়। মনুসংহিতাতে বেদের
ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে
যে, বেদ শিক্ষার প্রতিটি পাঠের
শুরুতে ও শেষে একজন ছাত্র অবশ্যই তার
গুরুর দুই পা ছুঁয়ে আলিঙ্গন করবে। এই পা
ছুঁয়ে আলিঙ্গন করাকে ব্রহ্মঞ্জলী বলা
হয়। ইসলাম ধর্ম মতে : ইসলাম ধর্মে পা
ছুঁয়ে সালাম করা নিষেধ। কেননা পা
ছুঁয়ে সালাম করতে গেলে আরেকজনের
সামনে মাথা নত করতে হয়। কিন্তু
ইসলাম ধর্মে একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত
অন্য কারও সামনে মাথা নত করা
নিষেধ। তাই যে কাউকে পা ছুঁয়ে
সালাম করা ইসলামে নিষিদ্ধ।

Photos 30/06/2014
Want your business to be the top-listed Beauty Salon in New Delhi?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address


New Delhi