MBBS LOVER
this is an official website of mbbs lover
দৌড় শুরু করার পরও ইউসুফ (আঃ) জানতেন না দরজা খুলে যাবে। মুসা(আঃ) জানতেন না সাগর চিরে পথ তৈরি হবে। কিন্তু নিশ্চিত জানতেন আল্লাহ বাঁচাবেন, তাই হয়েছিল।
Keep faith on Allah Swt.♥️
14/09/2026
Identify which of the following ration card you have.... food # westbengal
THE MILSTONE / August 20 / 2026 /Special Articles
_– Haider Hussaini_
*Scrolling is the New Smoking*
আজকের অতি-সংযুক্ত বিশ্বে, মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের সাধারণ মাধ্যম থেকে মানুষের নিত্যসঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। অনেকের কাছে—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে—স্মার্টফোন এখন আর কেবল কোনো যন্ত্র নয়; বরং তা বিনোদন, সামাজিক স্বীকৃতি ও মনোযোগ সরানোর উপায় এবং কখনও কখনও মানসিক স্বস্তির বা বাস্তবতার চাপ থেকে সাময়িক মুক্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে। স্ক্রিন ছাড়া এক মুহূর্তের একঘেয়েমিও এখন অসহনীয় মনে হয়। নীরবতা ভারী ঠেকে, আর অপেক্ষার সময়টুকু যেন বৃথা মনে হয়।
অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের সাথে গুরুতর মানসিক ও আবেগজনিত সমস্যার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায় স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহারের সাথে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সম্পর্ক উঠে এসেছে:
• ঘুমের নিম্নমান
• উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার লক্ষণ বৃদ্ধি
• পড়াশোনার অবনতি
• মনোযোগের স্বল্পতা
• সামাজিক বিচ্ছিন্নতা
• মানসিক অস্থিরতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন চার ঘণ্টার বেশি স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং ঘুমের ব্যাঘাতের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অবিরাম নোটিফিকেশন এবং সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু মস্তিষ্ককে দ্রুত ও অগভীর পুরস্কারের জন্য আকুল হতে প্রশিক্ষণ দেয়। মন প্রতি কয়েক সেকেন্ডে উদ্দীপনা খুঁজতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। গভীর পাঠ, মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন, অর্থপূর্ণ চিন্তাভাবনা, এমনকি মননশীল প্রার্থনাও "কঠিন" বলে মনে হতে শুরু করে।
ডিজিটাল যুগে, আমাদের অবসর সময় প্রায়শই ফোনের কারণে গ্রাস হয়ে যায়। যা "মাত্র পাঁচ মিনিট" হিসাবে শুরু হয়, তা নীরবে এক ঘণ্টায় পরিণত হয়। তারপর আরও এক ঘণ্টা। ইসলাম প্রযুক্তির বিরোধিতা করে না। এটি আমাদের এমন সরঞ্জাম পরিত্যাগ করতে বলে না যা আমাদের উপকারে আসতে পারে। বরং, এটি ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যমূলক ব্যবহারের আহ্বান জানায়। সমস্যাটি ফোন নিজে নয়। সমস্যাটি হলো এর উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো।
প্রতিটি ঘণ্টা আমাদের অস্তিত্বের একটি অংশ। যখন আমরা প্রতিদিন নির্বোধ ভোগের পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করি, তখন আমরা কেবল সময়ই নষ্ট করি না; আমরা ধীরে ধীরে আমাদের জীবনের অংশগুলো বিলিয়ে দিই।
অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে ক্রমাগত মগ্ন থাকা হৃদয়কে কঠিন ও রুদ্ধ করে দেয়। যখন হৃদয় ক্রমাগত ব্যস্ত থাকে, তখন তা ঐশ্বরিক উপদেশের প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। এটি নীরবতায় অস্থির হয়ে ওঠে এবং আত্ম-প্রতিফলনে অনীহা প্রকাশ করে। একটি বিক্ষিপ্ত হৃদয় সালাতে সংযুক্ত হতে সংগ্রাম করে। একটি অস্থির মনের কাছে যিকির ভারী মনে হয়। স্ক্রোল করার গতির তুলনায় কুরআন তেলাওয়াত ধীর মনে হয়।
অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের অন্যতম বড় আধ্যাত্মিক বিপদ হলো গাফলাহ (উদাসীনতা)। যখন জীবন নোটিফিকেশন, বিনোদন এবং তুলনার এক অন্তহীন চক্রে পরিণত হয়, তখন আল্লাহর সচেতনতা পটভূমিতে বিলীন হয়ে যায়।
যে মুহূর্তগুলো আত্ম-প্রতিফলনের জন্য ব্যবহার করা যেত, সেগুলো কোলাহলে ভরে যায়। নীরবতা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। নির্জনতা ভীতিকর হয়ে ওঠে। অথচ প্রায়শই নীরবতার মধ্যেই হৃদয় জাগ্রত হয়। কুরআন প্রায়শই মুমিনদেরকে আত্ম-প্রতিফলন, গভীর চিন্তা এবং স্মরণ করার জন্য আহ্বান জানায়। আত্ম-প্রতিফলনের জন্য স্থিরতা প্রয়োজন। স্থিরতার জন্য প্রয়োজন অবিরাম উদ্দীপনা থেকে বিচ্ছিন্নতা।
আরেকটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হলো ব্যবহৃত বিষয়বস্তুর ধরন। বেশিরভাগ সামাজিক মাধ্যম এবং বিনোদন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সম্মুখীন করে:
• অশালীনতা ও যৌন উত্তেজক চিত্র
• পরনিন্দা ও কুৎসা
• মিথ্যা তথ্য
• ঈর্ষা উদ্রেককারী জীবনধারা
• উপহাস ও অশ্লীলতা
*" মু’মিনদেরকে বলঃ তারা যেন দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে। এতে তাদের জন্য উত্তম পবিত্রতা রয়েছে; তারা যা করে সেই বিষয়ে আল্লাহ অবহিত।"*
> সূরা আন - নূর:30
আজকাল দৃষ্টি অবনমন শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্ক্রিন পর্যন্ত বিস্তৃত। যা চোখে প্রবেশ করে, তা হৃদয়েও প্রবেশ করে। বারবার এর সংস্পর্শে আসা আত্মাকে সংবেদনহীন করে তোলে। যা একসময় ভুল মনে হতো, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ফোন আসক্তির আধ্যাত্মিক বিপদ শুধু সময়ের অপচয়েই নয়, বরং ধীরে ধীরে নৈতিক অবক্ষয়েও নিহিত।
ইসলাম প্রযুক্তি বর্জনের দাবি করে না। ফোন নিম্নলিখিত বিষয়গুলির জন্য সরঞ্জাম হতে পারে:
• উপকারী জ্ঞান
• কুরআন অধ্যয়ন ও ইসলামী বক্তৃতা
• পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখা
• হালাল আয় উপার্জন
• ভালো উপদেশ প্রচার করা
মূল নীতিটি হলো সংযম এবং উদ্দেশ্য।
একটি অ্যাপ খোলার আগে, একজন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন: আমি এটি কেন খুলছি?
মোবাইল ফোনের আসক্তি শুধু উৎপাদনশীলতার সমস্যা নয়। এটি আমাদের সময়ের একটি আধ্যাত্মিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং নৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটি নীরবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কেড়ে নেয়, মনোযোগকে খণ্ডিত করে, শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে এবং হৃদয়কে আচ্ছন্ন করে। বিশ্বাসী ব্যক্তি বোঝেন যে জীবন সংক্ষিপ্ত। সময় সীমিত। প্রতিটি শ্বাস গণনা করা হয়। যদি আমাদের আনন্দ, তারুণ্য, স্বাস্থ্য এবং সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসা করার আগেই আমাদের নিজেদেরকে এখন থেকেই জিজ্ঞাসা করা শুরু করতে হবে। ফোন নামিয়ে রাখা কেবল আত্ম-নিয়ন্ত্রণের কাজ নয়। এটি একটি ইবাদতের কাজও হতে পারে।
ইমাম _আল-গাজালী_, তাঁর স্মারক গ্রন্থ ‘ইহইয়া উলুম আল-দীন’-এ নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন:
“তোমার সময়ই তোমার জীবন, এবং সময়ের অপচয় মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।”
05/09/2026
# hadis # Islamicpost .
26/08/2026
EID MILADUN NABI MUBARAK❤🧡
16/07/2026
We may be loss our great leader sonam wanchu , he Is one of the best person who is suffering hungers strike from last 18th days ..........
*দুটি শব্দতেই জান্নাত*
একটু ভাবুন তো — যদি জান্নাতে ঢোকার জন্য একটা চেকলিস্ট থাকত, তাতে কয়টা শর্ত থাকত মনে হয়? দশটা? বিশটা? হাজারটা নিয়মকানুন, লাখো শর্ত, জটিল সব হিসাব?
অথচ `আল্লাহ জাল্লা জালালুহু` কুরআনের একটা মাত্র আয়াতে পুরো ফর্মুলাটা দিয়ে দিয়েছেন — মাত্র দুই শব্দে।
*فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا*
উচ্চারণ: ফামান কানা ইয়ারজু লিকাআ রাব্বিহি ফালইয়া'মাল আমালান সালিহাও ওয়ালা ইউশরিক বিইবাদাতি রাব্বিহি আহাদা।
অর্থ: *সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।*
> (সূরা কাহফ, আয়াত ১১০)
এই আয়াতটা পড়ে থামুন একটু। এত বিশাল একটা প্রশ্নের উত্তর — কীভাবে জান্নাতে যাব — আল্লাহ মাত্র দুইটা শর্তে বেঁধে দিলেন। প্রথমটা `সৎকর্ম`, দ্বিতীয়টা `ইখলাস`। এই দুইয়ের বাইরে আর কোনো ~তৃতীয় শর্ত~ নেই।
এখন আসুন এই দুইটা শর্তকে একটু গভীরে গিয়ে বুঝি, কারণ এখানেই আমাদের অনেকের ভুল বোঝাবুঝি লুকিয়ে আছে।
প্রথম শর্ত — আমালান সালিহা, অর্থাৎ সৎকর্ম। এখানে আল্লাহ কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আমলের নাম নেননি। বলেননি নামাজ পড়লেই হবে, বা শুধু রোজা রাখলেই হবে। বলেছেন সৎকর্ম — একটা ব্যাপক শব্দ, যা জীবনের প্রতিটি অংশকে ছুঁয়ে যায়। ব্যবসায় সততা, পরিবারে দায়িত্বশীলতা, প্রতিবেশীর হক আদায়, এতিমের প্রতি সদয়তা — সবই এই এক শব্দের ভেতরে ঢুকে যায়। অর্থাৎ জান্নাতের রাস্তাটা শুধু মসজিদের ভেতর দিয়ে যায় না, যায় গোটা জীবনের ভেতর দিয়ে।
দ্বিতীয় শর্ত — ওয়ালা ইউশরিক বিইবাদাতি রাব্বিহি আহাদা, অর্থাৎ ইবাদতে কাউকে শরিক না করা। এখানে খেয়াল করুন — আল্লাহ প্রথমে সৎকর্মের কথা বললেন, তারপর সাথে সাথে সতর্ক করে দিলেন শিরকের ব্যাপারে। কেন এই দুইটা এক আয়াতে একসাথে এল? কারণ একটা মানুষ পাহাড়সমান সৎকর্ম করতে পারেন, কিন্তু যদি সেই কর্মের ভেতরে সামান্যতম রিয়া বা লোক দেখানোর নিয়ত ঢুকে যায়, তাহলে সেই আমলের পুরো ভিত্তিটাই নষ্ট হয়ে যায়। এখানে শিরক মানে শুধু মূর্তি পূজা নয় — এখানে শিরক মানে আমলের ভেতরে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য মিশিয়ে দেওয়া। মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আশা, সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর নিয়ত — এসবও এই সতর্কতার আওতায় পড়ে।
তাহলে দেখুন, আসল সমীকরণটা কত সুন্দর। শুধু কর্ম নয় — কর্মের সাথে বিশুদ্ধতা। শুধু ভেতরের বিশুদ্ধতা নয় — সেই বিশুদ্ধতার প্রকাশ বাস্তব কর্মে। দুইটা একসাথে না থাকলে সমীকরণটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যেমন একজন মানুষ শুধু অন্তরে ভালো নিয়ত রাখলেন, কিন্তু কোনো আমলই করলেন না — তার ঈমান সৎকর্মের ফল দিতে ব্যর্থ। আবার একজন মানুষ প্রচুর আমল করলেন, কিন্তু ভেতরে ইখলাস নেই — তার আমল ওজনের পাল্লায় শূন্য।
আমাদের এই জটিল দুনিয়ায় অনেক সময় আমরা মনে করি জান্নাতে যাওয়ার রাস্তাটা বুঝি অনেক জটিল, অনেক ধরনের হিসাব-নিকাশ, অনেক শর্তের গোলকধাঁধা। অথচ আল্লাহ নিজেই এই জটিলতাকে সরিয়ে দিয়ে আমাদের সামনে একটা পরিষ্কার পথ রেখে দিয়েছেন — `কর্মে আন্তরিকতা`, `আর নিয়তে বিশুদ্ধতা`। এই দুইটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে বাকি সবকিছু আল্লাহর রহমতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়।
আজকের জীবনে এই শিক্ষাটা কাজে লাগানোর একটা সহজ অনুশীলন দিই। আজ থেকে যেকোনো আমল শুরু করার আগে দুই সেকেন্ড থামুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন — এই কাজটা আমি কি সৎভাবে করছি, আর এই কাজের পেছনে নিয়তটা কি শুধুই আল্লাহর জন্য? এই ছোট্ট দুই সেকেন্ডের অভ্যাসটাই ধীরে ধীরে আপনার প্রতিটি আমলকে সেই দুই শর্তের ছাঁচে ফেলে দেবে।
জান্নাতে ঢোকার এই সহজ অথচ গভীর ফর্মুলা, ঈমান আর সৎকর্মের এই অবিচ্ছেদ্য জোড়, আর ইখলাসের প্রকৃত পরীক্ষা কীভাবে দিতে হয় — এই সবকিছু নিয়েই শায়খ উসামা আল-শুরাফা তাঁর কালজয়ী বইয়ে অসাধারণ গভীরতায় লিখেছেন। প্রতিটি পাতায় মনে হবে, জীবনের সবচেয়ে জটিল প্রশ্নগুলোর সবচেয়ে সহজ উত্তরগুলো একে একে খুলে যাচ্ছে।
বইটির নাম: আখিরাতের ম্যানুয়াল — প্রত্যেক মুসলিমের সুখময় আখিরাতের পথনির্দেশিকা ।
*আপনি এখনো মায়ের পেটেই আছেন—সূরা নাহলের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকল্প*
আসুন, আজ সূরা আন-নাহলের এমন কিছু আয়াত নিয়ে ভাবি, যেগুলো প্রথম দেখায় মনে হবে ছড়ানো-ছিটানো কিছু বিষয়ের তালিকা—মায়ের গর্ভ, পাখি, ঘরবাড়ি, তাবু, ছায়া, গুহা, পোশাক, বর্ম। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখবেন, আয়াতগুলো একের পর এক গেঁথে তুলেছে এক অসাধারণ চিত্রকল্প—যা একবার বুঝে ফেললে পাখির দিকে তাকানোর দৃষ্টিও বদলে যাবে।
অনুচ্ছেদটা শুরু হয়েছে এভাবে:
وَاللَّهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لَا تَعْلَمُونَ شَيْئًا
*আল্লাহ তোমাদের বের করে এনেছেন তোমাদের মায়েদের পেট থেকে, যখন তোমরা কিছুই জানতে না।*
وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
*আর তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়—যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।*
ক্রমটা লক্ষ্য করেছেন? প্রথমে শ্রবণ, তারপর দৃষ্টি, তারপর হৃদয়। এটা কোনো এলোমেলো তালিকা নয়। আপনি যখন কিছু শোনেন, তা বদলে দেয় আপনার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি; আর নতুন দৃষ্টিতে যা দেখেন, তা স্পর্শ করে আপনার হৃদয়কে। আল্লাহর কালাম শুনুন—আপনার চোখ জগৎটাকে নতুনভাবে দেখতে শিখবে—আর প্রতিবার সেই দেখা আপনার অন্তরে রেখে যাবে কৃতজ্ঞতার ছাপ। সামনের আয়াতগুলো ঠিক এই প্রক্রিয়াটারই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ।
এবার ভাবুন। মায়ের গর্ভে আপনি কেমন ছিলেন? পরম প্রশান্তিতে আবৃত—খাবারের চিন্তা নেই, নিরাপত্তার ভয় নেই। আল্লাহ নিজে আপনাকে সেখানে জড়িয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই সময়ের কথা কি আপনার মনে আছে? না। তাহলে সেই তত্ত্বাবধান অনুভব করবেন কীভাবে?
ঠিক পরের আয়াতেই আল্লাহ বললেন:
أَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ مُسَخَّرَاتٍ فِي جَوِّ السَّمَاءِ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا اللَّهُ
*তারা কি পাখির দিকে তাকায় না, যারা ঝুলে আছে আকাশের পেটের মাঝখানে? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদের ধরে রাখেনি!*
সুবহানাল্লাহ! ভাষাটা দেখুন—আকাশের "জাও", আকাশের পেট! যেমন আল্লাহ ছাড়া কেউ আপনাকে আপনার মায়ের গর্ভে ধরে রাখেনি, তেমনি আল্লাহ ছাড়া কেউ ওই পাখিকে শূন্যে ধরে রাখছে না। পাখির পৃথিবী হলো আকাশ, আর আপনার প্রথম পৃথিবী ছিল মায়ের গর্ভ। এরপর যখনই আকাশে পাখি দেখবেন, মনে করবেন—আমিও একদিন ঠিক ওভাবেই ভেসে ছিলাম, আল্লাহর করুণার মধ্যে। একটা সাধারণ পাখিও তখন হয়ে উঠবে আপনার ঈমান বাড়ানোর উপলক্ষ।
তারপর? মায়ের আবরণ থেকে বের করে এনে আল্লাহ কি আপনাকে খোলা আকাশের নিচে ছেড়ে দিলেন? না। তিনি দিলেন নতুন আবরণ:
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ سَكَنًا
*আল্লাহ তোমাদের ঘরগুলোকে বানিয়েছেন প্রশান্তির স্থান।*
মা ছিলেন আপনার প্রথম ঘর; এখন ঘরটাই যেন আপনার নতুন মা। গর্ভে ছিল সুকুন, এখন ঘরে আছে সাকান।
কিন্তু ঘর ছেড়ে সফরে বের হলে? তার জন্য পশুর চামড়ার তাবু—হালকা, বহনযোগ্য আবরণ:
وَجَعَلَ لَكُمْ مِنْ جُلُودِ الْأَنْعَامِ بُيُوتًا تَسْتَخِفُّونَهَا يَوْمَ ظَعْنِكُمْ وَيَوْمَ إِقَامَتِكُمْ
*আর পশুর চামড়া থেকে তিনি তোমাদের জন্য বানিয়েছেন এমন ঘর, যা তোমরা সহজে বহন করো—চলার দিনেও, থামার দিনেও।*
তাবুও যদি না থাকে?
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِمَّا خَلَقَ ظِلَالًا
*আর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি থেকেই তোমাদের জন্য করেছেন ছায়ার ব্যবস্থা।*
রুক্ষ পাহাড়ি প্রান্তরে ঝড় এলে?
وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْجِبَالِ أَكْنَانًا
*আর পর্বতের মধ্যে তিনি তোমাদের জন্য বানিয়েছেন আশ্রয়ের গুহা।*
আর যখন কোনো ছায়া নেই, গুহা নেই? তখনও আপনি আবরণহীন নন:
وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَأْسَكُمْ
*আর তিনি তোমাদের জন্য বানিয়েছেন পোশাক, যা তোমাদের তীব্র গরম থেকে রক্ষা করে; আর এমন পোশাকও (বর্ম), যা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে।*
লক্ষ্য করুন, একটার পর একটা, একটার পর একটা—প্রতিটি দৃশ্যে একই বার্তা: আপনি কখনোই আবরণের বাইরে নন। আমরা ভাবি, মায়ের পেটে আমরা কত অসহায় ছিলাম, আল্লাহই সব ব্যবস্থা করতেন। আর আল্লাহ মনে করিয়ে দিচ্ছেন—তোমরা তো এখনো তা-ই আছো! এই মুহূর্তেও আপনি পোশাকের ভেতরে আছেন, ছাদের নিচে আছেন, ছায়ার মধ্যে আছেন। পাখিটা যেমন এখনো আকাশের পেটেই ভেসে আছে, আপনিও এখনো আল্লাহর কোনো না কোনো রহমতের আবরণের ভেতরেই আছেন। আয়াতের শুরুতে যে বলা হয়েছিল ```"তোমরা কিছুই জানো না"—```এই না-জানাটা শুধু শৈশবের কথা নয়; আমরা আজও জানি না, প্রতি মুহূর্তে কত আবরণে তিনি আমাদের জড়িয়ে রেখেছেন।
আর এই অনুচ্ছেদ শেষ হয়েছে কী দিয়ে?
كَذَلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ
*এভাবেই তিনি তাঁর নিয়ামত তোমাদের উপর পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ করো।*
শুরুতে ছিল `"লাআল্লাকুম তাশকুরুন"`—যাতে কৃতজ্ঞ হও; শেষে `"লাআল্লাকুম তুসলিমুন"`—যাতে সমর্পিত হও। কৃতজ্ঞতা থেকে আত্মসমর্পণ—এটাই যাত্রা।
শেষে একটা কথা, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়। কুরআনের অন্য এক জায়গায় আল্লাহ কিয়ামতের দিনের বর্ণনায় বলেছেন:
وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ
*আর তোমরা ফেলে এসেছো সেই সবকিছু, যা আমি তোমাদের দিয়েছিলাম।*
সেদিন সব আবরণ খুলে যাবে—ঘর নেই, পোশাকের মর্যাদা নেই, ছায়া নেই। যিনি সারাজীবন এত আবরণে ঢেকে রাখলেন, সেদিন একটাই আবরণ কাজে আসবে—তাকওয়ার আবরণ, আমলের আবরণ।
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদের তাঁর অগণিত আবরণের নিয়ামত উপলব্ধি করার, কৃতজ্ঞ হওয়ার এবং পূর্ণ আত্মসমর্পণের তৌফিক দান করুন।
_নোমান আলী খান_
*— সূরা আন-নাহলের চিত্রকল্পের ক্রম-অগ্রগতি বিষয়ক লেকচার থেকে*
06/07/2026
want justice # rimi MBBS LOVER
Category
Contact the business
Address
Old Malda
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when MBBS LOVER posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.